19/05/2025
📌কোন কিছু ক্রমাগত চাইবার পরেও না পেলে, আল্লাহ এর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট থাকা মুমিনের ফিতরাত হওয়া উচিত।🌸
এমন অনেক অভিজ্ঞতা আছে, দেখেছি - মানুষ যা পাবার জন্য দুয়া করে, দুয়া কবুল না হওয়ায় অস্থির হয়ে যায়, অথচ পেয়ে গেলে তা স্বেচ্ছায় হারাতে চায়। যখন বুঝতে পারে এই প্রাপ্তি তার জন্য কল্যানকর নয়।
তাই চাইতে হবে। তিনি দিলে দিবেন। না দিলেও এতেই কল্যাণ। তিনি পরে দিবেন। বা অন্য কিছু দিবেন। বা আখেরাতে দিবেন। এটুকু কনফার্ম তিনি না দেওয়া করবেন না।
প্রয়োজন ধৈর্য্য। অসীম ধৈর্য্য। ধৈর্য্যের থেকে উত্তম আমাদের কিছু দেওয়া হয়নি।
জীবনে কোন এক ইস্যুতে একবার প্রচন্ড কষ্ট পেয়ে আফসোস করে যে মানুষকে বলতে শুনেছি
"কী পাপ করেছিলাম যে আমার সাথে এমন হলো? আমি কী এতই অপ্রিয় তোমার কাছে আল্লাহ? আমিই কেন? "
বিশ্বাস করুন, এর বছর খানেক পরে ঐ একই ইস্যুর ব্যাপারে বলতে শুনেছিলাম,
"কী এমন পূন্য করেছিলাম যে আমার সাথে এমনটা হয়েছিল। আলহামদুলিল্লাহ! আমার কোন আমলে খুশি হয়ে আমার এত বড় কল্যান করেছিলে তুমি হে আল্লাহ? এত বান্দা থাকতেও আমার মত অধমকে নিয়ে এতটা ভাবো তুমি ! "
______
জীবনের বিষয় গুলো এমনই। যা আপনার কাছে দুঃখের কারণ মনে হচ্ছে তাই সুখের কারণ হয়ে যাবে, যিনি রাত কে দিন করতে পারে তাঁর কাছে এটা খুবই সহজ যে তিনি আপনার জীবনের রাত গুলোকেও দিন করে দিবেন।
আমাদের রব যা যা করেন সব কিছুই আমাদের কল্যানের জন্যই হয়। হয়ত কল্যাণ টা সব সময় আমাদের জানা থাকেনা এই যা।
আমাদের অপছন্দনীয় কিছু যদি ঘটেও তবুও নির্দ্বিধায় বিশ্বাস রাখতেই হবে এতেই কল্যাণ।
আল্লাহ তায়ালা যেমন বলেন,
"...... অনেক সময় কিছু বিষয় অথচ তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় কিন্তু হতেও পারে আমি তাতে তোমাদের জন্য কল্যান রেখেছি আর হতেও পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত তোমরা জানোনা, আল্লাহ জানেন।"
[ সূরা বাকারাঃ ২১৬]
তাই কোন কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটে গেলে হুট করেই এর মানে বের করতে যাবেন না। কারণ উত্তর বা মানে খুজে না পেলে হতাশা চলে আসবে। ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করুন, সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চান, সময় মত উত্তর পেয়ে যাবেন ইন শা আল্লাহ। সব স্পষ্ট হয়ে যাবে আপনার সামনে ।
অবশ্যই ধৈর্য্যও এত সহজ নয় আর এভাবে সাহায্য চাইতেও সবাই পারেনা । আল্লাহ তায়ালা যেমন বলেন,
"আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের জন্য কঠিন।"[সূরা বাকারাঃ ৪৫]
এবং ১৫৩ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা বিশ্বাসী তারা এভাবে সাহায্য চাইলে তিনি পাশে থাকার, সাহায্যের ওয়াদা দিচ্ছেন।
আল্লাহ তায়ালাই প্রথমে বলে দিয়েছেন বিনয়ী না হলে আপনার জন্য এভাবে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া কঠিন, তবে আপনি বিনয়ের সাথে তা পারলে, ব্যাস। আল্লাহ তায়ালার সাহায্য আসবেই।
যখন আপনার অপছন্দনীয় কিছু ঘটেই যায়, তখন এই ভেবে খুশি হউন যে আপনার ইচ্ছে বাস্তবায়িত হয়নি, আপনার রবের ইচ্ছে বাস্তবায়িত হয়েছে।
তার মানে আপনার জীবনের ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা তাঁর পছন্দ হয়নি। তিনি অন্যরকম পরিকল্পনা করে রেখেছেন।
অবস্থা দৃষ্টে ঘটনা একরকম মনে হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটে তার উল্টোটা। নবী রাসূলগণের উদাহরনই দেখি না!
//
মুসাকে (আ) নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্যে তাঁর মাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; ইউসুফকে (আ) মেরে ফেলার জন্যে কূপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল; ঈসা (আ) এর মা মারইয়াম কোন পুরুষের স্পর্শ ছাড়াই অলৌকিকভাবে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন; আয়েশাকে (রা) মিথ্যা কলঙ্কে অভিযুক্ত করা হয়েছিল; ইউনুসকে (আ) তিমি মাছ গিলে ফেলেছিল; ইব্রাহীমকে (আ) আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল; মুহাম্মাদ (সা) এর প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজার (রা) মৃত্যু বরণ করা; সালামাহ্ (রা) ভেবেছিলেন যে, আবু সালামাহ্ (রা) থেকে উত্তম আর কেউ হতে পারবে না; একবার ভেবে দেখুন তো, এই ঘটনাগুলো ঘটার সময় লোকেরা কী ভেবেছিল আর পরবর্তীতে ঘটনাগুলো কোন দিকে মোড় নিয়েছিল !!
//
আমার আপনার জীবনও আল্লাহ তায়ালার পরিকল্পনার বাইরে নয়।
আমরা তা-ই চাই, যা আমরা পছন্দ করি। কিন্তু আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তা-ই ঘটান যা তিনি ইচ্ছা করেন।
এবং আল্লাহ তায়ালার পরিকল্পনা সর্বশ্রেষ্ঠ। [সুরা আলে ইমরানঃ ৫৪]
এবং
...শীঘ্রই আপনার রব আপনাকে এত প্রতিদান দিবেন যে আপনি খুশি হয়ে যাবেন। [সুরা দোহাঃ ৯৩]
এগুলো স্বান্তনা মনে করবেন না। এগুলো রবের বাণী, বিশ্বজগতের একক ক্ষমতাধর মহান প্রতিপালক রাব্বুল আলামীন এর বাণী।
আর রবের বাণী তাঁর স্বত্তার মতই চিরন্তন সত্য। কোন সন্দেহ নেই রবের বাণীই বিশ্বাসী দের জন্য পথ প্রদর্শক ও হিদায়াত।
"এই সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত।"❤️
©