30/08/2025
দ্বিধাবিভক্ত আওয়ামীলীগ নিয়ে আপনারা কখনোই আর সামনে অগ্রসর হতে পারবেন না। মুক্তিযুদ্ধের পর আওয়ামীলীগ দুইভাগে বিভক্ত হয়েছিল যার সুযোগ নিয়েছিল খন্দকার মোশতাক ও খুনী জিয়া। খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে সুবিধাবাদী আওয়ামীলীগের একটি অংশ সবসময় আমেরিকার সাথে যোগাযোগ রেখেছিলো। এরাই বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনকে ভারতের দালাল আখ্যা দিয়ে হত্যা করেছে।
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে ইহুদি মার্কিনিদের ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা কারী ৮৩ দিনের রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক ও সেনাপ্রধান বনে যাওয়া জিয়াউর রহমান ছিলেন ইহুদীদের দালাল। ১৯২৩ সালে জার্মানির এক ইহুদী পরিবারে জন্ম নেওয়া আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের বিশ্বস্ত ছিলেন খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমান। ২০২৪ সালে আরেক ইহুদী দালাল ডক্টর মুহম্মদ ইউনূস একটি জ-ঙ্গী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইহুদী জর্জ সোরসের সাথে মিলে শেখ হাসিনাকে দেশছাড়া করেছে।
রাজনৈতিক ম্যানুপুলেশনের মাধ্যমে পৃথিবীর ৮.৫ বিলিয়ন মানুষের ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করেন ইউনূসের ইহুদি বন্ধু জর্জ সোরস। এরা দুজনেই হচ্ছে বিশ্ব বাটপার।জর্জ সোরস '' ডাবল ঈগল " সোরস ফান্ড ম্যানেজমেন্ট আর ডক্টর ইউনুস গ্রামীণ ব্যাংক দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করেছেন। সোরস ওপেন সোসাইটি ( OSF) গঠন করে পৃথিবীর ১২০ টি দেশে দারিদ্র্য বিমোচন ও মানব অধিকার রক্ষার কথা বলে দ্য ক্রাইসিস অফ গ্লোবাল ক্যাপিটালিজম এর সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা ও পাকিস্তানে ইমরান খানের সরকারের পতন ঘটিয়েছেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ডেভিড ফস্টার খন্দকার মোশতাকের বিষয়ে হেনরি কিসিঞ্জারকে বার্তা পাঠালে হেনরি কিসিঞ্জার মোশতাককে আমেরিকার সবচেয়ে বড় বন্ধু বলে উল্লেখ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়েই খন্দকার মোশতাক বঙ্গবন্ধু বিরোধী অংশ নিয়ে আমেরিকার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছিলেন এবং পাকিস্তানের কারাগারেই যাতে বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দিয়ে দেওয়া হয় সেই কাজটি করেছিলেন।যে হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে '' বাস্কেট কেস '' বলেছেন সেই ইহুদি হেনরী কিসিঞ্জার হচ্ছেন মোশতাক ও জিয়ার সবচেয়ে বড় বন্ধু। আর এই ইহুদি ও ইহুদীদের দালালদের সবচেয়ে বড় শত্রু ছিলেন বঙ্গবন্ধু ও তাজউদ্দীনের আওয়ামীলীগ‼️
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর আরেক ইহুদী জর্জ সোরসের সাথে ষড়যন্ত্র করে ইউনূস বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ ছাড়া করেছেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা সেভিয়েত ও ভারত ব্লকে থাকবে নাকি আমেরিকার পক্ষ নিবে?
বঙ্গবন্ধু রাশিয়া পন্থী ছিলেন। এজন্য তিনি আলজিয়ার্স জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে ১৯৭৩ সালে বুক উঁচিয়ে সাহসের সাথে আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ❝ বিশ্ব আজ দুইভাগে বিভক্ত - শোষক এবং শোষিত; আমি শোষিতের পক্ষে।❞ তখনি বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে যায়। এজন্য কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে সেদিন বলেছিলেন, ❝আজ তুমি যে বক্তৃতা করলে জেনে রেখো আজ থেকে একটি অদৃশ্য বুলেট তোমার পিছু নিয়েছে।❞ সেই অদৃশ্য বুলেটটি ছিলো আমেরিকা।
অনেকেই বলার চেষ্টা করেন , " বঙ্গবন্ধুকে বাকশাল করার জন্য হত্যা করা হয়েছে।" এটা সম্পূর্ণ ডাহা মিথ্যা কথা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ছক বাকশাল প্রতিষ্ঠার আগে থেকেই আমেরিকা, চীন, পাকিস্তান, খন্দকার মোশতাক ও জিয়াউর রহমানরা করছিলো। এই সম্পর্কে কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করে ১৯৭৩ সালে বাকশাল প্রতিষ্ঠার এক বছর আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, ❝বিকজ, ইউ হ্যাভ লিগালাইজড দ্য ডিফিটেড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইন বাংলাদেশ। ইউ আর ফিনিশ এক্সেলেন্সি। (কেননা, আপনি বাংলাদেশে একটি পরাজিত প্রশাসনকে আইনসঙ্গত করেছেন। এক্সেলেন্সি, আপনি কিন্তু নিশ্চিহ্ন হতে যাচ্ছেন।❞
ফিদেল কাস্ত্রোর কথায় সত্য হয়েছিল। পাকিস্তান ফেরৎ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ তখন শেখ মুজিব হত্যার ছক কষছে মেজর জিয়া ও খন্দকার মোশতাককে সামনে রেখে।
আজ বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের সৌভাগ্য বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বেঁচে আছেন। ওই ইহুদীদের দালাল ইউনূস ও তার অনুসারীরা ৫ই আগষ্ট শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলো। বঙ্গবন্ধু কন্যা আজ বেঁচে থেকেও যেন মৃত। এই আওয়ামীলীগের ভেতর আহাজারী লীগ, মেশিন ম্যান লীগ ও জামায়াত শিবিরের প্রেতাত্মা এখনও ঘুরে বেড়াচ্ছে। দেশ আজ দুইভাগে বিভক্ত। মুক্তিযুদ্ধ পক্ষ শক্তির বনাম স্বাধীনতা বিরোধীদের এই লড়াইয়ে আমি নতুন প্রজন্মের একজন মুক্তিযোদ্ধা। আহাজারি লীগ, জামায়াত লীগ, মেশিন ম্যান লীগ, ৫০১ মামুনুল লীগ যারাই করবে তাদের মুখে হিসু করে দিবো। এই লড়াই দেশ রক্ষার লড়াই। এই লড়াইয়ে কেউ আমাকে সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক অথবা ভারত ও রাশিয়ার দালাল যাই বলুক তাতেই আমি খুশি। এই লড়াই দেশের জন্য আমার লড়াই। এতে আপনি আমাকে আওয়ামীলীগ মনে না করলেও আমার কোন কষ্ট নাই। দেশপ্রেমের জন্য আওয়ামীলীগ করতেই হবে এমন কোন কথা নেই। কিন্তু দেশটাকে বাঁচানোর জন্য আওয়ামীলীগ ও শেখ হাসিনার দ্বিতীয় কোন বিকল্প নাই। আমাকে এই যুদ্ধে সাহায্য করলে করবেন, নয়তো করবেন না। তবুও আমি আমার মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে এই দেশের জন্য লড়ে যাবো। এই দেশকে আহাজারি, গজাহারি , ভন্ড জামায়াত, কাঠমোল্লা ও ইহুদীদের দালাল ইউনূস মুক্ত করে ছাড়বো। এই শপথ আমার শরীরের শেষ রক্ত বিন্দু থাকা পর্যন্ত চলবে। মৃত্যুর সময়ও আমি চিৎকার করে ❝জয় বাংলা❞ বলে মরবো, তবুও কাঠমোল্লাদের কাছে কোনদিন নতি স্বীকার করবো না। মরে গেলেও নয়।
আহাজারি লীগ, জামায়াত লীগ, খন্দকার মোশতাক লীগ আইডি থেকে বের না হলে আমি নিজেই খুঁজে বের করে "কিক" করবো। এই যুদ্ধ আমেরিকার দালাল ধর্মান্ধ জঙ্গি কাঠ মোল্লাদের বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধ ইসলামের বিরুদ্ধে নয়, এই যুদ্ধ জামায়াত ও হেফাজত নামক ভন্ড মোল্লাদের বিরুদ্ধে। ইহুদীদের দালাল ইউনূস ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। এই দেশটা বাঁচাতে আমাকে সহযোগিতা করা ও না করা সেটা আপনাদের বিষয়। মৃত্যুর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আমার এই যুদ্ধ চলবে। এটাই আমাদের নতুন প্রজন্মের বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব ❝মুজিববাদ❞....
মুজিববাদ দীর্ঘজীবী হোক।
জয় বাংলা
সত্য সবসময় সুন্দর
লুসিড ড্রিম
২৮-০৮-২০২৫
(সংগ্রহীত)