18/12/2025
🕊️ শামের পথে ছায়া: খাদিজা (রাঃ) ও শেষ নবীর নিদর্শন 🌿
হযরত খাদিজা (রাঃ) ছিলেন আরবের এক ধনী ও সম্ভ্রান্ত নারী। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সততা ও বিশ্বস্ততার কথা শুনে মুগ্ধ হলেন এবং তাঁকে ব্যবসার প্রস্তাব দিলেন। তিনি বললেন: "আপনি আমার পণ্য নিয়ে শাম (সিরিয়া) দেশে যান। বিনিময়ে আমি আপনাকে লভ্যাংশের অংশ দেব এবং আমার বিশ্বস্ত গোলাম মাইসারা-কে আপনার সাথে পাঠাব।" রাসূল (সাঃ) এই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন।
পাদ্রীর ভবিষ্যদ্বাণী
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এবং গোলাম মাইসারা শামের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন। সেখানে পৌঁছে তাঁরা নাস্তুরা নামে এক পাদ্রী বা রাহিবের গির্জার কাছে একটি গাছের নিচে বিশ্রাম নিতে বসলেন।
নাস্তুরা পাদ্রী দূর থেকে রাসূল (সাঃ)-কে দেখে মাইসারাকে জিজ্ঞেস করলেন: “ওই গাছের নিচে যে ব্যক্তি বসে আছেন, উনি কে?”
মাইসারা বললেন: “ইনি মক্কার কুরাইশ বংশের এক অত্যন্ত সৎ, আমানতদার এবং সত্যবাদী মানুষ।”
পাদ্রী তখন নিশ্চিত হওয়ার জন্য একটি বিশেষ চিহ্ন জানতে চাইলেন: “তাঁর চোখে কি সবসময় একটু লালচে ভাব থাকে?”
মাইসারা বললেন: “হ্যাঁ, এই লাল আভা তাঁর চোখ থেকে কখনো দূর হয় না।”
তখন নাস্তুরা পাদ্রী নিশ্চিত হয়ে বললেন:
“ইনিই সেই প্রতিশ্রুত শেষ নবী! কারণ এই গাছের নিচে নবী ছাড়া আজ পর্যন্ত অন্য কেউ বিশ্রাম নেয়নি।”
অলৌকিক দৃশ্য ও দ্বিগুণ লাভ
রাসূল (সাঃ) সেখানে পণ্য বিক্রি করলেন এবং যা কেনার ছিল তা কিনলেন। এই ব্যবসায় অন্য যেকোনো বারের চেয়ে দ্বিগুণ লাভ হলো।
ফেরার পথে মাইসারা এক অলৌকিক দৃশ্য দেখলেন। প্রচণ্ড রোদে যখন রাসূল (সাঃ) উটের পিঠে চলছিলেন, তখন দুইজন ফেরেশতা দুই পাশ থেকে ছায়া দিয়ে তাঁকে রোদ থেকে রক্ষা করছিলেন। এই দৃশ্য দেখে মাইসারার অন্তরে রাসূল (সাঃ)-এর প্রতি অগাধ ভালোবাসা ও ভক্তি জন্ম নিল।
সত্যের প্রকাশ
মক্কার কাছাকাছি 'মাররুজ যাহরান' নামক স্থানে পৌঁছে মাইসারা বললেন, “হে মুহাম্মদ (সাঃ)! আপনি আগে গিয়ে খাদিজা (রাঃ)-কে এই খুশির খবর (ব্যবসায় লাভের কথা) জানিয়ে দিন।”
রাসূল (সাঃ) দুপুরে মক্কায় পৌঁছালেন। হযরত খাদিজা (রাঃ) তখন তাঁর প্রাসাদের বারান্দায় বসে ছিলেন। তিনি নিজ চোখে দেখলেন, রাসূল (সাঃ) উটের পিঠে আসছেন এবং দুইজন ফেরেশতা তাঁকে ছায়া দিয়ে রেখেছেন!
পরে মাইসারা ফিরে এসে খাদিজা (রাঃ)-কে পথের সব ঘটনা খুলে বললেন। তিনি নাস্তুরা পাদ্রীর ভবিষ্যদ্বাণী এবং ফেরেশতাদের ছায়া দেওয়ার কথা জানালেন।
এসব শুনে হযরত খাদিজা (রাঃ) বুঝতে পারলেন যে, ইনি কোনো সাধারণ মানুষ নন, বরং আল্লাহর বিশেষ প্রেরিত পুরুষ (নবী)।
শিক্ষা:
হযরত খাদিজা (রাঃ) রাসূল (সাঃ)-এর সততা এবং অলৌকিক নিদর্শন দেখে তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তাঁদের শুভ বিবাহের পথ তৈরি করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর জীবন শুরু থেকেই আল্লাহর বিশেষ তত্ত্বাবধানে ছিল।