08/01/2024
👉১কেজি খাঁটি খেজুরের গুড়ের উৎপাদন খরচ যেখানে ১৫৫ টাকা, সেই গুড় কেন আপনাকে ৩০০-৩৫০ টাকা বা আরও বেশী দামে কিনতে হয়??😥
জানতে হলে আমাদের খেজুরের গুড়ের গল্পটি ধৈর্য্য সহকারে পড়ে দেখুন...
আমাদের গ্রীন & সেফ এগ্রো রাজশাহীর গুড়ের প্রোজেক্টে এ বছর ৫০+ চুক্তিভিত্তিক খেজুরের গুড় চাষী আছে। তাদের প্রত্যেকের অধীনে ৪০-১০০টা খেজুরের গাছ আছে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরীর জন্য। তাদের একজন হল আমাদের নাজরুল চাচা। ৩৭ বছর বয়সী নাজরুল চাচা এবার ৯০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে আমাদের শতভাগ পিওর খেজুরের গুড় তৈরী করে দিবেন। তিনি প্রতিদিন ১৮-২২কেজি(শীত কমবেশির জন্য গুড়ের পরিমাণ কমবেশি হয়) করে গুড় তৈরী করে দিবেন। ধরে নিচ্ছি প্রতিদিন তার ২০কেজি গুড় তৈরী হয়। চলুন দেখা যাক তার ১কেজি পিওর খেজুরের গুড়ের উৎপাদন খরচ কত?
👉আমাদের গ্রামের দিকে ৯০ ভাগ গুড় চাষীর নিজস্ব খেজুরের গাছ থাকে না। আবার যাদের থাকে, তাদের বেশীরভাগ নিজে গুড় তৈরী করে না। যার ফলে শীতের মৌসুমে গুড় তৈরীর জন্য প্রত্যেককেই খেজুরগাছ লিজ নিতে হয়। সেক্ষেত্রে পুরো শীতের কমবেশি ৩ মাসের জন্য গাছ প্রতি ৫০০ টাকা দিতে হয় গাছের মালিককে। এটা এলাকাভিত্তিক কমবেশি হতে পারে। আমাদের এলাকায় ৫০০ টাকা দিতে হয়। সেক্ষেত্রে নাজরুল কাকার ৯০টি গাছ বাবদ মালিকদের ৩ মাসের জন্য ৪৫,০০০ টাকা পরিশোধ করতে হয়। যা ১ মাসে ১৫,০০০ টাকা, প্রতিদিন আসে ৫০০ টাকা।
👉গাছ থেকে রস বের করার জন্য মৌসুমের শুরুতে প্রতিটি গাছে ডালপালা ঝুড়ে পরিষ্কার করা, চাঁচ দেওয়া ও পাতুরি মেরে(রসের নালী কাটা) বাঁশের কাঠি লাগানোর জন্য ৩ দিন কাজ করতে হয়। গাছ প্রস্তুতির এই কাজের জন্য গাছ প্রতি একজন লেবারকে দিতে হয় ১৫০ টাকা। ৯০টি গাছে খরচ হয় ১৩,৫০০ টাকা। যা এক মাসে ৪,৫০০ টাকা। প্রতিদিন আসে ১৫০ টাকা।
👉এবার আসি রস সংগ্রহ করার জন্য মাটির পাতিল/হাঁড়ি কেনাতে। প্রতিটি ৩-৪ লিঃ রসের পাতিলের দাম ৫০ টাকা। তিন মাসের জন্য ৯০টি পাতিলের দাম ৪,৫০০ টাকা। এক মাসে ১,৫০০ টাকা। প্রতিদিন দিন ৫০ টাকা।
✳️➡️ এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। কেউ যদি ৯০টি গাছ লিজ নেয়, তাহলে সে প্রতিদিন ৯০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে পারবে না। একটানা ৪ দিন রস সংগ্রহ করার পর ২ দিন রস সংগ্রহ বন্ধ রাখতে হয়। যাকে আমরা শুকনো কাঠি বা জিরান কাঠি দেওয়া বলি। এটা করার ফলে গাছের রস দেওয়ার ক্ষমতা অক্ষুণ্ণ থাকে এবং রসের মানও খুব ভালো হয়। এজন্য গাছগুলোকে ৩ ভাগে ভাগ করে প্রতিদিন ২ ভাগ গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। বাকি ১ ভাগ করে গাছ পর্যায়ক্রমে ২ দিন করে শুকনো কাঠি দেওয়া হয়। তাই নাজরুল কাকার ৯০টি গাছ থাকা সত্ত্বেও সে রোজ ৬০টি গাছ থেকে রস সংগ্রহ করতে পারে। যার কারণে তার প্রতিদিন কমবেশি ২০ কেজি গুড় তৈরী হয়।
👉এবার আসি প্রতিদিনের রস সংগ্রহ, গুড় তৈরীসহ অন্যান্য খরচে। ৬০টি গাছ থেকে রোজ বিকেলে গাছ চাঁচ দিয়ে পাতিল ঝোলানো ও শীত উপেক্ষা করে ভোরবেলা গাছ থেকে রস ভর্তি পাতিল নামিয়ে আনার জন্য একজন লেবারকে দিতে হয় ১০০০-১২০০ টাকা। সেই রস বাড়িতে এনে জ্বাল করে গুড় তৈরী করা পর্যন্ত ৪-৫ ঘন্টা সময়ের জন্য একজন মহিলা/পুরুষকে দিতে হয় ৪০০-৫০০ টাকা। খড়ি বা জ্বালানি ও অন্যান্য খরচ বাবদ রোজ ৮০০-১০০০ টাকা লাগে।
➡️একদিনে ২০ কেজি পিওর খেজুরের গুড় তৈরী করতে নাজরুল কাকার খরচ হয়
★গাছ লিজ বাবদ ৫০০/-
★গাছ প্রস্তুতকরণে ১৫০/-
★মাটির পাতিল ৫০/-
★রস সংগ্রহ লেবার খরচ ১০০০/-
★রস জ্বাল ও গুড় তৈরী লেবার ৫০০/-
★খড়ি ও অন্যান্য ৯০০/-
➡২০ কেজি গুড়ে মোট খরচ হয় ৩১০০ টাকা।
👉১ কেজিতে খরচ হয় ১৫৫ টাকা।
এলাকাভেদে কিংবা যে যেভাবেই তৈরি করুক না কেন, কোনভাবেই কেজিপ্রতি পিওর খেজুরের গুড়ের উৎপাদন খরচ ১৫৫ টাকার বেশী হবে না। চ্যালেঞ্জ দিলাম। এখন সেই ১৫৫ টাকার গুড় কেন আপনাকে ৩০০-৩৫০ টাকা কেজি কিনতে হয়??
👉আমাদের এলাকায় বর্তমানে চাষীরা খোলাবাজারের আড়তে নিম্নমানের গুড় পাইকারী বিক্রয় করে ১৪০-১৬০ টাকায়। রেট ওঠা নামা করে।ধরি ১৫০ টাকা। তাহলে নিশ্চয় নাজরুল কাকা ১৫৫ টাকা খরচ করে তৈরী করা গুড় গাড়ি ভাড়া দিয়ে আড়তে নিয়ে গিয়ে ১৫০ টাকা কেজি বিক্রয় করবে না। আবার সে কেজিতে ২০-৩০ টাকা প্রফিটও করতে চাইবে। এখন নাজরুল কাকা যদি তার ২০ কেজি পিওর গুড়ের মধ্যে ১২ কেজি চিনি (১২৭/- কেজি) ও ১০ কেজি চিটা গুড় (৫৫/- কেজি) মেশায় তাহলে জ্বাল করার পর তার মোট গুড় হবে ৪০ কেজি। এই ৪০ কেজি গুড়ে তার খরচ হবেঃ
★২০কেজি পিওর গুড় ১৫৫*২০= ৩১০০/-
★১২কেজি চিনি ১২৭*১০= ১৫২৪/-
★১০কেজি চিটাগুড় ৫৫*১০= ৫৫০/-
➡️৪০ কেজি ভেজাল গুড়ে মোট খরচ ৫১৭৪/- বা ৫২০০ টাকা। সে ৪০ কেজি গুড় বিক্রি করবে ৬০০০ টাকায়। মানে ভেজাল মিশিয়ে সে প্রতিদিন বাড়তি ৮০০ টাকা আয় করবে। এতে তার আলাদা কোন জ্বালানি বা অন্য খরচ নেই। একই খরচ ও পরিশ্রমে সে প্রতি কেজিতে বাড়তি ৪০ টাকা লাভ করছে। কেউ কেউ আরও বেশী করে, আমরা এটা মিনিমাম হিসেব দিলাম।
👉তাই নজরুল কাকারা তখনই শতভাগ পিওর খেজুরের গুড় তৈরী করে দিবে, যখন সে প্রতি কেজিতে বাড়তি ৩০-৪০ টাকা প্রফিট পাবে। তাকে যদি আমরা ৩০ টাকাও বাড়িয়ে দেয় তাহলে পিওর গুড়ের দাম পড়ে ১৮৫ টাকা প্রতি কেজি। এটার সাথে আমাদের প্যাকিং খরচ, লেবার খরচ, পরিবহন খরচ, নিজেদের মজুরী, মার্কেটিং খরচ যোগ করলে প্রতি কেজি পিওর খেজুরের গুড় কত টাকা কেজি বিক্রয় করা উচিত আপনারা নিজেই বিবেচনা করুন।
😍প্রিয় গ্রাহক, বাসায় খাওয়া কিংবা ব্যবসার জন্য BSTI অনুমোদিত শতভাগ ভেজালমুক্ত পিওর খেজুরের গুড় পেতে ভরসা রাখতে পারেন আমাদের উপর। চাইলে আমাদের গ্রামে এসে আমাদের গুড়ের প্রোজেক্ট ঘুরে দেখে গুড় নিয়ে যেতে পারেন।
ধন্যবাদান্তে
রাজীব কুমার পাল
ফাউন্ডার
গ্রীন & সেফ এগ্রো ভেঞ্চার
খোর্দ্দগোবিন্দপুর, চারঘাট, রাজশাহী
☎️ 01772502073
☎️ 01731-574747 (WhatsApp)
#রাজশাহীরখেজুরগুড় #খাঁটিগুড় #খেজুরের_পাটালি_গুড় #নলেন_গুড় #খেজুরেরগুড় #ঝোলাগুড় #খেজুরের_গুড় #নলেনগুড় #আখেরগুড় #খেজুরের_ঝোলা_গুড়