13/04/2024
Copy post Harunur Rashid
"ধর্মপুর নাজিম আলী উচ্চ বিদ্যালয়"
আমার বিদ্যালয়, আমাদের বিদ্যালয়। আমাদের গ্রামের মুরব্বি জনাব হাজী আনু মিয়া, জনাব হাজী লাল মিয়া সাহেবের জমি,আরও অনেকের শ্রম ও সময় দিয়ে করা বিদ্যালয়।
নামটা শুনলেই অনেক স্মৃতি চলে আসে সামনে। খেলার মাঠে ফয়সাল ভাই, কে কে নগরের শরিফ ভাই আরিফ ভাইয়ের ব্যাটিং, ফাহাদ ভাইয়ের বোলিংয়ের স্মৃতি সুখের স্মৃতি। তার সাথে বর্তমানের বাজে পরিস্থিতি। একটা সময় ছিল যখন কম্পিটিশন টা ছিল কিভাবে উপজেলায় এসএসসি /জেএসসির রেজাল্টে প্রথম হওয়া যায়। আর এখন হলো কিভাবে ছেলে মেয়েদের পড়ালেখা বাদ দিয়ে অন্যান্য বিষয়ে বিষয়ে প্রথম হওয়া যায়। প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি কথাগুলো অনেক কষ্ট লাগা থেকে বলা। সম্পূর্ণ আত্ন-উপলব্ধি। ২০১১-১২ তখন ভিক্টোরিয়ায় পড়ার জন্য শহরে আসা এরপর থেকে গ্রামে খুব কমই যাওয়া হয়। হঠাৎ একদিন বিকেলে দেখলাম আমাদের মাঠ মানে ধর্মপুরের মাঠ আমাদের সবাই গ্রামের ছেলেরা মাঠের বাইরে অন্য গ্রামের ছেলেরা খেলাধুলা করছে। গ্রামেই বড় হয়েছি আশেপাশের শ্রীপুর, ভাটবাড়ি স্কুল মাঠ এরকম অনেক স্কুল মাঠেই যাওয়া হয়েছে কিন্তুু কখনো শুনিনি শ্রীপুর/ভাটবাড়ির স্কুল মাঠ অন্য গ্রামের কেউ খেলাধুলা করছে??,,,I hope আপনারাও শোনেন নি। এর চেয়েও দুঃখজনক অন্য গ্রামের উনারা গর্ব করে বলতো আমাদের হেডাম (সাহস) আছে তাই অন্য গ্রামে এসে খেলে যাই। এটা তাদের দোষ না কথাটা যেমনই হোক এটাই সত্যি। যদিও আমাদের গ্রামের মানুষ এটাকে বাধা না দেওয়ার বিষয়টাকে আমি ভীরুতা না বলে ভদ্রতা বলা পছন্দ করি। আশে পাশের বাকি গ্রামের সবাই এটাই জানে। ছিনিয়ে নেওয়া আর অর্জন করা কখনো এক না এটা কমবেশি আমরা সবাই বুঝি। যিনি এটা করলেন উনাকে আমাদের গ্রামের সবাই সম্মান করি তাই উনাকে নিয়ে কিছু বলছি না। কারণ খুজতে গিয়ে যেগুলো জানা গেলো
১. তাহাদের খেলতে না দিলে তারা নতুন একটা স্কুল খুলবে তাহলে এই স্কুলের শিক্ষার্থী কমে যাবে। এখন আমার কথা হলো যাদের নিজেদের একটা বিদ্যালয় করার ক্ষমতা আছে তাদের নিশ্চয় নিজেদের ছেলে মেয়েদের জন্য একটা খেলার মাঠও ব্যবস্থা করতে পারার কথা,,,তাই নয় কি??? যেটা হবে অর্জিত মানে গর্ব করার মত।
২. আরেকটা threat ছিলো ঐ গ্রামের ১৮ বছর বয়সী মানুষ বেশি। তাদের অখুশি করা যবে না। বাকিটা বুঝে নিবেন। আমার কথা হলো তাই বলে কি আমরা আমাদের নায্য হক থেকে বঞ্চিত হবো?
তারপরেও আমাদের গ্রামের কেউ এটা নিয়ে কোন কথা বলে নি। আজকে ১২ বছর। yes 12 years। ১ যুগ এভাবেই চলছিল। আমরা মেনে নিয়েছি কারণ আমরা শান্তি চায়। আশে পাশের প্রতিবেশী গ্রামের সাথে ঝগড়া বিবাদ চাইনি। স্কুলের নাম/স্থান আমাদের গ্রামের নামে হওয়ায় সবাই বলবে এটা ধর্মপুর স্কুল । এটাই খুশির বিষয়।
কিন্তুু এবার ঈদে গ্রামে এসে দেখলাম বিদ্যালয়ে সুন্দর গেইট হয়েছে এবং তাতে তালা দেওয়া?তালা?? কারণ কি? আমরা তো বছরের পর বছর ধরে সব মেনে নিচ্ছি তাহলে এমন হবে কেন? এবার কারণ জানলাম বিদ্যালয়ে মাদক সেবনকারীদের আড্ডা হয় রাতে তাই সব সময় এর জন্য তালা দেওয়া হয়েছে। Seriously এটাই, এখন আমার কথা হলো যারা মাদকসেবী তারা কি যেখানে মানুষ চলাচল বেশি সেস্থান নাকি জনমানবহীন নিরিবিলি জায়গা বেছে নেয় মাদক সেবনের জন্য? এছাড়া তাদের জন্য গেইট টপকানো কি আদৌ খুবই কঠিন?বিদ্যালেয়ে কি কোন নাইট গার্ড নেই? আর মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য আমাদের বর্তমান চেয়ারম্যান সাহেবই more then enough. আমি জানি উনি খুবই চৌকস ও দক্ষ একজন জনপ্রতিনিধি।
সব বাদ দিলাম উনাদের মাথায় কি এটাও ছিল না যে আমাদের গ্রামের একটি অংশের মানুষদের মসজিদে আসা যাওয়া বা যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই মাঠ। এটা কি গ্রামের একটা অংশকে গ্রাম থেকে অনেকটা আলাদা করে দেওয়া নয়?
এখন হয়তো বলবেন এইগুলো বিদ্যালয় কমিটির সিদ্ধান্ত। আশা করি কমিটির সম্মানিত সদস্যগণ বিষয়গুলো দেখবেন।
এখন আসি পড়ালেখায়। ২০০৫- ২০১০ সময়টাকে এই স্কুলের গোল্ডেন সময় বললেও ভুল হবে না। একজন প্রধান শিক্ষক যে একটা পুরো বিদ্যালয়কে আমুল পরিবর্তন করে দিতে পারে তার প্রকৃত দৃষ্টান্ত তখনকার শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক হারাধণ স্যার। আমার মনে আছে আমাদের ব্যাচ ২০০৮ সালে পুরো উপজেলায় ২য় হয়েছিল এবং ২০১০ সালেও উপজেলায় ১ম/২য় ছিল। এর পরবর্তী বছরগুলোতে বিদ্যালয়ের রেজাল্ট?? হুম ক্রমাগত নিম্নমুখী। why ?? যাক এটা নিয়ে সুযোগ পেলে অন্য কোনদিন কথা বলার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ
বর্তমানে আমার ব্যক্তিগত কিছু চাওয়া-
১. বাকি সব বিদ্যালয়ের মত ধর্মপুর গ্রামের যুবকরাও যেনো তাদের হক থেকে বঞ্চিত না হয়। স্কুলের চলাকালীন সময় ব্যতিত বাকি সময় অত্র গ্রামের যুবকরাই মাঠে খেলাধুলা করুক। মাঝে মধ্যে অন্য কেউ চাইলে পরস্পর সমন্বয় করে খেলুক।
২. প্রতিবশী গ্রামের মুরব্বিদের অনুরোধ আপনাদের গ্রামের যুবকদের খেলাধুলার ব্যবস্থা করবেন। এটা খুবই জরুরি বিষয়। কিন্তু তা যেন অন্যের হক মেরে না হয়। আমার বিশ্বাস এটা আপনাদের জন্য খুব কঠিন কিছু নয়।
৩. বিদ্যালয় চলাকালীন সময় বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকুক । বাকি সময় স্কুল মাঠ উন্মুক্ত থাকুক।
৪. দক্ষ ও মেধাবী সম্মানিত শিক্ষকগণের সমন্বয়ে আমাদের স্কু্ল পূর্বের গৌরবময় অবস্থা/রেজাল্টে ফিরে আসুক।
৫. রেজাল্ট ভালো করার জন্য চেষ্টা।
ইহা একটি উন্মুক্ত পোস্ট।
এটা সম্পূর্ন নিজ দায়িত্ববোধ থেকে লিখা।
ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করলাম।
ধন্যবাদ সবাইকে। ❤️❤️