30/05/2026
পান পাতা
চতুর্থ এবং অন্তিম পরিচ্ছেদ
হর হর মহাদেব 🌎🙏🏻
গ্রামের সবাই মোটামুটি সম্পর্কটাকে মেনে নিচ্ছিল কিন্তু ওদের বাপ মা কাকা যে কাকারা আগে দেখতো না ওদের। তারা যেন বেশি বড় বড় কথা বল ছিলো সেই সময়টাতে। আমার পিসততো দাদাও জানিনা কেনো ধীরে ধীরে সীমা দি রাজুদার সম্পর্কটা নিয়ে ওদের পক্ষেই জবাব দিচ্ছোল। আমি তখন সেভেন এইটে পড়ি দাদা তখন পড়াশোনা ছেড়ে চাষের কাজকর্ম ধরে নিয়েছে। ও পাশের গ্রামের স্কুলের এক বান্ধবীকে মনে মনে ভালোবাসে আমি জানতাম। ওর আব ভাবে। আমরা কোনদিনও ভালোবাসার বিপক্ষে নয় থাকবোও না। আমরা সারদা রামকৃষ্ণের লাল মাটি জংলি জায়গার লোক টাকা মাটি মাটি টাকা করে দিই এখনো। পিসেমশাইও মনতান্ত্রিক দিক দিয়ে এদের এত অত্যাচারিত অবমানিত ভালবাসার গল্পের আগে না দাঁড়াতে পারলেও পিছনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। এদের বিয়ে ঠিক হবার চার দিনের পর আমার দাদাও আমাকে সাথ দিতে আরম্ভ করলো
আমার পিসির একটা দুটো ওর মায়ের একটা দুটো, আরে আগেকার বড় বড় বাস্কে তোলা শাড়ি ব্লাউজ জোগাড় হল এমনকি ওর বান্ধবী দর্জি তার কাছেও পৌঁছে দেওয়া হলো। জামা কাপড় লুকিয়ে লুকিয়ে সে ফিটিংস করে ফেললো। এদিকে রাজুদা কে দিনক্ষণ ঠিক করে ঠিক ভোরের বিষ্ণুপুর যাবার পান পাতার অমর দার গাড়িতে উঠে বসার দিন দেওয়া হলো। রাজু দাও তার নতুন বিবাহিত জীবনের জন্য যথেষ্ট সামগ্রী কিনে ব্যাগে মজুত করে ওর আপন না পরশি বৌদির কাছে মজুত করতে আরম্ভ করলো। আমরা একদম ফাইনাল ওই পান পাতার গাড়িতেই বিষ্ণুপুর যাওয়ার আগে ওর খুঁড়তেতো দিদির বাড়িতে নেমে ওদের ভোরের কালীপুজোর পরেই ওই পুরোহিত মশাইকে দিয়ে আমরা কাজ ওদের বৈবাহিক জীবন শুরু করিয়ে দেবো। একদম প্ল্যান মত কাজ সব দিক দিয়ে আরম্ভ হলো। এরা এইদিকে খাট আলমারি বিছানা কিনতে ব্যস্ত। আমরা একদিকে আমাদের শুভ বিবাহ সম্পন্ন করার ব্যাপারে আগ্রহী চোখে যে যার কর্ম চুপচাপ মনের অন্তরালে করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছি। সেই দিনটাই এলো পিসেমশাইকে আমরা জানালাম আমরা আজকে পানের বানকি নিতে বিষ্ণুপুর যাবো দাদা যাবে তোমাকে যেতে হবে না। মাঝে মাঝেই হয় পিসেমশাই ভোরবেলা উঠে যেতে ইচ্ছে করে না সেদিনও করল না আমরা দুই ভায়ে বেড়ালাম।
ভোর বেলায় দর্জি বান্ধবী আমাদের ব্যাগ নিয়ে বাড়ির সামনেই অপেক্ষারত। হাত থেকে নেয়া হলো আমার দাদা টাকা দিতে গেলে মানতে হবে বান্ধবীকে। ও বলে ওর ছেলের মুখে ভাতের আগে থেকে এটা গিফট একটা ওর ছেলে মেয়ের জন্য আমি কাপড় তৈরি করে রাখছি এবার।।কথা না বাড়িয়ে আমরা চলে গেলাম সেই ছোট নদীর ওপারে পানের বরুজে। সিমা দিকে আগে থেকেই বলেছিলাম গাড়ি ওয়েট করবে? তুই তোর মায়ের সাথে কাকিমার সাথে বড় বাইরে যাবি যখন। অ্যাডভান্স সবকিছু করে নিয়ে ছোট নদীর এই পাড়ে তোকে কোনমতে আসতেই হবে । তারপর আমরা বুঝে নেবো সব একদম ঠিকঠাক ।
একদম সেই মতো সেই চুড়িদার পরা মেয়েটি আমাদের কাছে এসে উপস্থিত হল। অমরদার পাশে টু শীটে বসিয়ে আমরা রওনা দিয়ে দিলাম বিষ্ণুপুরের পথে। পথের উপরেই ওর আত্মীয় বাড়ি
বিষ্ণুপুর যাওয়ার আগে আমরা পথে নেমে পড়লাম। সীমাদি কে ওর দিদির বাড়িতে নব বধুর সাজ দিয়ে ওই ভোর ভোর সকাল সকাল কালী মন্দিরের সামনে উপস্থিত করা হলো। বরকেও ওর দিদির এক বছর আগে বিয়ে হয়েছিলো ওর বরের জামাকাপড় পরিয়ে প্যান্ট জামা ছাড়িয়ে নিয়ে এসে হাজির করা হলো। ওর ব্যাগে আলতা সিঁদুর বিয়ের ফর্দ হিসাবে সমস্ত সামগ্রী থাকলেও একটা জিনিস ছিল না। কি বলুন তো। শুভদৃষ্টির সময় কি লাগে। আমরা যে কাজ করি, সবাই মিলে পান বরুজ পানের গাড়ি করে ওর দিদির গ্রামেতে নামলাম । একটা গ্রাম আমাদের সামনে এক গাড়ি পান আমাদের সামনে থেকে এগিয়ে গেলো। মাঝে মাঝে আমি হাফপ্যান্ট পড়ে থাকলে তিন-চারটে পান পাতা পকেটে গুঁজে রাখি। মাঝে মাঝে পিসেমশাইয়ের মসলার প্যাকেট থেকে দু'চারটে সুপারি মৌরি ভাজা দকতা পাতা ভাজা কাগছে মোরে লুকিয়ে রাখি কেউ টের পায় না বনে বাদারে খেয়ে বেড়ায় মাথাটা একটু টনটন করে কিন্তু হেভি লাগে, বুদ্ধি খুলে। সেদিন যেন কিচ্ছু ছিল না পকেটে কুড়ি পঁচিশ টাকা মাত্র পকেটে পড়েছিল যদিও দাদার কাছে বানকির টাকা হিসেবে ১০০০ বারোশ টাকা ছিলো। যাইহোক আসল কোথায় আসি বিয়ে শুরু হল ঠাকুর মশাই বয়স্ক ভদ্রলোক আগে নিজের জিনিসপত্র সব বুঝে পেতে আরম্ভ করেছে। আমরা বললাম সব দেবো দুটি গামছা একটা ধুতি সঙ্গে ৫০১ টাকা আপনাকে সব দেবো বিয়েটা আপনি করিয়ে দিন। বিয়েতে সব কিছু হল ঘন্টা দুয়েকের ভিতরে কিন্তু পান পাতা আমাদেরকে যেনো হাতছানি দিয়ে দূরে সরে গেলো। অত সকাল কোন দোকানই খুলেনি এভাবে বিয়ে হচ্ছে জানলে ওদের গ্রামের লোকেরাই প্রতিবাদ করে উঠবে দুই একজন ছাড়া
অযথাই আমরা ওই মন্দিরের উপরে থাকা, দুটো জংলি পান পাতার মতো দেখতে ঝরা আলু গাছের পাতা দিয়ে কাজ সমাপ্ত করলাম। ওদেরকেও দিদির বাড়িতে দু চার দিন থেকে বাড়িতে ফেরার কোথা জানিয়ে এলাম। আমরা ঐ রুটের টেকারে চেপে বাড়ি ফিরলাম। আমাদের কাছে প্রচন্ডভাবে জানতে আগ্রহরের বাবা-মাকে আমরা জানি না বলে না নাকোচ করে দিলাম আমরা বিষ্ণুপুর গিয়েছিলাম। পিসেমশাই বানকির টাকা চাইলে আমরা ৫০০ টাকা দিই ৭০০ টাকা কিযে খরচা হয়েছে হিসাব না দিতে পারায় পিসেমশাই সেদিন আমাদের ছেড়ে দিয়েছিল।
আমার হাসি লাগে অবাক লাগে সব সময় যে লোকগুলো পান পাতা নিয়ে কাজ করছিলো। তারা তাদেরই একজনের বিবাহ ক্ষেত্রে। অত বড় পান বরুজের দুটো পাতা জোগাড় করতে পারেনি।
হায়রে পান পাতা যাদের হাতে তৈরি তাদের ছেড়া কাঁথা।
এর পরের অংশগুলো আমার বন্ধুদের জন্য অন্য কোন সময়।
রাধে রাধে, সুস্থ থাকুন সুন্দর থাকুন
আজকে চড়ক কালকে পহেলা বৈশা🙋🏻খের আগাম শুভ শুভেচ্ছা 🌏