20/04/2026
#অক্ষয়_তৃতীয়ার_দিন— যা করলে ধন-সমৃদ্ধি অক্ষয় হয়
করণীয় ও বর্জনীয়ের পূর্ণ তালিকা এখানে
#অক্ষয়তৃতীয়া কী?
অক্ষয় তৃতীয়া হলো হিন্দু পঞ্জিকার বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। “অক্ষয়” শব্দের অর্থ — যা কখনো ক্ষয় হয় না বা চিরস্থায়ী। এই দিনে করা যেকোনো শুভ কাজ, দান, পূজা বা নতুন শুরুর ফল চিরকালীন হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
কেন পালন করা হয়?
এই দিনের সঙ্গে অনেক পৌরাণিক ঘটনা জড়িত:
বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার পরশুরাম জন্মগ্রহণ করেন।
গঙ্গা মর্ত্যে অবতরণ করেন।
কুবের তপস্যায় তুষ্ট হয়ে মহাদেবের কাছ থেকে অতুল ঐশ্বর্য লাভ করেন।
বেদব্যাস ও গণেশ মহাভারত রচনা শুরু করেন।
সত্যযুগ শেষে ত্রেতাযুগের সূচনা হয়।
মূল কথা: এই তিথিতে শুভ কর্ম ও দান করলে তার ফল কখনো ক্ষয় হয় না, বরং বৃদ্ধি পায়। তাই ধন-সম্পদ, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল লাভের জন্য এই দিন পালন করা হয়। #আত্মজাগরণ
২০২৬ সালে অক্ষয় তৃতীয়া
২০এপ্রিল ২০২৬, সোমবার (বৈশাখ মাস)।
অক্ষয় তৃতীয়ায় কী কী করতে হবে (করণীয়):
সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে স্নান করে পূজা-পাঠ করা এবং নিরামিষ আহার করা উচিত।
পথিক ও গরিব-দুঃখীদের খাবার দান করা।
গৃহে গীতা ও ভাগবত নিত্য সহকারে পাঠ করা।
সামর্থ্য অনুসারে অর্থ দান ও গীতা দান করা।
গৃহে নতুন তুলসী বৃক্ষ রোপণ করা।
তুলসী পরিক্রমা করা।
যত বেশি সম্ভব মহামন্ত্র জপ করা।
সাধু-বৈষ্ণবের সেবা এবং গৃহে গোপাল সেবা করা।
গরিব-দুঃখী ব্যক্তির চিকিৎসা বা ওষুধের খরচ বহন করা।
অন্ন, শস্য, অর্থ, ভূমি, জল, সোনা, আশ্রয় ও সেবা দান অত্যন্ত শুভ।
এমন বৃক্ষ রোপণ করুন যা আপনার মৃত্যুর পরেও জীবিত থাকে (যেমন: বট, পিপল, বেল, অশ্বথ ইত্যাদি)।
পঞ্চশস্য (ধান, চাল, গম, ডাল ইত্যাদি), ঘি, এলাচ, লবণ, সরিষা প্রভৃতি দ্রব্য ক্রয় করা অতি শুভ।
হলুদ সরিষা, তেলা, সৈন্ধব লবণ, গোমতি চক্র, কাঁচা হলুদ কেনা শুভ।
মন্দির পরিষ্কার করা এবং মন্দিরের যেকোনো কাজে সাহায্য করা।
যারা স্বর্ণ কিনতে পারবেন না, তাঁরা এই জিনিসগুলো অবশ্যই কিনবেন: মাটির জিনিস, গোমতী চক্র, কড়ি, ঘি, রূপো, তামা, যব।
কড়ি ধন আকর্ষণ করে এবং মা লক্ষ্মীর খুব প্রিয়।
মাটির পাত্র বা মাটির লক্ষ্মী ভাণ্ডার হলে অত্যন্ত উত্তম।
রূপো, তামা, পিতল, কাঁসা — যেকোনো ধাতুর তৈরি বস্তু কেনা শুভ।
#আত্ম_জাগরণ
বিশেষ নিয়ম :
1অক্ষয় তৃতীয়ার দিন একটি রূপোর পাত্রে (বা রূপোর মতো পাত্রে) কিছু চাল, একটা হলুদের গাঁট, তিনটি কয়েন, কিছু ঘোটা ধান ও পাঁচটি গোমতী চক্র নিয়ে তার উপর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে ঠাকুরের সামনে রাখুন। পরের দিন সকালে প্রদীপটি কোনো গাছের নীচে রেখে দিন এবং বাকি সামগ্রী লাল কাপড়ে বেঁধে টাকা রাখার জায়গায় রেখে দিন। এতে ধনলাভ হয়।
সিঁথির সিঁদুর অক্ষয় রাখার জন্য বিবাহিত মহিলারা এই দিন পাঁচজন বিবাহিত মহিলাকে আলতা ও সিঁদুর দান করুন।
অক্ষয় তৃতীয়ায় কী কী করা উচিত নয় (বর্জনীয়):
কারও থেকে টাকা ধার নেবেন না বা দেবেন না।
নিজের গাড়ি কাউকে দেবেন না।
কালো বা নীল জামাকাপড় পরবেন না।
আমিষ খাবার খাবেন না এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন।
রাগ-ঝগড়া, অশান্তি বা নেতিবাচক কথা বলবেন না।
মাংস, মদ্যপান, ধূমপান বা অশুদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন।
ঋণের লেনদেন এড়ান।
অপবিত্র কাজ, অলসতা বা অপচয় করবেন না।
অতিরিক্ত টিপস:
হলুদ বা শুভ রঙের পোশাক পরুন।
লক্ষ্মী-নারায়ণ, লক্ষ্মী-কুবের ও গণেশের পূজা করুন।
সোনা-রূপো বা নতুন জিনিস (বাসন, ধান, গোমতী চক্র) কিনুন।
ব্রত-উপবাস রাখুন (সম্ভব হলে)।
লক্ষ্মী মন্ত্র, বিষ্ণু সহস্রনাম বা হরে কৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ করুন।
নতুন ব্যবসা বা কাজ শুরু করুন।
এই দিনটি শুদ্ধ মনে শুভ কর্ম ও দানের। যতটা সম্ভব শান্ত ও সৎভাবে কাটান। বাড়িতে সাধারণ পূজা করলেই হয়।
শুভ অক্ষয় তৃতীয়া! 🙏
(সময় ও নিয়ম স্থানভেদে সামান্য ভিন্ন হতে পারে। স্থানীয় পঞ্জিকা বা পুরোহিতের পরামর্শ নিন।)