05/10/2022
তরমুজের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ
তরমুজ একটি জনপ্রিয় ফল যা এক মাত্র গ্রীষ্ম কালেই পাওয়া যায়। এই ফলটি শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তরমুজ রসালো ও মিষ্টি স্বাদের হয়ে থাকে। এতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান থাকে। তরমুজের শতকরা ৯২ ভাগই পানি এবং প্রাকৃতিক ভাবেই এতে কোনো চর্বি থাকে না। সম্মানিত পাঠক আসুন এবার জেনে নেই তরমুজের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে।
প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তরমুজে রয়েছে
পানি- ৯২ থেকে ৯৫ গ্রাম
আঁশ ০.২ গ্রাম
আমিষ ০.৫ গ্রাম
চর্বি ০.২ গ্রাম
ক্যালোরি ১৫ থেকে ১৬ মি.গ্রাম
ক্যালসিয়াম রয়েছে ১০ মি.গ্রাম,
আয়রন ৭.৯ মি.গ্রাম,
কার্বহাইড্রেট ৩.৫ গ্রাম,
খনিজ পদার্থ ০.২ গ্রাম,
ফসফরাস ১২ মিলিগ্রাম
, নিয়াসিন ০.২ মিলিগ্রাম,
তাছাড়া ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি ও ভিটামিন বি২ রয়েছে,,
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট -এ ভরপুর
তরমুজ ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারটিনয়েড, ট্রিটেপেনইডিস এবং ফেনোলিক উপাদান সমৃদ্ধ ফল। এই উপাদান গুলি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে যা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তাই নিয়মিত তরমুজ খেলে শরীরের যে কোনো প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে এবং ভিবিন্ন রকমের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমে যায়।
পানি শুন্যতা দূর করে
তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায় তখন তরমুজ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। ফলে শরীর থাকে সুস্থ ও সতেজ।
চোখ ভালো রাখে
তরমুজে থাকা ক্যারোটিনয়েড(তরমুজের লাল রঙ) উপাদান আমাদের চোখের জন্য খুবই উপকারী। তাই নিয়মিত তরমুজ খেলে চোখ ভালো থাকে এবং চোখের নানান সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাছাড়া ক্যারটিনয়েড রাতকানা প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
ওজন কমাতে সহায়তা করে
তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকে এবং এতে ক্যালরির পরিমাণ খুবই কম থাকে। আর তাই তরমুজ খেলে পেট ভরে যায় কিন্তু বেশি ক্যালরী শরীরে প্রবেশ করে না। ফলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা কম থাকে। তাছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজ আমাদের শরীরের জমে থাকা চর্বি কমিয়ে ফেলতে সাহায্য করে।
তরমুজ হার্টকে সুস্থ রাখেতরমুজ ভাসডিলেশন এর মাধ্যমে রক্ত প্রবাহ উন্নত করে, এবং কার্ডিওভাসকুলার সম্পর্কিত ফাংশনসমূহ উন্নত করে। তাছাড়া তরমুজের ভিটামিন-সি, ক্যারোটিন ও পটাসিয়াম শরীরের কলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে। রক্তবাহী ধমনীকে নমনীয় ও শীতল রাখে এটি। স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখে এ ফলটি।
ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
তরমুজে লাইকোপেন নামক উপাদান আছে যা অ্যান্টি অক্সিডেন্টের হিসেবে কাজ করে। এই অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য দায়ী কোষগুলোকে নির্মূল করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে তরমুজের লাইকোপেন অন্ত্রের ক্যানসার ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
তাছাড়া তরমুজ কিডনি ও লিভার সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। এবং তরমুজে থাকা ভিটামিনি সি শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা নিরাময়ে এবং ত্বক, দাঁত এবং মাংসপেশীর সুরক্ষায় প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে। তাছাড়া লাইকোপেনসহ বিভিন্ন উপাদানে সমৃদ্ধ তরমুজ খাওয়ার অভ্যাসে বার্ধক্য দেরিতে আসে। ত্বকে সহজে ভাঁজ বা বলিরেখা পড়ে না।