26/09/2026
হরিদাস ঠাকুরের জীবনী ও অলৌকিক লীলামৃত সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো:
★★★শ্রীল হরিদাস ঠাকুর:
মহামন্ত্রের নামাচার্য শ্রীল হরিদাস ঠাকুর বাংলাদেশের ঝিনাইদহ/সাতক্ষীরা অঞ্চলে এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও জন্মাবধি তিনি শ্রীকৃষ্ণের নামকীর্তনে পরম অনুরাগী ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি গঙ্গার তীরে ফুলিয়ায় গিয়ে অদ্বৈত আচার্যের সঙ্গ লাভ করেন এবং দুজনে কৃষ্ণের ভাবরসে ভেসে যান।
তাঁর কৃষ্ণনামে অগাধ নিষ্ঠা দেখে এক ঈর্ষান্বিত কাজী ও স্থানীয় শাসক তাঁকে চরম শাস্তি হিসেবে ২২টি বাজারে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার নির্দেশ দেন। আঘাতের তীব্রতার মধ্যেও তিনি মুখে অবিরাম "কৃষ্ণ কৃষ্ণ" জপ করতে থাকেন। ঈশ্বরের অনুধ্যানে মগ্ন থাকায় তাঁর গায়ে আঘাতের কোনো প্রভাবই পড়েনি। শাসক ও কাজীরা তাঁকে মৃত ভেবে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলে তিনি অলৌকিকভাবে ভেসে ফুলিয়া ঘাটে উঠে আবার উচ্চস্বরে হরিণাম গান করতে থাকেন। এই মহানুভবতা দেখে অপরাধী শাসকরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
পরবর্তীকালে, এক বিষাক্ত সাপ তাঁর বাসস্থান ছেড়ে চলে যায় তাঁর এক আদেশে, যা দেখে ভক্তরা অবাক হয়ে যান। আবার, উচ্চস্বরে হরিণামের মহিমা নিয়ে কটূক্তি করা এক অহংকারী ব্রাহ্মণ বৈষ্ণব অপরাধের কারণে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হন।
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু হরিদাস ঠাকুরকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। মহাপ্রভু প্রকাশ করেছিলেন যে, হরিদাসকে যখন পেটানো হচ্ছিল, তখন তিনি নিজে সেই আঘাত নিজের পিঠে সহ্য করেছিলেন—যার দাগ মহাপ্রভুর শ্রীঅঙ্গে রয়ে গিয়েছিল। জীবনের শেষভাগে তিনি পুরীতে অবস্থান করেন এবং শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর উপস্থিতিতেই নামসংকীর্তন করতে করতে অপ্রকট হন। মহাপ্রভু তাঁকে 'নামাচার্য' উপাধিতে ভূষিত করেন।