02/09/2026
রাজনীতিতে কাকতালীয় ঘটনার চেয়ে সাজানো রাজনৈতিক ছকই বেশি দেখা যায়—এই সত্যটা বারবার প্রমাণ করে দিচ্ছে।
আগে তানভীর ইসলাম ভাইয়ের ঘটনাটাই ধরা যাক। বগুড়ায় যখন উনি দলের হয়ে মাঠ গুছাচ্ছেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই একটি মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করা হলো। উদ্দেশ্য ছিল খুব স্পষ্ট—উনাকে মাঠ থেকে সরিয়ে রাখা এবং নির্বাচনী ভূমিকা থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া। পরবর্তীতে উনি ঠিকই আইনি প্রক্রিয়ায় নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে গেলেন।
কিন্তু ততক্ষণে তো রাজনীতির যে প্রাথমিক ক্ষতিটা করার দরকার ছিল, তা প্রতিপক্ষ নিশ্চিত করে ফেলল!
ঠিক একই রাজনৈতিক স্ক্রিপ্ট আবার লেখা হচ্ছে সামনে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। এনসিবি'র মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভাই যখন মেয়র নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন এবং প্রতিপক্ষের জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করেছেন, ঠিক তখনই দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সামনে এনে এক সাজানো খেলার পাঁতারা শুরু হলো।
হঠাৎ করে প্রচার চালানো হচ্ছে যে দুদক নাকি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন পদায়ন ও নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে দুর্নীতির 'প্রাথমিক সত্যতা' বা রাস্তা খুঁজে পেয়েছে। কিন্তু এই পুরো টাইমিংটাই বলে দেয় মূল উদ্দেশ্যটা কী:
নির্বাচনী লড়াই থেকে দূরে রাখা: আইনি জটিলতা ও অনুসন্ধানের বাহানা তৈরি করে তাকে নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া।
জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি: নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত আসিফ মাহমুদ ভাইয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং সাধারণ মানুষের মনে একটি সাময়িক নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দেওয়া।
আজকের সচেতন জনগণ অন্ধ বিশ্বাস করে না। তারা খুব ভালো করেই জানে, নির্বাচন শেষ হয়ে গেলে আবারও হয়তো প্রমাণিত হবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিন্তু ততক্ষণে তো নির্বাচনের ক্ষণটি পার হয়ে যাবে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লোটা হয়ে যাবে!
সংস্থাকে ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার এই পুরোনো প্রেসক্রিপশন জনগণ এবার ধরে ফেলেছে। সস্তা নাটক বানিয়ে আর জনগণের রায়কে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়।