25/07/2025
অন্নেক অসাধারণ, খুব সুন্দর আর পুরস্কারে ভরা আনন্দের একটা হাদীস দিই? আমল করবে? বিশ্বাস করো, হাদীসটা পড়ে জাস্ট মাথা নষ্ট হয়ে যাবে তোমার। ইচ্ছা করবে মা-বাবা-ভাই-বোন, ফ্রেন্ডস এন্ড ফ্যামিলির সব্বাইকে জানিয়ে দিই। হাদীসটা পড়ার পরে যদি হৃদয়ে একটুও অনুভব করতে পারো, তাহলে আল্লাহর দয়া, স্নেহ, মমতা অনুভব করে আরও বেশি ভালোবেসে ফেলবে উনাকে। ইচ্ছা হবে কিভাবে উনাকে আরও বেশি খুশি করা যায়, আরও বেশি বেশি ইবাদাত করে নিজেকে পবিত্র করা যায়, কত বেশি আখিরাতের মুদ্রা জমানো যায়, আখিরাতে ধনী হওয়া যায়।
চলো, গুনে গুনে প্রতিটা স্টেপ ফলো করে আমলগুলো করবই করব, এই দৃঢ় নিয়ত নিয়ে 'বিসমিল্লাহ' বলে হাদীসটা মন দিয়ে পড়ি। আউস ইবনু আউস সাকাফি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমি রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি:
> "জুমুআর দিন যে গোসল করল, ভালো করে;
> অতঃপর আগেভাগে মাসজিদে গেল;
> হেঁটে চলল, বাহনে চড়ল না;
> ইমামের নিকটবর্তী হলো;
> অনর্থক কর্মে লিপ্ত না হয়ে মনোযোগসহ শ্রবণ করল;
তার প্রত্যেক কদমে লেখা হবে এক বছরের আমল তথা এক বছরের সিয়াম ও কিয়ামের (সারা রাত তাহাজ্জুদ) সওয়াব।” (তিরমিযি: ৪৯৬; আবু দাউদ: ৩৪৫; সহীহ আল-জামি: ৬৪০৫)
অসাধারণ না? স্টেপগুলো যেন মনে থাকে, লিখে নাও, বা নোট করতে পারো, আলাদাভাবে মনোযোগ দিয়ে হৃদয়ে গেঁথে নিতে পারো, সেজন্য আলাদা আলাদা লাইনে ভেঙে লিখেছি-
"হাজার হাজার বছরের ইবাদতের সওয়াব মাত্র কয়েক মিনিটে" নামক শাইখ আহমাদুল্লাহর এক ইউটিউব লেকচারের বর্ণনা অংশে জুমুআর আদব রক্ষা সংক্রান্ত নিচের (একটু পরিমার্জিত) গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলোও পাবে, যেগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জেনে নিয়ে রক্ষা করলে... আর কথা না বাড়িয়ে, চলো পড়ে দেখি বর্ণনাটা:
"যে ব্যক্তি (ওপরে বর্ণিত হাদীসের) এসব আদব রক্ষা করবে, তার প্রতি কদম এক রাত অথবা এক সপ্তাহ অথবা এক মাস কিয়ামের সমান নয়, বরং পূর্ণ এ বছর কিয়াম করার সমান এবং পূর্ণ এক বছর সিয়াম পালনের (রোজা) সমান হবে।
শর্ত কিন্তু মাত্র কয়েকটা দেওয়া হয়েছে:
১) জুমুআর দিন গোসল করা,
২) আগে আগে ও পায়ে হেঁটে মাসজিদে যাওয়া,
৩) ইমামের নিকটবর্তী বসা,
৪) শেষের কাতারে পিছিয়ে না পড়া অর্থাৎ ইমামের যত নিকটে বসা যায়,
৫) মনোযোগসহ খুতবা শ্রবণ করা এবং বেহুদা ও অনর্থক কর্মকাণ্ড ত্যাগ করার মধ্যে এসব আদব সীমাবদ্ধ, যা খুব সহজ ও খুবই সামান্য।
জেনে রাখা উচিত যে, খুতবার সময় অহেতুক নড়াচড়া করা অনর্থক কর্মের অন্তর্ভুক্ত কিংবা পরে এসে মানুষের ঘাড় ডিঙিয়ে সামনের দিকে যাওয়াও অনর্থক কর্মের অন্তর্ভুক্ত। যে অনর্থক কর্ম করল তার জুমুআ নেই। (কী ভয়ংকর!) খুতবায় এত বেশি মনোযোগী হতে হবে যে, কেউ কথা বললেও ইশারায় চুপ করাতে হবে, মুখে কোনো কথা বলা যাবে না। যে বলল, 'চুপ থাকো', সে অনর্থক কর্ম করল। অর্থাৎ যে তার পাশের সাথি অথবা নিজের সন্তানকে বলল 'চুপ থাকো', সে বেহুদা কাজ করল। খুতবার সময় যে তাসবিহ অথবা মোবাইল অথবা কোনো জিনিস দ্বারা খেলল, সেও অনর্থক কর্ম করল।
একই সাথে মনে রাখি, মাসজিদে ঢুকার পর ২ রাকাত তাহিয়াতুল মাসজিদের সালাত আদায় করেই বসতে হবে। সুতরাং জুমুআর আদবসমূহে শিথিলতা করা একদমই ঠিক নয়, অন্যথায় আমরা এমনসব বিরাট সওয়াব থেকে বঞ্চিত হব, পরকালে যা আমাদের নেকির পাল্লা ভারী করবে ও অনেক অনেক বছরের সওয়াব প্রদান করবে। যদি কোনো ব্যক্তি এই শর্তগুলো পূরণ করে তবে সে যদি বাড়ি থেকে ১০০০ পা ফেলে মাসজিদে যায়, তবে তার জন্য ১০০০ বছর একটানা সারা রাত তাহাজ্জুদ নামাজের সওয়াব এবং ১০০০ বছর একটানা সিয়াম পালনের সওয়াব দেওয়া হবে (সুবহানাল্লাহ); এবং কদম যত বাড়তে থাকবে সওয়াবও এই একই অনুপাতে বাড়তে থাকবে।"
পড়লা তো! এখন থেকে জুমুআবার এলে তোমার-আমার খুশি আর ঠেকায় কে? এই জুমুআ থেকে তুমি-আমি একদম সবার আগে মাসজিদে গিয়ে প্রথম কাতার টার্গেট করব। ইন শা আল্লাহ। সাথে নূরে নূরে আলোকিত হওয়ার জন্য সূরা কাহাফের আমল (অন্তত ১০ আয়াত হলেও) আর বেশি বেশি দুরুদ তো আছেই।
- (উল্লিখিত অংশটি ‘তোমাকেই বলছি’ বই থেকে নেওয়া।)