10/04/2026
বাংলা ক ি এরকম মেয ় ে চায়? রক্তাক ্ ত বাংলা ও বিপন ্ ন মাতৃশক্তি: "বাংলা ক ি এরকম মেয ় ে চায়?"
সনাতন ধর ্ ম এবং ভারতীয ় সংস্কৃতির মূল ভিত ্ ত ি হল ো মাতৃশক্তির আরাধনা। "যত্র নার্যস ্ ত ু পূজ্যন ্ ত ে রমন ্ ত ে তত ্ র দেবতাঃ"—অর্থাৎ যেখান ে নারীর সম্মান আছে, সেখানেই দেবতাদের বাস। স্বামী বিবেকানন্দ, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব এবং ভগিনী নিবেদিতার এই পুণ্যভূম ি বাংলা একসময ় সমগ ্ র ভারতকে নারী জাগরণের পথ দেখিয়েছিল। কিন ্ ত ু আজ বাংলার বর্তমান চিত্রপটের দিক ে তাকালে শিউর ে উঠত ে হয়। রাজ্যের আকাশ-বাতাসে কান পাতল ে কেবলই শোনা যায ় অবহেলিত, লাঞ্ছিত নারীদের আর্তনাদ আর দীর্ঘশ্বাস। কামদুন ি থেক ে সন্দেশখালি, হাঁসখাল ি থেকে আর. জি. কর এবং ল' কলেজ—রাজ্যজুড়ে আজ এক বীভৎস মৃত্ য ু ও লাঞ্ছনার মিছিল। এই ভয়াবহ নৈরাজ্যের মাঝ ে দাঁড়িয ় ে আজ বাংলার প্রতিট ি বিবেকবান মানুষের মনে একটিই প্রশ ্ ন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে: "বাংলা ক ি এরকম মেয ় ে চায়?" যে বাংলা একদিন দুর্গা ও কালীর পূজায ় মুখরিত থাকত, সেই বাংলা আজ কেন তার নিজের কন্যাদের রক্ষা করতে পারছ ে না?
বামফ্রন্টের অপশাসনের পর রাজ ্ য ে যখন ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছিল, তখন বাংলার মানুষ, বিশেষ কর ে মহিলারা, এক নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ ্ ন দেখেছিলেন। কিন ্ ত ু বাস্তবে সেই স্বপ ্ ন আজ এক নিদারুণ দুঃস্বপ ্ ন ে পরিণত হয়েছে। কামদুনির সেই ভয়ংকর দিনটির কথা বাঙাল ি আজও ভোলেনি, যেখানে এক প্রতিবাদী ছাত্রীক ে নৃশংসভাব ে হত্যা করা হয়েছিল এবং পরবর্তীত ে অপরাধীদের আড়াল করার নগ ্ ন প্রচেষ্টা দেখা গিয়েছিল প্রশাসনের তরফ থেকে। এরপর হাঁসখালি এবং সম্প্রত ি সন্দেশখালির ঘটনা বাংলার সমাজব্যবস্থায ় এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনাগুল ো বাংলার হিন্দু সমাজের চোখ ে আঙুল দিয ় ে দেখিয ় ে দিয়েছে যে, তোষণ এবং ভোটব্যাংকের রাজনীতির কাছ ে মাতৃশক্তির সম্মান আজ কতটা সস্তা হয ় ে গেছে। সন্দেশখালিত ে দিনের পর দিন, রাতের অন্ধকার ে স্থানীয ় রাজনৈতিক নেতাদের লালসার শিকার হত ে হয়েছ ে গ্রামের পর গ্রাম সাধারণ হিন্দ ু ঘরের মা-বোনেদের। প্রশাসনের চোখের সামন ে এই অবর্ণনীয ় অত্যাচার চলেছে বছরের পর বছর ধরে। অপরাধীরা একটি নির্দিষ ্ ট শাসকদলের ছত্রছায়ায ় লালিত-পালিত বলেই ক ি প্রশাসন এতকাল অন ্ ধ সেজ ে ছিল?
যদ ি কেউ ভেব ে থাকেন এই অবক্ষয ় কেবল প্রত্যন ্ ত গ্রাম বা সীমান্তবর্তী এলাকাতেই সীমাবদ্ধ, তব ে খাস কলকাতার বুক ে আর. জি. কর মেডিকেল কলেজ এবং ল' কলেজের সাম্প্রতিক নারকীয ় ঘটনাগুল ো সেই শেষ ভুলটুকুও ভেঙ ে দিয়েছে। রাজ্যের রাজধানীর বুকে, একট ি সরকার ি হাসপাতাল ে ডিউটিরত এক তরুণী চিকিৎসকের সাথ ে য ে পৈশাচিক ঘটনা ঘটল, তা সমগ ্ র মানবজাতিক ে স্তব্ধ কর ে দিয়েছে। ল' কলেজের বুকেও ছাত্রীদের হেনস্থার ঘটনা প্রমাণ কর ে য ে এই সরকারের আমল ে বাংলার কোন ো নারীই আর নিরাপদ নন—তিন ি গ্রামের প্রান্তিক গৃহবধ ূ হোন বা শহরের উচ্চশিক্ষিতা ডাক্তার। এই প্রতিটি ঘটনার নেপথ ্ য ে রয়েছ ে এক অশুভ আঁতাত
—যেখান ে পুলিশ, প্রশাসন এবং শাসকদলের একাংশ অপরাধীদের রক্ষাকর্তা হিসেবে অবতীর ্ ণ হয়েছেন। প্রমাণ লোপাট করা থেকে শুর ু কর ে ভিক্টিম ব্লেমিং—সবই চলছ ে অত্যন্ত নির্লজ্জভাবে।
আজ বাংলার হিন্দ ু সমাজ এক অস্তিত্বের সংকট ে দাঁড়িয়ে। য ে সরকার কেবল একটি বিশেষ সম্প্রদায়ক ে তুষ ্ ট করত ে এবং নিজেদের ক্ষমতা টিকিয ় ে রাখত ে অপরাধীদের সুরক্ষা দেয়, তারা কোনোদিনই মা-বোনেদের সম্মান রক্ষা করত ে পারব ে না। বাংলার এই নৈরাজ্ য থেক ে মুক্তির একটাই উপায়—এমন এক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যা সনাতন মূল্যবোধক ে সম্মান কর ে এবং যেখানে আইনের শাসন সবার উপরে। ভারতীয় জনতা পার ্ট ি (বিজেপি) শাসিত উত্তরপ্রদেশ বা আসামের মত ো ডবল ইঞ্জিন রাজ্যগুলোর দিক ে তাকাল ে দেখা যায়, সেখানে অপরাধীদের মন ে আইনের ভয ় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেখান ে মহিলারা রাতের অন্ধকারেও নিরাপদ ে চলত ে পারেন। সনাতন আদর্শে বিশ্বাসী বিজেপ ি সরকার মাতৃশক্তির সুরক্ষাকে সর্বোচ ্ চ অগ্রাধিকার দেয়। বাংলায ় আজ সেই সুশাসন এবং কড়া প্রশাসনেরই একান্ত প্রয়োজন।
"বাংলা ক ি এরকম মেয ় ে চায়?"—না, বাংলা এমন কোন ো অসহায ় নারী চায ় না য ে তোষণের রাজনীতির বল ি হবে। বাংলা এমন কোন ো শাসককেও চায ় না যিন ি নারী হয়েও ক্ষমতার মোহ ে বাংলার নারীদের সম্মান রক্ষায় চূড়ান ্ ত ব্যর্থ। বাংলা চায ় এক নতুন জাগরণ। বাংলার নারীরা আজ আর কেবল ভিক্টিম নন; সন্দেশখালির রাজপথ ে বা আর. জি. করের বিচার চেয ় ে তাঁরা দেবী দুর্গার মতোই মহিষাসুরমর্দিনী রূপ ে রুখ ে দাঁড়িয়েছেন। মাতৃশক্তির এই জাগরণই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড ় ইঙ্গিত। য ে রাজ ্ য ে নারীদের সম্মান সুরক্ষিত নয়, সে রাজ ্ য ে দুর্নীতিগ্রস ্ ত সরকারের পতন অনিবার্য। বাংলার এই কলঙ্কময ় অধ্যায় মুছ ে ফেল ে এক সুরক্ষিত, আত্মনির্ভর এবং নারী-সম্মান ে মণ্ডিত হিন্দ ু বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই আজ রাজ্যের প্রতিট ি নাগরিকক ে ঐক্যবদ্ধ হত ে হবে।
#বঙ্গেরজনজাগরণ #লক্ষ্য_বিজয়