20/07/2025
অন্ডময়কোষ
পৃথ্বীমিতা দাস …
সারাজীবন কেউ কষ্ট পাবে ভেবে চুপ থাকার পর আজ আমি কলম ধরেছি। যদিও বহু প্রখ্যাত ম্যাগাজিনে আমি লিখেছি এর আগে, বহু বছর লিখেছি ও সম্পাদিকার পদেও ছিলাম কিন্তু সমাজের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে লিখব কখনও ভাবিনি, কারণ হয়তো চোখ খুলে তাকাইনি।
আজ দেখতে পাচ্ছি চারদিকে বিভিন্ন ঘুন দানা বেধেছে। তাই আবার কলম ধরলাম এবং এবার এই লেখা চলবে আজীবন। নইলে আমার মত কষ্ট না দেওয়া মুখগুলো আজীবন গুমরে মরবে, মরার মত বাঁচবে।
সবার প্রথমে আসি বিয়ে দেওয়া নিয়ে। পাড়ার অনেক কাকিমা, থুড়ি, আমাদের ঘরের অনেক মায়েরাই ত পাড়ার কাকিমা, তাইনা? তো সেই কাকিমারা কেউ যদি ১৮ উত্তীর্ণ হতে না হতে বাড়িতে বিয়ে বিয়ে করে অশান্তি লাগায় তখন তাদের প্রতি আমাদের কী ব্যবহার করা উচিৎ?
একেই ত আমাদের মা বাবার মধ্যেও এখনও সেই "বিয়েই জীবনের মূল উদ্দেশ্য" এই চিন্তার দগদগে ঘা এখনো শোকায়নি তার উপর ঢোলের বাড়ির ফলে আমাদের ( যারা লেখাপড়া, শিল্প বা অন্যান্য পথে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার ক্রমাগত প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছি ) সাথে পরিবারের একটা বিবাদ শুরু হয়ে যায় । যে বিবাদের কারণটাই অকারণ ।
আজকালকার দিনে বিয়ে বিয়ে করা মাথা খাওয়া মানুষগুলো(সরাসরি পশুমানব ত বলা যায় না, ওনাদের শিক্ষা নাই থাকতে পারে, আমাদের আছে 😊) জীবনে বিয়েটাই বিরাট গুরুত্বপূর্ণ। তারপর শুরু হয় বাচ্চা নে বাচ্চা নে ।
সবার প্রথম হল বিয়ে শুধুমাত্র শারীরিক মিলন নয় , মানসিক সংবেদনশীলতার উপরেও নির্ভর করে ।
তা না ভেবে, বিয়ে নিয়ে মেতে ওঠা, এদের জীবনে এই দুটো মিশ্র পাশবিক চেতনা ( বিয়ে,বাচ্চা, যদিও একটিই, তা হল **) ছাড়া যেন কিছুই নেই।
আমি বা আমরা বিয়েকে অশ্রদ্ধা করছিনা। কিন্তু সঠিক মানুষ জীবনে যদি না আসে তবে জীবনটাই নরকতুল্য হয়ে যায়, (তার প্রমাণ এই মাসিমা কাকিমাদের মধ্যেই বহু ঘুরছেন) আর তার থেকে বেরিয়ে আসার পথ থাকেনা। পথ থাকলেও সমাজে তাদের নিয়ে সারাজীবন খুটুর খুটুর চালাবেই চালাবে ।পুরুষমানুষদের নিয়ে তাও কথা প্রচলিত যে সোনার আংটি বাকা হয়না কিন্তু মেয়েদের ক্ষেত্রে ত অন্য পথ বেছে নেওয়ার সুযোগ তেমন নেই ।
আসলে এদের মস্তিষ্ক এবং অন্ডকোষ একই ধাতুতে তৈরী (অন্ডময়কোষিকা)।
যাদের জীবনে উচুঁ কিছু করার আছে তাদের এসব নিয়ে মাথাব্যথা নেই আর থাকেওনি কোনোদিন। চারপাশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পী ও সাধকদের দেখুন ,বুঝতে পারবেন । আর যাদের জীবনে কিছুই নেই তারা এসব নিয়ে সবসময় পড়ে থাকেন আর সমাজদূষন করার কাজে ব্রতী হন ।
জীবনচর্চা একটি শেখবার বিষয় যা জানা নেই বলেই অনেকেরই মস্তিষ্ক গুপ্তাঙ্গের প্রতি এত আকর্ষিত। কখনও মনে হয়না একটু দর্শন পড়ি,দুটো ছবি আঁকি বা একটু কিছু করি যাতে জগতে উপকার হয় ।
যারা লেখাপড়া বা অন্য কোনো জগতে খাটছে প্রতিনিয়ত, তাদেরকে সবচেয়ে বেশী শুনতে হয় এই কথাগুলো (বিবাহ সম্বন্ধীয়) । মেয়ে হলে ত কোনো কথাই নেই। ২৫--২৭ পেড়োলেই সে হয়ে যায় দাগী নারী। আসল হল আমাদের চেতনা লোপ পাচ্ছে । বহিরাঙ্গে শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ঢাকছে ঠিকই ভেতরের পাশবিক চেতনাগুলো আরও যেন ফুলেফেঁপে বেরুতে চাইছে। একটু ভাবুন, সবার জীবনের লক্ষ্য এক কখনোই হয়না এবং সবাইকে বোঝার ক্ষমতাও সবার থাকেনা, হবেওনা কখনো।
(লেখা ও ছবি আমার। দয়া করে ক্রেডিট না দিয়ে কপিপেস্ট করবেন না)
পৃথ্বীমিতা