Qari sajidullah

Qari sajidullah আমার ধর্ম ইসলাম,আমার কর্ম ও ইসলাম,।

মুসলিম শাসকদের সততা, পেশা, আয়ের উৎস ও জবাবদিহিতাইসলামের ইতিহাসে অনেক ন্যায়পরায়ণ ও সৎ শাসক ছিলেন, যারা ব্যক্তিগত জীবনে অত...
07/03/2025

মুসলিম শাসকদের সততা, পেশা, আয়ের উৎস ও জবাবদিহিতা

ইসলামের ইতিহাসে অনেক ন্যায়পরায়ণ ও সৎ শাসক ছিলেন, যারা ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সংযমী ও সত্ জীবনযাপন করতেন। তারা রাজসিক জীবন ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করতেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদকে কখনো ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন না।

মুসলিম শাসকদের শাসন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল জনগণের প্রতি তাদের জবাবদিহিতা। তারা নিজেদের শাসক নয়, বরং জনগণের সেবক মনে করতেন এবং প্রতিটি কাজের জন্য আল্লাহ ও মানুষের কাছে জবাবদিহি করতেন।

হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
পেশা: বাণিজ্য (কাপড়ের ব্যবসা) আয়ের উৎস:
প্রথমে নিজের ব্যবসা করতেন, কিন্তু খলিফা হওয়ার পর সময়ের অভাবে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেননি।
উম্মাহর প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তাকে রাষ্ট্রীয় ভাতা দেওয়া হয়েছিল।
সততা ও আয়ের ব্যবস্থাপনা:
খলিফা নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সকালে বাজারে কাপড় বিক্রি করতে গেলে সাহাবিরা তাকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ভাতা গ্রহণের পরামর্শ দেন।
তিনি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় মাত্রায় সামান্য ভাতা গ্রহণ করতেন, যা তার পরিবার চালানোর জন্য যথেষ্ট ছিল।

শাসনভার গ্রহণের প্রথম ভাষণ যখন তিনি খলিফা নির্বাচিত হন, তখন বলেন: "হে লোকেরা! আমি তোমাদের শাসক নিযুক্ত হয়েছি, কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ নই। যদি আমি সঠিক পথে চলি, তবে আমাকে অনুসরণ করো। আর যদি ভুল করি, তবে আমাকে সংশোধন করো।" (তারিখ আল-তাবারি, ২/২৩৪)

সম্পদের হিসাব দেওয়া
তিনি খলিফা হওয়ার পরও নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য কাপড় বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। সাহাবিরা তাকে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে সামান্য ভাতা গ্রহণ করতে বলেন। কিন্তু মৃত্যুর আগে তিনি বলে যান, তার সম্পদ বিক্রি করে রাষ্ট্রীয় তহবিলে ভাতা হিসেবে নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে।
ইবনে সাদ বর্ণনা করেন, হজরত আবু বকর (রা.) বলেছেন: "আমি মুসলমানদের জন্য খেদমত করতে এসে আমার পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা গ্রহণ করেছি। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর আমার সম্পত্তি বিক্রি করে সে অর্থ ফেরত দিতে হবে।" (তাবাকাত ইবনে সাদ, ৩/১৩৪)

হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)
পেশা: ব্যবসা ও কৃষিকাজ আয়ের উৎস:
ব্যক্তিগত ব্যবসা ও কৃষি থেকে উপার্জন করতেন।
রাষ্ট্রীয় ভাতা গ্রহণ করতেন, তবে খুবই সামান্য।
সততা ও আয়ের ব্যবস্থাপনা:
রাষ্ট্রীয় ভাতা নেওয়ার ব্যাপারে তিনি প্রথমে আপত্তি করেন, কিন্তু সাহাবারা তার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।
তিনি এতটাই সংযমী ছিলেন যে, নিজের পরিবারের জন্যও ব্যয় সীমিত রাখতেন।
মৃত্যুর সময় ওমর (রা.) তার সম্পত্তি মুসলিম রাষ্ট্রের তহবিলে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

জনগণের সামনে কঠোর জবাবদিহিতা
একবার তিনি জুমার খুতবা দেওয়ার সময় বললেন: "হে মুসলিমগণ! শোনো এবং অনুসরণ করো!" তখন এক ব্যক্তি বললেন: "আমরা আপনাকে অনুসরণ করব না, যতক্ষণ না আপনি ব্যাখ্যা করেন যে, আপনার পরিধেয় কাপড়ের অতিরিক্ত অংশ কোথা থেকে এসেছে।" উমর (রা.) তখন তার ছেলে আবদুল্লাহকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, "আমি আমার অংশ থেকে বাবাকে কাপড় দিয়েছি।" এরপর লোকটি বলল, "এখন আমরা অনুসরণ করব।" (সুনান বাইহাকি, ১৬৬০৪)

নিজের ভুল স্বীকার করা
একবার তিনি মেহর (বিয়েতে দেওয়া অর্থ) নির্দিষ্ট পরিমাণে নির্ধারণ করতে চাইলে এক বৃদ্ধা বললেন: "কুরআনে তো আল্লাহ বলেন, স্ত্রীকে অনেক পরিমাণ মেহর দেওয়া যাবে!" উমর (রা.) তখন সঙ্গে সঙ্গে বলেন: "আমি ভুল করেছি, একজন নারী উমরকে শিক্ষা দিলেন!" (সুনান দারাকুতনি, ৪/১৮১)

হযরত উসমান ইবন আফফান (রা.)
পেশা: বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আয়ের উৎস:
ব্যবসা, বিশেষ করে বাণিজ্যিক খেজুর বাগান ও পানির কূপ।
রাষ্ট্রীয় কোনো ভাতা গ্রহণ করতেন না।
সততা ও আয়ের ব্যবস্থাপনা:
খলিফা থাকাকালীনও নিজের ব্যবসা চালিয়ে গেছেন।
দানশীলতার জন্য তিনি বিখ্যাত ছিলেন।
রোমার কূপ ক্রয় করে তা মুসলিমদের জন্য দান করেছিলেন।
তার জীবদ্দশায় দান করা সম্পদের কারণে ইসলামি অর্থনীতিতে তার বিরাট অবদান ছিল।

সম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়ে জবাবদিহিতা
তার শাসনামলে কিছু লোক অভিযোগ করল যে, তিনি আত্মীয়দের প্রশাসনে বেশি সুযোগ দিচ্ছেন।
তিনি জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: "তোমরা সাক্ষী থেকো, আমি রাষ্ট্রীয় সম্পদ থেকে কিছুই ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করিনি। বরং আমি আমার ব্যক্তিগত সম্পদ মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে ব্যয় করছি।" (তারিখ আল-তাবারি, ৪/৩৪৫)

পিপাসার্ত মানুষদের জন্য রুমার কূপ ক্রয় করা
যখন মদিনায় পানির সংকট দেখা দেয়, তখন তিনি নিজের সম্পদ দিয়ে ইহুদিদের কাছ থেকে একটি কূপ কিনে মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করে দেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি রুমার কূপ কিনবে এবং মুসলমানদের জন্য দান করবে, আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন।" (তিরমিজি, ৩৬৯৫)

হজরত আলী ইবন আবি তালিব (রা.)
পেশা: কৃষিকাজ, খেজুর বাগান, কূপ খনন আয়ের উৎস:
কৃষিকাজ ও খেজুর বাগান থেকে আয় করতেন।
ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে জীবন চালাতেন, রাষ্ট্রীয় তহবিল গ্রহণ করতেন না।
সততা ও আয়ের ব্যবস্থাপনা:
তিনি বিভিন্ন কূপ খনন করে মুসলিমদের জন্য ওয়াকফ করেছেন।
অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং নিজের হাতের উপার্জনে চলতেন।
তার সময়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ব্যাপারে খুবই কঠোর ছিলেন এবং নিজের জন্য কোনো সুবিধা নিতেন না।

ইবনে কাসির বর্ণনা করেন: "হজরত আলী (রা.) বলেন, 'আমি আমার হাতের কামাই ছাড়া কখনো কোনো সম্পদ গ্রহণ করিনি।'" (আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ৮/৩৪০)

সাধারণ জীবনযাপন ও ব্যক্তিগত জবাবদিহিতা
তিনি খলিফা হয়েও সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন এবং ব্যক্তিগত ব্যয় রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে গ্রহণ করতেন না।
একবার এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করল, "আপনার খাবার এত সাধারণ কেন?" তিনি বললেন: "আমি চাই, যেন দরিদ্রদের অবস্থা বুঝতে পারি এবং আমার অন্তর নম্র থাকে।" (নাহজুল বালাগাহ, চিঠি ৪৫)

বিচারকের সামনে হাজির হওয়া
একবার এক ইহুদি ব্যক্তি দাবি করল যে, হজরত আলীর (রা.) হাতে থাকা একটি বর্ম তার।
বিচারক উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আলী (রা.)-কে বললেন, "আপনার কোনো সাক্ষী আছে?"
আলী (রা.) তার ছেলেকে সাক্ষী আনতে চাইলে বিচারক বললেন, "সন্তান বাবার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে পারে না।"
আলী (রা.) এ রায় মেনে নেন এবং বর্ম ইহুদিকে দিয়ে দেন।
এতে ইহুদি এতটাই প্রভাবিত হন যে, তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। (আল-মাদায়িনি, আকবার আল-কাজা, পৃ. ১২০)

উমর ইবন আবদুল আজিজ (রহ.) (৭১৭-৭২০ খ্রিষ্টাব্দ) – ইসলামের পঞ্চম খলিফা
সততা ও জীবনযাত্রা:
তিনি খেলাফত গ্রহণের পর রাজকীয় সব সম্পদ ফিরিয়ে দেন এবং সাধারণ জীবনযাপন শুরু করেন।
রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত মোমবাতি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতেন না।
তার স্ত্রীর গহনা রাষ্ট্রীয় তহবিলে জমা দিতে বলেন, কারণ সেগুলো সরকারি সম্পদ থেকে কেনা হয়েছিল।
জনগণের কল্যাণে ব্যাপক সংস্কার করেন এবং তার শাসনামলে দারিদ্র্য প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়

একবার কেউ রাতে ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে গেলে তিনি রাষ্ট্রীয় মোমবাতি নিভিয়ে ব্যক্তিগত মোমবাতি জ্বালান, কারণ সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা অনুচিত।
হাদিসের সাথে সামঞ্জস্য:
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সবার উত্তম শাসক সেই, যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করে।" (সহিহ মুসলিম, ৪৫৭৬)

সালাহউদ্দিন আইউবী (১১৩৭-১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দ) – জেরুজালেম বিজেতা
সততা ও জীবনযাত্রা:
তিনি ব্যক্তিগত জীবন অত্যন্ত সাধারণ রাখতেন, বিলাসিতা পরিহার করতেন।
তিনি তার সম্পদ দরিদ্র ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যয় করতেন।
মৃত্যুর পর তার দাফনের জন্য ব্যক্তিগত সম্পদে কিছুই ছিল না, যা ছিল সব দান করা।

তিনি কখনো বিলাসবহুল পোশাক পরতেন না, বরং সাধারণ উলুন কাপড় পরিধান করতেন।
তিনি জেরুজালেম দখল করার পর শত্রুদের ওপর প্রতিশোধ নেননি, বরং ক্ষমার নজির স্থাপন করেন।

নাসিরুদ্দিন মাহমুদ (১২০৬-১২২৭ খ্রিষ্টাব্দ) – দিল্লির সুলতান
সততা ও জীবনযাত্রা:
তিনি সুলতান হওয়া সত্ত্বেও নিজের খরচের জন্য কুরআন লেখা ও টুপি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তিগত ব্যয় গ্রহণ করতেন না।

একবার তার স্ত্রী রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে কিছু অর্থ চাইলে তিনি বলেন: "এটি জনগণের আমানত, আমি ব্যক্তিগত কাজে এটি ব্যবহার করতে পারি না।"

আলী বিন মারওয়ান (১০৬০-১১০৬ খ্রিষ্টাব্দ) – আন্দালুসের শাসক
সততা ও জীবনযাত্রা:
তিনি জনগণের কল্যাণে রাজকোষ ব্যবহার করতেন কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে দরিদ্রদের মতো জীবন যাপন করতেন।
নিজের খরচের জন্য কৃষিকাজ করতেন।

তিনি তার সাম্রাজ্যের জন্য সুন্দর প্রাসাদ তৈরি করেছিলেন কিন্তু নিজে সাধারণ কুঁড়েঘরে বাস করতেন।

মুসলিম শাসকরা সততা, ন্যায়পরায়ণতা ও সংযমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তারা ব্যক্তি ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেছেন এবং সাধারণ মানুষের মতো জীবন যাপন করেছেন। তাদের জীবনী আজও মুসলিম শাসকদের জন্য আদর্শ হয়ে রয়েছে।

23/01/2024

Address

Chittagong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Qari sajidullah posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Qari sajidullah:

Share

Category