29/12/2023
থার্টি ফার্স্ট নাইট,,,
মুসলিম সাংস্কৃতিতে অপসংস্কৃতি।
সময় বহমান স্রোতের মতো। সময়কে কখনো বেঁধে রাখা যায় না। পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগতম জানানোর উৎসব ;থার্টি ফাস্ট নাইট।
নতুন বছরটি মুসলিম উম্মার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিগত একটি বছর পর্যালোচনা ও নতুন এক বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করা সচেতন মুমিনের ইমানী দায়িত্ব।
৩১ শে ডিসেম্বর রাত ১২.০১ মিনিট কে থার্টি ফাস্ট নাইট নামে অবহিত করা হয়। আমরা এটাকে ইংরেজি নববর্ষ হিসাবে জানলেও মূলত এটা খ্রিস্টীয় বা গ্রেগরিয়ান নববর্ষ। তার সঙ্গে মিশে আছে খ্রিস্টানদের ধর্ম ও সাংস্কৃতি। এর নাম করানো করা হয়েছে খ্রিস্টানদের ধর্মযাজক পোপ গ্রেগরিয়ান নামানুসারে।
ঐতিহাসিকরা বলেছেন,প্রাচীন পারস্যের পরাক্রমশালী সম্রাট জামশিদ খ্রীস্টপূর্ব ৮০০সালে নববর্ষ প্রবর্তন করেন। পরিবর্তি সময়ে ব্যাবিলনের সম্রাট জুয়েলার্স সিজার খ্রিস্টপূর্ব ৪৬ সালে ইংরেজি নববর্ষ প্রচলন করেন। প্রথমদিকে নববর্ষের বিভিন্ন তারিখ উদযাপিত হতো। ১৫৮২সালে গ্রেগরিয়ান প্রাবর্তনের পর পহেলা জানুয়ারিতে নববর্ষ উদযাপনের দিন হিসেবে নির্দিষ্ট করা হয়। যার ধারাবাহিকতাই বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টীয় নতুন বছরের আগমন থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপন করা হয়।
অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, বর্তমান সময়ে এই উৎসবটি
বিধর্মীদের পাশাপাশি মুসলমানরাও উদযাপন করছে।
বিশেষভাবে মুসলিম যুবসমাজের মাঝে এর প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়। যেমন facebook instagram ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে খ্রিস্টীয় নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। এছাড়া, এ রাতে মহল্লায় মহল্লায় কিংবা বিভিন্ন শহরের অলিতে গলিতে কিছু মুসলিম নামধারী যুব সমাজ গান বাজনা অশ্লীল নৃত্য,
আতশবাজি ফুটানো,ফানুস উড়ানো, ডিজে পার্টি ও কনসার্ট প্রভৃতি বিজাতীয় সংস্কৃতির মধ্যে এই উৎসবটি উদযাপন করে। এমনকি এই উৎসব পালনের নামে সমাজের ছেলে মেয়েদের মাঝে অবাধ চলাফেরা লক্ষ করা যায়, যার মাধ্যমে যেনার দ্বার উন্মোচিত হয়। আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে এরশাদ করেন, আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না।নিশ্চয় এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।ধর্মীয় ও দেশজ সংস্কৃতি নিজ নিজ ধর্ম ও দেশের মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক দাবি। বেশ ধুমধামের সঙ্গে অন্য ধর্মের প্রথা বা বিদেশী সংস্কৃতি উদযাপন নিজ ধর্ম ও দেশজ সংস্কৃতি সম্পর্কে অজ্ঞতা ও উদাসীন প্রকাশ। এটা কিছুতেই কাম্য নয়। থার্টি ফাস্ট নাইট, উদযাপন দেশ ও ধর্মের উৎসব সংস্কৃতি দেউলিয়াত্ব ঘোষণা করে যা বাংলাদেশের নাগরিক ও মুসলিম হিসাবে আমাদের জন্য বড়ই লজ্জার বিষয়। থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন ইসলামে বৈধ নয়। ইসলামে ইসলামে আইনবিদ একে হারাম বলে আখ্যায়িত করেন। অন্য ধর্মের সংস্কৃতি উৎসব মুসলমানের জন্য উদযাপন করা জায়েজ নাই। নিজ ধর্ম ও অন্য ধর্মের কালচারকে গুলিয়ে একাকার করতে বারণ করা হয়েছে হাদিসে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে জাতির সঙ্গে সাদৃশ্য রাখি, সে সেই অন্তর্ভুক্ত। অন্য ধর্মের সভ্যতা ও সংস্কৃতি গ্রহণ না করার জন্য এই হাদিস মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করেছে। আর গ্রহণ করলে মুসলমানিত্ব হারানোর হুশিয়ারি ও প্রকাশ পেয়েছে উপযুক্ত হাদীসটিতে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী, সাহাবীদের জীবনী, তবেয়িও তবে ;তাবেইদের জীবনী চার ইমামের জীবনী, বিখ্যাত মুসলিম মনীষীদের জীবনী এবং বিভিন্ন ইসলামি খিলাফতের শাসনামল পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তারা কখনোই বিধর্মীদের সঙ্গে সামঞ্জস্য এমন কোন উৎসব পালন করেননি, এমনকি থার্টি ফার্স্ট নাইট উৎসবটিও সমর্থন করেননি। যেমন হাদিসে এসেছে, হযরত ইবনে ওমর রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি অন্য জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করে, সে তাদের দলভুক্ত গণ্য হবে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন ( হে নবী)
আপনি বলুন, নিশ্চয় আমার রব তথা নিষিদ্ধ করেছেন প্রকাশ্য, আপ্রকাশ্য অশ্লীলতা, পাপ কাজ, অন্যায় ও অসঙ্গত বিদ্রোহ ও বিরোধিতা এবং আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছুকে শরিক করা :যার পক্ষে আল্লাহর কোন দলিল :প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি,, সূরা আরাফ ;আয়াত, ৩৩,, আলোচ্য আয়াত ও হাদিসটি বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে মুসলিম ব্যক্তিদের জন্য বিধর্মীদের এই উৎসবটি পালন আল্লাহর পক্ষ হতে সম্পূর্ণ হারাম পাতা নিষিদ্ধ। যদি কেউ পালন করে তাহলে সে তাদের তথা বিধর্মীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। তাই আমাদের সবার উচিত বিধর্মীদের এই সাংস্কৃতিকে পরিহার করা এবং এটা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা। পাশাপাশি নিজের সন্তান,, পরিবার,, আত্মীয়-স্বজনসহ কে এই উৎসব পালন সম্পর্কে ইসলামের অবহিত করা এবং সবাইকে সতর্ক করা। কেননা আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন,,হে বিশ্বাস স্থাপনকারীরা! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার,,পরিজনকে রক্ষা করো আগুন থেকে। আল্লাহ তাআলা সবাইকে এই কথার উপর আমল করার তৌফিক দান করুক,, #আমিন #আল্লাহ #আমাদের #আমার #আপনাকে #আমাল #কারার
Ali Hasan Osama Ali Hasan Osama Fans follow me🙏
এই কথাগুলো লেখা হয়েছে আল-জামিয়াতুল আরবিয়া নাছিরুল ইসলাম নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার
মাসিক দাউতুল হক থেকে,,