04/05/2025
আজকের মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য একসময় ছিল “আরাকান” নামে পরিচিত একটি স্বাধীন ও সমৃদ্ধ রাজ্য। ১৫শ থেকে ১৮শ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে এই রাজ্যে ছিল মুসলিম-বাঙালি সংস্কৃতির দৃঢ় উপস্থিতি, যা এখন অনেকের অজানা বা ইচ্ছাকৃতভাবে চেপে রাখা হয়েছে।
প্রধান ঐতিহাসিক ঘটনা:
১. ১৪০৬ খ্রিস্টাব্দ:
আরাকানের রাজা মিন সাও মুন বার্মিজদের হাতে সিংহাসনচ্যুত হন এবং আশ্রয় নেন বঙ্গের রাজধানী গৌড়ে।
২. ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দ:
বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ তার সেনাপতি ওয়ালি খান ও সিন্ধি খান-কে পাঠিয়ে মিন সাও মুনকে আরাকানের সিংহাসনে পুনর্বহাল করেন। এই বিজয়ের পর তিনি রাজধানী ম্রাউক উ (Mrauk U) প্রতিষ্ঠা করেন—যা একসময় বাঙালি, আরব ও পারস্যের বণিক, কবি ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মিলনস্থল হয়ে ওঠে।
৩. ১৫৩১–১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দ:
এই সময়কালে আরাকান রাজা ও তার প্রশাসন এক অনন্য ধর্মীয় সহাবস্থানের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
• রাজারা ছিলেন বৌদ্ধ, কিন্তু তারা মুসলিম শাসকদের মতো “সুলতান” উপাধি গ্রহণ করতেন।
• মুদ্রা চালু হতো পারসী ও আরবি ভাষায়।
• রাজসভায় কর্মরত ছিলেন মুসলিম প্রধানমন্ত্রী, সেনাপতি, কাজী ও কবি।
• বাঙালি মুসলিম কবি দৌলত কাজী ও সৈয়দ আলাওল এই সময়ে আরাকানে বাংলা সাহিত্য রচনা করেন।
৪. ১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দ:
মোগল সেনাপতি শায়েস্তা খানের নেতৃত্বে আরাকানের হাত থেকে চট্টগ্রাম পুনরুদ্ধার করা হয়, যার ফলে বঙ্গ ও আরাকানের মধ্যে রাজনৈতিক সীমা পুনরায় নির্ধারিত হয়।
৫. ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দ:
বার্মিজ কনবাউং রাজবংশ আরাকান দখল করে। কয়েক হাজার মুসলিম ও বৌদ্ধ নির্বাসনে চলে যায়, কেউ কেউ আত্মগোপন করে টিকে থাকে। এর পরেই শুরু হয় আরাকানের মুসলিম জনগোষ্ঠীর উপর নির্যাতনের নতুন অধ্যায়।
⸻
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর শিকড় কোথায়?
এই আরাকান রাজ্যেই কয়েক শতাব্দী ধরে বসবাসকারী মুসলিম জনগোষ্ঠীর উত্তরসূরিরাই আজকের রোহিঙ্গা। তারা কখনোই “অবৈধ” ছিল না। তাদের পূর্বপুরুষরা এই অঞ্চলের রাজনীতি, সংস্কৃতি, প্রশাসন এবং অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে (Collected)