10/10/2025
কঠিন চীবর দান কঠিন কেন ?
ভদন্ত এম. প্রজ্ঞারত্ন ভিক্ষু
আমরা সবাই বলে থাকি কঠিন চীবর দান করব। আসলে আদৌ আমরা কখনো কি চিন্তা করে দেখি, কঠিন বলা হয় কেন? সারা বছর যে কোন সময় আমরা চীবর দান করে থাকি। তাহলে চীবর দান এবং কঠিন চীবর দানের মধ্যে পার্থক্য কি?
এবার জানব চীবরকে কঠিন বলা হয় কেন? চীবরের আগে কঠিন শব্দটি যুক্ত হলো কেন?
ভগবান বুদ্ধ প্রমুখ সাধু ব্যক্তিগণ উত্তম-উত্তম বলে প্রশংসা করেন, তাই কঠিন বলা হয়েছে। কঠিন চীবর দান কর্মকে সাধু সজ্জন, জ্ঞানী পন্ডিত ব্যক্তিগণ উত্তম বলে প্রশংসা করেন তাই এই দান কর্মকে কঠিন চীবর দান বলা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন প্রশংসা করে কেন?
কঠিন চীবর দানকে তিনটি কারণে প্রশংসা করা হয়েছে।
১) কঠিন চীবর দান ---- সংঘদান হয় বলে,
২) কঠিন চীবর দান ---- বিশেষ সংঘদান হয় বলে,
৩) কঠিন চীবর দান ---- ভিক্ষুসংঘের পাঁচটি আপত্তি দূর করতে সক্ষম বলে।
কেন সংঘদান? ঃ
আমরা যখন কঠিন চীবর দান করি, তখন বলি -------
ভন্তে আমরা সংসারের সকল প্রকার বট্ট-দুঃখ মোচনের জন্য, পরমসুখ নির্বাণ দর্শন লাভের জন্য অত্র কঠিন চীবর ভিক্ষু সংঘকে দান করছি, পূজা করছি। কাকে দান করছি? ভিক্ষু সংঘকে। ভিক্ষু সংঘ বললে আমাদের ভগবান বুদ্ধসহ অতীত অতীত যতো ভগবান বুদ্ধ উৎপন্ন হয়েছিলেন আগামীতে যতো বুদ্ধ উৎপন্ন হবেন এবং অতীত, বর্তমান, অনাগত সকল ভগবান বুদ্ধকে ও তাঁদের সংঘকে উদ্দেশ্য করে দান দেওয়া হয়। তাই এই দান এতো বি¯তৃত, এতো বিশাল। তাই এ দানকে সাধু ব্যক্তিগণ প্রশংসা করেন বলেই এই দানটি কঠিন। কঠিন অর্থ স্থায়ী, গভীর, পাকাপোক্ত, পরম। যে পুণ্যের ক্ষয় নেই, যে পুণ্যের নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। ইহা একটি মহাসংঘ দান।
এই দান পুগগলিক দান নহে। তাই কঠিনচীবর দান সবার কর্তৃক প্রশংসিত। ভগবান বুদ্ধ সাংঘিক দানকে প্রশংসা করে বলেছেন ----- যিনি ভিক্ষু সংঘকে উদ্দেশ্য করে দান করেন, উক্ত দাতাগণ উত্তমভাবে দান করেছেন, উত্তমভাবে পূজা করেছেন বলা হয়। সংঘের নিকট প্রতিষ্ঠিত উক্ত দানকে মহাফল দায়ক মর্মে লোকবিদূ ভগবান সম্যক সম্বুদ্ধগণ প্রশংসা করেছেন। সংঘকে দান করা শ্রেষ্ঠ দান হয়, প্রকৃত দান হয়।
বিশেষ সাংঘিক দান ঃ
শুধু সাংঘিক নয়, বিশেষ শব্দটি যুক্ত হয়েছে। কেন বিশেষ সাংঘিক দান বলা হয়েছে?
১) ইহা একটি বিশেষ কালে দান (কাল)
২) কঠিন চীবর গ্রহণে উপযুক্ত ভিক্ষুকে দান দিতে হয় (পাত্র)
বিশেষ কাল-দান ঃ
কঠিন চীবর সারা বছর দান করা যায় না। বছরে মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে এই দান