25/02/2026
বিহেভিয়ার থেরাপি সম্পর্কে অনেক বাবা মাই আমাকে অনেক ধরনের প্রশ্ন করেন। আমি বিভিন্ন ভিডিওতেই বিহেভিয়ার থেরাপিটা আমি আমার বাচ্চাদের ওপর কীভাবে অ্যাপ্লাই করছি সেটা ব্যাখ্যা করে থাকি। তারপরও অনেকেই হয়তো এটা স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছেন না যে এটাই আসলে বিহেভিয়ার থেরাপি তাদের জন্য নিজে সহজভাবে ব্যাখ্যা করছি।
★বিহেভিয়ার থেরাপি আসলে কী?
বিহেভিয়ার থেরাপি মানে হলো বাচ্চার আচরণকে বুঝে তাকে সঠিক আচরণ শেখানো।
এটা শাস্তি দেওয়ার পদ্ধতি না।
এটা বোঝার পদ্ধতি।
ধরুন, একটি বাচ্চা বারবার চিৎকার করছে।
আমরা যদি শুধু বলি “চুপ করো”, তাহলে সে শিখবে না।
কিন্তু যদি আমরা বুঝি সে কেন চিৎকার করছে, তখন আমরা তাকে অন্যভাবে নিজের কথা বলতে শেখাতে পারি।
এই থেরাপির মূল কথা হলো
খারাপ আচরণ কমানো
ভালো আচরণ বাড়ানো
এবং বিকল্প আচরণ শেখানো
সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় অটিজম, ADHD, স্পিচ ডিলে, লার্নিং ডিফিকাল্টি বা বিহেভিয়ার চ্যালেঞ্জ থাকা বাচ্চাদের ক্ষেত্রে।
তবে শুধু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু না, যেকোনো বাচ্চার ক্ষেত্রেই এটা কাজে লাগে।
আসলে যেসব বাচ্চা আচরণ দিয়ে তাদের মনের কথা বোঝায়, তাদের জন্য এটা দরকার।
★বাবা মা বাসায় কীভাবে সহজভাবে অ্যাপ্লাই করতে পারেন?
এখানে খুব কঠিন কিছু নেই। কয়েকটা সহজ নিয়ম মানলেই হবে।
১. আগে কারণটা বুঝুন
নিজেকে প্রশ্ন করুন
সে কখন এমন করছে
তার আগে কী হয়েছিল
সে কি কিছু চাইছিল
কারণ না বুঝে শাস্তি দিলে কাজ হয় না।
২. ভালো আচরণ ধরেই প্রশংসা করুন
আমরা অনেক সময় খারাপটা বেশি দেখি।
কিন্তু ভালো কিছু করলে সঙ্গে সঙ্গে বলুন
তুমি সুন্দরভাবে বলেছো
তুমি আজ মারোনি
আমি তোমার জন্য গর্বিত
এই প্রশংসা খুব শক্তিশালী।*
৩. আগে থেকেই নিয়ম পরিষ্কার করুন
হঠাৎ করে বকা না দিয়ে আগে বলুন
পাঁচ মিনিট পর টিভি বন্ধ হবে
দোকানে গেলে দৌড়ানো যাবে না
*আগে থেকে জানালে মেল্টডাউন কম হয়।
৪. বিকল্প আচরণ শেখান
শুধু বলবেন না মারবে না
শেখান
রেগে গেলে বলবে আমি রেগে গেছি
or
হাত বুকে রাখবে
Or
আমাকে বলবে help
আমি জানি আমার সন্তান কোনো দোকানে গেলে ক্যালকুলেটরের জন্য কান্না করে, তাই আমি দোকানে যাওয়ার আগেই তাকে বলে দিই সে ক্যাশ কাউন্টারে ঢুকতে পারবে না এবং ক্যালকুলেটরের জন্য কান্না করতে পারবে না। তাই পরবর্তীতে সে যখন এই কান্নাটা আর এই জেদটা না করে সুন্দর করে বেরিয়ে আসে তখন আমি ওকে প্রশংসা করি, ওকে হাগ করি, ওকে আদর করি যে হ্যাঁ তুমি মার কথা শুনেছ আর আমি অনেক খুশি হয়েছি।
ও যখন তার আংকেলের বাসায় যায় তখন টিভি এবং ফোন দেখার একটা সুযোগ হয়, তাই আগে থেকেই সে কান্নাকাটি শুরু করে দেয় যেন TV অন করা হয় এবং অনেকবার এ বিষয়টা লক্ষ্য করার পর এখন আমি আগে থেকেই তাকে বারবার মনে করিয়ে দিই আমরা কিন্তু ওই বাসায় গিয়ে টিভি দেখব না, ফোনের জন্য কান্না করব না এবং ও যখন পুরো সময়টা শান্ত থাকে এবং এই ধরনের বিহেভিয়ারটা করে না তখন আমি প্রশংসা করতে থাকি এবং ওই বাসাতেও মাঝে মাঝে আমি তাকে প্রশংসা করি যে হ্যাঁ বাবা তুমি মার কথা শুনছ, আমি অনেক খুশি হয়েছি।
এই যে আমি প্রশংসাটা করছি এতে করে পরবর্তীতে এই ভালো আচরণটা করার জন্য সে আগ্রহ পাবে।
বিহেভিয়ার থেরাপিগুলো আসলে এভাবেই কাজ করে আপনি যেকোনো বাচ্চার ক্ষেত্রেই এই নিয়মগুলো এভাবে পালন করলে ফলাফল পাবেন কিন্তু রেগুলারিটিটাই হচ্ছে গিয়ে মেইন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা
বিহেভিয়ার থেরাপি মানে বাচ্চাকে বদলে ফেলা না।
ওকে বোঝা।
ওকে শেখানো।
ওকে নিরাপদ অনুভব করানো।
আপনি যেহেতু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন বাচ্চার মা/ বাবা আপনি প্রতিদিনই অনেক কিছু করছেন। পারফেক্ট হতে হবে না। ছোট ছোট ধারাবাহিক চেষ্টাই সবচেয়ে বড় থেরাপি