08/05/2026
উৎসর্গ—
মানুষ মূলত স্বাধীন জন্ম নিলেও,
তার অনুভূতিগুলো ধীরে ধীরে তাকে এক অদৃশ্য কারাগারের দিকে নিয়ে যায়।
কখনও ভালোবাসা, কখনও নির্ভরতা, কখনও বা নীরব আসক্তি—
এসবই একসময় আত্মার চারপাশে অদেখা শিকল হয়ে জড়িয়ে থাকে।
যখন একজন মানুষ নিজের অস্তিত্বকে অন্য কারও উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে ফেলে,
তখন সে আর নিজের থাকে না।
তার চিন্তা, অনুভব, অপেক্ষা, এমনকি তার নিঃসঙ্গতাও
অন্য এক সত্তার অধীনে বন্দি হয়ে যায়।
মানুষ তখন একটি বদ্ধ ঘর—
বাইরে থেকে যার দেয়াল দৃঢ় দেখায়,
কিন্তু ভেতরে প্রতিধ্বনিত হয় অব্যক্ত আর্তনাদ।
আর সেই ঘরের চাবিকাঠি থাকে অন্য কারও হাতে,
যে চাইলে দরজা খুলতে পারে,
আবার চাইলে চিরকাল অন্ধকারে আবদ্ধ রেখেও চলে যেতে পারে।
এটাই হয়তো মানব-অস্তিত্বের সবচেয়ে নির্মম দর্শন—
মানুষ স্বাধীনতার জন্য বাঁচতে চায়,
কিন্তু অনুভূতির কাছে এসে স্বেচ্ছায় বন্দিত্বকে বেছে নেয়।
কারণ হৃদয় যুক্তির ভাষা বোঝে না;
সে বোঝে শুধু আকর্ষণ, অপেক্ষা আর অপ্রাপ্তির দীর্ঘশ্বাস।
অনেক সময় মানুষ নিজের ভেতরে এতটাই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে
যে সে আর পৃথিবীর অংশ থাকে না,
সে হয়ে যায় একটি নীরব দর্শন—
যেখানে প্রতিটি শব্দের চেয়ে নীরবতা বেশি সত্য,
আর প্রতিটি উপস্থিতির চেয়ে অনুপস্থিতি বেশি গভীর।
এই লেখাটি উৎসর্গ করা হলো
সেসব আত্মাকে,
যারা নিজের স্বাধীন সত্তাকে বিসর্জন দিয়ে
অন্য কারও অনুভূতির গোলকধাঁধায় আজীবন পথ হারিয়ে ফেলে।
সেসব নীরব মানুষকে,
যারা বাইরে থেকে স্বাভাবিক,
কিন্তু অন্তরে এক অনন্ত দার্শনিক বন্দিত্ব বহন করে চলেছে।
— লেখক শুভ বড়ুয়া