10/09/2025
আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ ﷺ❤️
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) হলেন ইসলাম ধর্মের শেষ নবী, যিনি আনুমানিক ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে সৌদি আরবের মক্কা নগরীর কুরাইশ গোত্রের বনি হাশিম বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ এবং মাতা আমিনা ছিলেন। তিনি প্রায় ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন এবং তাঁর অনুসারীদের সাথে মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন। ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
জন্ম: ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন।
পিতা-মাতা:পিতা ছিলেন আব্দুল্লাহ এবং মাতা ছিলেন আমিনা।
নবুয়ত লাভ:৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন।
হিজরত:মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য হন।
মৃত্যু:৬৩২ খ্রিস্টাব্দে মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। কিছু ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, মুহাম্মাদ সা:কে বিষ প্রদান করে হত্যা করা হয়েছিল।[৪৩২] ৬২৯ খ্রিষ্টাব্দে, খায়বারের বিজয়ের পর, খায়বারের এক ইহুদি নারী, যার নাম ছিলো জয়নব, তার নিহত আত্মীয়দের প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মুহাম্মাদ সা: কে বিষাক্ত খাসির মাংস পরিবেশন করে। মুহাম্মাদ সা: প্রথম খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই বুঝতে পারেন যে মাংসটি বিষাক্ত এবং তিনি তার সাহাবীদের সতর্ক করেন। তবে, সাহাবী বিশর ইবনে বেরা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জয়নব পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে ক্ষমা পান, তবুও মুহাম্মাদ সা: দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার কারণে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।[৪৩৩] ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে (৯ই জিলহজ), মুহাম্মাদ সা:তার বিদায়ী হজ পালন করেন। এই হজের সময়, তিনি আরাফাত পর্বতের রহমত পাহাড়ে ১০০,০০০ এরও বেশি মুসলমানের সমাবেশে বিদায়ী ভাষণ প্রদান করেন। হজ থেকে মদিনায় ফিরে আসার পর, মুহাম্মাদ সা: অসুস্থ হয়ে পড়েন। তার জীবনের শেষ মুহূর্তে তার স্ত্রী আয়িশা রা: এবং তার কন্যারা তার পাশে ছিলেন। বর্ণনা অনুসারে, তিনি মুসলিমদের উদ্দেশ্যে তার শেষ বাণীতে বলেছিলেন, "তোমাদের হাতে থাকা দাসদের প্রতি সদয় আচরণ করো, নামাজের প্রতি মনোযোগ দাও এবং নিয়মিত আদায় করো।"[৪৩৪] তিনি আয়িশার রা: কোলে মাথা রেখে শাহাদাহ পাঠ করেন। তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা শেষ বাক্যটি ছিল আল্লাহুম্মা আর-রাফিকুল আলা... (যার অর্থ "সর্বোচ্চ বন্ধুর জন্য!"[৪৩৫])। ৮ই জুন ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে মুহাম্মাদ সা: মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন।[৪৩৬] উনাকে মসজিদে নববির পাশে, আয়িশার রা:ঘরের পাশে সমাহিত করা হয়।
ধর্মীয় ভূমিকা:
তিনি ছিলেন শেষ নবী এবং কুরআনের ঘোষণাকারী, যিনি হযরত আদম আ:, হযরত নূহ আ:, ইব্রাহিম আ:, হযরত মূসা আ:, ঈসা আ:এবং অন্যান্য নবীদের একেশ্বরবাদী শিক্ষা প্রচার ও নিশ্চিত করার জন্য ঐশ্বরিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।