01/10/2023
#গল্পঃ #গম্ভির_ceo
#লেখক:
মানুষের জীবনে মৃ'ত্যু অনিবার্য। সবাইকে মৃ'ত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে কিন্তু তা কখন, কিভাবে, কোথায় কেউ যানে না।
যে মানুষ আজ তার প্রিয় মানুষের সাথে হেসেখেলে জীবন পার করছে হঠাৎ করেই তাকে সবাইকে রেখে,এই দুনিয়া ছেড়ে একা ওই অন্ধকার ক'বরে চলে যেতে হবে । যে প্রিয় মানুষগুলোর একটু কষ্ট সহ্য করতে পারতো না তাদের কে সে নিজেই একবুক কষ্ট দিয়ে চলে যাবে।
**** যে মানুষটা কালকেও তার মেয়ের অফিস থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে ছিলো সেই মানুষটাই আজকে না ফেরার দেশে চলে গেছে আর কখনো তার মেয়ের বাসায় ফেরার অপেক্ষায় থাকবে না।
__________________
টিনসেট বিল্ডিং বাড়ীটা যেনো একদম বন হয়ে গেছে। গাছপালায় ভরে গেছে, রুমের ভিতর মাকড়সার জাল, আরো সব পোকামাকড়ের বসবাস । ৬ টা বছর ধরে এখানে কেউ বসবাস করে না। হঠাৎ গ্রামে আসলে তারা তার মামা বাড়ীতে থেকে চলে যেতো এই বাসায় আসা হতো না। সাবিহাদের বাড়ীর থেকে একটু দূরেই তার মামার বাড়ী।
**বাড়ীর উঠানে রাখা হয়েছে রোজিনা রেণুকে তার থেকে একটু দূরে বারান্দার দেয়ালে হেলান দিয়ে পাথে হয়ে বসে আছে সাবিহা তার পাশেই বসে কেদে চলেছে রুপসা, রিদিতা, সুফিয়া বেগম( সাবিহার মামি)।
কায়ফাঃ আপুনি আপুনি তুমি এবাবে কেনো বতে আতো।
( সাবিহার মামাতো বোন মাত্র ৪ বছর বয়স। সাবিহার মামি সাবিহাদের ভালো না বাসলেও এই পিচ্চি মেয়েটা খুব ভালোবাসে, সাবিহা বলতে একদম পাগল )
তোমাল আম্মা মা'লা গেতে তুমি কাদদো না কেনো তুমি নাতি তোমার মাকে ভালোবাতো না থবাই বলতে ( আমাদের চারপাশে অনেক ধরনের লোক আছে যারা শুধু অন্যের সমালোচনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকে, । এই তো কিছু লোক সাবিহাদের নিয়ে সমালোচনা করছে ওদের সাথে ২ টো ছেলে এসেছে না জানি কি না কি হয়। মা মেয়ের চরিত্র ঠিক ছিলো কিনা এই সময়ও যে কেউ এমন ভাবনা চিন্তা করতে পারে তা শুধু আপনার এলাকার এমন মানুষদের দেখলেই বুঝতে পারবেন)
__________
সিজান, রাতিয়ান, সোবহান মিয়া (সাবিহার মামা) মিলে রোজিনা রেণুকে দা'ফ'ন করার ব্যবস্থা করছে।
__________________________
শেষবারের মতো সাবিহাকে তার মায়ের মুখটা দেখানো হলো। কি মায়াময়ী লাগছে তার মায়ের মুখটা, সে ভাবতেই পারছে না আর কখনো তার মাকে সে দেখতে পারবে না। মা বলে কাউকে ডাকতে পারবে না কাউকে হুটহাট জড়িয়ে ধরতে পারবে না। আল্লাহ কেনো বার বার তার প্রিয় মানুষগুলোকেই নিয়ে নেয়। তার একমাত্র বেচে থাকার সম্বলটাকেই কেনো সে হারিয়ে ফেললো। এখন সে কিভাবে বাঁঁচবে কেনো তাকে একা করে চলে গেলো তার মা।
******** রোজিনা রেণুর জা'না'যা শেষ হলো তাকে দা'ফ'ন করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, নিজের মমতাময়ী মায়ের শেষ বিদায় এ সাবিহা আর নিজের কষ্টকে নিজের ভিতর বহন করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে।
___________________________
বিকাল সাড়ে পাঁচটা,,,,,,,,
গোপালপুরের আলিফ ক্লিনিকের বেড এ সুয়ে আছে সাবিহা, একটার পর একটা স্যালাইন চলছে অনবরত। এখনো জ্ঞান ফিরে নি তার গত ৫ ঘন্টা যাবৎ সে এভাবে বেডে পরে আছে। কেবিনের বাইরে রুপসা, রিদিতা আর সাবিহার পিচ্চি বোন কায়ফা কেদে চলেছে,, পাশেই সাবিহার মামা মামি,সিজান দাড়িয়ে আছে।
___________________
অপরদিকে রাতিয়ান হসপিটালের করিডোরের পাশেই জানালায় চুপচাপ দাড়িয়ে আছে,
সে আর পারছে সাবিহাকে এভাবে দেখতে
যত বার সাবিহার মুখটা দেখছে ততবারই মনে হচ্ছে সে মা'রা যাবে। আসলে নিজের প্রিয় মানুষটাকে এমনভাবে কষ্টে দেখলে কেউই সহ্য করতে পারে না।
মাত্র কয়েক ঘন্টায় এই গম্ভির, রাগী মানুষটা কেমন যেনো হয়ে গেছে, উশখো খুশকো চুল, গোছানো সেই মানুষটাকে একদম পাগলের মতো লাগছে।
যে মানুষটাকে সিজান খুব ভয় পেতো,এতো রাগী,গম্ভির লোকটার এমন হাল দেখে সে বিন্দু মাত্রও অবাক হয়নি , সাবিহার জ্ঞান হারানোর পর রাতিয়ানের পাগলামি দেখে সে এইটুকু বুঝে গেছে যে রাতিয়ান সাবিহাকে পাগলের মতো ভালোবাসে তার এসিজান গিয়ে রাতিয়ানের কাধে হাত রাখে,
সিজানঃ স্যার সব ঠিক হয়ে যাবে আপনি চিন্তা করবেন না, সাবিহা একদম ঠিক হয়ে যাবে, আপনার একটু রেস্ট নেওয়া দরকার স্যার, এভাবে চলতে থাকলে আপনি অসুস্থ হয়ে পরবেন।
রাতিয়ানঃ,,,,,,,,, চুপচাপ সিজানের কথা সুনে যাচ্ছে কিছুই বলছে না
সিজান আর কিছু বলবে তখনই রুপসা এসে বলে উঠে,,
রুপসাঃ স্যার,, সিজান তোমরা তারাতারি আসো সাবিহার জ্ঞান ফিরেছে,,,,
আর কোন কথা না বলেই তিনজন সাবিহার কেবিনে চলে যায়।
_________________________________________
কেবিনের দড়জায় দাঁড়িয়ে সবটা দেখছে রাতিয়ান,,,
কারো সাথেই কোনো কথা বলছে না সাবিহা, সবাই এটা সেটা বলে তাকে কথা বলানোর চেষ্টা করছে,
সাবিহা কোনো কথারই জবাব দিচ্ছে না,
রিদিতা আর নিজেকে সামলাতে পারলো না দৌড়ে রাতিয়ান কে জড়িয়ে ধরে হাওমাও করে কেদে দিলো।
রাতিয়ান আর সহ্য করতে না পেরে সাবিহার সবাইকে বের হয়ে যেতে বলল,, সবাই চলে যাওয়ার পরে বেডের কাছে গিয়ে দাড়ালো আর রেগে রেগে বলতে শুরু করলো ।
রাতিয়ানঃ আপনি কি ভেবে দেখেছেন আপনার এভাবে চুপ থাকার কারনে আপনার মা কতটা কষ্ট পাচ্ছে।
কেবিনের বাইরের পিচ্চি মেয়েটাও( কায়ফা) আপনার জন্য কান্না করতে করতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, রুপসা, রিদিতা, সিজান, আপনার মামা, মামি তারা কি আপনার মায়ের জন্য কষ্ট পাচ্ছে না আর আপনি কি করছেন আপনার মায়ের সাথে সাথে ওদের কেউ কষ্ট দিচ্ছেন । আপনার এভাবে থাকাটা কাউকে ভিতর থেকে ভেঙে গুড়িয়ে দিচ্ছে আপনি কি বুঝতে পারছেন কিছু। না আপনি কিভাবে বুঝবেন।
(সাবিহা শুধু সব শুনে চলছে আর চোখের কোন বেয়ে অঝরে জল ঝরছে,)
** সাবিহার চোখের জল দেখে সামনের টুলটাতে লাথি মেরে আরো বেশি রাগীস্বরে বলে,,
আরে আপনি কিভাবে বুঝবেন৷ আপনি তো আপনার মায়ের কষ্টটাই বুজতেছেন না আপনাকে এভাবে দেখে সে তো ওই অন্ধকার ক'ব'রটাতেও শান্তিতে থাকতে পারবে না।
সাবিহার একদম কাছে চলে যায়,,,
লিসেন আমি আপনার সাথে কথা বলছি কথা বলুন আমার সাথে, টক টু মি ইডিয়ট ড্যামইট।
সাবিহা এবার হাওমাও করে কেদে উঠে, ওর কান্নায় রুপসা,রিদিতা, সিজান, মামা, মামি দৌড়ে কেবিনে চলে আসে আর রাতিয়ান বাইরে চলে যায় , সাবিহাকে কাদতে দেখেই রিদিতা কেদে দেয় গিয়েই সাবিহাকে জড়িয়ে ধরে সাবিহা কাদতে কাদতে বলতে থাকে,,,,
সাবিহাঃ কেনো আমার সাথেই এমন হয়, আল্লাহ কেনো বার বার আমার ধৈর্যের পরিক্ষা নেয়। বাবা যখন চলে যায় তখন তো আমার কাছে আমার মাকে রেখে গিয়ছিলো কিন্তু মা যে আমাকে একা রেখে চলে গেলো। আমার যে বেচে থাকাটাই বৃথা হয়ে গেলো। আমার পুরো পৃথিবীটাই যে থমকে গেছে।
( নিজে নিজে বলতে বলতে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে সাবিহার কান্না দেখে সবাই কেদে উঠে।
___________________________
কেবিনের ছোট কাচের জানালার পাশে দাড়িয়ে সবটা দেখছে রাতিয়ান, সাবিহাকে সুস্থ রাখতে ওর কাঁদা, কথা বলাটা খুব প্রয়োজন ছিলো ,,, তাই এমন সময়ও সাবিহার সাথে এমন ব্যবহার করেছে রাতিয়ান।
রাতিয়ান এর পাশ থেকে ডক্টর বলে উঠে,,,
ডক্টরঃ নাও শী ইজ আউট ওপ ডেন্জারস,,, এখন আপনার উনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারেন।
______________
হসপিটাল এর সব কার্যক্রম শেষ করে সাবিহা ও বাকি সবাই তার মামা সোবহান মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে উঠলো,,,,,,
রাতে সাবিহার মামি সবাইকে ডাল ভাত রান্না করে খাওয়ায়, কেউই ভালোভাবে খায়নি সাবিহাকে অনেক জোড়াজুড়ি করে ২ লোকমা খাওয়াতে পেরেছে রিদিতা।
সোবহান মিয়াদের টিনসেট বিল্ডিং তাতে ২ টো রুম, আর বাহিরে একটি ছোট টিনের ঘর আছে।
রুপসা, রিদিতা, সাবিহা কায়ফা একসাথে একরুমে , কায়ফা সাবিহাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু সাবিহার চোখে ঘুম নেই তার সাথে জেগে আছে রিদিতা।
তার পাশের রুমে সিজান রাতিয়ানকে তাকার জন্য দেওয়া হয়েছে আর বাহিরে সেই ঘরটাতে সোবহান মিয়া আর সুফিয়া বেগম।
________________
শুনো আমি কিন্তু তোমার ভাগ্নির দায়িত্ব নিতে পারবো না (
(সুুফিয়া বেগম)
এতোদিন তো আমার বোনটা ছিলো কিন্তু এখন তো আর কেউ রইলো না সাবিহার। আমরা ছাড়া তো কেউ নেই সাবিহার (সোবহান মিয়া)
আমি কিছু জানি না তুমি সাবিহাকে আমাদের বাড়ীতে রাখবা না , এইটাই আমার শেষ সিদ্ধান্ত। আমি পারবো না তোামার ভাগ্নি কে নিজের ঘাড়ে বসিয়ে খাওয়াতে।
আসলেই এই দুনিয়াতে কে আপন কে পর বোঝা বড় দায়। আপন মানুষগুলোই পর হয়ে যায় আর অচেনা মানুষগুলোই আপন হয়ে যায়। এইতো দেখো তুমি চাচ্ছো না সাবিহার দায়িত্ব নিতে কিন্তু ওর সাথে যারা এসেছে তারা সাবিহার রক্তের কেউ না তাও কতটা সাহায্য করছে সাবিহাকে। (সোবহান মিয়া)
এই তুমি চুপ থাকো তো এতো কথা বলবা না যা বলছি তাই করবা (সুফিয়া বেগম)
তুমি কখনো আমার বোন আর ভাগ্নিকে আপন ভাবলানা সুফিয়া অথচ রাজিনা তোমাকে ঠিকই আপন করে নিয়েছিলো (সোবহান মিয়া)
রাতিয়ান, সিজান সাবিহা তিনজনের কেউই অফিস যেতে পারে নি, পুরো অফিসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো মুন কে, হঠাৎ করেই মুুনের কল আসায় রাতিয়ান বাহিরে যায় কথা বলার জন্য কথা শেষে রুমে যাবে তখনই সোবহান মিয়া সুফিয়া বেগমের কথাগুলো শুনতে পায় রাতিয়ান,,,,,,,,,,,,
চলবে,,,,,,,,,,,,,,
নাও তোমাদের কথা মতো বড় পর্ব দিয়ে দিলাম। পুরো একটা দিন লাগলো এই পর্বটা লিখতে, অনেক বড় করে দিলাম। কেমন হয়েছে জানাতে ভুলিও না কিন্তু।