14/12/2024
প্রশ্নঃ ২০১. আল-কুরআন কী?
উত্তরঃ আল-কুরআন মালায়েক জিবরাইল (আঃ)-কর্তৃক সর্বশেষ নবী ও রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)- এর উপর প্রত্যাদিষ্ট আল্লাহর বাণী। যে কোন প্রকার বিচ্যুতি বা বিকৃতি থেকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আল-কুরআনকে হেফাজত করবেন।
প্রশ্নঃ ২০২. বর্তমান অবস্থায় প্রাপ্ত আল-কুরআন আমাদের কাছে কীভাবে এলো?
উত্তরঃ নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর প্রত্যাদিষ্ট বাণী বিভিন্ন ব্যক্তি লিখে রখেছিলেন অথবা তা মুখস্থ করেছিলেন, যা পরবর্তীতে একত্রিত করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে ‘তাওয়াতুর’ বলা হয়।
প্রশ্নঃ ২০৩. আল-কুরআন শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ এই শব্দটি ‘পড়া’ বা ‘আবৃত্তি করা’ ধাতু হতে সৃষ্ট। সুতরাং আল-কুরআন একটি ক্রিয়া-বিশেষ্য, যার অর্থ পড়ছে বা আবৃত্তি করছে।
প্রশ্নঃ ২০৪. আল-কুরআন কেন প্রেরিত বা প্রত্যাদিষ্ট হয়েছিল?
উত্তরঃ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) ওহীর আকারে আল্লাহর বাণী গ্রহণ করতেন এবং পরবর্তীতে সেগুলো সাহাবীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।
প্রশ্নঃ ২০৫. নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর কীভাবে ওহী নাযিল হোত?
উত্তরঃ বিভিন্ন প্রেরণার মাধ্যমে যেমন, স্বপ্ন; হযরত ইবরাহীম (আঃ)-কে স্বপ্নের মাধ্যমে তার পুত্রকে কোরবানী করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিজেকে গোপন রেখে কথা বলা; যেমন, আল্লাহ হযরত মুসা (আঃ) এর সাথে কথা বলেন এবং হযরত জিবরাইল (আঃ)-এর মাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর উপর আল -কুরআন নাযিল করা হয়।
প্রশ্নঃ ২০৬. কখন থেকে আল-কুরআন নাযিল হয়?
উত্তরঃ যখন নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর বয়স ৪০ বছর পূর্ণ হয় ( প্রায় ৬১০ খ্রিস্টীয় শতকের), তখন লায়লাতুল ক্বদরের (২৭ শে লাইলাতুল ক্বাদর বা ২১ শে রমজানের পর যে কোন বেজোড় রজনীতে) আল-কোরআন নাযিল হয়।
প্রশ্নঃ ২০৭. রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ)- প্রথম কোথায় নবুয়ত প্রাপ্ত হন?
উত্তরঃ মক্কার নিকটবর্তী হীরা গুহায় ধ্যানমগ্ন থাকা অবস্থায় নবী মুহাম্মদ (সাঃ)- প্রথম ওহী প্রাপ্ত হন।
প্রশ্নঃ ২০৮. নবী মুহাম্মদ (সাঃ)- এর উপর প্রথম কোন্ আয়াত নাযিল করা হয়?
উত্তরঃ আল-কুরআনের ৯৩ নং সূরা-আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত : “ পড়, তোমার প্রভুর নামে, যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাটবদ্ধ রক্ত থেকে। পড়! নিশ্চয়ই আপনার রব সর্বাধিক উদার, যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন; তিনি মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানতো না।”
প্রশ্নঃ ২০৯. মহানবী (সাঃ)-এর উপর আল-কুরআন প্রত্যাদিষ্ট হবার বিষয়টি উল্লেখ করার জন্য আল-কুরআনে বিশেষ কিছু নাম উল্লেখিত হয়েছে, সেগুলো কী কী?
উত্তরঃ কুর’আন (আবৃত্তি করা), ফুরকান (নির্ণায়ক), তানজিল (প্রেরিত), জিকর (পুনরায় স্মরণকারী) এবং কিতাব (গ্রন্থ)।
প্রশ্নঃ ২১০. মহানবী (সাঃ) কর্তৃক গৃহীত প্রত্যাদেশ এর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আল-কুরআনে বিশেষ কিছু বিশেষণ ব্যবহৃত হয়েছে, সেগুলো কী কী?
উত্তরঃ নুর (আলো), রাহমান (করুণা), মাজিদ (গৌরবময়), মুবারক (রহম), বাশির (সুসংবাদ) এবং নাযির (সতর্ককারী)।
প্রশ্নঃ ২১১. ‘ওয়াহী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ আল্লাহর নিকট হতে প্রত্যাদিষ্ট।
প্রশ্নঃ ২১২. প্রথম আয়াত নাযিল হবার অব্যবহিত পরেই কি পরবর্তী আয়াত নাযিল করা হয়?
উত্তরঃ না, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ওহী নাযিল বন্ধ থাকে।
প্রশ্নঃ ২১৩. দ্বিতীয়বার কোন্ সূরা নাযিল করা হয়?
উত্তরঃ আল-কুরআনের ৭৪ নং সূরা আল-মুদ্দাস্সির এর প্রথম আয়াত গুলো,“হে চাদরাবৃত। উঠুন, সতর্ক করুন। আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষণা করুন। ”
প্রশ্নঃ ২১৪. প্রথমে নাযিলকৃত কিছু সূরা কোনগুলো?
উত্তরঃ ৭৩নং সূরা (আল-মুজ্জাম্মিল), ১নং সূরা (আল-ফাতিহা), ৮১নং সূরা (আল-তাকবীর), ৮৭নং সূরা (আল-আ’লা), ৯২নং সূরা (আল-লাইল) এবং ৮৯ নং সূরা (আল-ফজর)।
প্রশ্নঃ ২১৫. কত বছর ধরে সূরা নাযিল হতে থাকে?
উত্তরঃ নবী মুহাম্মদ (সাঃ)- এর মৃত্যু অবধি অর্থাৎ ১০ হিজরী বর্ষসাল অবধি প্রায় ২৩ বছর।
প্রশ্নঃ ২১৬. সর্বশেষ কোন্ সূরা নাযিল হয়?
উত্তরঃ ৫ নং সূরার ৪ নং আয়াত। “আজ তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করে দিলাম, আমার অনুগ্রহ তোমাদের উপর পরিপূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।”
প্রশ্নঃ ২১৭. আল-কুরআন কেন ধাপে ধাপে নাযিল করা হয়?
উত্তরঃ যখন প্রয়োজন অনূভূত হোত তখন মহানবী (সাঃ) এর উপর আয়াত নাযিল হওয়ার মাধ্যমে তার মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করা হোত।
১.আল্লাহর আইন ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করার জন্য।
২.যেহেতু ওহী নাযিলের বিষয়টি একটি নিদারুন কষ্টকর ব্যাপার ছিল, তাই মহানবী (সাঃ) যেন সহজভাবে নাযিলকৃত ওহীর কষ্ট বহন করতে পারেন, সেজন্য ধীরে ধীরে ওহী নাযিল করা হয়।
৩.বিশ্বাসীরা যেন সহজভাবে কোরআনের আয়াতের মর্ম সহজভাবে অনুধাবন করতে পারেন, প্রয়োগ করতে পারেন এবং স্মরণ রাখতে পারেন।
প্রশ্নঃ ২১৮. প্রথম কে নায়িলকৃত ওহী মুখস্থ রাখেন?
উত্তরঃ মহানবী (সাঃ) নিজে।
প্রশ্নঃ ২১৯. উল্লেখযোগ্য সাহাবীদের নাম বলুন, যারা কুরআন মুখস্থ করেন?
উত্তরঃ আবু বকর (রাঃ), উমার (রাঃ), আলী ইবনে মাসুদ (রাঃ), আবু হুরায়রা (রাঃ), আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে ’আমর ইবনে আ’লাস (রাঃ)। মহিলাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন : ’আইশা (রাঃ), হাফসা (রাঃ) এবং উম্মে সালমা (রাঃ)।
প্রশ্নঃ ২২০. মহানবী (সাঃ) -এর ইনতিকালের পূর্বে কোন্ কোন্ সাহাবী সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করেন?
উত্তরঃ উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ), মু’আয়য ইবনে জাবার (রাঃ) এবং যায়িদ ইবনে তাবিত (রাঃ) ।
প্রশ্নঃ ২২১. নবী (সাঃ) -এর জীবদ্দশায় কি কুরআন লিপিবদ্ধ হয়?
উত্তরঃ হয়, তবে একটি খন্ডে লিপিবদ্ধ করা হয়নি।
প্রশ্নঃ ২২২. নবী মুহাম্মদ (সাঃ) কি ওহী লিখে রাখতেন?
উত্তরঃ না। তিনি আটচল্লিশ জন সাহাবী, যাদের মধ্যে যায়িদ ইবনে সাবিত (রাঃ) কে নবী মৌখিক নির্দেশ দিতেন, তিনি তা লিখে রাখতেন।
প্রশ্নঃ ২২৩. নবী (সাঃ) এর জীবদ্দশায় আল-কুরআন লিপিবদ্ধ করার নির্ভরযোগ্য কোন তথ্য পাওয়া যায় কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, একটি তথ্য থেকে জানা যায় যে, একদল লোক যখন মদীনায় ইসলাম ধর্ম শিক্ষার জন্য আগমন করেন, তখন তাদের পাঠ করা এবং মুখস্থ করার জন্য আল-কুরআনের বিভিন্ন অধ্যায়ের লিখিত কয়েকটি কপি দেওয়া হয়।
প্রশ্নঃ ২২৪. আল-কুরআন সাজানোর বিষয়ে নবী (সাঃ) কি কোন নির্দেশ প্রদান করেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ, সালাতে আল-কুরআন তেলাওয়াত করার সময় প্রতিটি মুসলমানই কুরআন সাজানোর বিষয়টি জানতে পারেন।
প্রশ্নঃ ২২৫. কে মহানবী (সাঃ)-এর সাথে বছরে একবার আল-কুরআন তেলওয়াত করতেন?
উত্তরঃ মহানবী (সাঃ) যে বছর ইন্তেকাল করেন, জিবরাইল (আঃ) সেই বছর নবীর সাথে দুইবার আল-কুরআন তেলাওয়াত করেন।
প্রশ্নঃ ২২৬. মহানবী (সাঃ) যে বছর ইনতিকাল করেন সে বছর আল-কুরআন কী আকারে ছিল?
উত্তরঃ আল-কুরআনের যাবতীয় ক্রম এবং বিন্যাস উভয়ই লিখিত ছিল, আলাদাভাবে লিখিত অংশ ছিল যাকে সুহুফ বলা হোত এবং তা সাহাবীরা মুখস্থ করতেন।
প্রশ্নঃ ২২৭. সুহুফ এবং মুসাফ- এর মধ্যে পার্থক্য কি?
উত্তরঃ সুহুফ (বহুবচন, এর একবচন সহীফা) অর্থ আলগা লেখার সামগ্রী যেমন, কাগজ, শুষ্ক পশুর চামড়া, প্যাপিরাস ইত্যাদি। অপরদিকে মুসাফ একবচন, এর বহুবচন মাসাহিফ। দুই কভারের মধ্যে এক খন্ডের মধ্যে নির্দিষ্ট ক্রম।
প্রশ্নঃ ২২৮. মহানবী (সাঃ), আবু বকর (রা) এবং উমার (রাঃ) এর জীবদ্দশায় আল-কুরআন কী আকারে ছিল?
উত্তরঃ সুহুফ আকারে ছিল। প্রতিটি সূরার মধ্যে আয়াতের ক্রম নির্ধারিত ছিল, কিন্ত লিখিত সূরার ক্ষেত্রে তা এলোমেলোভাবে সাজানো ছিল। অর্থাৎ তখন কুরআন একটি খণ্ডে লিপিবদ্ধ ছিল না।
প্রশ্নঃ ২২৯. কে কুরআনের একটি খণ্ড তৈরী করার নির্দেশ দেন?
উত্তরঃ উসমান (রাঃ)
প্রশ্নঃ ২৩০. কেন উসমান (রাঃ) আল-কুরআনের সংকলন বা মুসাফ এর কাজ শুরু করতে চাইলেন?
উত্তরঃ আবু বকরের রাজত্বকালে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির স্মৃতিতে থাকা এবং আল-কুরআনের বিভিন্ন আয়াত সংগ্রহের জন্য যায়িদ ইবনে তাবিত (রাঃ)-কে নির্দেশ দেন। সংগৃহীত কপি নিজের কাছে রাখেন, অতঃপর তা উমার (রাঃ) এর কাছে এবং পরবর্তীতে কন্যা হাফসা (রাঃ) এর নিকট রাখেন।
১.উসমান (রাঃ)-এর রাজত্বকালে, আল-কুরআনের বিশুদ্ধ তেলাওয়াত নিয়ে মুসলিম সামাজ্যের বিভিন্ন অংশে বিবাদ সৃষ্টি হয়।
২.উসমান (রাঃ) সুহুফ নিজের কাছে নিয়ে আসেন। পরে তা হাফসা (রাঃ) এর কাছে সংরতি থাকে এবং যায়েদ ইবনে ছাবিত (রাঃ) সহ মোট চারজন সাহাবীকে আল-কুরআনের অবিকল নকল প্রস্তুতের আদেশ দেওয়া হয়।
প্রশ্নঃ ২৩১. বর্তমান সময়ের লিখিত মুসাফ এবং উসমান (রাঃ) এর সময়কার কপির মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য রয়েছে?
উত্তরঃ বতমান সময়ে প্রাপ্ত মুসাফ ভাওয়েলিং মার্ক (তাসকিল) রয়েছে, যা সঠিক উচ্চারণে সহযোগিতা করে এবং চিহ্ন রয়েছে যা একই বর্ণসমূহের মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায়তা করে। তাছাড়া উসমান (রাঃ)-এর সময়কার কপিতে বিভিন্ন আয়াতের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তির মধ্যে কোন প্রকার বিভাজন বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশ ছিল না অথবা সওয়ারের মধ্যে কোন শিরোনাম বা বিভাজক ছিল না, যা বর্তমান সময়ে প্রাপ্ত কুরআনে আছে।
প্রশ্নঃ ২৩২. আল-কুরআনের কোন পুরাতন পান্ডুলিপি রয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, বিশেষ ধরনের ছাগলের চামড়ার উপর লিখিত কুরআনের একটি পান্ডুলিপি মিশরের জাতীয় যাদুঘরে রয়েছে। সেটি নবী (সাঃ) এর মৃত্যুর ৫৮ বছর পর (৬৮৮ খ্রিস্টাব্দ)-এ প্রস্তুত করা হয়। প্রথম এবং দ্বিতীয় হিজরীতে প্রস্তুত করা আল-কুরআনের কপিও রয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৩৩. কোন বছর আল-কুরআনের ডায়েকরিটিকাল চিহ্ন এবং ভাওয়েলিং প্রতীক প্রবর্তিত হয়?
উত্তরঃ প্রথম হিজরী শতকে।
প্রশ্নঃ ২৩৪. কুরআনের চলতি পান্ডুলিপি কখন প্রথম মুদ্রিত হয়?
উত্তরঃ মিশরের কায়রোতে ১৯২৫ সালে ( ১৩৪৪ হিজরীতে) আসিম হতে বর্নিত হাফসের তেলাওয়াতের উপর ভিত্তি করে উক্ত কপি প্রস্তুত করা হয়।
প্রশ্নঃ ২৩৫. আয়া’ ( বহুবচনে আয়াত) বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ আয়া’ অর্থ একটি চিহ্ন এবং কুরআনে এর দ্বারা কুরআনের আয়াত বুঝায়।
প্রশ্নঃ ২৩৬. সূরা (বহুবচনে সোয়ার) বলতে কি বুঝায়?
উত্তরঃ আরবী শব্দ সূর হতে সূরা শব্দটির উৎপত্তি। এর অর্থ বেড়া এবং কুরআনে এর দ্বারা অধ্যায় বুঝায়।
প্রশ্নঃ ২৩৭. আল-কুরআনে মোট কতটি সূরা?
উত্তরঃ ১১৪ ( একশত চৌদ্দটি সূরা)।
প্রশ্নঃ ২৩৮. আল-কুরআনের প্রতিটি সূরার আয়াত সংখ্যা কি এক?
উত্তরঃ না।
প্রশ্নঃ ২৩৯. আল-কুরআনের দীর্ঘতম সূরার আয়াত সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ২৮৬ (দুই শত ছিয়াশি)।
প্রশ্নঃ ২৪০. কোন্ সূরাটি দীর্ঘতম সূরা ?
উত্তরঃ আল-বাকারা (২নং সূরা)।
প্রশ্নঃ ২৪১. ক্ষুদ্রতম সূরার আয়াত সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ৩ (তিনটি)।
প্রশ্নঃ ২৪২. ক্ষুদ্রতম সূরার নাম কী?
উত্তরঃ সূরা আল কাউসার (১০৮ নং সূরা)।
প্রশ্নঃ ২৪৩. প্রতিটি সূরাই কি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দ্বারা সূচিত হয়েছে?
উত্তরঃ না; ১২৯ টি আয়াত সমন্বয়ে গঠিত আল-কুরআনের সূরা-আত-তাওবাহ ব্যতীত সকল সূরাই বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দ্বারা সূচিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৪৪. প্রতিটি সূরার কি শিরোনাম বা নামকরণ রয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৪৫. কে সূরাসমূহ সাজিয়েছিলেন?
উত্তরঃ মালায়েক জিবরাইল (আঃ)-এর তত্ত্বাবধানে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সূরা সাজিয়েছিলেন।
প্রশ্নঃ ২৪৬. আলেমে দ্বীনগণ কীভাবে সূরাসমূহ চার ভাগে ভাগ করেছিলেন?
উত্তরঃ দীর্ঘতম সূরা (আল-তিওয়াল); ২-১০ নং সূরা;
১.দৈর্ঘ্যের দিক থেকে মধ্যম সূরাসমূহ (আল-মা’উন); প্রতিটি সূরার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১০০ আয়াত; ১১-৩৫ নং সূরা।
২.আল-মিজানা, প্রতিটির আয়াত সংখ্যা ১০০ এর কম; ৩৬-৪৯ নং আয়াত।
৩.আল-মুফাস্সল, শেষ ধারা; ৫০ থেকে ১১৪ নং সূরা।
প্রশ্নঃ ২৪৭. জুয’ বলতে কী বুঝায়?
উত্তরঃ জুয’ বলতে বুঝায় নির্দিষ্ট অংশের উপ-বিভাগ এবং আল-কুরআনে এই পরিভাষাটি ব্যবহৃত হয়েছে কুরআনকে নির্দিষ্ট ভাগে বিভক্ত করার প্রসঙ্গ উল্লেখ করতে গিয়ে। এই হিসেবে প্রায় সমান দূরত্ব রেখে আল-কুরআনকে ৩০টি জুয’-এ ভাগ করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ ৪৮. হিজব (বহুবচনে আহজাব) বলতে কী বুঝায়?
উত্তরঃ আল-কুরআনের প্রতিটি জুয’ চারটি হিজব- এ বিভক্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি হিজবকে আবার তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে; হিজবের প্রথম ভাগ, অর্ধভাগ এবং তৃতীয় ভাগ।
প্রশ্নঃ ৪৯. আল-কুরআনের তরজমাকে কী কুরআন বলে অভিহিত করা যায়?
উত্তরঃ না। মূল আরবী ভাষায় নাযিলকৃত আয়াতের ব্যাখ্যা বলা যেতে পারে।
প্রশ্নঃ ৫০. আল-কুরআন সম্যকভাবে উপলব্ধি করতে আরবী জানা কি পূর্বশর্ত?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৫১. আল-কুরআনের অর্থ বুঝতে তরজমাকে পরোক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারি কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৫২. আল-কুরআন বোঝা কি সহজ?
উত্তরঃ চেষ্টা করলে বোঝা সহজ। সূরা-আল ক্বামারের ১৭নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমি কুরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝার জন্য। কোন চিন্তাশীল আছে কি?”
প্রশ্নঃ ২৫৩. আল-কুরআনের আয়াত কি গদ্য না পদ্য?
উত্তরঃ কোনটিই নয়। এটি একক বৈশিষ্ট্যে সমুজ্জ্বল এবং অতুলনীয় সৌর্ন্দয্য ও গুণে অনন্য। মানবজাতিকে পথনির্দেশ প্রদানের জন্য আল-কুরআনই আল্লাহর সর্বশেষ বাণী ।
প্রশ্নঃ ২৫৪. আল-কুরআনে কি কোন ঘটনা কাহিনী রয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ। আল-কুরআনের সূরা-ইউসুফের ৩নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “আমি তোমার নিকট উত্তম কাহিনী বর্ণনা করেছি?”
প্রশ্নঃ ২৫৫. কুরআনে বর্ণিত কাহিনীগুলো কি কি?
উত্তরঃ আল্লাহর নবী, তাদের উম্মত, তাদের বানীসমূহ এবং তাদের আহ্বানসমূহ সম্পর্কে । উদাহরণ, নুহ (আঃ), মুসা (আঃ) এবং ঈসা (আঃ) প্রমুখ নবী-রাসূলগণ সম্পর্কে।
১.অতীতের লোকদের সম্পর্কে এবং অতীত ঘটনাসমূহ সম্পর্কে। যেমন, আসহাবে কাহফ এর যুবকদের কাহিনিসমূহ।
২.হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর জীবদ্দশায় সংঘটিত ঘটনাসমূহ। যেমন, বদরের যুদ্ধ ।
প্রশ্নঃ ২৫৬. আল কুরআনে কাহিনী বর্ণনার উদ্দেশ্য কী?
উত্তরঃ পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে জেনে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছা, উপদেশ গ্রহণ করা ইত্যাদি।
প্রশ্নঃ ২৫৭. কোন বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে কি কোনো ধরণের উদাহরণ/তুলনা পেশ করা যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ ।
প্রশ্নঃ ২৫৮. আল-কুরআনে কি কোন বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে উদাহরণ, তুলনা পেশ করা হয়েছে?
উত্তরঃ হ্যাঁ ।
প্রশ্নঃ ২৫৯. ’ক্বুল’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তরঃ বল। এটি মহানবী (সাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে তার উম্মতের জন্য প্রদত্ত নির্দেশনামা।
প্রশ্নঃ ২৬০. আল-কুরআনে ক্বুল কতবার ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তরঃ ২০০ (দুইশত) বারের বেশি।
প্রশ্নঃ ২৬১. আল-কুরআনে শপথজ্ঞাপক কোন অভিব্যক্তি (আকসাম, কাসাম) ব্যবহৃত হয়েছে কী?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৬২. কীভাবে শপথজ্ঞাপক অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে?
উত্তরঃ ‘ওয়া’ শব্দের অর্থ হলো - ‘এবং’, অথবা ‘লা-উকসিমু’ অর্থ - নিশ্চয় আমি শপথ করি’ অথবা ‘তা’ বর্ণ দ্বারা।
প্রশ্নঃ ২৬৩. আল-কুরআনে শপথজ্ঞাপক অভিব্যক্তি প্রকাশ পেয়েছে কেন?
উত্তরঃ কোনো একটি বিতর্কে স্বীয় মত সুদৃঢ় করার জন্য এবং উক্ত মতের স্বপক্ষে যুক্তি দাঁড় করাতে, পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ চিহ্নিত করতে শপথজ্ঞাপক অভিব্যক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৬৪. আল-কুরআনের কিছু আয়াতে ব্যবহৃত ‘মুহকামাত’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তরঃ আরবী ধাতু হাকামা থেকে ‘মুহকামাত’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি। এর অর্থঃ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা এবং এটি আল-কুরআনের সেই সব আয়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, যার একটি ব্যাখ্যাই তৈরী করা যায়।
প্রশ্নঃ ২৬৫. আল-কুরআনের কিছু আয়াতে নির্দেশিত মুতাসাবিহাত (একবচন মুতাসাব্বিয়াহ)-শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ আরবী ধাতু ‘সুববিয়াহ’ থেকে মুতাসাব্বিয়াত শব্দের উৎপত্তি।
প্রশ্নঃ ২৬৬. ‘মুহকামাতে’র অন্তর্ভুক্ত আয়াতের বিষয়বস্তু কি?
উত্তরঃ হালাল, হারাম এর বিধানসমূহ, শাস্তি, উত্তরাধিকার, প্রতিশ্রুতি এবং হুমকি ইত্যাদি ।
প্রশ্নঃ ২৬৭. ‘মুতাসাবিহাত’-এর আয়াতের বিষয়বস্তু কী?
উত্তরঃ আয়াতে আল্লাহর গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে, পরকাল, কেয়ামত এবং পুনরুত্থান দিবসের সত্যিকার প্রকৃতি বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৬৮. সাধারণভাবে প্রযোজ্য আয়াতের নাম কী?
উত্তরঃ ‘আল-আম’ যা সাধারণভাবে প্রযোজ্য। যেমন, সকল মানবজাতির জন্য বা সকল মুসলমানের জন্য।
প্রশ্নঃ ২৬৯. বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য আয়াতগুলোর নাম কী?
উত্তরঃ আল-খাস, যা নির্দিষ্ট অবস্থা বা সুনির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়।
প্রশ্নঃ ২৭০. কোন্ দুই ধরণের আয়াতে আহকাম সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে?
উত্তরঃ কিছু আয়াত রয়েছে, যেগুলো কোন প্রকার শর্ত বা মুতলাক হতে মুক্ত এবং আরও কিছু আয়াত রয়েছে, যেগুলি বিশেষ শর্ত (মুকাইয়াদ) দ্বারা বন্দী।
প্রশ্নঃ ২৭১. কোনো কোনো সূরার শুরুতে যে পৃথক আরবী র্বণ রয়েছে সেগুলোকে কী বলে?
উত্তরঃ আল-হুরুফুল মুকাত্তা-আত্।
প্রশ্নঃ ২৭২. পৃথক বর্ণ দ্বারা গঠিত আয়াত দ্বারা কতগুলো সূরা আরম্ভ হয়েছে?
উত্তরঃ ২৯ (ঊনত্রিশ) ।
প্রশ্নঃ ২৭৩. পৃথক বর্ণ দ্বারা গঠিত আয়াতের ক্ষেত্রে কতগুলি বর্ণ ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তরঃ ১৪ (চৌদ্দটি)।
প্রশ্নঃ ২৭৪. সেই বর্ণগুলোর তালিকা প্রদান করুন, যার দ্বারা সূরা সমূহ আরম্ভ হয়েছে এবং সূরার নাম্বার প্রদান করুন।
উত্তরঃ আলিফ লাম রা : সূরা নং ১০,১১,১২, ১৪ এবং ১৫।
আলিফ লাম মিম : সূরা নং ২, ৩, ২৯,৩০,৩১ এবং ৩২।
আলিফ লাম মিম রা : সূরা নং ১৩ ।
আলিফ লাম মিম সোয়াদ : সূরা নং ৭।
হা মিম : সূরা নং ৪০, ৪১,৪২,৪৩,৪৫ এবং ৪৬।
সোয়াদ : সূরা নং ৩৮।
ত্বা-স্বিন : সূরা নং ২৭।
ত্বা-হা : সূরা নং ২০
ক্বাফ : সূরা নং ৫০
কাফ হা ইয়া আ’ইন সোয়াদ : সূরা নং ১৯
নুন : সূরা নং ৬৮
ইয়া ছিন : সূরা নং ৩৬
ত্বা স্বিন মিম : সূরা নং ২৬, ২৮।
প্রশ্নঃ ২৭৫. যে সকল সূরার আরম্ভে বিছিন্ন বর্ণনা রয়েছে, সেগুলোর তাৎপর্য কি?
উত্তরঃ প্রকৃত গুরুত্ব আল্লাহই জানেন। কিন্তু আলেমে দ্বীনগণ এর নানা ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। সর্বার্ধিক প্রচলিত মতবাদ হলো : এগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহ শ্রোতাদের এই মর্মে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছেন যে, ব্যবহৃত বর্ণমালা আল্লাহর একান্ত। যদিও এগুলো আরবী বর্ণমালা, এগুলোর একক সৌন্দর্য্য, ধরণ রয়েছে এবং এগুলো দ্বারা মানবজাতিকে পথপ্রদর্শন করা হয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৭৬. কোন সূরাগুলো মক্কী সূরা?
উত্তরঃ যে সূরাসমূহ মহানবী (সাঃ)-এর হিজরতের পূর্বে নাযিল করা হয়।
প্রশ্নঃ ২৭৭. কোন্ সূরা মাদানী সূরা?
উত্তরঃ যে সকল সূরা মহানবী (সাঃ)-এর হিজরতের পর নাযিল হয়, এমনকি মাদানী সূরার কিছু আয়াত হিজরতের আগেই নাযিল হয়।
প্রশ্নঃ ২৭৮. মক্কী সূরার মূল প্রতিপাদ্য কী?
উত্তরঃ আল্লাহ এবং তার একত্ব (তাওহীদ);
১.হাশর এবং হাশরের ময়দানে শেষ বিচার;
২.সৎ আমল।
প্রশ্নঃ ২৭৯. মাদানী সূরাসমূহের মূল প্রতিপাদ্য কী?
উত্তরঃ ইসলামী আইন সম্পর্কিত রায়, ব্যাখ্যা।
১.আহলে কিতাব (ইহুদী ও খ্রিস্টান) দের উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন বক্তব্য।
প্রশ্নঃ ২৮০. মাক্কী সূরার মোট সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ৮৫ (পঁচাশি)।
প্রশ্নঃ ২৮১. মাদানী সূরার মোট সংখ্যা কত?
উত্তরঃ ২৯ (ঊনত্রিশ)।
প্রশ্নঃ ২৮২. মক্কী সূরায় মোট কতটি জুয’ (অংশ) রয়েছে?
উত্তরঃ ১১ (এগারো)।
প্রশ্নঃ ২৮৩. মাদানী সূরায় মোট কতটি জুয’ (অংশ) রয়েছে?
উত্তরঃ ১৯ (উনিশ)। যদিও মাদানী সূরাসমূহ সংখ্যায় কম। এই জাতীয় সূরাসমূহ দীর্ঘ।
প্রশ্নঃ ২৮৪. মক্কী সূরার সাপেক্ষে মাদানী সূরার দৈর্ঘ্য কেমন ?
উত্তরঃ মক্কীসূরাসমূহ সাধারণতঃ মাদানী সূরা অপেক্ষা স্বল্প দৈর্ঘ্যের।
প্রশ্নঃ ২৮৫. প্রথম কোন্ পাঁচটি সূরা নাযিল হয়েছিল?
উত্তরঃ সূরা নং ৯৬, ৬৮, ৭৩, ৭৪ এবং ১১১।
প্রশ্নঃ ২৮৬. যদিও কুরআন কোন বিশেষ ধারা বজায় রেখে নাযিল হয়নি, তবু সূরা ধারাক্রমানুযায়ী সাজানোর আবশ্যকতা কেন?
উত্তরঃ একটি উম্মাহ গঠনের জন্য আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা ধারাবাহিকভাবে উপলব্ধির জন্য সূরাসমূহ ক্রমানুযায়ী সাজানোর আবশ্যকতা রয়েছে।
প্রশ্নঃ ২৮৭. আসহাবুল নুযুল এর অর্থ কি?
উত্তরঃ সুনির্দিষ্ট অবস্থা, ঘটনা এবং ওহী নাযিলের কারণসমূহ।
প্রশ্নঃ ২৮৮. তাফসির শব্দের অর্থ কি?
উত্তরঃ আল-কুরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা।
প্রশ্নঃ ২৮৯. তাফসিরে আসবাব আল নুজুল এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
উত্তরঃ এর গুরুত্ব এই জন্য যে, এটি আয়াতের প্রত্য ও তাৎণিক অর্থ বুঝাতে সাহায্য করে।
প্রশ্নঃ ২৯০. আসবাব আন নুজুল এর সাথে সম্পর্কিত কারা?
উত্তরঃ মহানবী (সাঃ) এর সাহাবা (রাঃ)।
প্রশ্নঃ ২৯১. শরীয়াহ্ শব্দটির অর্থ কি?
উত্তরঃ ইসলামী আইন সম্পর্কিত আল-কুরআনে বর্ণিত আল্লাহ কর্তৃক প্রদত্ত সিদ্ধান্ত।
প্রশ্নঃ ২৯২. মুহাম্মদ (সাঃ)-এর আগমনের পূর্বে অন্যান্য নবী রাসূলগণ কি তাদের উম্মতের জন্য নিজস্ব শরীয়ত চালু করেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৯৩. সর্বশেষ প্রদত্ত শরীয়াহ এবং অন্যান্য শরীয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য রয়েছে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৯৪. মূল আহ্বান এবং শেষ আহ্বান এবং নবীর পূর্বে অন্যান্যদের আহ্বানের মধ্যে কোন পার্থক্য রয়েছে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ। আহ্বান একই, এক আল্লাহর উপসানা করা এবং তাকে সিজদা করা। এটাই ইসলামের মর্মকথা।
প্রশ্নঃ ২৯৫. যখন মহানবী (সাঃ) ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন, তখন কি আল্লাহ কর্তৃক আহকাম সময়োপযোগী করা হচ্ছিল?
উত্তরঃ হ্যাঁ।
প্রশ্নঃ ২৯৬. আল-কুরআনের দশটি রিডিং কি?
উত্তরঃ আল-কুরআনের কিছু আয়াতের উচ্চারণের পরিবর্তন এবং যে ভাবে শব্দাচ্চরণ করা হয়, তাই বুঝায়।
প্রশ্নঃ ২৯৭. আল-কুরআন তেলাওয়াতের সর্বাধিক প্রচলিত কোন্ পদ্ধতি রয়েছে?
উত্তরঃ ১২৭ হিজরীতে ’আসিম এর নিকট হতে ১৮০ হিজরীতে হাফস যে পদ্ধতিতে তেলাওয়াত করেন, তা আমাদের মধ্যে সর্বাধিক প্রচলিত।
প্রশ্নঃ ২৯৮. মিশর বাদে উত্তর আফ্রিকায় সর্বাধিক প্রচলিত কোন্ পদ্ধতিতে আল-কুরআন তেলাওয়াত করা হয়?
উত্তরঃ ১৬৯ হিজরীতে নাফি হতে ১৯৭ হিজরীতে ওয়ারস যে পদ্ধতিতে কোরআন মজিদ তেলাওয়াত করতেন, সেই পদ্ধতিটি সেখানে সর্বাধিক প্রচলিত।
প্রশ্নঃ ২৯৯. কুরআন তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিপাল্য পদ্ধতির শর্তগুলো কি কি?
উত্তরঃ তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে আরবী ব্যাকরণের নিয়ম-কানুনের সাথে একাত্ম থাকতে হবে, উসমান (রাঃ) এর সময়ে লিখিত কুরআনের পান্ডুলিপি অনুসরণ করতে হবে এবং নবী (সাঃ)-এর সাহাবীগণ যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, সেই নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি খুঁজে তাকে সেইভাবে তেলাওয়াত করতে হবে।
প্রশ্নঃ ৩০০. তাফসির এবং তাউইল এর অর্থ কি?
উত্তরঃ উস্সারা ধাতু হতে তাফসির শব্দটির ব্যুৎপত্তি। এর অর্থ ব্যাখা করা, ব্যাখা নির্দেশ করা, কুরআনের আয়াতের জটিল অংশ সহজভাবে পাঠকদের সামনে পেশ করা। অপরদিকে, তাওওইল শব্দটি ‘আওয়ালা’ ধাতু হতে উৎপন্ন হয়েছে। এরও অর্থ ব্যাখ্যা ও নির্দেশ করা। প্রকৃতপে কুরআনের বিভিন্ন আয়াতের অর্থ সহজভাবে উপস্থাপন করাই তাফসির ।