25/10/2025
*ইস্তেগফার এমন এক বরকতময় আমল, যার প্রভাব শুধু কিতাবের পাতায় নয়— বাস্তব জীবনেও দেখা যায়। আমি নিজের চোখে তার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত দেখেছি।*
একদিন দুপুরে খাবার খেয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। ঘুমটা ঠিকমতো আসেনি, এমন সময় কলিং বেল বেজে উঠল। প্রথমে একটু বিরক্ত লাগল, তবুও উঠে দরজাটা খুলে দিলাম।
দেখি, এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। সালাম দিল, আমি জবাব দিলাম। চেনা মনে হলো না।
সে নিজেই বলল,
“হুজুর, আপনি আমাকে চিনবেন না। আমি এসেছি অনেক দূর থেকে— ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। আসার একটা বিশেষ কারণ আছে।”
আমি বললাম, “বলেন ভাই, কী ব্যাপার?”
সে বলল,
“কয়েক মাস আগে আমি এই এলাকায় এসেছিলাম। আপনার পেছনে জুমার নামাজ পড়েছিলাম। নামাজের পর আপনার সঙ্গে একটু কথা হয়েছিল। তখন আমি ভীষণ বিপদে ছিলাম — চাকরি চলে গিয়েছিল, সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল। এমনকি আমার স্ত্রীকেও তার বাবা নিয়ে গিয়েছিলেন এই বলে, ‘বেকার জামাইয়ের ঘরে মেয়ে রাখব না।’ আমি তখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম।
আমি আপনার কাছে এসে দোয়া চেয়েছিলাম আর বলেছিলাম— হুজুর, এমন কোনো আমল বলুন, যাতে আল্লাহ আমার জন্য কোনো পথ খুলে দেন।”
আমি একটু ভেবে বললাম, “ভাই, আমার তো মনে পড়ছে না।”
সে হেসে বলল,
“আপনি তখন বলেছিলেন, বেশি বেশি ইস্তেগফার করতে। আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম— কতবার? আপনি বলেছিলেন— প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পর ১০০ বার করে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ো।”
তারপর সে বলল,
“আমি সেই দিন থেকেই শুরু করলাম। আলহামদুলিল্লাহ, কিছুদিনের মধ্যেই অবস্থা বদলে যেতে লাগল। নতুন একটা চাকরি পেলাম, আগের চেয়ে অনেক ভালো বেতনে। শ্বশুর নিজে এসে আমার স্ত্রীকে আবার আমার ঘরে দিয়ে গেলেন। তারপর ধীরে ধীরে আমার জীবনের সব সমস্যাই আল্লাহ তাআলা ঠিক করে দিলেন।
হুজুর, আমি বিশ্বাস করি— এসব কিছুই ইস্তেগফারের বরকতে হয়েছে। তাই প্রথম স্যালারির টাকা হাতে পেয়ে মনে হলো, যাঁর মুখে এই আমলের কথা শুনেছিলাম, তাঁর কাছে গিয়ে কৃতজ্ঞতা জানাই। সেই জন্যই আজ এত দূর থেকে এসেছি।”
তার কথাগুলো শুনে আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। মনে হলো, আল্লাহর রহমত আমাদের কত কাছেই থাকে, শুধু আমরা দরজায় কড়া নাড়তে ভুলে যাই।
-উমায়ের কোব্বাদি হাফি.
*তাই আমাদের উচিত দিনে অন্ততঃ ৫০০ বার হলেও ইস্তেগফার করা। যেভাবে পারেন এই ৫০০ বার পূরণ করুন হেঁটে-হেঁটে, কাজ করার সময়, কোন জায়গায় যাওয়ার সময়, ইস্তেগফার করুন, সব সময় মনে রাখবেন রবের ধরবারে মাফ চাওয়ার শান্তিই অন্যরকম।*