19/08/2022
*আজ শ্রী শ্রীকৃষ্ণ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পরমপুরুষ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জীবনী :-*
🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕🛕
শ্রীকৃষ্ণ দ্বাপরে যুগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে (আমবস্যা) মথুরার কংসের কারাগারে জম্মগ্রহন করেন।
কৃষ্ণদেবনাগরী অন্তর্ভুক্তিস্বয়ং ভগবান আবাস স্হান বৃন্দাবন ।।
জন্মস্থান :- গোকুল , দ্বারকা ।।
অস্ত্র :- সুদর্শন চক্র।।
সঙ্গীণী:- রাধা; রুক্মিণী , সত্যভামা , জাম্ববতী।।
মাতা :-দেবকী
পিতা:- বাসুদেব
পালক মাতা:- যশোদা
পালক পিতা:- নন্দ
সহোদর ভাই বোন :- বলরাম, সুভদ্রা।।
বাহন :- গরুড়।
তিনি ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম
অবতার রূপে খ্যাত।
কখনো কখনো তাঁকে সর্বোচ্চ ঈশ্বর('পরম সত্ত্বা') অভিধায় ভূষিত করা হয় এবং আমাদের অন্যতম প্রধান ধর্মগ্রন্থ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উপদেশ শ্রীমদভগবদ্গীতায় বর্ণিত যার মর্মার্থ সমস্ত হিন্দু এবং সনাতন বৈদিক ধর্মের বিশ্বাসী মানুষের কাছে অমৃতস্বরূপ জীবনযাত্রার পথিকৃৎ হিসাবে মান্য করা হয়।
আমাদের বর্ষপঞ্জী অনুসারে প্রতিবছর ভাদ্রমাসের
কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী (জন্মাষ্টমী) তিথিতে তাঁর জন্মোৎসব পালন করা হয়।।
কৃষ্ণ শব্দের অর্থ :--- কালো বা ঘন নীল। গৌড়ীয় বৈষ্ণবসম্প্রদায়ের হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র।।
, অনেকেই কৃষ্ণ শব্দটিসর্বাকর্ষক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে বলে মনে করেন ।
ভাগবত পুরাণে কৃষ্ণকে প্রায়শই বংশী-বাদনরত এক কিশোরের রূপে বর্ণনা করা হয়েছে।[
আবার ভগবদ্গীতায়, তিনি এক পথপ্রদর্শক এবং তরুণ-প্রাজ্ঞ রাজপুত্র।
সমগ্র মহাভারত কাব্যে, তিনি একজন কূটনীতিজ্ঞ হিসাবেপাণ্ডবপক্ষে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, কুরুক্ষেত্রের।
যুদ্ধেঅর্জুনের রথের সারথিরূপে অবতীর্ণ হয়েছেন।।
তাঁকে কল্পনা করা হয়ে থাকে বিভিন্ন রূপে: কখনো শিশুদেবতা, কখনো রঙ্গকৌতুকপ্রিয়, আবার কখনো বা সর্বোচ্চ ঈশ্বর।।
কৃষ্ণ-সংক্রান্ত উপাখ্যানগুলি মূলত লিখিত আছে মহাভারত, হরিবংশ, ভাগবত পুরাণ ও বিষ্ণু পুরাণে।।
খ্রিষ্টীয় নবম শতাব্দীতেই দক্ষিণ ভারতে কৃষ্ণভক্তি আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েন ।
*_ওড়িশায় জগন্নাথ, মহারাষ্ট্রে বিঠোবা, রাজস্থানে শ্রীনাথজি প্রভৃতি কৃষ্ণের রূপগুলিকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক ভক্তিসংস্কৃতিও বিকাশলাভ করে।_*
শ্রীমদ্ভাগবতের বিশেষ বার্তা হলো-
১. সগুণ ও নির্গুণ অবস্থায় ভগবান সর্বত্র আছেন।
২. তিনি জীবের কল্যাণে অবতাররূপে আসেন।
৩.তিনি তাঁর সন্তানদের কাছে ডাকেন,ভালবাসেন এবং রক্ষা করেন সকল বিপদ থেকে।
৪.তিনি হলেন ভাবনার মধ্যে ভাবনাতীত।
৫. তিনি পরম সুন্দরতম এবং শ্রবণমঙ্গলময় তাঁর বাক্য।
বৈদিক জ্ঞানের কথাই শ্রীভাগবতে বিভিন্ন গল্পের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই শ্রীমদ্ভাগবত নিজেই নিজের পরিচয় দিয়েছেন ‘ নিগমকল্পতরোর্গলিতং ফলং’
অর্থাৎ বৈদিক কল্পতরুরূপ জ্ঞানবৃক্ষের পাকা টসটসে রসালো ফল বলে। শ্রীমদ্ভাগবতের শুরুতেই এই প্রাণমাতানো কথাগুলো বলা আছে :
মহামুনি বেদব্যাস-কৃত এই শ্রীমদ্ভাগবত গ্রন্থে অহংকার শুন্য সাধুপুরুষদের উপযোগী করে ফলাকাঙ্ক্ষারহিত পরমধর্মের কথা বলা হয়েছে। এ গ্রন্থের মাঝেই
ত্রিতাপনাশক পরমসুখকর বস্তুর জ্ঞান নিবদ্ধ আছে। অন্য কোথাও আর এমনটি নেই। তাই সজ্জন ব্যক্তিরা শ্রীমদ্ভাগবতে সদা মনোনিবেশ করলে শ্রীভগবান তাদের নিকটে সহজেই ধরা দেন।
তাই পন্ডিত কবি জয়দেব লিখেছেন
"ওগো পৃথিবীর রসিক- ভাবুক মানুষেরা, বেদ যেন এক কল্পতরু (এমন একটি বৃক্ষ, তার কাছে যা চাওয়া হয় তাই পাওয়া যায়) ; তা থেকে উদ্ভূত এই ভাগবত-ফল
শুকদেবের শ্রীমুখে পড়ে অমৃতরসে সিক্ত হয়ে ওঠে। তারপর সেই মুখ থেকে বেরিয়ে আসা এই শ্রীমদ্ভাগবত রস তোমরা ব্রহ্মে লীন না হওয়া পর্যন্ত অবিরাম আস্বাদন করে চলো।”
🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸🌸