30/07/2026
وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسّٰىهَا
"আর অবশ্যই সে ব্যর্থ হয়েছে, যে নিজের আত্মাকে কলুষিত করেছে (পাপে নিমজ্জিত করেছে)।সূরা আশ-শামস ১০
এই আয়াতের পূর্বে আল্লাহ বলেন:
قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكّٰىهَا
"নিশ্চয়ই সফল হয়েছে সে, যে নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করেছে।"
এরপর বলেন:
وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسّٰىهَا
"আর অবশ্যই ব্যর্থ হয়েছে সে, যে নিজের আত্মাকে কলুষিত করেছে।"
এখানে "دَسّٰىهَا (দাস্সাহা)" শব্দের অর্থ হলো—আত্মাকে পাপ, অবাধ্যতা, কুপ্রবৃত্তি ও গুনাহের মধ্যে ঢেকে দেওয়া, তার পবিত্র স্বভাবকে নষ্ট করে ফেলা।
তাফসীর ইবনে কাসীর-এ বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি নিজের নফসকে আল্লাহর আনুগত্য থেকে দূরে রেখে পাপাচারে লিপ্ত করে, আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করে এবং নফসের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে—সে-ই এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। এমন ব্যক্তি দুনিয়া ও আখিরাত—উভয় জায়গায় ক্ষতিগ্রস্ত।
মারিফুল কুরআন-এ মুফতি মুহাম্মদ শফী (রহ.) লিখেছেন, মানুষের নফসের মধ্যে আল্লাহ ভালো-মন্দ উভয়ের জ্ঞান ও প্রবণতা রেখেছেন। এরপর মানুষকে ইখতিয়ার (পছন্দের স্বাধীনতা) দিয়েছেন। যে ব্যক্তি ঈমান, তাকওয়া, ইবাদত, তওবা ও সৎকর্মের মাধ্যমে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করে, সে সফল। আর যে ব্যক্তি গুনাহ, কুপ্রবৃত্তি ও অবাধ্যতার মাধ্যমে নফসকে কলুষিত করে, সে প্রকৃত অর্থেই ব্যর্থ।
শিক্ষণীয় বিষয়
আত্মশুদ্ধিই প্রকৃত সফলতার মূল।
গুনাহ নফসকে কলুষিত করে এবং মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।
তওবা, যিকির, কুরআন তিলাওয়াত এবং সৎকর্ম নফসকে পরিশুদ্ধ করে।
বাহ্যিক সফলতা নয়; আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াই প্রকৃত সফলতা।
এই একটি আয়াতে আল্লাহ মানুষের সফলতা ও ব্যর্থতার চূড়ান্ত মানদণ্ড ঘোষণা করেছেন—যে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করবে সে সফল, আর যে পাপের মাধ্যমে তাকে কলুষিত করবে সে ব্যর্থ।