01/10/2024
বর্তমান আবহাওয়া #ধানের #পেনিকেল #ব্লাইট হওয়ার অনুকূল। তাই আপনার জমিতে ছবির মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
#ধানের পেনিকেল ব্লাইট/ #শীষপোড়া রোগ দমনে করণীয়:
সম্মানিত কৃষক ভাইয়েরা আমন ধানের জমিতে শীষ বের হওয়ার পরে ধানের দানায় ধূসর/কালো/গোলাপি রঙ ধারন করে শীষ সাদা হয়ে যাচ্ছে। এটাকে ধানের ব্যাকটেরিয়াল পেনিকেল ব্লাইট রোগ বলে।
#অনুকুল পরিবেশ:
সাধারণত দিনের তাপমাত্রা ৩২° এর উপরে রাতের তাপমাত্রা ২৫° বা তার বেশি। উচ্চ আর্দ্রতা ৮০%। অতিরিক্ত ইউরিয়া সার প্রয়োগ।
#ফুল ফোটার সময় সকাল ১০-১২ টার মধ্যে ৩২° ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করলেও এ রোগের লক্ষণ দেখা দেয়। তবে তাপমাত্রাজনিত কারণে চিটা হবার লক্ষণের সাথে এ রোগের সামান্য পার্থক্য আছে।
#বীজ বাহিত বা রোগাক্রান্ত বীজ, মাটি, সেচের পানি প্রাইমারী বাহক।
#এছাড়া হঠাৎ বৃষ্টিপাত এবং রোগাক্রান্ত শিষের সংস্পর্শ সেকেন্ডারি বাহক হিসেবে কাজ করে।
#রোগের লক্ষণ:
#আক্রান্ত ধানের দানা গুলো ধূসর/কালো/গোলাপী রং ধারণ করে।
#ধানের শীষে সঠিকভাবে দানা বাধতে পারে না।
#চিটা হয়ে যায় তবে শীষের সকল দানা গুলো চিটা হয় না।
#শীষ গুলো চিটা হওয়ার ফলে দুর থেকে সাদা দেখায় ও শীষ খাড়া হয়ে থাকে।
সংক্রমিত শীষের নিচের অংশ সবুজ থাকে।
#ক্ষতির ধরন:
এই রোগের আক্রমণে ফলে ধানের প্রায় ৭০% পর্যন্ত ফলন কমে যেতে পারে।
#আক্রমণের পূর্বে করণীয়:
#বীজ বপনের আগে বীজ রোদে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া।
#বীজ বপনের পূর্বে ছত্রাকনাশক দিয়ে শোধন করা।
#অতিরিক্ত ইউরিয়া সার ব্যবহার না করা।
#আক্রমনের পরে করনীয়:
#আক্রান্ত ক্ষেত হতে বীজ সংরক্ষণ করা যাবে না।
#জমিতে পানি ধরে রাখতে হবে।
#ইউরিয়া সার ও পিজিআর প্রয়োগ করা যাবে না।
রোগের প্রাথমিক অবস্থায়:
প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম কুইকপটাশ/ফাস্ট পটাশ+৫ গ্রাম সালফার (থিওভিট/কুমুলাস) + ০.৫ গ্রাম চিলেটেড জিংক পানিতে মিশিয়ে অবশ্যই দুপুরের পর/বিকেল বেলা স্প্রে করতে হবে।
এতেও যদি রোগের প্রকোপ না কমে তাহলে নিচের যে কোন একটি গ্রুপের বালাইনাশক অনুমোদিত মাত্রায় স্প্রে করতে পারেন।
#বিসমার্থিয়াজল+কাসুগামাইসিন গ্রুপের ব্যাকটেরিয়ানাশক যেমন: সানস্কার/কিমিয়া-২১.৫ ডাব্লিউপি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০৩ গ্রাম হারে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করতে পারেন। #অথবা
#বিসমার্থিয়াজল গ্রুপের বালাইনাশক ব্যাকট্রল, থায়াজল অটোব্যাক/রাদি/বিসমাজল/ব্যাকট্রোবান-২০ ডাব্লিউ পি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে অথবা
#স্টেপট্রোমাইসিন সালফেট+ট্রেট্টাসাইক্লিন হাইড্রোক্সইড গ্রুপের বালাইনাশক এন্টিব্যাক/ডাইব্যাকটেরিয়াল/ক্রোসিন এজি-১০ এসপি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করতে পারেন।
অথবা
#কপার হাইড্রোক্সাইড গ্রুপের বালাইনাশক যেমন চ্যাম্পিয়ন/জিবাল/ডলফিন/উইন/সুপারপক্স/প্যারাসল/হাইড্রেকার্ব-৭৭ ডব্লিউপি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ০৪ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করা। অথবা
#কপার অক্সিক্লোরাইড গ্রুপের বালাইনাশক সানভিট/ অক্সিভিট/ব্লিটক্স/কপার ব্লু/হেমক্সি/অক্সিকপ/সালকক্স- ৫০ ডাব্লিউ পি যে কোন একটি বালাইনাশক প্রতি লিটার পানিতে ৪ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে পারেন।
অথবা
"অনলাইন" প্রতি লিটার পানি ১ গ্রাম হারে লিটারে মিশিয়ে স্প্রে করে দিবেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ
#ধান ফুল পর্যায়ে থাকলে অব্যশই শেষ বিকেলে স্প্রে করতে হবে।
আক্রান্ত হয়নি এমন জমিতে শীষ বের হওয়ার আগে আগে বিকেলে স্প্রে করে দিবেন।
অব্যশই প্রতি শতক জমির জন্য দুই লিটার পানি বিকেল বেলা স্প্রে করতে হবে।