আস্তাগফিরুল্লাহ Astaghfirullah

আস্তাগফিরুল্লাহ  Astaghfirullah Allah

অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার মানুষকে সবচেয়ে দ্রুত সফলতার দিকে ধাবিত করে — এটা শুধু একটি ধর্মীয় বক্তব্য নয়, বরং কুরআন-হাদীসে...
28/09/2025

অধিক পরিমাণে ইস্তিগফার মানুষকে সবচেয়ে দ্রুত সফলতার দিকে ধাবিত করে — এটা শুধু একটি ধর্মীয় বক্তব্য নয়, বরং কুরআন-হাদীসের আলোকে এক বাস্তব সত্য। নিচে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলো:

১. ইস্তিগফার মানে কি?
ইস্তিগফার অর্থ হলো আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহ স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়া, নিজের ভুল বুঝে তা থেকে ফিরে আসা এবং ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।

২. কুরআনের বর্ণনা:

“তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, তারপর তাঁর দিকে ফিরে এসো, তাহলে তিনি তোমাদের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত উত্তম জীবনভোগ করাবেন এবং প্রত্যেক কল্যাণবানকে তাঁর প্রাপ্য প্রতিদান দেবেন।”
— (সূরা হূদ: ৩)
“তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি বৃদ্ধি করবেন।”
— (সূরা নূহ: ১০–১২)

৩. হাদীসের শিক্ষা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
“যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার করে, আল্লাহ তার জন্য প্রতিটি কষ্ট থেকে নিষ্কৃতি, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি এবং অজানা পথ থেকে রিযিকের ব্যবস্থা করে দেন।”
— (আবু দাউদ, হাদীস: ১৫১৮)

৪. ইস্তিগফারের বাস্তব ফলাফলঃ
✅ মন শান্ত হয়
✅ পাপ মোচন হয়
✅ রিযিক বাড়ে
✅ জীবন সহজ হয়
✅ সংকট দূর হয়
✅ দুআ কবুল হয়
✅ আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হয়
✅ আত্মিক উন্নতি ও সফলতার রাস্তা মসৃণ হয়

৫. বাস্তব কৌশল ও অভ্যাস গড়ার পরামর্শ:
☑️ প্রতিদিন সকালে ও রাতে কমপক্ষে ১০০ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” বলা
☑️ গুনাহের পরপরই ইস্তিগফার
☑️ নামাজ শেষে ইস্তিগফার
☑️ নির্জনে ইখলাসভরে ইস্তিগফার

জীবনের সব চাহিদা, সফলতা ও স্বস্তির মূল চাবিকাঠি ইস্তিগফার। এটি শুধু আত্মিক পরিশুদ্ধিই নয়, বরং জাগতিক সফলতার দিকেও দ্রুত নিয়ে যায়। অধিক ইস্তিগফার আপনার জীবনের গতিকে বদলে দিতে পারে—এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি।

আজ থেকেই শুরু করুন — অন্তর থেকে বলুন:
"আস্তাগফিরুল্লাহ আল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যূম ওয়া আতূবু ইলাইহি"

ইস্তিগফারই হোক আপনার জীবনের গতি পরিবর্তনের সূচনা।

✨ আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে তাহাজ্জুদ নিয়ে দুইটা লেকচার শুনেছিলাম। লেকচার থেকে দুইটা ব্যাপার শুনে আমি এত বেশি শকড হয়েছিল...
15/09/2025

✨ আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে তাহাজ্জুদ নিয়ে দুইটা লেকচার শুনেছিলাম। লেকচার থেকে দুইটা ব্যাপার শুনে আমি এত বেশি শকড হয়েছিলাম যা আগে কখনো হই নি—

1️⃣ তাহাজ্জুদ একটা সম্মান যা গুনাহগারদের আল্লাহ দেন না।

2️⃣ আল্লাহ কার প্রতি কতটা সন্তুষ্ট তা বুঝতে হলে দেখুন কে কতটুকু তাহাজ্জুদ নিয়ে সিরিয়াস। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল (রহি) বলেছেন– ❝যে তাহাজ্জুদ পড়েনা আমি তাকে ধার্মিকতার কাতারেই ফেলিনা।❞

🌷 সেদিনের পর থেকে নিজের উপর এক্সপেরিমেন্ট চালানো শুরু করলাম। টানা প্রায় দেড় বছর সেই এক্সপেরিমেন্ট চালানোর পর আমি একটা সূত্র আবিস্কার করেছি। আবিস্কার বললে ভুল হবে, অনুধাবন বলা যায়। সূত্রটা হল–

⏳ যথাযথভাবে তাহাজ্জুদ পড়তে পারার হার হৃদয়ের কাঠিন্যের ব্যাস্তানুপাতিক।

🌿 ব্যাখ্যাঃ তাহাজ্জুদ পড়তে পারবো কি না এইটা আমি ঘুমাবার সময়ই এখন বুঝতে পারি নিজের হৃদয়ের অবস্থা দেখে। দিনের বেলায় করা প্রতিটা কাজকর্মই ডিফাইন করবে আপনি রাতে তাহাজ্জুদ পড়তে পারবেন কি না। আবার পারলেও কতটুকু আন্তরিকতা আসবে সেটাও বুঝতে পারবেন। আপনার হৃদয় যত বেশি নম্র হবে তাহাজ্জুদে তত বেশি হৃদয় পরিতুষ্ট হবে, চোখে পানি আসবে।

আর কার অন্তর কত বেশি নম্র তা নির্ভর করে কে কত বেশি তাকওয়াবান। যত বেশি আল্লাহর আনুগত্য করবেন, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকবেন– তত বেশি অন্তরটা নরম হবে। অন্যদিকে যত বেশি বেহুদা কাজকর্ম গুনাহ ইত্যাদি অবাধ্যতায় লিপ্ত থাকবেন, ইবাদত থেকে বিমুখ থাকবেন তত বেশি অন্তর কঠিন হবে। আর সেই কঠিন অন্তর নিয়ে রাতে উঠতে পারবেন না। উঠতে পারলেও সালাতে দাঁড়াতে পারবেন না। সালাতে দাঁড়াতে পারলেও চোখ দিয়ে পানি আসবেনা। আমার অভিজ্ঞতা থেকে এমনও দেখেছি–

❎ রাত ৯ টায় ঘুমিয়েছি, এ্যালার্ম দিয়েছি ৫-৬ টা। কোনভাবেই চান্স নাই মিস হওয়ার। তারপরেও পারিনি নামাজে দাঁড়াতে। এমনকি জাগ্রত হয়েও পড়তে পারিনি। কখনো আবার পড়তে পারলেও আলসেমি, কোন ফিলিংস নাই, চোখে পানি নাই...কারণ একটাই— কঠিন হৃদয়।

✅ আবার এমনও হয়েছে যে প্রচন্ড হার কাঁপানো শীতে ঠান্ডা পানি দিয়ে ওজু করে নামাজে দাঁড়িয়েছি– চোখ দিয়ে গড়গড় করে পানি পড়ছে। কি এক প্রশান্তি যা বলার বাহিরে। কারণ একটাই— নরম হৃদয়।

💔 আফসোসের বিষয় এরকম রাত পেয়েছি বিগত এক বছরে হাতে গোনা কয়েকটা। বেশিরভাগ রাত কাটে এমন যে ফজরে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ না পড়ার আফসোস করতে হয়।

📌 মোটকথা, আমি যে আল্লাহর কতটা নিকৃষ্ট বান্দা তা তাহাজ্জুদ পড়ার চেস্টা না করলে বুঝতেই পারতাম না। এইটা অনেকটা লিটমাস টেস্টের মত। আপনিও যাচাই করে দেখতে পারেন– আল্লাহ আপনার প্রতি কতটা সন্তুষ্ট। মনে রাখবেন, তাহাজ্জুদ মূলত হয় আপনার দিনের কাজকর্ম দিয়ে। দিনটা যত গুনাহমুক্ত থাকবেন, রাতে তত নরম হৃদয়ে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে পারবেন।

কি লিখবো আমি...দিন শেষে দেখি, আমিই সেই গুনাহে লিপ্ত! সারাদিন আল্লাহর ভয় নিয়ে কথা বলি, কিন্তু চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা সে গ...
05/09/2025

কি লিখবো আমি...

দিন শেষে দেখি, আমিই সেই গুনাহে লিপ্ত! সারাদিন আল্লাহর ভয় নিয়ে কথা বলি, কিন্তু চোখের কোণে লুকিয়ে থাকা সে গুনাহ আমিই করি। মানুষকে নসিহত করি, নামাজের দাওয়াত দিই, তওবার কথা বলি... অথচ নিজের নফসকে বুঝাতে পারি না। লুকিয়ে লুকিয়ে যেসব পাপ করি, সেগুলো কেবল আল্লাহ জানেন... আর জানি আমি।

বাইরে আমি ভালো, ভেতরে এক ভয়ংকর পাপের আস্তানা।

আমার কণ্ঠে "ইয়া আল্লাহ" শব্দ বাজে, কিন্তু আমার হাত-পা, চোখ-কান, মন-হৃদয়... সব গুনাহর পথে ধাবিত। আমার এই দ্বিমুখী জীবন একদিকে আল্লাহকে ভালোবাসার দাবি, আরেকদিকে প্রতিদিন তাঁর নাফরমানি।

কোন মুখে আমি বলি "আমি মুসলিম"? কোন সাহসে বলি "আমি জান্নাত চাই"?

আল্লাহ, তুমি তো গাফুরুর রাহীম, তুমি তো বারবার ক্ষমা করো, তুমি না থাকলে আমার মত পাপীকে কে রাখে?আজ খুব ভেঙে পড়েছি... কারণ আমি জানি - আমি বদলাইনি, তওবা করি মুখে, কিন্তু মন আজো নাফরমান। আল্লাহ! যদি এই রাতে মৃত্যু এসে যায়? তুমি কি আমাকে ক্ষমা করবে? তুমি কি জান্নাতে স্থান দিবে?

আল্লাহ! আমাকে বদলে দাও... আমার এই মুখোশ খুলে ফেলো... আমার নফসকে সোজা করো... কারণ আমি ক্লান্ত, আমি হেরে গেছি আমার গুনাহর কাছে। তোমার দরজায় এসে পড়ে আছি... ক্ষমা চাই। আল্লাহ তুমি তো তুমিই আর আমি তো আমিই আমার কাজ শুধু গুনাহ করা,, আর আপনার কাজ শুধু গুনাহ মাফ করা,, আয় আল্লাহ আমার গোপনে গুনাহ প্রকাশ্যে গুনাহ সকল গুনাহ গুলো মাফ করে দেন,, Allahhumagfirl আল্লাহ্হুমগফিরলি🥺

আমীন.....🤲🏻

"দুরুদ-ইস্তেগফার করেও ফায়দা হচ্ছে না"_এমন মেসেজ ইনবক্সে অনেক পাই। এই সমস্যার সমাধান কোথায়? সমাধান বিশ্বাসে!নিজের জীবন থে...
04/09/2025

"দুরুদ-ইস্তেগফার করেও ফায়দা হচ্ছে না"_এমন মেসেজ ইনবক্সে অনেক পাই। এই সমস্যার সমাধান কোথায়? সমাধান বিশ্বাসে!
নিজের জীবন থেকে বলি৷ যে দুআটা আমি আল্লাহর উপর দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে করি,সেই দুআ যতই অসম্ভব হোক না কেন,কবুল হয়ই৷ যখন আমার বিশ্বাস নড়বড়ে হয়ে যায়, তখন সাধারণ দুআ করেও খুব একটা ফায়দা আসে না৷

দুইদিন আগে এক বিষয় নিয়ে পেরেশানিতে পড়েছিলাম। যেটার ইন্সট্যান্ট সলভ দরকার ছিলো। কি করবো বুঝতে পারছিলাম না৷ ইস্তেগফার, দুরুদ করছিলাম। কিন্তু মন থেকে জোর দিয়ে করছি না। হঠাৎ সূরা আনফালের অর্থ পড়তে গিয়ে ইস্তেগফার নিয়ে একটা আয়াত পেলাম!

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা ওয়াদা করেছেন, বান্দা যতক্ষণ ইস্তেগফারে থাকবে,ততক্ষণ অবধি তাকে কোনো আযাব স্পর্শ করতে পারবে না৷ চিন্তা এলো,এই যে আমি পেরেশানিতে আছি,এটাও তো আল্লাহর পক্ষ থেকে আযাব হতে পারে। আমি যদি সত্যিকার অর্থে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ইস্তেগফার করি,আল্লাহ পথ বাতলে দিবেন। হাদিসে আছে, দুরুদ পাঠে দুনিয়া ও আখিরাতের পেরেশানি দূর হয়৷ রাসুলুল্লাহ ﷺ তো কখনোই মিথ্যা বলতে পারেন না৷ শুরু করলাম ইস্তেগফার ও দুরুদ পাঠ।
জবানের চেয়ে মনের দৃঢ়তা ছিলো বেশি। আয়াতটা বারবার মাথায় হিট করছিলো৷ হাদিসের কথা মনে পড়ছিলো।
সুবহানআল্লাহ, ঘন্টাখানেক যেতে না যেতেই ওই পেরেশানি থেকে উত্তরণের পথ বাতলে দিলেন আমার রব্ব৷ অথচ এর আগেও আমি দুরুদ-ইস্তেগফারে ছিলাম। কিন্তু ফল পাচ্ছিলাম না। কেন? দৃঢ় বিশ্বাসের অভাবে!

কখনো আমার এতো বেশি তাড়া থাকে যে খাওয়ার টাইমটুকু হয় না। সেসময় এক গ্লাস পানি খাই বিসমিল্লাহ পড়ে৷ নিজেকে বিশ্বাস করাই,আল্লাহর নাম যেহেতু নিয়েছি,এই পানিতেই আল্লাহ আমার জন্য এনার্জি, বারাকাহ্ দিয়ে দিবেন। দুআও করি। আসলেও তাই হয়! পেটপুরে খেয়ে যে এনার্জি পাই না,এক গ্লাস পানি খেয়েই কয়েক ঘন্টা ভালোই কাটিয়ে দিতে পারি। এতো দৌড়-ঝাঁপেও সমস্যা হয় না। সবই বিশ্বাসের কারণে!

এই যে স্কিনকেয়ার করি,কখনোই প্রোডাক্টের উপর ভরসা করি না। যখনই করে ফেলি,সেই প্রোডাক্টে তেমন একটা ফল পাই না। হাস্যকর একটা কথা বলি। আমার ড্রাই স্কিন হওয়া সত্ত্বেও আমি অয়েলি স্কিনের প্রোডাক্ট ইউস করেছিলাম একবছর, শুধু নিজের বিশ্বাসে দৃঢ়তা আনতে যে_ প্রোডাক্ট কেবলমাত্র একটা উসিলা। আল্লাহর রহমতে আমার কোনো সমস্যা হয়নি। আপনারা এটা এপ্লাই করতে যাবেন না৷ এমন করা উচিত না। আমি নিজের জন্য করেছিলাম।

জীবনে সবকিছুর মধ্যে বারাকাহ্ চাইলে নিজের নিয়্যাতকে পরিশুদ্ধ করা প্রয়োজন। আর প্রয়োজন আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস। আমরা সুন্নাহ হিসেবে উসিলা গ্রহণ করবো। কিন্তু পরিপূর্ণ ভরসা হবে একমাত্র আল্লাহর উপর।

এই বিশ্বাস একদিনে আসে না। একবার এসে গেলেও আজীবন থেকে যায় না৷ প্রতিটা মূহুর্তে নিজের সাথে নিজেকে যুদ্ধ করতে হয়। নিজেকে বুঝাতে হয়," আমার রব্ব সেই সুমহান সত্তা,যাঁর হাতে সকল ক্ষমতা"।
নিয়মিত কুরআনের ভাবানুবাদ, আত্মশুদ্ধিমূলক বই,উত্তম সোহবত, দুআতে লেগে থেকে আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস অর্জন সহজ হবে,ইনশাআল্লাহ!

📖 গল্পের নাম: “একটি খেজুরের প্রতিদান 🌴”একদিন একজন গরিব কৃষক 👳‍♂️ নামাজ পড়তে মসজিদে 🕌 যাচ্ছিলেন। পথে তিনি দেখতে পেলেন একট...
01/09/2025

📖 গল্পের নাম: “একটি খেজুরের প্রতিদান 🌴”

একদিন একজন গরিব কৃষক 👳‍♂️ নামাজ পড়তে মসজিদে 🕌 যাচ্ছিলেন। পথে তিনি দেখতে পেলেন একটি ছোট্ট ছেলে 👦 রাস্তার পাশে বসে আছে — ক্ষুধায় কাঁপছে 😔, গায়ে ছেঁড়া জামা, চোখে পানি 😢।

কৃষক থামলেন। তাঁর কাছে ছিল মাত্র একটি খেজুর 🌴 — রোজা ভাঙার জন্য রেখেছিলেন। কিন্তু ছেলেটির অবস্থা দেখে তাঁর মন কেঁদে উঠল 💔।

তিনি নিজের একমাত্র খেজুরটি ছেলেটিকে দিয়ে দিলেন 🤲। ছেলেটি খেজুর খেয়ে হাসল 😊 — তার চোখে আনন্দের ঝিলিক ✨।

সেই রাতে কৃষক স্বপ্নে দেখলেন 😴, তিনি দাঁড়িয়ে আছেন একটি বিশাল জান্নাতি বাগানে 🌺🍃। চারদিকে সোনার মতো খেজুর ঝুলছে 🏝️। এক ফেরেশতা 👼 এসে বললেন:

“তুমি যে এক খেজুর দিয়েছিলে, আল্লাহ তোমার জন্য এই বাগান বানিয়ে রেখেছেন।” 🕊️

সকালবেলা কৃষক কান্নায় ভেঙে পড়লেন 😭 — কিন্তু সে ছিল আনন্দ আর কৃতজ্ঞতার অশ্রু 🥹।

📌 শিক্ষা: আল্লাহর জন্য ❤️ ছোট্ট একটি দানও 🎁 বিশাল প্রতিদান এনে দেয়। যদি তা হয় নিঃস্বার্থ 💞 ও আন্তরিক 🤍।





01/09/2025

✨ পৃথিবীর গরম বনাম মরার পর আজাবের গরম ✨

🌍 পৃথিবীর গরম

আল্লাহর দুনিয়ার নিয়ামতের অংশ।

গরম, শীত, বৃষ্টি—সবই মানুষের পরীক্ষা।

এখানে গরম সহ্য করা যায় পানীয়, ছায়া, ফ্যান, এসি বা গোসলের মাধ্যমে।

যত কষ্টই হোক, এটা সাময়িক এবং সহনীয়।

⚰️ মরার পর আজাবের গরম

দুনিয়ার গরমের সাথে কোনো তুলনাই চলে না।

রাসূল ﷺ বলেছেন:

> “দুনিয়ার আগুন হলো জাহান্নামের আগুনের সত্তরের একটি অংশমাত্র।” (বুখারি, মুসলিম)

মানে জাহান্নামের আগুন দুনিয়ার আগুনের চেয়ে ৬৯ গুণ বেশি ভয়ঙ্কর।

সেখানে পানীয়, ছায়া, বাতাস—কোনো কিছুও আরাম দেবে না।

এই গরম সাময়িক নয়, আল্লাহ যার প্রতি রহম করবেন না তার জন্য তা স্থায়ী হতে পারে।

মূল পার্থক্য

দুনিয়ার গরম, সাময়িক, সহনীয়, নিয়ামতের অংশ।

মৃত্যুর পর আজাবের গরম, ভয়ঙ্কর, অসহনীয়, চিরস্থায়ী হতে পারে।

🥺 তাই আসুন আমরা দুনিয়ায় আল্লাহর আদেশ মানি, নামাজ-রোজা করি, মানুষকে কষ্ট না দিই—যাতে আল্লাহ আমাদের সেই ভয়াবহ আজাব থেকে রক্ষা করেন।

✍️Masuma Mim

আম্মা যে রাতে ইন্তি-কাল করবেন সে রাতে খুব অস্থির ছিলেন। নিজেই ছাদ থেকে শুকনো কাপড় এনে ভাজ করলেন। বিদেশে থাকা দুই মেয়ের ...
28/08/2025

আম্মা যে রাতে ইন্তি-কাল করবেন সে রাতে খুব অস্থির ছিলেন। নিজেই ছাদ থেকে শুকনো কাপড় এনে ভাজ করলেন। বিদেশে থাকা দুই মেয়ের সাথে ভিডিও কল করলেন, বিদায় নিলেন এমনভাবে যেন আর দেখা হবেনা কখনো। ভাগ্যের জোরে আমি দেশে ছিলাম। আব্বার কাছে মাফ চেয়ে নিলেন। রাত ৩ টার দিকে আমাকে আর মেজো ভাইয়াকে ডাকলেন। অনেক কথা বললেন। পরদিন সকালে ভাইয়ার চাকরিতে দূরে যাওয়ার কথা। আম্মা বললেন কাল একটু থেকে যা। বিকেলের দিকে যাস।
এরপর আমরা রুমে চলে আসি। ফজরের আযানের আধা ঘন্টা আগে আম্মার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। আমি কোলে করে বেলকনিতে আনি ফ্রেশ বাতাসের জন্য। বারবার বলতে থাকি মা একটু শ্বাস নেয়ার চেষ্টা করো। তিনি বারবার বললেন না সেটার সময় শেষ। চলে যেতে হবে। এরপর উনি কালিমা পড়ে ইস্তিগফার করতে করতে সিজদায় চলে গেলেন। আমরা উনাকে বসিয়ে পিঠ মালিশ করছিলাম। তখন দুলাভাই দরজায় দাড়িয়ে ছিলেন। উনি মুফতি। আম্মা দুলাভাইকে জিজ্ঞেস করলেন এখন কি সূরা ইয়াসিন পড়ার সময় হয়েছে? একটু পরে ঘরের দক্ষিণ কোনায় ছাদের দিকে তাকিয়ে বললেন আপনারা আসেন। এর একটু পরেই ভাইয়া আর আমার বুকে আম্মা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। আমি এত সুন্দর মৃ*ত্যু কখনো দেখিনি। কল্পনাও করতে পারিনা।

—উস্তাদ সাঈদুল মোস্তফা হাফিজাহুল্লাহ

এ হচ্ছে এক মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ্‌র ঘটনা, রাত্রি গভীর হয়ে এসেছে। নরম ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে সেই অপরিচিত শহরের গলিতে। একা এ...
26/08/2025

এ হচ্ছে এক মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ্‌র ঘটনা,

রাত্রি গভীর হয়ে এসেছে। নরম ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে সেই অপরিচিত শহরের গলিতে। একা এক ভ্রমণকারী আলেম দাঁড়িয়ে আছেন একটি মসজিদের দরজায়। তিনি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)—মহান মুজতাহিদ, মুহাদ্দিস এবং চার মাজহাবের অন্যতম ইমাম। কিন্তু তাঁর মুখে নেই কোনো পরিচয়ের অহংকার, পোশাকে নেই কোনো বিশেষত্ব। তাই তো তাঁকে কেউ চিনতেও পারল না। মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে তিনি অনুরোধ করলেন,
“রাতটা কি এখানে কাটাতে পারি?”
কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বলল,
“না, এখানে বাইরের কাউকে থাকার অনুমতি নেই।”
ইমাম আহমাদ নরমসুরে বললেন,
“আমি শুধু একটু বিশ্রাম নিতে চাই। দরজার ধারে একটু বসে থাকলেই হবে।”
তবুও জবাব এল কঠোর,
“না, তা সম্ভব নয়।”
অবশেষে নিরুপায় হয়ে তিনি মসজিদের সামনের রাস্তায় একটু জায়গা খুঁজে ঘুমাতে চাইলেন। কিন্তু, সেখানে থেকেও তাঁকে টেনে সরিয়ে দেওয়া হলো। কতটা অসহায় হতে হয় একজন মানুষকে, যখন রাতের অন্ধকারেও সে আশ্রয় না পায়! ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্যেই ছিলেন। ঠিক তখনই, মসজিদের পাশের এক ছোট্ট দোকান থেকে এক রুটি বিক্রেতা বের হয়ে এল। তার চোখে-মুখে ছিল শ্রদ্ধা, মুখে একটিই বাক্য—
“চলুন হুজুর, আমার ঘরে নিশ্চিন্তে রাত্রি যাপন করতে পারেন।”

ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ) সম্মত হলেন। তিনি রুটি বিক্রেতার সঙ্গে তার ঘরে গেলেন। যেখানে নেই বিলাসিতা, নেই আয়োজন—তবে আছে একখণ্ড আন্তরিকতা আর আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা।
ঘরে ঢুকে তিনি একটু বিশ্রামে বসতেই লক্ষ করলেন, ঘরের মালিক আটা মাখতে মাখতে, রুটি বানাতে বানাতে, সেঁকতে সেঁকতে একটানা বলছে—
“আস্তাগফিরুল্লাহ… আস্তাগফিরুল্লাহ…”
তাঁর মুখে ক্লান্তি নেই, বিরক্তি নেই। বরং যেন ইস্তিগফারই তার নিঃশ্বাসের মতো সহজ হয়ে গেছে।

ইমাম আহমাদ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“ভাই, তুমি কি সবসময় এভাবে ইস্তিগফার করো?”
লোকটি মৃদু হেসে বলল,
“জি হুজুর, আমি যা-ই করি না কেন, মুখে ইস্তিগফার জারি রাখি। এটা আমার অভ্যাস হয়ে গেছে।”
ইমাম জিজ্ঞেস করলেন,
“আল্লাহ ﷻ কি এর কোনো ফল দিয়েছেন তোমাকে?”
লোকটি দৃঢ় বিশ্বাসে উত্তর দিল,
“আলহামদুলিল্লাহ, আমি যা কিছু চেয়েছি, আল্লাহ ﷻ তার সবকিছু দিয়েছেন। আমি রিজক চেয়েছিলাম, আল্লাহ ﷻ রুটির ব্যবসা করার তাওফিক দিয়েছেন। আমি আশ্রয় চেয়েছিলাম, আল্লাহ ﷻ নিরাপদ ঘর দিয়েছেন। প্রতিটি দোয়াই আমার কবুল হয়েছে… কেবল একটি ছাড়া।”

ইমাম অবাক হয়ে জানতে চাইলেন,
“সে দোয়াটি কী?”
লোকটি একটু সংকোচে বলল,
“আমি বহু বছর ধরে আল্লাহর কাছে একটি জিনিস চাইছি—যেন মুহাদ্দিস ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) এর সঙ্গে একবার দেখা করিয়ে দেন আমাকে। আমি একটিবার তাঁর কণ্ঠ শুনতে চাই, তাঁর চেহারা দেখতে চাই।”
এই কথা শুনে ইমাম আহমাদের চোখে পানি এসে গেল। তিনি অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। আবেগ ধরে রাখতে না পেরে তিনি বলে উঠলেন,
“শোনো! তোমার দু'আ তো এমনভাবে কবুল হয়েছে যে, আল্লাহ ﷻ ইমাম আহমাদের কাছে তোমাকে নিয়ে যান নি, বরং ইমাম আহমাদকে নিজেই তোমার দরজায় এনে হাজির করেছে। আমি-ই সেই আহমাদ ইবনে হাম্বল!”

লোকটি স্তব্ধ হয়ে গেল। সে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না। তার দৃষ্টি কেঁদে উঠল আনন্দে, বিস্ময়ে, বিনয়ে। দীর্ঘদিনের একান্ত প্রার্থনা আজ বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে—তার নিজের ঘরে, এক নিঃসঙ্গ রাতের অতিথি হয়ে। এই আনন্দ, এই ঈমান, এই প্রাপ্তির ঝলকানি যেন সেদিন আসমানের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকাকেও নিষ্প্রাণ করে দিয়েছিল!
আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি…

["Siyar A‘lam al-Nubala" (ইমাম যাহাবি রহ.), "Manaqib al-Imam Ahmad" (ইবনে আল-জাওজি রহ.)]

কারও নিয়ামত-প্রাপ্তিতে, কিংবা কারও সুখ আর উন্নতি দেখলে আমাদের কী করা উচিত তারও একটা চমৎকার নজির কুরআনে আছে।সূরা আ-ল ইমরা...
21/08/2025

কারও নিয়ামত-প্রাপ্তিতে, কিংবা কারও সুখ আর উন্নতি দেখলে আমাদের কী করা উচিত তারও একটা চমৎকার নজির কুরআনে আছে।
সূরা আ-ল ইমরানের শুরুর দিকে আমরা দেখি—মারইয়াম আলাইহাস সালামের মেহরাবে তাঁর খালু যাকারিয়া আলাইহিস সালাম এসে নানান ধরনের ফলমূল দেখে বিস্মিত হয়ে যেতেন। এমন ফলমূল, যেগুলোর মৌসুম অনেক আগেই গত হয়েছে বা যেগুলো তিনি নিজেও কখনো দেখেননি। একদিন তিনি জিগ্যেশ করেই বসলেন, ‘মারইয়াম, এগুলো তুমি কোথায় পাও?’

যাকারিয়া আলাইহিস সালামের এই প্রশ্নের জবাবে মারইয়াম আলাইহাস সালাম বললেন,

هُوَ مِنْ عِنۡدِ اللّٰهِ ۖ إِنَّ اللّٰهَ يَرْزُقُ مَنۡ يَّشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ ‎٣٧‏

“এগুলো আমার রবের পক্ষ থেকে আসে। নিশ্চয় তিনি যাকে ইচ্ছে বেহিশেব রিয্‌ক দান করেন।”

আল্লাহর পক্ষ থেকে মারইয়াম আলাইহাস সালাম এই যে অনুগ্রহ পাচ্ছেন, এটা দেখে যাকারিয়া আলাইহিস সালাম কিন্তু হিংসায় ফেটে পড়েননি। তিনি নিজে একজন নবি ছিলেন। তাঁর জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এসব ফলফলাদি না পাঠিয়ে কেন মারইয়ামের জন্য পাঠান—এমন অভিযোগও তিনি আল্লাহর কাছে করে বসেননি। তিনি কী করেছেন, জানেন?

যাকারিয়া আলাইহিস সালাম ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি নিজে একেবারে বয়োবৃদ্ধ, তারওপর তাঁর স্ত্রী ছিলেন বন্ধ্যা। সন্তান লাভের আর কোনো উপায় তাঁর অবশিষ্ট থাকলো না। কিন্তু সেদিন মারইয়াম আলাইহাস সালামের মেহরাবে এমন সব অদ্ভুত এবং অ-মৌসুমের ফলমূল দেখে তাঁর মনে হলো—গত হয়ে যাওয়া মৌসুমের ফলমূল যদি মারইয়াম এখন পেতে পারে, তাহলে এই বৃদ্ধাবস্থায় এবং স্ত্রীর বন্ধ্যাত্ব অবস্থাতেও তো আমি সন্তান পেতে পারি। যে রব মারইয়ামকে এই নিয়ামত দেন, তিনি তো আমাকেও দিতে পারেন।

এই ভাবনা থেকে যাকারিয়া আলাইহিস সালাম সাথে সাথে মারইয়াম আলাইহাস সালামের মেহরাবে থাকাবস্থাতেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে দুআ করলেন। সেই দুআটাও সূরা আ-ল ইমরানে জায়গা পেয়েছে। তিনি বলেছেন :

رَبِّ هَبْ لِيۡ مِنۡ لَّدُنۡكَ ذُرِّيَّةً طَيِّبَةً ۖ إِنَّكَ سَمِيۡعُ الدُّعَاءِ ‎٣٨

“হে আমার রব! আমাকে আপনার পক্ষ হতে একটি উত্তম সন্তান দান করুন। নিশ্চয় আপনি প্রার্থনা শ্রবণকারী।”

মারইয়াম আলাইহাস সালামের নিয়ামত-প্রাপ্তি যাকারিয়া আলাইহিস সালামের মনে হাসাদ তথা হিংসার উদ্রেক করেনি; বরং তাঁর মনে জাগিয়ে দিয়েছে বয়োবৃদ্ধ অবস্থায় সন্তান লাভের ইচ্ছা।

কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন—দুআ কবুলের একটা উত্তম মুহূর্ত হচ্ছে কাউকে নিয়ামত-প্রাপ্ত হতে দেখা বা কারও নিয়ামত-প্রাপ্তির সংবাদ শোনামাত্র নিজের জন্যও দুআ করা, যেভাবে দুআ করেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নবি যাকারিয়া আলাইহিস সালাম।

কাউকে ব্যবসাতে উন্নতি করতে দেখলে মনে মনে আল্লাহকে বলেন, ‘ইয়া রব! তাকে যেভাবে অবারিত রিয্‌ক আপনি দিচ্ছেন, সেভাবে আমাকেও দিন।’

কারও সংসারে সুখ আর স্বাচ্ছন্দ্যের সমারোহ দেখে ঈর্ষান্বিত হওয়ার বদলে আল্লাহকে বলেন, ‘মালিক, সুখ আর স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার মালিক তো কেবল আপনি। তার মতো করে আমার সংসারেও আপনি অঢেল সুখ দান করেন।’

কারও বাচ্চা ভালোভাবে বেড়ে উঠছে, কেউ ভালো চাকুরি পেয়েছে, কারও জীবনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অবারিত বারাকাহ আসছে—এসব দেখে নিজেকে নিয়ে হতাশ হয়ে পড়া এবং ওই ব্যক্তিকে হিংসা করাটা অসুস্থ অন্তরের স্বাক্ষর বহন করে। আমাদেরকে হতে হবে যাকারিয়া আলাইহিস সালামের মতো—কাউকে নিয়ামত পেতে দেখলে আমরা বরং খুশি হবো। আমাদের অন্তরে অন্তরে ছড়িয়ে দেবো তাকওয়া আর তাওয়াক্কুলের পারদ।

~ আরিফ আজাদ

21/08/2025

নিয়ামত হারানোর শুরুটা হয়—একটা গুনাহ দিয়ে।🥀

মানুষ যখন গুনাহ করে, তখন আল্লাহর কোনো না কোনো নিয়ামত তার জীবন থেকে সরে যায়। আল্লাহর প্রতি অনুতপ্ত হয়ে যদি বান্দা ফিরে আসে, তাওবাহ করে তবে সেই নিয়ামত বা অনুরূপ কোনো বরকত আবার ফিরে আসে।

কিন্তু যদি সে গুনাহর উপর অটল থাকে, অনুতপ্ত না হয়, ফিরে না আসে—তাহলে সেই নেয়ামত আর ফিরে আসে না।
এভাবে একে একে গুনাহগুলো তার জীবনের নেয়ামতগুলো ছিনিয়ে নিতে থাকে। একসময় সে নিঃস্ব হয়ে পড়ে—বাহ্যিকভাবে হয়তো নয়, কিন্তু আভ্যন্তরীণভাবে।

> – ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) সূত্রঃ ত্বরীকুল হিজরাতাইন, পৃষ্ঠা ২৭১

⤵️ আল্লাহপ্রদত্ত শক্তি এটি মানুষের আত্মা ও ঈমানের সাথে সম্পর্কিত। যত বেশি ঈমান, তাকওয়া, জিকির ও ইবাদত করা হয়, তত বেশি ...
21/08/2025

⤵️ আল্লাহপ্রদত্ত শক্তি এটি মানুষের আত্মা ও ঈমানের সাথে সম্পর্কিত। যত বেশি ঈমান, তাকওয়া, জিকির ও ইবাদত করা হয়, তত বেশি রুহানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। মানুষের দেহ, মন এবং আত্মার ভেতরে আল্লাহর দানকৃত এক বিশেষ ক্ষমতা, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়।

যত বেশি ঈমান, তাকওয়া, জিকির ও ইবাদত করা হয়, তত বেশি রুহানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। এ শক্তি মানুষকে ধৈর্যশীল, সৎ, দৃঢ়চিত্ত ও আল্লাহর নিকটবর্তী করে।কখনও এ শক্তির মাধ্যমে দোয়া কবুল হয়, মানুষকে শিফা দেওয়া যায় বা অন্যকে সহযোগিতা পরামর্শ দেওয়া যায়। নামাজ, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দরুদ, আল্লাহর নামের ওযীফা এবং পাপ থেকে বেঁচে থাকলে এ শক্তি বৃদ্ধি পায়।রুহানি শক্তি হলো আত্মার শক্তি, যা আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও খালেস নিয়তের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের জীবন, দোয়া ও কাজে আধ্যাত্মিক প্রভাব ফেলে।রুহানি চিকিৎসা বলতে এমন চিকিৎসাকে বোঝানো হয় যেখানে শরীর ও মনের অসুস্থতা দূর করতে আল্লাহর নাম, কুরআনের আয়াত, দোয়া-দরুদ, যিকির, তাওহীদ ও আধ্যাত্মিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
⤵️ সংক্ষেপে: রুহানি চিকিৎসা হলো আল্লাহর কালাম ও আধ্যাত্মিক শক্তি দ্বারা চিকিৎসা।

اِنَّهٗ لَیۡسَ لَهٗ سُلۡطٰنٌ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَلٰی رَبِّهِمۡ یَتَوَكَّلُوۡنَ ﴿۹۹﴾

নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবের উপর তাওয়াক্কুল করেছে, তাদের উপর শয়তানের কোন ক্ষমতা নেই।

[সুরা আন নাহল আয়াত -৯৯]

مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یُقۡرِضُ اللّٰهَ قَرۡضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَهٗ لَهٗۤ اَضۡعَافًا كَثِیۡرَۃً ؕ وَ اللّٰهُ یَقۡبِضُ وَ یَبۡصُۜطُ ۪ وَ اِلَیۡهِ تُرۡجَعُوۡنَ ﴿۲۴۵﴾

কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরানো হবে।

[সুরা আল বাকারা আয়াত -২৪৫ ]

وَ كَیۡفَ تَكۡفُرُوۡنَ وَ اَنۡتُمۡ تُتۡلٰی عَلَیۡكُمۡ اٰیٰتُ اللّٰهِ وَ فِیۡكُمۡ رَسُوۡلُهٗ ؕ وَ مَنۡ یَّعۡتَصِمۡ بِاللّٰهِ فَقَدۡ هُدِیَ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ﴿۱۰۱﴾

আর কিভাবে তোমরা কুফরী কর, অথচ তোমাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছে তাঁর রাসূল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে তাকে অবশ্যই সরল পথের দিশা দেয়া হবে।

[সুরা আলে ইমরান আয়াত ১০১]

--------------------------------------------------

রুহানি তাসির যাদের ভালো, তাদের সুরা ফাতেহা পড়লে ভিক্টিম সুস্থ হয়ে যায়, অনেক সারাদিন কোরআন পড়ে রুকইয়াহ করে ভিক্টিমের কোন ইফেক্ট হয়না বরং কষ্ট বেশি হয়। এর কারন হচ্ছে রুহানি শক্তি যা উপরে আলোচনা করা হলো। মহান আল্লাহ কোরআন বলেন-

وَ قَالَ رَبُّكُمُ ادۡعُوۡنِیۡۤ اَسۡتَجِبۡ لَكُمۡ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَكۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِیۡ سَیَدۡخُلُوۡنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیۡنَ

আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’

[ সুরা আল গাফির ( আল মুমিন) আয়াত -৬০]

⤵️ উম্মতে মুহাম্মদীয়ার বিশেষ সম্মানের কারণে এই আয়াতে তাদেরকে দো'আ করার আদেশ করা হয়েছে এবং তা কবুল করারও ওয়াদা করা হয়েছে। আর যারা দো'আ করে না, তাদের জন্যে শাস্তিবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। আলোচ্য আয়াতে দো'আ অর্থ যদি ইবাদতের দোআ বোঝানো হয় তবে দো'আ বর্জনকারী অবশ্যই গুনাহগার এমনকি কাফেরও হবে। আর সে হিসেবেই ইবাদত বর্জনকারীকে জাহান্নামের শাস্তিবাণী শোনানো হয়েছে। আর যদি দোআ বলে “চাওয়া’ বা “যাচ্ঞা করা” উদ্দেশ্য হয় তখন দোআ না করলে জাহান্নামের শাস্তিবাণী ঐ সময়ই শুধু হবে যখন সে অহংকারবশত: তা বর্জন করে। কেননা, অহংকারবশত: দো'আ বর্জন করা কুফরের লক্ষণ, তাই সে জাহান্নামের যোগ্য হয়ে যায়। নতুবা সাধারণ দো'আ ফরয বা ওয়াজিব নয়। দোআ না করলে গোনাহ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর কাছে দোআ অপেক্ষা অধিক সম্মানিত কোন বিষয় নেই। তিরমিযি: ৩৩৭০] অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তার প্রয়োজন প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হন। [তিরমিযীঃ ৩৩৭৩]

⤵️ রুহানি শক্তি বা রুহানি তাসির যাদের বেশি তারা জ্বিন যাদুটোনা চিকিৎসা ভিক্টিমকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। রুহানি তাসির ওলা আলেম গন অনেক কিছু জানে। ভিক্টিমকে দেখলে বুঝতে পারে তাদের সমস্যা গুলো এবং সঠিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম। চোখ বন্ধ করলেও অনেক কিছু, অনেক ঘটনা জানতে পারে।

মনে রাখবেন,মিথ্যাবাদী,লোভী, বেনামাজি, সমস্যা সনাক্ত করতে না পারা। এই সকল লোক থেকে চিকিৎসা করে উল্ট ভিক্টিমের ক্ষতিহয় উপকার হয়না।

জাজাকাল্লাহ খাইরান

20/08/2025

🟦 কীভাবে ইস্তিগফার করবো?

১. ‘আস্তাগফিরুল্লাহ।’ অর্থাৎ, ‘আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি।’ প্রতি ওয়াক্ত ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর রাসুলুল্লাহ (সা.) এ ইস্তিগফারটি তিনবার পড়তেন। (মিশকাত)

২. ‘আস্তাগফিরুল্লাহা ওয়া তুবু ইলাইহি।’ অর্থাৎ, আমি আল্লাহর ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর কাছ থেকে ফিরে আসছি। এ ইস্তিগফার প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার পড়ার নিয়ম। রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রতিদিন ৭০ বারের অধিক তওবা ও ইস্তিগফার করতেন। (বুখারি)

৩. ‘রাব্বিগফিরলি, ওয়া তুব আলাইয়্যা; ইন্নাকা আংতাত তাউয়্যাবুর রাহিম।’ অর্থাৎ, হে আমার প্রভু, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমার তওবা কবুল করুন। নিশ্চয় আপনি মহান তওবা কবুলকারী করুণাময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) মসজিদে বসে এক বৈঠকেই এ দোয়া একশবার পড়েছেন। (আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

হজরত উমর (রা.) ছিলেন সুশিক্ষিত সাহাবি
৪. ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কইয়্যুমু ওয়া তুবু ইলাইহি।’ অর্থাৎ, আমি ওই আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া প্রকৃতপক্ষে কোনো মাবুদ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী এবং তাঁর কাছেই (তওবা করে) ফিরে আসি।

দিনের যেকোনো ইবাদত-বন্দেগি তথা ক্ষমা প্রার্থনার সময় এভাবে তওবা-ইস্তিগফার করা যেতে পারে। হাদিসে আছে, এভাবে তওবা-ইস্তিগফার করলে আল্লাহ–তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন, যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়। (আবু দাউদ, তিরমিজি, মিশকাত)

৫. সাইয়েদুল ইস্তিগফার পড়া: ‘আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বি লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্কতানি ওয়া আনা আবদুকা ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাসতাতাতু আউজুবিকা মিন শাররি মা সানাতু আবুউলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুউলাকা বিজাম্বি ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।’

অর্থাৎ, হে আল্লাহ! তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই বান্দা। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারেই আবদ্ধ। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ, তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও। কারণ, তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।

রাসুলুল্লাহর (সা.) সাহসী সঙ্গী হজরত যুবাইর (রা.)
সকালে ও সন্ধ্যায় এ ইস্তিগফার করার নিয়ম। ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর এ ইস্তিগফার পড়তে যেন ভুল না হয়। হাদিসে আছে, যে ব্যক্তি এ ইস্তিগফার সকালে পড়ে আর সন্ধ্যার আগে মারা যায় কিংবা সন্ধ্যায় পড়ে সকাল হওয়ার আগে মারা যায়, সে জান্নাতে যাবে। (বুখারি)

৬. ‘রাব্বিগফির, ওয়ারহাম ওয়া আংতা খাইরুর রাহিমিন।’

৭. অন্য হাদিসে আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি প্রতিদিন ৭০ বারের বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই এবং তওবা করি: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া তুবু ইলাইহি’।

৮. বিশেষ করে ক্ষমা, রিজিকের সন্ধান ও বরকত পেতে হলে বেশি বেশি করে পড়া যায়, ‘রাব্বিগফিরলি জুনুবি, ওয়াফতাহলি আবওয়াবা ফাদলিকা’। অর্থাৎ, হে আমার রব, আমার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দাও; আর আমার জন্য তোমার অনুগ্রহের দরজা খুলে দাও। (তিরমিজি)

৯. ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুয়্যুন; তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’ অর্থাৎ, হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; আমাকে ক্ষমা করে দিন। (মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি, মিশকাত)

১০. ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম, ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রাহিম।’ অর্থাৎ, মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

বিশ্বাসী মুসলমানদের কর্তব্য হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ইস্তিগফার করা। রিজিকে বরকতসহ কোরআন-সুন্নায় ঘোষিত ফজিলত ও মর্যাদাগুলো পাওয়ার চেষ্টা করা।

সত্য ধর্ম → ইসলাম → শান্তির ধর্ম ইসলাম,ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যাবস্থাসত্য ধর্ম → ইসলাম → শান্তির ধর্ম ইসলাম,ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যাবস্থা

Address

Bogura
5841

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আস্তাগফিরুল্লাহ Astaghfirullah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category