28/10/2023
""" গ্রন্থ""""""প্রিয়পরমের কথা"""""(৮২)
এই কারণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অনন্যচিত্ত হ'য়ে তাঁকে ভজনা করার কথা বলেছেন(গীতা,৯/২২),বলেছেন লোকসংগ্রহের কথা (ঐ,৩/২০)।নদীয়ায় নিমাই আকুল হয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন ভারতের পথে-প্রান্তরে।লোকসংগ্রহের জন্য তাঁদের এই ব্যাকুলতা কিন্ত দলবৃদ্ধির জন্য নয়কো। কিছু মানুষ কোন এক বিশেষ মতের সমর্থনে একটা দল বাঁধতে পারে। কিন্ত তার ভিতর দিয়ে প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের কোন চেষ্টা না থাকার দরুন ঐ দলের মধ্যে অচিরেই আবিলতা ও বিভেদের বীজ দেখা যায়। মানুষ পারস্পরিকতা-বোধ হারিয়ে ফেলে। ফলে সংহতি ও একতার ধ্বনি লুন্ঠিত হয়।বর্ত্তমানের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এই ব্যাপারটা স্পষ্টভাবেই লক্ষ্য করা যায়।
প্রবৃত্তিগুলি যদি সুনিয়ন্ত্রিত না হয় তা'হলে চরিত্র হয়--ঠাকুরের ভাষায়---কতকগুলি কেউটে সাপের আস্তানা।কখন যে কোনটা ছোবল মেরে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলবে তার ঠিক নাই।
প্রবৃত্তির দাসত্ব থেকে মুক্ত হ'লেই মানুষ পায় শান্তি ও সাম্যচলন,ভোগ করে প্রকৃত স্বাধীনতার সুখ।এ জন্য দরকার ঈশ্বরাভিমুখিনতা।কিন্ত অব্যক্ত ঈশ্বরের প্রতি প্রাণের টান হয় না,তাঁর ইচ্ছা অনিচ্ছার সাথে মানুষের সংযোগ স্থাপিত হয় না।তাই,মানুষের জন্য প্রয়োজন হয় মানুষ-ঈশ্বর,ঈশ্বরের ব্যক্ত প্রতিক, আচার্য্য,সদগুরু,যাঁর সঙ্গে নিত্য যোগ রেখে মানুষ চলতে পারে। তিনিই অবতারপুরুষ,গুরুপুরুষোত্তম,নবরূপী ভগবান। তাঁর অসীম প্রেমের আকর্ষণে তিনি সবাইকে কাছে টানেন,বুকে তুলে নিতে চান প্রতিপ্রত্যেকটি জীবনকে।আর তারই মাধ্যম হল দীক্ষা।সদগুরুর নিকট দীক্ষা ও তদনুগ চলনের মধ্যে দিয়েই কাটে মানুষের বৃত্তিফাঁস,সে পায় আত্মনিয়ন্ত্রণের পথ।
চমৎকার দুইটি গল্প আগামী পর্বে.....
#সৎসঙ্গ #দেওঘর 🙏🙏🙏