03/05/2026
গল্প: #রক্তচন্দনের_মোহর
লেখিকা:
পর্ব:০৩
⭕(এক রহস্যে ঘেরা জমিদার বাড়ি, রহস্যময় / রহস্য,
ক্রাইম ফিকশন, থ্রিলার,অ্যাডভেঞ্চার অতিপ্রাকৃত, সাসপেন্স,ঐতিহাসিক থ্রিলার)
[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ]
অন্ধকার রাত তখনো কাটে নাই, আসমানের কোণায় কেবল ফর্সা ভাব ফুটতে শুরু করছে। এমন সময় গফুরের বাড়ির উঠানে এক বিকট শব্দে জুলেখা বেগমের ঘুম ভাইঙা গেল। হুড়মুড় কইরা দরজা খুইলা বাইরে আসতেই জুলেখার কলিজা যেন শুকায়া পাথর হইয়া গেল। উঠানের মাঝখানে একটা চটের বস্তা পইড়া আছে, আর সেইখান থিকা চুইয়া চুইয়া কাঁচা রক্ত মাটি ভিজায়া ফেলতাছে।
কাঁপা কাঁপা হাতে জুলেখা বস্তার মুখ খুলতেই আকাশ-বাতাস কাঁপায়া এক চিৎকার দিয়া মাটিতে পইড়া গেল। ভেতরে গফুরের সেই খণ্ডিত মাথা, চোখ দুইটা যেন এখনো আতঙ্কে বড় বড় হইয়া আছে। শরীরটা আলাদা কইরা পোটলা কইরা পাশে রাখা। জমিদার বাড়ির রক্তচক্ষু যে কত ভয়ংকর হইতে পারে, গফুরের এই ছিন্নভিন্ন লাশই তার প্রমাণ।
জুলেখা বেগম বুক থাপ্পায়া বিলাপ শুরু করলেন, "ওগো পরানপাখি, তুমি আমারে কার কাছে রাইখা গেলা গো! কেন ওই রাক্ষসগো বাড়ির ফাদে পা দিতে গেলা? আমি তোমারে কত মানা করলাম, পাপিষ্ঠগো ছায়া মাড়াইও না। এহন আমাদের কী হইবো গো! আমার সোনার সংসারটা শ্মশান কইরা দিলা তুমি!"
গ্রামের মানুষজন ততক্ষণে ভিড় জমাইছে। মশাল আর লণ্ঠনের আলোয় গফুরের সেই দশা দেইখা সবার বুক শুকায়া আসছে। কেউ ভয়ে থরথর কইরা কাঁপতাছে, কেউ আবার মুখে কাপড় দিয়া বমি আটকানোর চেষ্টা করতাছে। দশ বছরের হাসান তার বাপের রক্তমাখা মাথার দিকে ফ্যালফ্যাল কইরা তাকায়া আছে। ছোট মানুষ, মরণের মানে ঠিকমতো বোঝে না, কিন্তু এইটুকু বুঝতাছে যে—তার বাপ আর কোনোদিন জঙ্গল থিকা ফিরা আইসা তারে কোলে নিবো না, তার লাইগা মেলা থিকা বাতাসা নিয়া আসবো না। হাসানের চোখের কোণ দিয়া টপটপ কইরা পানি পড়তাছে, কিন্তু তার মুখে কোনো শব্দ নাই।
ভিড়ের মধ্য থিকা নূরুল মিয়া আগায়া আইসা একটা দীর্ঘশ্বাস ফালল। হাসানের মাথায় হাত দিয়া বিড়বিড় কইরা কইল, "আহা রে! অভাগা পোলাডারে এক রাইতেই এতিম কইরা দিলি রে গফুর। তোরে কত বুঝাইলাম যে বেশি লোভ করিস না, মহেরা বাড়ির মানুষগুলা মানুষ না, ওগুলা সব জ্যান্ত শয়তান। জমিদার বাড়ির চন্দন কাঠের তলে যে মানুষের রক্ত মিশানি থাকে, সেই কথা তুই বিশ্বাস করলি না। এহন দেখ, তোর রক্ত দিয়াই সেই মাটির তৃষ্ণা মিটলো।"
পাশে দাঁড়ায়া ছিল নূরুল মিয়ার বউ রাফিয়া বেগম। স্বামীর কথা শুইনা রাফিয়া ঝাড়ি দিয়া উঠল, "আহা, এহন আর হিতোপদেশ দিয়া কী হইবো? আপনে চুপ করেন তো! জানের মায়া থাকলে মুখ সামলান। মহেরা বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে কান পাতা আছে। ওই শয়তানগো নামে একটা কথা কইলে আমাগো দশারও ঠিক থাকবো না।"
রাফিয়া আগায়া গিয়া জুলেখারে জাপটায়া ধরল, "কান্দিস না বইন, কপালরে তো আর কেউ খণ্ডাইতে পারে না। এই অভিশপ্ত মোহর আর চন্দনের নেশা এই গেরামের কত ঘর যে উজাড় করলো, তার হিশাব নাই।"
পুরো গ্রাম এক অজানা আতঙ্কে থমথমে হইয়া রইল। সবার মনে একটাই কথা ঘুরতাছে—জমিদার কায়সান ইবনাত কি তাইলে শুরু কইরা দিল সেই রক্তস্নানের খেলা।
বাইরে মানুষের শোরগোল আর জুলেখা বেগমের বুকফাটা কান্দন শুনে ঘরের ভেতরে অরুণিমা অস্থির হয়ে উঠল। তার জানটা যেন ছটফট করতাছে বাইরে কী হইছে দেখার লাইগা। আপার দশা দেখে ছোট বোন আভা ফিসফিস করে বলল, "আপা, তুমি এমন করতাছ ক্যা? আমি গিয়া দেইখা আহি বাইরে কী হইছে।"
অরুণিমা ভয় পেয়ে ধমক দিয়ে উঠল, "পাগল হইছিস আভা? বাইরে গিজগিজ করতাছে মানুষ। তুই এই মাইয়া মানুষ একা কেমনে যাবি?"
আভা জেদ ধরে বলল, "আমি মাথায় বড় একটা ঘোমটা দিয়া যামু। কেউ আমারে চিনতে পারবো না। তুমি ঘরের দরজাটা ভালো করে খিল দিয়া রাখো।"
অরুণিমার নিষেধ না মেনেই আভা পা টিপে টিপে উঠানের দিকে এগিয়ে গেল। কিন্তু ভিড়ের একটু কাছে গিয়েই তার নজর পড়ল মাঝখানে রাখা সেই বীভৎস পোটলার দিকে। গফুরের সেই আলাদা হওয়া মাথা আর রক্তমাখা নিথর দেহটা দেখেই আভার কলিজা যেন গলার কাছে চলে আসল। সে নিজেরে সামলাইতে না পেরে সজোরে এক চিৎকার দিয়ে উঠল।
মেয়ের গলার আওয়াজ শুনে রাফিয়া বেগম বাজপাখির মতো ছুটে আসলেন। আভার হাত ধরে একটা কষে থাপ্পড় লাগিয়ে দিলেন রাফিয়া। দাঁতে দাঁত চেপে ধমক দিয়ে বললেন, "তোরে না মানা করছি অরুণিমারে ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবি না? এই মরার মেলায় তুই কেন আইলি? দেখছিস তো কী অবস্থা? যা! এখনই ঘরে ঢোক!"
ভয়ে আভা তড়বড় করে দৌড়ে ঘরে গিয়ে ঢুকল। ভয়ে তার হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে গেছে, শরীর থরথর করে কাঁপতাছে। অরুণিমা তাকে জড়িয়ে ধরতেই আভা কান্নায় ভেঙে পড়ল। হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "আপা গো... চাচারে জমিদার বাড়ির লোকগুলা এক্কেবারে কুপায়া শেষ কইরা দিছে। মাথাটা আলাদা কইরা ফেলছে রে আপা! মানুষ এতো নিষ্ঠুর কেমনে হয়?"
শুনে অরুণিমার দুচোখ বেয়ে লোনা পানি গড়িয়ে পড়ল। সে বিড়বিড় করে বলল, "যেই মানুষের রক্তে এতো বিষ, সে তো এতো নিকৃষ্ট হবেই। আল্লায় কি এর বিচার করবে না?" দুই বোন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল।
ভোরের আবছা আলো ফুটতেই গ্রামের আকাশ এক ভারি নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেল। রাফিয়া বেগম চোখের পানি মুছে স্বামীর দিকে তাকিয়ে শক্ত গলায় বললেন, "ওগো শুনছো, আর কতোক্ষণ এভাবে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবা? বেলা তো বাড়ছে। যাও, গিয়া দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করো। মানুষটারে শেষবারের মতো বিদায় তো দিতে হবে।"
নূরুল মিয়া এতক্ষণ একনাগাড়ে ছোট ভাইয়ের ছিন্নভিন্ন লাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। রক্তের ভাই বলে কথা, তার বুকের ভেতরটা যেন ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছিল। গফুর হয়তো ভুল করেছিল, লোভে পড়েছিল, কিন্তু তার এই পরিণতির কথা নূরুল মিয়া স্বপ্নেও ভাবেননি। একটা লম্বা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাঁপাকাঁপা হাতে ভাইয়ের লাশের ওপর একটা সাদা চাদর টেনে দিলেন তিনি। মনে মনে বললেন, 'গফুর রে, তুই তো গেলি, কিন্তু এই আগুন এখন কার কার ঘর পোড়ায় কে জানে!'
গফুরকে দাফন দিয়ে আসার পর গ্রামের মানুষের মুখে মুখে নানা কথা। কেউ বলছে লোভের সাজা, কেউ আবার ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। কিন্তু সবার চেয়ে করুণ দশা জুলেখা বেগমের। স্বামী হারানোর শোকে মানুষটা কেমন জানি পাথর হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে অদ্ভুত সব অঙ্গভঙ্গি করছে, যা দেখে রাফিয়া বেগমের বুক কেঁপে উঠছে। জুলেখা বিড়বিড় করছে, আবার হঠাৎ করে বিকট হাসিতে ফেটে পড়ছে।
রাফিয়া বেগম তাকে সামলানোর চেষ্টা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়লেন। "বইন, শান্ত হ। আল্লাহর কাছে বিচার দে," বলতেই জুলেখা হঠাৎ বাঘিনীর মতো গর্জে উঠল। চোখের পলকে হেঁসেল ঘর থেকে একটা ধারালো দা হাতে নিয়ে সে পাগলের মতো বাড়ির বাইরে দৌড় দিল। রাফিয়া চিৎকার করে ডাকতে থাকলেন, "ও জুলেখা, যাস না! মরতে যাস না!" কিন্তু কে শোনে কার কথা? উন্মাদিনী জুলেখা তখন মহেরা জমিদার বাড়ির দিকে ছুটছে।
জমিদার বাড়ির সিংহদুয়ারের সামনে গিয়ে জুলেখা দা দিয়ে কপাটে আঘাত করতে লাগল আর চিৎকার করে বলতে থাকল, "ওরে পিশাচের দল, তোরা আমার সোনার সংসার ছারখার করলি! তোদের ধ্বংস হবেই! আমার স্বামীর রক্ত তোদের গায়ে লেগে আছে, আল্লাহ সইবে না রে জানোয়াররা! বের হয়ে আয়, তোদের আমি আজ এক কোপে শেষ করব!"
ভেতর থেকে ছোট জমিদার খালিদ ইবনাত বেরিয়ে আসলেন। জুলেখাকে দেখে ঘৃণাভরে মুখ কুঁচকে বললেন, "এই বেশ্যা এখানে কী রে? মরণ কামড় দিতে আইছস?"
জুলেখা তখন হিতাহিত জ্ঞানশূন্য। সে দাউ দাউ করে জ্বলছে। দা উঁচিয়ে খালিদ ইবনাতকে আঘাত করতে যেতেই পাশ থেকে আইশান ইবনাত তার তলোয়ার দিয়ে জুলেখার পিঠে এক সজোরে কোপ বসিয়ে দিল। একটা আর্তনাদ করারও সুযোগ পেল না জুলেখা, মুহূর্তের মধ্যে মাটির ওপর লুটিয়ে পড়ল সে। রক্তের লাল স্রোতে ভিজে গেল জমিদার বাড়ির সদর দরজার মাটি।
আইশান তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে দেওয়ানকে ডাকল, "যাও দেওয়ান, এই মাগিরে টেনে নিয়ে ওর বাড়ির সামনে ফেলে দিয়ে আস। আসছে জমিদার বাড়ির লোকের সাথে লড়াই করতে! শখ কত!"
দেওয়ান যখন জুলেখার নিথর দেহটা টেনে নিয়ে গ্রামের রাস্তার ওপর ছুড়ে মারল, তখন পুরো গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠল। রাফিয়া বেগম পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলেন, তার চোখের পানিও যেন শুকিয়ে গেছে। আভা কান্নায় ভেঙে পড়ল, আর দশ বছরের হাসান "মা গো... আই মা..." বলে চিৎকার দিয়ে মায়ের লাশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। এক রাতের ব্যবধানে একটা আস্ত ঘর ধ্বংস হয়ে গেল।
ঘরের কোণায় দাঁড়িয়ে অরুণিমা সব দেখছিল। তার মনের ভেতরে ঘৃণা আগুনের মতো দাউ দাউ করে জ্বলছে। জমিদার বাড়ির লোকেদের প্রতি তার এতোটাই বিতৃষ্ণা হলো যে, তার মনে হলো যদি তার হাতে ক্ষমতা থাকতো, তবে সে নিজ হাতে এই ইবনাত বংশের নাম নিশান মুছে ফেলত। এতোটা নিকৃষ্ট মানুষ কীভাবে হতে পারে?
বিকেলের পড়ন্ত রোদে গফুরের কবরের পাশেই জুলেখার দাফন সম্পন্ন হলো। গ্রামের মানুষের মনে এখন শুধু শোক নয়, এক গভীর আতঙ্ক জেঁকে বসেছে। কেউ আর টু শব্দ করার সাহস পাচ্ছে না। অরুণিমা ঘরে বসে ছোট হাসানকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে রাখল। হাসানের অঝোর কান্নার মাঝে অরুণিমা তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল, কিন্তু তার নিজের চোখের দৃষ্টি তখন অনেক দূরে—যেখানে মহেরা বাড়ির আভিজাত্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক একটা রক্তখেকো দানব।
সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করল, এই অন্যায়ের বদলা কোনো না কোনোভাবে নেওয়া হবেই।
মহেরা জমিদার বাড়ির বিশাল সেগুন কাঠের ডাইনিং টেবিল। রূপার থালা-বাসনে সাজানো হরেক রকমের খাবার—পোলাও, কোপ্তা, হরিণের মাংস আর ঘিয়ে ভাজা নানা পদের এলাহি কাণ্ড। রান্নাঘরে হাহাকার থাকলেও খাবার টেবিলে রাজকীয় জাঁকজমকের কোনো কমতি নেই। বড় গিন্নি আলিহা খাতুন সারা সকাল হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে এখন খাবার সাজাতে ব্যস্ত। পাশে সালেহা খাতুন তার হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে দিচ্ছে, কারো মুখে কোনো কথা নেই—বাড়ির পুরুষদের মেজাজ কখন কোন দিকে যায়, কেউ জানে না।
কায়সান ইবনাতকে ডাইনিং হলের দিকে আসতে দেখে আলিহা খাতুন এগিয়ে গেলেন। মায়াবী সুরে ডাক দিলেন, "আব্বা..."
কায়সান মায়ের দিকে তাকিয়ে ধীরস্বরে বলল, "বলুন আম্মা।"
আলিহা খাতুন ছেলের রক্তমাখা অতীতের কথা ভেবে আর নিজেকে সামলাতে পারলেন না। কায়সানের মাথায় হাত বুলিয়ে কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন, "আব্বা, আর কত? কেন এমন খুন-খারাবি করো? এসব মোটেও ভালো না রে বাপ, এসব ছেড়ে দে।" কায়সান পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল, কোনো উত্তর দিল না। আলিহা খাতুন ডুকরে কেঁদে উঠে বললেন, "আব্বা, এগুলো পাপ... এই রক্তের অভিশাপ আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে না।"
"পাপ!"—পিছন থেকে এক হুঙ্কার ভেসে এল। সাজিদ ইবনাত খাবার ঘরে ঢুকতেই আলিহা খাতুনের চুলের মুঠি ধরে এক ঝটকায় টেনে ধরলেন। রাগে গরগর করতে করতে বললেন, "কী রে মাগি! কাকে কী বুঝাস? কিসের পাপ? আমার পোলার কান ভারী করছিস তুই? আমার বিরুদ্ধেই উসকানি দিচ্ছিস?"
আলিহা খাতুন ব্যথায় কুঁকড়ে গেলেন, তার চোখ দিয়ে দরদর করে পানি ঝরছে। মায়ের এই অপমান দেখে কায়সানের চোখ দুটো হঠাৎ আগুনের গোলার মতো জ্বলে উঠল। সে এক পা এগিয়ে এসে দাঁতে দাঁত চেপে বলল, "খবরদার আব্বা! একদম হাত দেবেন না ওনার গায়ে। নয়তো যে হাত দিয়ে ওকে ধরেছেন, সেই হাত আমি শরীর থেকে আলাদা করে দেব।"
কায়সানের গলার সেই শীতল কিন্তু ভয়ংকর স্বরে সাজিদ ইবনাতের পিঠ দিয়ে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। তিনি তড়িঘড়ি করে আলিহা খাতুনের চুল ছেড়ে দিলেন। তিনি খুব ভালো করেই জানেন, তার ছেলে কায়সান যা বলে, তা করতে সে এক সেকেন্ডও সময় নেয় না। সাজিদ ইবনাত কিছুটা ভড়কে গিয়ে সরে দাঁড়ালেন। আলিহা খাতুন কাঁদতে কাঁদতে আবার রান্নাঘরের দিকে ছুটলেন—দেরি হলে আবার কী বিপদ হয় কে জানে!
কায়সান তার বাবার দিকে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে থেকে বলল, "ছাড় দিছি বলে বেশি মাথায় উঠবেন না আব্বা। নয়তো এই মাথাটাই যে ধড় থেকে আলাদা হয়ে যাবে, বুঝতেই পারবেন না।"
ঠিক সেই সময় খালিদ ইবনাত ঘরে ঢুকে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করলেন। তিনি আলতো হেসে বললেন, "আহা কায়সান, রাগে কী বলো এসব! বাড়ির বউদের একটু দাসীর মতো না রাখলে ওরা মাথায় উঠে যায়। এটা তো আমাদের বংশের নিয়ম।"
কায়সান কোনো কথা না বলে নিজের আসনে গিয়ে বসল। এর কিছুক্ষণ পর আইশান এসে কায়সানের পাশের চেয়ারে বসলো। খাওয়ার মাঝেই আইশান মোহরের গোপন কুঠুরি আর তা নিয়ে শত্রুদের চক্রান্ত নিয়ে অনেক কথা পাড়ল। আইশানের চোখে এক অদ্ভুত লালসা, কিন্তু কায়সানের সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। সে নিস্পৃহভাবে খেয়ে যাচ্ছে, যেন বাইরের জগৎ বা ঘরের ভেতরে জমা হতে থাকা এই বারুদ তাকে ছুঁতেও পারছে না।
কিন্তু আইশান মনে মনে তখন হিসাব কষছে—কায়সানের এই জেদ আর অহংকারই হবে ইবনাত বংশের পতনের মূল কারণ। আর সেই পতনের ওপরই গড়ে উঠবে আইশানের নতুন সাম্রাজ্য।
[ আশা করি লাইক কমেন্ট শেয়ার করবেন ]