15/12/2023
#মেঘ কুয়াশা ঢাকা
#লেখিকা:শাহানাজ মুন্নী
#পর্ব:২
""
"" আমরা যা চোখে দেখি সব কিন্তু সত্যি হয় না আমাদের অগোচরে অনেক কিছু
আছে যা আমরা কল্পনা ওও করতে পারি
না।
আমার মধ্যে হাজারটা কথা ভাবাচ্ছে
রিপোর্ট স্পষ্ট লেখা ছিলো আমি মা হতে পারবো না এখন শুনি আমি প্রেগনেন্ট
কিছু একটা তো আছে এইসব গোল মিল করছে,,
এসব আর ভাবতে পারছি না,,
নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছে
আজকে সকালে মনে হয়ছে আমার ভিতর থেকে প্রাণটা বের হয়ে যাবে,,,
তখর সারা রহমান সাথিকে ডাকতে
আসে রাতের খাবার খাওয়া জন্য,, তখন
দেখে সাথি কিছু ভাবছে এতটা ভাবতে মগ্ন যে সারা রহমান যে ওকে ডাকছে
সে শুনতে পাই নেই।
এই সাথি কি এতো ভাবতাছোস
রাতের খাবার খাবি না কখন থেকে
ডাকতাসি তোর কোনো হদিস নেই।
আম্মু আমি খাবার খাবো না ক্ষুদা নেই।
একটা থাপ্পড় দিবো কেন খাবি না দুপুরে সুপ খেয়েছিস তাও খেতে চাস নেই।
এখন আবার কি নাটক শুরু করছোস
তুই না খেলে নেই তোর মধ্যে তো আরেকটা প্রাণ বেড়ে ওঠছে তার জন্য তো একটু খা।
ঠিক তো আগে খাওয়া নিয়ে নইচই করছি
এখন তো আমার মধ্যে একজন আছে তার জন্য খেতে হবে,,
আচ্ছা চলো দূর ভালো লাগে না,,
ঠোঁট ফুলিয়ে নিচে চলে যাই।
সাথি এমন করায় সারা রহমান ফিক হেসে দেয়,,
পাগল মেয়ে কেউ বলবে এই মেয়ে মনে কত কষ্ট ছোটবেলায় বাবা-মা রোড এক্সিডেন্ট মারা যায়।
তারপর দাদা বাড়িতে অবহেলায় বড় হয়।
কলেজ যখন ওঠে তখন রেদোয়ান এক রমণীকে দেখে থমকে যায়।
ওই দিন সকালে মেঘ কুয়াশা ঢাকা ছিলো
চারপাশটা শীতের সময় ছিলো,,,
গ্রামে এক বন্ধু বাড়িতে সব ফ্রেন্ডরা ঘুরতে গিয়ে ছিলো,,
তখন সেই রমণীকে দেখে কিছু থমকে যাই,,
রমণীর টানা টানা বড় বড় আখিঁজুখল,,
দেখে তার প্রেমে পড়ে যায়,,
সেই রমণী আর কেউ না সাথি সুলতানা
সে তখন প্রাইভেট পড়তে সকাল বেলাতে
বের হয়ে ছিলো আকাশে ছিলো মেঘ কুয়াশা ঢাকা যা তার অনেক ভালো লাগেl
এই সময় গ্রামে ঘাসের উপর বিন্দু বিন্দু শিশির যমে থাকে,, খালি পায়ে হাটতে ভালো লাগে।
প্রাইভেট পড়ে নিজের টাকায় সে নিজের হাত খরচের জন্য কয়টা টিউশনি করে পড়াশোনাতে সে মোটামুটি বরাবর ভালো ছিলো,, আর সে ছোট বাচ্চাদের সাথে খুব তাড়াতাড়ি মিশতে পারে যার ধরণ যাদের পড়ায় তারা তো তাকে চোখে হারায়।
কলেজের শিক্ষক যার কাছে সে প্রাইভেট পড়ে তার মেয়ে অধরাকে সে আবার পড়ায় ।
ফাস্ট দেখায় সাথিকে ভালো লাগে রেদোয়ানের,, সে তার ফ্রেন্ড রাকিবকে সাথির সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে।
কারণ রাকিবদের বাসাতে তারা সবাই এসেছে তখন রাকিব বলে সাথি এই গ্রামের নাম তাদের পাশের গ্রামের।
শিমুল স্যার কাছে নাকি সাথি প্রাইভেট পড়ে।
রাকিবে বোন রাখির বেস্টফ্রেন্ড হচ্ছে সাথি তাই সে তার সম্পর্কে জানে।
সাথি সম্পর্কে সব বলে রেদোয়ানকে রাকিব।
তখনি দেখে রাখি আর সাথি একসাথে আসছে,, তারা নিয়ে জানি হাসাহাসি করছে জানি রেদোয়ান খেয়াল করে সাথি
হাসলে তার গালে টোল পড়ে।
অবশ্যই যাদের গালে টোল পড়ে তাদের দেখতে অনেক কিউট লাগে,, [যেমন আমি হি হি যাস্ট মজা করলাম আমার গালেও পড়ে তাই বললাম]
হায় এই হাসিতে পাগল হয়ে গেলাম এই মেয়ে মধ্যে এতো মায়া কই থেকে আসে
ওর দিকে তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছা করে যেন সারাদিন,,
তখন রোহান রেদোয়ানকে একটা ধাক্কা দেয়।
এই তুই কোন ভাবনায় হারিয়ে গেলি,,
তখন তারা বলে হ্যাঁ রে রেদো তুই যেদিন থেকে এখানে আসলি,, তোকে দেখে মনে হচ্ছে তুই কোনো ভাবনায় মগ্ন হুম...কি বেপার কারো প্রেমে পড়লি নাকি
বলে সবাই হাসতে থাকে।
তোরা ঠিক ধরছোনস,,
এক মায়াবতী কন্যার মায়াতে
পড়িছি আমি এক
মেঘ কুয়াশা ঢাকা দিনে
সেই থেকে সেই মেয়ে আমার
এই বুকে দহনে জায়গা দিয়ে দিয়েছি।
ওর কথা শুনে সবাই অনেক অবাক
সবাই একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে
তারা মনে হয় এমন কিছু শুনেছে
যেটা তাদের শুনার কথা না।
ওরা ফ্রেন্ড সার্কেল মোট পাঁচজন
রেদোয়ান রহমান,, রাকিব আহমেদ,,
আশরাফুল ইসলাম,, তারা ইসলাম,
সামিমা জাহান জাকিয়া। ওরা একে ওপরের প্রাণ। সবাই তখন মাস্টার্স প্রথম বছরের শিক্ষার্থী ছিলো রেদোয়ানের কখনো মেয়েদের প্রতি ইন্টারেস্ট ছিলো না।
সে বরাবর ফাস্ট বয় ছিলো প্রেম ভালোবাসা তার কাছে বিষের মতো লাগে।
এসব করা মানে সময় নষ্ট হওয়া।
সে পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক করেছে তারা সবাই এই বিষয় নিয়ে স্নাতক করেছে কিন্তু আশরাফুল প্যারানরমাল
বিষয় নিয়ে সব সময় আগ্রহ ছিলো।
তাই সে স্নাতক করার পড় প্যারানরমাল
নিয়ে পড়াশোনা করা শুরু করে,,,
_______________________________
সাথি মা ঠিক করে খাওয়া ঠিক করে করবি না হলে মেরে খাওয়াবো,,
ঠিক তাই মা ভাবি তো এখন আর খাওয়া নিয়ে
বাহানা দিতে পারবে না বলে মুচকি মুচকি হেসে যাচ্ছে।
ওর হাসি যেন আমার শরীর জ্বালানোর জন্য যথেষ্ট।
হ্যাঁ এখন যত হাসা হেসে নেও আমার ও
সময় আসবে তখন দেখবো বলে কোনো রকম করে খাওয়া শুরু করি।
সয়তান মাইয়া এখনো হাসতেসে
মনে হয় আজকে ৩২টা দাতঁ পড়ে যাবে। সয়তান একটা বলে রুমে চলে যাই।
আম্মু আজকে আমাকে কোনো কাজ করতে দিবে না।
আমি রুমে এসে শুয়ে পড়লাম কিন্তু কিছুতে ঘুম আসছে না ওই ঘটনার জন্য কিছুতে হিসাব মিলাতে পারছি না।
তখনি দেখি
মোবাইল বাজে,,
সাতপাচঁ না ভেবে মোবাইলটা নিয়ে দেখি
আমার সাহেবের ফোন,,
রিসিভ করলাম,,
আসসালামু আলাইকুম
ওয়ালাইকুম সালাম আমার মায়াবতী কেমন আছো,,
জ্বি আলহামদুলিল্লাহ ভালো তুমি কেমন আছ,,
বউ যদি এতো সুখবর দেয় আমি কি ভালো না থেকে পাড়ি।
মনটা চাইছে এখনি তোমার কাছে গিয়ে তোমাকে জড়িয়ে ধরি।
তাই নাকি কিছুটা লাজুক শুরুে বললাম।
ইসস,,,বউ এভাবে কথা বলে না
নিজেকে কন্টোল করতে কষ্ট হয় যে,,
আচ্ছা শুনো তেমার কি চাই বলো আমাকে
আমি তোমার সব ইচ্ছা পূরণ করবো আজকে যা চাইবে তাই পাব।
জানো যখন মা বললো আমি বাবা
হবো তখন যেন নিজের কান কে বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে,,
আমি বাবা হবো সত্যি বাবা হওয়ার আনন্দ যে এতো কখনো বুঝতে পারি নেই।
আজ আমি সবচেয়ে বেশি খুশি।
হ্যাঁ এখন তো আমার ভালোবাসবেন না
এখন সব ভালোবাসা আপনার সন্তানকে ভালোবাসেন হুম।
আচ্ছা আজকে ঘটনা কি আমি রেদোয়ানকে বলবো
না থাক ওও আজ অনেক খুশি আমি চাই না ও শুধু শুধু চিন্তা করে,
কাল সকালে তো আমার সব হিসাব মিলাবো।
[কপি করা নিষিদ্ধ রেসপন্স পেলে পরে পর্ব দিবো ]