05/09/2025
জিনের বিয়েতে গায়িকার ভয়াল কাহিনী
আমার নাম নোরা। প্রায় পঁচিশ বছর আগে আমি ছিলাম কুয়েতের অন্যতম বিখ্যাত গায়িকা। ধনী পরিবারগুলো আমাকে তাদের বিয়ের আসরে ডাকত। গাইলে শুধু অর্থ নয়, সুনামও মিলত। আমি তখন জীবনের চূড়ায়।
একদিন বিকেলে ফোন এলো। এক নারী বললেন—
“আমার মেয়ের বিয়ে, তুমি গান করবে। দাম তুমি বলো।”
আমি প্রথমে অস্বীকার করতে চাইলাম, কারণ সেদিন আমার বিশ্রামের দিন। কিন্তু তিনি অদ্ভুতভাবে হেসে বললেন—
“তুমি যত দাম চাইবে দেব।”
অসংখ্য টাকা উপার্জনের লোভ সামলাতে পারলাম না। ঠিকানা লিখে নিলাম।
রহস্যময় যাত্রা
আমার টিমের সঙ্গে রওনা দিলাম। গাড়ি চলল একেবারে অচেনা পথে। যত এগোচ্ছি, তত নির্জন হচ্ছে এলাকা। যেন কোনো জনমানবশূন্য মরুভূমির ভেতর দিয়ে যাচ্ছি।
অবশেষে এক বিশাল প্রাসাদের সামনে পৌঁছালাম। বাইরে অনেক লোক দাঁড়িয়ে, কিন্তু সবাই অদ্ভুত পোশাকে, একেবারেই ভিন্নরকম। তাদের মুখে কোনো অভিব্যক্তি নেই।
বিয়ের আসর
ভেতরে ঢুকতেই কানে এল কানে তালা লাগানো ঢোল-তবলার আওয়াজ। আলো ঝলমল সাজ, যেন রাজপ্রাসাদের মতো।
কিছুক্ষণ পর সেই নারী এগিয়ে এলো, যে আমাকে ফোন করেছিল। সে আমাকে আলিঙ্গন করল, কিন্তু তার গায়ের স্পর্শে শিহরিত হলাম। শরীরটা ছিল পাথরের মতো শক্ত, ঠাণ্ডা! তবু আমি গা করলাম না।
গানের শুরু
মাইক্রোফোন হাতে নিলাম। আমার টিম বাজনা ধরল। আমি গান শুরু করতেই সবাই উল্লাসে মেতে উঠল। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলাম—
তাদের মুখে হাসি আছে, কিন্তু সেই হাসি ভয়ংকর। চোখে জ্বলছে অস্বাভাবিক আলো।
আমার ভয় লাগছিল, কিন্তু পেশাদারিত্বের কারণে গান চালিয়ে যাচ্ছিলাম।
ভয়ঙ্কর আবিষ্কার
হঠাৎ আমার টিমের এক গায়িকা মঞ্চেই পড়ে গেল। আমি তাকে সাহায্য করতে চাইছিলাম, কিন্তু তখন টিমের একজন সঙ্গীতশিল্পী কেঁপে কেঁপে আমার দিকে ইশারা করল।
আমি তার দৃষ্টির দিকে তাকালাম—
হায় আল্লাহ!
যাদের জন্য আমি গান গাইছিলাম, তাদের পা মানুষের মতো নয়! পশুর খুরের মতো!
ভয়ে আমার শরীর কাঁপতে শুরু করল। বুঝতে পারলাম—
আমি জিনদের বিয়েতে গান গাইছি।
আতঙ্কের মুহূর্ত
এক মুহূর্তের জন্য পুরো আসর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। অতিথিদের চোখ জ্বলজ্বল করছে অন্ধকারে। আমার কণ্ঠ শুকিয়ে গেল। মনে হচ্ছিল আমি যদি থামি, হয়তো ওরা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে।
আমি আমার টিমকে চোখের ইশারায় শক্ত থাকতে বললাম। গান চালিয়ে গেলাম, কিন্তু ভেতরে আতঙ্ক জমাট বাঁধছিল।
অবশেষে অনুষ্ঠান শেষ হলো। অদ্ভুত কণ্ঠে কেউ ফিসফিস করে বলল—
“তুমি আজ আমাদের জগতে গান গেয়েছো… এখন থেকে আর কখনো মানুষের সামনে গান গাইতে পারবে না।”
পরিণতি
সেদিনের পর আমি আর কখনো গান গাইতে পারিনি। গলার শক্তি হারিয়ে ফেললাম, শরীর ভেঙে পড়ল। রাতের পর রাত দুঃস্বপ্নে দেখতাম সেই অদ্ভুত চোখ, সেই পশুর খুর।
আমি বুঝলাম—এটা ছিল আল্লাহর সতর্কবার্তা। আমার গানের জীবন শেষ হয়ে গেছে।
আজ এত বছর পর আমি এ কাহিনী বলছি, যেন অন্যরা শিক্ষা নিতে পারে। কারণ জিনরা আছে, তারা বাস্তব। আর তাদের দুনিয়ায় পা দিলে মানুষ আর আগের মতো থাকতে পারে না।
---
এভাবেই নোরা তাক্কাকার ভয়াল কাহিনী কুয়েত ও পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ বলে এটি নিছক লোককাহিনী, আবার কেউ বিশ্বাস করে এটি বাস্তব। তবে গল্পটি আজও রহস্যে ঘেরা।
ি_দুনিয়া
ঘি অর্ডার করতে নাম/ঠিকানা/ফোন নাম্বার দিয়ে ইনবক্স করুন বা কল/হোয়াটসঅ্যাপ করুন
01974-752779