04/06/2025
রাসুল (ﷺ) বলেন—
"আরাফার দিনের চেয়ে এতো বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া আর কোনো দিনে হয় না।"
(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪৮)
আসুন জেনে নেওয়া যাক এই বিশেষ দিনের কিছু বিশেষ আমলসমূহঃ
১. আরাফার রোজা রাখাঃ
যেহেতু এই রোজা নির্দিষ্ট দিনে পালনের ব্যাপারে কিছু ইখতিলাফ আছে সেক্ষেত্রে বুধ ও বৃহস্পতিবার (৮ ও ৯)ই জিলহজ্জ্ব উভয় দিনই রোজা পালন করা সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত।
রাসূল ﷺ বলেন:
“আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি আরাফার রোজার বিনিময়ে আগের বছরের এবং পরবর্তী বছরের গুনাহ মাফ করে দিবেন।”
(সহিহ মুসলিম: ১১৬২)
২. বেশি বেশি তাসবীহ-তাহমিদ-তাকবীর বলাঃ
সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।
এদিনে এই জিকিরগুলো স্বয়ং রাসূল ﷺ ও সাহাবীরা বেশি বেশি পড়তেন।
৩. আয়াতুল কুরসি তিনবার পাঠ করাঃ
এই আয়াত পড়া শয়তানের প্রবেশ ঠেকায়, হিফাজতের ঢাল তৈরি করে। আরাফার দিনে এটা তিনবার পড়া মানে সারা বছরের নিরাপত্তা চেয়ে নেওয়া।
৪. আল্লাহর ৯৯টি নাম একবার করে পাঠ করাঃ
এই নামগুলো কেবল শব্দ নয়, প্রতিটা নামে আল্লাহর একেকটি গুণ।
রাসূল ﷺ বলেন:
“আল্লাহর ৯৯টি নাম আছে... যে কেউ সেগুলো মুখস্থ রাখে (বা পড়ার প্রতি যত্নবান হয়), সে জান্নাতে যাবে।”
(সহিহ বুখারী: ২৭৩৬)
৫. অন্তত একটি সহীহ হাদীস পড়াঃ
হাদীস পড়া মানে সরাসরি রাসূল ﷺ এর কথা জানা। এই দিন তার অন্তত একটি কথা নিজের জীবনে ধারণ করাও এক দারুণ আমল।
৬. সূরা বাক্বারার শেষ দুই আয়াত পাঠঃ
এই দুটো আয়াত এমন এক ঢাল, যা রাতে পড়লে শয়তান থেকে নিরাপদ থাকা যায়।
৭. কুরআনের যেকোনো সূরা তিলাওয়াত করাঃ
আল্লাহর কালাম পাঠ করার চেয়ে শান্তিময় কিছু নেই। এদিনের তিলাওয়াত যেন হয় চোখের পানি ঝরানোর কারণ। যেমন: সূরা কাহাফ, সূরা ইয়াসিন ইত্যাদি।
৮. সামান্য হলেও সদকাহ করাঃ
এই দিনটিতে ছোট্ট সদকাও পাহাড়সম প্রতিদান দিতে পারে। হোক সেটা একটি মাত্র খেজুর সদকাহ।
৯. বেশি বেশি দরুদ ও ইস্তিগফার পাঠ
এই দিন, এই মুহূর্তগুলো আর ফিরে আসবে না। তাই যতটা সম্ভব বেশি বেশি ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ও রাসুল (সাঃ) এর উপর দরুদ পড়া উচিত।
১০. দু'আ ও জিকির করাঃ
এই সময়ে করা দোআ কবুল হয়— বিশেষত সূর্য ঢলার পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত। তাই এসময়ে জিকির ও দুয়াই নিমগ্ন থাকা উচিত।
“لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ”
এই জিকিরটি রাসূল ﷺ নিজে আরাফার ময়দানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে পড়েছেন। এটাই সবচেয়ে পছন্দনীয় দোআ।
এই দিনটি সেই মাহেন্দ্রক্ষণের প্রতীক, যখন আরাফার ময়দানে হাজিগণ দাঁড়িয়ে থাকেন আল্লাহর দরবারে, চোখে পানি আর অন্তরে তাওবার আগুন নিয়ে। তাই যারা যেতে পারেননি, তারা অন্তর দিয়ে এই দিনকে উপলব্ধি করলেই আল্লাহর রহমত পেতে পারেন।
ইন শা আল্লাহ, এই আমলগুলো করে আমরা আরাফার দিনের সেরা মুহূর্তগুলোকে হৃদয়ে গেঁথে নিতে পারি। সদকায়ে জারিয়াহর নিয়্যাতে পোস্টটি শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন সর্বত্র।