29/05/2025
কোরবানির মাংসের নিরাপদতা নিশ্চিতে করণীয়
----------------------------------------------------------------------
১. সুস্থ পশু ক্রয় :
***************
সুস্থ-সবল পশু ক্রয় করুন এবং তা চেনার উপায় হলো
পশু হবে সতেজ, স্বাভাবিক ভঙ্গি, জাবর কাটা, নাকের নিচের লোমবিহীন অংশে (মাজল) ভেজাভাব ও উজ্জ্বল চেহারার।
২. পশু জবাই ও করণীয়:
***********************
★ অসুস্থ পশু যেমন: ক্ষতরোগ, চর্মরোগ, ডায়রিয়া বা আমাশয়ে আক্রান্ত এরূপ পশু জবাই করবেন না।
★ কোরবানির পশু জবাইয়ের অন্তত ১২ ঘণ্টা পূর্ব থেকে পশুকে পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত খাবার পানি ছাড়া অন্য কোন খাবার খাওয়ানো থেকে বিরত থাকুন।
★ জবাইয়ের পূর্বে পশুটিকে পর্যান্ত বিশ্রামে রাখুন। পশুটি বিশ্রামে না থাকলে মাংসের গুণগত মান কমে যাবে।
★ জবাইয়ের পূর্বে পশুটিকে ভালোভাবে পরিষ্কার করিয়ে নিন, যাতে পশুর শরীরে কোর ময়লা ও গোবর লেগে না থাকে।
★ সংক্রামক ব্যাধিমুক্ত দক্ষ ব্যক্তি দ্বারা পরিছন্ন পরিবেশে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু কোরবানি ও মাংস প্রস্তুত করুন। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থান অথবা নিজস্ব বসতবাড়ীতে কোরবানি করুন। রাস্তাঘাট বা যত্রতত্র পশু জবাই থেকে বিরত থাকুন।
★ যথাযথভাবে বর্জ্য অপসারণ করুণ। ড্রেন, খাল, নদী বা উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য ফেলবেন না; অন্যথায় বর্জ্য থেকে পরিবেশ দূষণের মাধ্যমে রোগ-ব্যাধি ছড়াতে পারে।
৩. মাংস প্রক্রিয়াকরণ ও করণীয়:
*******************************
★ পশু জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত রক্তক্ষরণ শেষে শ্বাসনালী থেকে খাদ্যনালীটি পৃথক করে উত্তমরূপে বেঁধে নিন যেন কোনভাবে পাকস্থলি থেকে খাদ্যদ্রব্য বের হয়ে মাংসকে দূষিত করতে না পারে।
★ পশুর চামড়া ছাড়ানো ও মাংস কাটার সময় মাংস যেন সরাসরি মাটি, ধুলাবালি বা অন্যান্য আবর্জনার সংস্পর্শে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন।
★ কুকুর, বিড়াল, হাঁস-মুরগী, পোকামাকড়, মাছি ইত্যাদি প্রাণী দ্বারা মাংস যাতে দূষিত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
★ চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি ছাড়ানোর সময় পরিষ্কার পানি ব্যবহার করুন। কোন অবস্থাতেই সরাসরি মাটি বা মেঝেতে চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি ছাড়াবেন না।
★ পশুর দেহ থেকে চামড়া ছাড়ানোর (Dressing) সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন চামড়ার বাহিরের অংশ কোনভাবে মাংসে না লাগে।
★ মাংস প্রস্তুতের সময় রোগাক্রান্ত অংশ (যেমন- সিস্ট, অস্বাভাবিক বড় লসিকাগ্রন্থি, সিমেন্টের মত শক্ত কলিজার কোন অংশ ইত্যাদি) পাওয়া গেলে সতর্কতার সাথে যে অংশটুকু পৃথক করে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাটিতে পুঁতে ফেলুন অথবা বিনষ্ট করে ফেলুন।
★ মাংশ প্রস্তুতকরণে পরিষ্কার ও জীবানুমুক্ত ছুরি, দা, চাটাই ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ব্যবহার করুন।
★ মাংস পরিষ্কার পরিবেশে কাটুন, যাতে পুনরায় ধুতে না হয়। পরিষ্কার মাংস ধোয়ার প্রয়োজন নেই, মাংসে থাকা ব্যাকটেরিয়া রান্নার সময় মরে যায়। কাঁচা মাংস ধোয়ার সময় পানি ছিটকে মারাত্মক সংক্রমণ হতে পারে। মাংস ধোয়া একান্ত প্রয়োজন হলে তবে আশে-পাশের স্থান আবশ্যিকভাবে সাবান বা জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করুন।
★ মাংস সংগ্রহ শেষে জবাইয়ের স্থান নির্ধারিত মাত্রায় ব্রিচিং পাউডার বা জীবাণুনাশক দ্বারা পরিষ্কার করুন।
৪. মাংস সংরক্ষণ ও করণীয়:
**************************
★ একাধিক পশু জবাই করা হলে একটি শেষ করে মাংস বিতরণ, রান্না বা ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। একসাথে একাধিক পশুর জবাই ও মাংস প্রস্তুতিতে অনেক সময় লাগে, এতে ব্যাকটেরিয়ার মারাত্মক সংক্রমণ ঘটতে পারে।
★ কাঁচা মাংস স্বাভাবিক তাপমাত্রায় চার ঘণ্টার বেশি বাহিরে রাখবেন না; যত দ্রুত সম্ভব রান্না করুন অথবা মাংস স্বল্প সময়ের জন্য সংরক্ষণ করতে চাইলে রেফ্রিজারেটরে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে রাখুন।
★ কাঁচা ও রান্না করা খাবার পাশাপাশি রাখবেন না। ফ্রিজের উপরের তাকে রান্না খাবার ও নিচের তাকে কাঁচা খাবার ঢেকে রাখুন।
★ দীর্ঘ সময়ের জন্য সংরক্ষণ করতে চাইলে ফ্রিজারে বা ডিপ ফ্রিজে মাইনাস আঠারো (-১৮) ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচের তাপমাত্রায় রাখুন।
★ মাংস ফ্রিজারে বা ডিপ ফ্রিজে মাইনাস আঠারো (-১৮) ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় সংরক্ষিত মাংস সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে খাওয়া নিশ্চিত করুন।
★ ফ্রিজারে বা ডিপফ্রিজে কাঁচা মাংসের সাথে সরাসরি খাবার উপযোগী খাদ্য (যেমন- ফালুদা, আইসক্রিম) রাখবেন না। এতে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটতে পারে।
★ মাংস ছোট ছোট প্যাকেটে ফ্রিজারে রাখুন। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু মাংস রান্নার জন্য বের করুন।
প্রকাশ ও প্রচারে:
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ
খাদ্য মন্ত্রণালয়