21/08/2025
⤵️ আল্লাহপ্রদত্ত শক্তি এটি মানুষের আত্মা ও ঈমানের সাথে সম্পর্কিত। যত বেশি ঈমান, তাকওয়া, জিকির ও ইবাদত করা হয়, তত বেশি রুহানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। মানুষের দেহ, মন এবং আত্মার ভেতরে আল্লাহর দানকৃত এক বিশেষ ক্ষমতা, যা সাধারণ চোখে দেখা যায় না কিন্তু অনুভব করা যায়।
যত বেশি ঈমান, তাকওয়া, জিকির ও ইবাদত করা হয়, তত বেশি রুহানি শক্তি বৃদ্ধি পায়। এ শক্তি মানুষকে ধৈর্যশীল, সৎ, দৃঢ়চিত্ত ও আল্লাহর নিকটবর্তী করে।কখনও এ শক্তির মাধ্যমে দোয়া কবুল হয়, মানুষকে শিফা দেওয়া যায় বা অন্যকে সহযোগিতা পরামর্শ দেওয়া যায়। নামাজ, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দরুদ, আল্লাহর নামের ওযীফা এবং পাপ থেকে বেঁচে থাকলে এ শক্তি বৃদ্ধি পায়।রুহানি শক্তি হলো আত্মার শক্তি, যা আল্লাহর ইবাদত, জিকির ও খালেস নিয়তের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং মানুষের জীবন, দোয়া ও কাজে আধ্যাত্মিক প্রভাব ফেলে।রুহানি চিকিৎসা বলতে এমন চিকিৎসাকে বোঝানো হয় যেখানে শরীর ও মনের অসুস্থতা দূর করতে আল্লাহর নাম, কুরআনের আয়াত, দোয়া-দরুদ, যিকির, তাওহীদ ও আধ্যাত্মিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।
⤵️ সংক্ষেপে: রুহানি চিকিৎসা হলো আল্লাহর কালাম ও আধ্যাত্মিক শক্তি দ্বারা চিকিৎসা।
اِنَّهٗ لَیۡسَ لَهٗ سُلۡطٰنٌ عَلَی الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَلٰی رَبِّهِمۡ یَتَوَكَّلُوۡنَ ﴿۹۹﴾
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবের উপর তাওয়াক্কুল করেছে, তাদের উপর শয়তানের কোন ক্ষমতা নেই।
[সুরা আন নাহল আয়াত -৯৯]
مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یُقۡرِضُ اللّٰهَ قَرۡضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَهٗ لَهٗۤ اَضۡعَافًا كَثِیۡرَۃً ؕ وَ اللّٰهُ یَقۡبِضُ وَ یَبۡصُۜطُ ۪ وَ اِلَیۡهِ تُرۡجَعُوۡنَ ﴿۲۴۵﴾
কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে, ফলে তিনি তার জন্য বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন? আর আল্লাহ সংকীর্ণ করেন ও প্রসারিত করেন এবং তাঁরই নিকট তোমাদেরকে ফিরানো হবে।
[সুরা আল বাকারা আয়াত -২৪৫ ]
وَ كَیۡفَ تَكۡفُرُوۡنَ وَ اَنۡتُمۡ تُتۡلٰی عَلَیۡكُمۡ اٰیٰتُ اللّٰهِ وَ فِیۡكُمۡ رَسُوۡلُهٗ ؕ وَ مَنۡ یَّعۡتَصِمۡ بِاللّٰهِ فَقَدۡ هُدِیَ اِلٰی صِرَاطٍ مُّسۡتَقِیۡمٍ ﴿۱۰۱﴾
আর কিভাবে তোমরা কুফরী কর, অথচ তোমাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হচ্ছে এবং তোমাদের মধ্যে রয়েছে তাঁর রাসূল। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে তাকে অবশ্যই সরল পথের দিশা দেয়া হবে।
[সুরা আলে ইমরান আয়াত ১০১]
--------------------------------------------------
রুহানি তাসির যাদের ভালো, তাদের সুরা ফাতেহা পড়লে ভিক্টিম সুস্থ হয়ে যায়, অনেক সারাদিন কোরআন পড়ে রুকইয়াহ করে ভিক্টিমের কোন ইফেক্ট হয়না বরং কষ্ট বেশি হয়। এর কারন হচ্ছে রুহানি শক্তি যা উপরে আলোচনা করা হলো। মহান আল্লাহ কোরআন বলেন-
وَ قَالَ رَبُّكُمُ ادۡعُوۡنِیۡۤ اَسۡتَجِبۡ لَكُمۡ ؕ اِنَّ الَّذِیۡنَ یَسۡتَكۡبِرُوۡنَ عَنۡ عِبَادَتِیۡ سَیَدۡخُلُوۡنَ جَهَنَّمَ دٰخِرِیۡنَ
আর তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। নিশ্চয় যারা অহঙ্কার বশতঃ আমার ইবাদাত থেকে বিমুখ থাকে, তারা অচিরেই লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’
[ সুরা আল গাফির ( আল মুমিন) আয়াত -৬০]
⤵️ উম্মতে মুহাম্মদীয়ার বিশেষ সম্মানের কারণে এই আয়াতে তাদেরকে দো'আ করার আদেশ করা হয়েছে এবং তা কবুল করারও ওয়াদা করা হয়েছে। আর যারা দো'আ করে না, তাদের জন্যে শাস্তিবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। আলোচ্য আয়াতে দো'আ অর্থ যদি ইবাদতের দোআ বোঝানো হয় তবে দো'আ বর্জনকারী অবশ্যই গুনাহগার এমনকি কাফেরও হবে। আর সে হিসেবেই ইবাদত বর্জনকারীকে জাহান্নামের শাস্তিবাণী শোনানো হয়েছে। আর যদি দোআ বলে “চাওয়া’ বা “যাচ্ঞা করা” উদ্দেশ্য হয় তখন দোআ না করলে জাহান্নামের শাস্তিবাণী ঐ সময়ই শুধু হবে যখন সে অহংকারবশত: তা বর্জন করে। কেননা, অহংকারবশত: দো'আ বর্জন করা কুফরের লক্ষণ, তাই সে জাহান্নামের যোগ্য হয়ে যায়। নতুবা সাধারণ দো'আ ফরয বা ওয়াজিব নয়। দোআ না করলে গোনাহ হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আল্লাহর কাছে দোআ অপেক্ষা অধিক সম্মানিত কোন বিষয় নেই। তিরমিযি: ৩৩৭০] অন্য এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে তার প্রয়োজন প্রার্থনা করে না, আল্লাহ তার প্রতি রুষ্ট হন। [তিরমিযীঃ ৩৩৭৩]
⤵️ রুহানি শক্তি বা রুহানি তাসির যাদের বেশি তারা জ্বিন যাদুটোনা চিকিৎসা ভিক্টিমকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব। রুহানি তাসির ওলা আলেম গন অনেক কিছু জানে। ভিক্টিমকে দেখলে বুঝতে পারে তাদের সমস্যা গুলো এবং সঠিক চিকিৎসা দিতে সক্ষম। চোখ বন্ধ করলেও অনেক কিছু, অনেক ঘটনা জানতে পারে।
মনে রাখবেন,মিথ্যাবাদী,লোভী, বেনামাজি, সমস্যা সনাক্ত করতে না পারা। এই সকল লোক থেকে চিকিৎসা করে উল্ট ভিক্টিমের ক্ষতিহয় উপকার হয়না।
জাজাকাল্লাহ খাইরান