LK Vlog

LK Vlog আসসালামু আলাইকুম??

༊━━ যাদের জীবনে মা নামক জান্নাত টা বেঁচে আছে..!!😇🥀            ツ༆🦋 তারা শুকরিয়া আদায় করি༊━ღ━༎     🥰 আলহামদুলিল্লাহ.!🌸🥰
23/02/2024

༊━━ যাদের জীবনে মা নামক জান্নাত টা বেঁচে আছে..!!😇🥀

ツ༆🦋 তারা শুকরিয়া আদায় করি༊━ღ━༎

🥰 আলহামদুলিল্লাহ.!🌸🥰

13/02/2024

-সিঙ্গেল মেয়েদের কোনো'দিন দেখি'নি-🥹

-আচ্ছা ওরা দেখতে কেমন হয়-?🤔

13/02/2024

বৃষ্টি হচ্ছে কোন কোন জেলায়???

10/02/2024

এই শহরে বাঁচতে হলে মায়া ত্যাগ করতে হবে,না হয় পাক্কা অভিনয় জানতে হবে!💔❤

 #হে আল্লাহ মৃ'ত্যুর কয়েক সেকেন্ড আগে যেন,প্রত্যেকটা মুস'লমানের মুখে উচ্চারিত হয়!লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলু...
01/02/2024

#হে আল্লাহ
মৃ'ত্যুর কয়েক সেকেন্ড আগে যেন,
প্রত্যেকটা মুস'লমানের মুখে উচ্চারিত হয়!
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)❤🌸
- আমিন 🤲💝

সিঙ্গেলদের 🫶মিলন মেলা 👩‍❤️‍👨

- তোমাকে ধরে রাখার ক্ষমতা আমার নেই!কিন্তু তোমাকে ভালোবাসার ক্ষমতা আমার আছে!🖤সিঙ্গেলদের 🫶মিলন মেলা 👩‍❤️‍👨
29/01/2024

- তোমাকে ধরে রাখার ক্ষমতা আমার নেই!
কিন্তু তোমাকে ভালোবাসার ক্ষমতা আমার আছে!🖤

সিঙ্গেলদের 🫶মিলন মেলা 👩‍❤️‍👨

🖤______ অতি প্রিয় মানুষ গুলো        কুয়াশার মতো হয়,,,!! _ দেখা যায় কিন্তু ছোঁয়া যায় না,,,!! 🙂👉👉 সিঙ্গেলদের 🫶মিলন মেলা 👩‍...
28/01/2024

🖤______ অতি প্রিয় মানুষ গুলো
কুয়াশার মতো হয়,,,!!

_ দেখা যায় কিন্তু ছোঁয়া যায় না,,,!! 🙂

👉👉 সিঙ্গেলদের 🫶মিলন মেলা 👩‍❤️‍👨

01/10/2023

#গল্পঃ #গম্ভির_ceo
#লেখক:

মানুষের জীবনে মৃ'ত্যু অনিবার্য। সবাইকে মৃ'ত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে কিন্তু তা কখন, কিভাবে, কোথায় কেউ যানে না।
যে মানুষ আজ তার প্রিয় মানুষের সাথে হেসেখেলে জীবন পার করছে হঠাৎ করেই তাকে সবাইকে রেখে,এই দুনিয়া ছেড়ে একা ওই অন্ধকার ক'বরে চলে যেতে হবে । যে প্রিয় মানুষগুলোর একটু কষ্ট সহ্য করতে পারতো না তাদের কে সে নিজেই একবুক কষ্ট দিয়ে চলে যাবে।

**** যে মানুষটা কালকেও তার মেয়ের অফিস থেকে ফেরার অপেক্ষায় বসে ছিলো সেই মানুষটাই আজকে না ফেরার দেশে চলে গেছে আর কখনো তার মেয়ের বাসায় ফেরার অপেক্ষায় থাকবে না।

__________________

টিনসেট বিল্ডিং বাড়ীটা যেনো একদম বন হয়ে গেছে। গাছপালায় ভরে গেছে, রুমের ভিতর মাকড়সার জাল, আরো সব পোকামাকড়ের বসবাস । ৬ টা বছর ধরে এখানে কেউ বসবাস করে না। হঠাৎ গ্রামে আসলে তারা তার মামা বাড়ীতে থেকে চলে যেতো এই বাসায় আসা হতো না। সাবিহাদের বাড়ীর থেকে একটু দূরেই তার মামার বাড়ী।

**বাড়ীর উঠানে রাখা হয়েছে রোজিনা রেণুকে তার থেকে একটু দূরে বারান্দার দেয়ালে হেলান দিয়ে পাথে হয়ে বসে আছে সাবিহা তার পাশেই বসে কেদে চলেছে রুপসা, রিদিতা, সুফিয়া বেগম( সাবিহার মামি)।
কায়ফাঃ আপুনি আপুনি তুমি এবাবে কেনো বতে আতো।
( সাবিহার মামাতো বোন মাত্র ৪ বছর বয়স। সাবিহার মামি সাবিহাদের ভালো না বাসলেও এই পিচ্চি মেয়েটা খুব ভালোবাসে, সাবিহা বলতে একদম পাগল )

তোমাল আম্মা মা'লা গেতে তুমি কাদদো না কেনো তুমি নাতি তোমার মাকে ভালোবাতো না থবাই বলতে ( আমাদের চারপাশে অনেক ধরনের লোক আছে যারা শুধু অন্যের সমালোচনা নিয়ে ব্যাস্ত থাকে, । এই তো কিছু লোক সাবিহাদের নিয়ে সমালোচনা করছে ওদের সাথে ২ টো ছেলে এসেছে না জানি কি না কি হয়। মা মেয়ের চরিত্র ঠিক ছিলো কিনা এই সময়ও যে কেউ এমন ভাবনা চিন্তা করতে পারে তা শুধু আপনার এলাকার এমন মানুষদের দেখলেই বুঝতে পারবেন)
__________
সিজান, রাতিয়ান, সোবহান মিয়া (সাবিহার মামা) মিলে রোজিনা রেণুকে দা'ফ'ন করার ব্যবস্থা করছে।

__________________________
শেষবারের মতো সাবিহাকে তার মায়ের মুখটা দেখানো হলো। কি মায়াময়ী লাগছে তার মায়ের মুখটা, সে ভাবতেই পারছে না আর কখনো তার মাকে সে দেখতে পারবে না। মা বলে কাউকে ডাকতে পারবে না কাউকে হুটহাট জড়িয়ে ধরতে পারবে না। আল্লাহ কেনো বার বার তার প্রিয় মানুষগুলোকেই নিয়ে নেয়। তার একমাত্র বেচে থাকার সম্বলটাকেই কেনো সে হারিয়ে ফেললো। এখন সে কিভাবে বাঁঁচবে কেনো তাকে একা করে চলে গেলো তার মা।

******** রোজিনা রেণুর জা'না'যা শেষ হলো তাকে দা'ফ'ন করার জন্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, নিজের মমতাময়ী মায়ের শেষ বিদায় এ সাবিহা আর নিজের কষ্টকে নিজের ভিতর বহন করতে না পেরে জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়লো মাটিতে।

___________________________
বিকাল সাড়ে পাঁচটা,,,,,,,,
গোপালপুরের আলিফ ক্লিনিকের বেড এ সুয়ে আছে সাবিহা, একটার পর একটা স্যালাইন চলছে অনবরত। এখনো জ্ঞান ফিরে নি তার গত ৫ ঘন্টা যাবৎ সে এভাবে বেডে পরে আছে। কেবিনের বাইরে রুপসা, রিদিতা আর সাবিহার পিচ্চি বোন কায়ফা কেদে চলেছে,, পাশেই সাবিহার মামা মামি,সিজান দাড়িয়ে আছে।

___________________
অপরদিকে রাতিয়ান হসপিটালের করিডোরের পাশেই জানালায় চুপচাপ দাড়িয়ে আছে,
সে আর পারছে সাবিহাকে এভাবে দেখতে
যত বার সাবিহার মুখটা দেখছে ততবারই মনে হচ্ছে সে মা'রা যাবে। আসলে নিজের প্রিয় মানুষটাকে এমনভাবে কষ্টে দেখলে কেউই সহ্য করতে পারে না।

মাত্র কয়েক ঘন্টায় এই গম্ভির, রাগী মানুষটা কেমন যেনো হয়ে গেছে, উশখো খুশকো চুল, গোছানো সেই মানুষটাকে একদম পাগলের মতো লাগছে।

যে মানুষটাকে সিজান খুব ভয় পেতো,এতো রাগী,গম্ভির লোকটার এমন হাল দেখে সে বিন্দু মাত্রও অবাক হয়নি , সাবিহার জ্ঞান হারানোর পর রাতিয়ানের পাগলামি দেখে সে এইটুকু বুঝে গেছে যে রাতিয়ান সাবিহাকে পাগলের মতো ভালোবাসে তার এসিজান গিয়ে রাতিয়ানের কাধে হাত রাখে,
সিজানঃ স্যার সব ঠিক হয়ে যাবে আপনি চিন্তা করবেন না, সাবিহা একদম ঠিক হয়ে যাবে, আপনার একটু রেস্ট নেওয়া দরকার স্যার, এভাবে চলতে থাকলে আপনি অসুস্থ হয়ে পরবেন।
রাতিয়ানঃ,,,,,,,,, চুপচাপ সিজানের কথা সুনে যাচ্ছে কিছুই বলছে না

সিজান আর কিছু বলবে তখনই রুপসা এসে বলে উঠে,,
রুপসাঃ স্যার,, সিজান তোমরা তারাতারি আসো সাবিহার জ্ঞান ফিরেছে,,,,
আর কোন কথা না বলেই তিনজন সাবিহার কেবিনে চলে যায়।

_________________________________________
কেবিনের দড়জায় দাঁড়িয়ে সবটা দেখছে রাতিয়ান,,,
কারো সাথেই কোনো কথা বলছে না সাবিহা, সবাই এটা সেটা বলে তাকে কথা বলানোর চেষ্টা করছে,
সাবিহা কোনো কথারই জবাব দিচ্ছে না,
রিদিতা আর নিজেকে সামলাতে পারলো না দৌড়ে রাতিয়ান কে জড়িয়ে ধরে হাওমাও করে কেদে দিলো।
রাতিয়ান আর সহ্য করতে না পেরে সাবিহার সবাইকে বের হয়ে যেতে বলল,, সবাই চলে যাওয়ার পরে বেডের কাছে গিয়ে দাড়ালো আর রেগে রেগে বলতে শুরু করলো ।

রাতিয়ানঃ আপনি কি ভেবে দেখেছেন আপনার এভাবে চুপ থাকার কারনে আপনার মা কতটা কষ্ট পাচ্ছে।
কেবিনের বাইরের পিচ্চি মেয়েটাও( কায়ফা) আপনার জন্য কান্না করতে করতে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে, রুপসা, রিদিতা, সিজান, আপনার মামা, মামি তারা কি আপনার মায়ের জন্য কষ্ট পাচ্ছে না আর আপনি কি করছেন আপনার মায়ের সাথে সাথে ওদের কেউ কষ্ট দিচ্ছেন । আপনার এভাবে থাকাটা কাউকে ভিতর থেকে ভেঙে গুড়িয়ে দিচ্ছে আপনি কি বুঝতে পারছেন কিছু। না আপনি কিভাবে বুঝবেন।

(সাবিহা শুধু সব শুনে চলছে আর চোখের কোন বেয়ে অঝরে জল ঝরছে,)

** সাবিহার চোখের জল দেখে সামনের টুলটাতে লাথি মেরে আরো বেশি রাগীস্বরে বলে,,
আরে আপনি কিভাবে বুঝবেন৷ আপনি তো আপনার মায়ের কষ্টটাই বুজতেছেন না আপনাকে এভাবে দেখে সে তো ওই অন্ধকার ক'ব'রটাতেও শান্তিতে থাকতে পারবে না।

সাবিহার একদম কাছে চলে যায়,,,
লিসেন আমি আপনার সাথে কথা বলছি কথা বলুন আমার সাথে, টক টু মি ইডিয়ট ড্যামইট।

সাবিহা এবার হাওমাও করে কেদে উঠে, ওর কান্নায় রুপসা,রিদিতা, সিজান, মামা, মামি দৌড়ে কেবিনে চলে আসে আর রাতিয়ান বাইরে চলে যায় , সাবিহাকে কাদতে দেখেই রিদিতা কেদে দেয় গিয়েই সাবিহাকে জড়িয়ে ধরে সাবিহা কাদতে কাদতে বলতে থাকে,,,,

সাবিহাঃ কেনো আমার সাথেই এমন হয়, আল্লাহ কেনো বার বার আমার ধৈর্যের পরিক্ষা নেয়। বাবা যখন চলে যায় তখন তো আমার কাছে আমার মাকে রেখে গিয়ছিলো কিন্তু মা যে আমাকে একা রেখে চলে গেলো। আমার যে বেচে থাকাটাই বৃথা হয়ে গেলো। আমার পুরো পৃথিবীটাই যে থমকে গেছে।
( নিজে নিজে বলতে বলতে চিৎকার করে কান্না করতে থাকে সাবিহার কান্না দেখে সবাই কেদে উঠে।

___________________________
কেবিনের ছোট কাচের জানালার পাশে দাড়িয়ে সবটা দেখছে রাতিয়ান, সাবিহাকে সুস্থ রাখতে ওর কাঁদা, কথা বলাটা খুব প্রয়োজন ছিলো ,,, তাই এমন সময়ও সাবিহার সাথে এমন ব্যবহার করেছে রাতিয়ান।

রাতিয়ান এর পাশ থেকে ডক্টর বলে উঠে,,,
ডক্টরঃ নাও শী ইজ আউট ওপ ডেন্জারস,,, এখন আপনার উনাকে বাসায় নিয়ে যেতে পারেন।

______________

হসপিটাল এর সব কার্যক্রম শেষ করে সাবিহা ও বাকি সবাই তার মামা সোবহান মিয়ার বাড়ীতে গিয়ে উঠলো,,,,,,
রাতে সাবিহার মামি সবাইকে ডাল ভাত রান্না করে খাওয়ায়, কেউই ভালোভাবে খায়নি সাবিহাকে অনেক জোড়াজুড়ি করে ২ লোকমা খাওয়াতে পেরেছে রিদিতা।
সোবহান মিয়াদের টিনসেট বিল্ডিং তাতে ২ টো রুম, আর বাহিরে একটি ছোট টিনের ঘর আছে।
রুপসা, রিদিতা, সাবিহা কায়ফা একসাথে একরুমে , কায়ফা সাবিহাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু সাবিহার চোখে ঘুম নেই তার সাথে জেগে আছে রিদিতা।

তার পাশের রুমে সিজান রাতিয়ানকে তাকার জন্য দেওয়া হয়েছে আর বাহিরে সেই ঘরটাতে সোবহান মিয়া আর সুফিয়া বেগম।

________________

শুনো আমি কিন্তু তোমার ভাগ্নির দায়িত্ব নিতে পারবো না (
(সুুফিয়া বেগম)

এতোদিন তো আমার বোনটা ছিলো কিন্তু এখন তো আর কেউ রইলো না সাবিহার। আমরা ছাড়া তো কেউ নেই সাবিহার (সোবহান মিয়া)

আমি কিছু জানি না তুমি সাবিহাকে আমাদের বাড়ীতে রাখবা না , এইটাই আমার শেষ সিদ্ধান্ত। আমি পারবো না তোামার ভাগ্নি কে নিজের ঘাড়ে বসিয়ে খাওয়াতে।

আসলেই এই দুনিয়াতে কে আপন কে পর বোঝা বড় দায়। আপন মানুষগুলোই পর হয়ে যায় আর অচেনা মানুষগুলোই আপন হয়ে যায়। এইতো দেখো তুমি চাচ্ছো না সাবিহার দায়িত্ব নিতে কিন্তু ওর সাথে যারা এসেছে তারা সাবিহার রক্তের কেউ না তাও কতটা সাহায্য করছে সাবিহাকে। (সোবহান মিয়া)

এই তুমি চুপ থাকো তো এতো কথা বলবা না যা বলছি তাই করবা (সুফিয়া বেগম)

তুমি কখনো আমার বোন আর ভাগ্নিকে আপন ভাবলানা সুফিয়া অথচ রাজিনা তোমাকে ঠিকই আপন করে নিয়েছিলো (সোবহান মিয়া)

রাতিয়ান, সিজান সাবিহা তিনজনের কেউই অফিস যেতে পারে নি, পুরো অফিসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিলো মুন কে, হঠাৎ করেই মুুনের কল আসায় রাতিয়ান বাহিরে যায় কথা বলার জন্য কথা শেষে রুমে যাবে তখনই সোবহান মিয়া সুফিয়া বেগমের কথাগুলো শুনতে পায় রাতিয়ান,,,,,,,,,,,,

চলবে,,,,,,,,,,,,,,

নাও তোমাদের কথা মতো বড় পর্ব দিয়ে দিলাম। পুরো একটা দিন লাগলো এই পর্বটা লিখতে, অনেক বড় করে দিলাম। কেমন হয়েছে জানাতে ভুলিও না কিন্তু।

01/10/2023

গল্প: #গোরস্থান
লেখক: #হাসান

মৃত্যুর মুখে থাকা জাহিদ দেখতে পেলো তার দিকে ভেসে আসছে একটি ভেলা। জাহিদ খুব কষ্টে ভেলাটা ধরে ভেসে উঠেছে। জাহিদ ভেলাটা ধরতে পেরে যেন, নতুন জীবন ফিরে পেয়েছে।
কিন্তু হঠাৎ জাহিদের চোখ যায় ভেলাটার উপরে। আর ভয়ে জাহিদ শিউরে উঠে। জাহিদ দেখতে পেলো, ভেলার উপরে কাফনে মোড়ানো একটা লাশ। তার দিকে তাকিয়ে আছে। লাশটা দেখে জাহিদের আত্মা যায় যায় অবস্থা। এখন জাহিদ কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। ভেলাটা ছেড়েও দিতে পারছে না। কারন জাহিদ সাঁতার পারে না। ভেলাটা ছেড়ে দিলে জাহিদের মৃত্যু নিশ্চিত। তাই জাহিদ ভয়ে কাঁপতে কাঁপতেই ভেলাটা ধরে আছে। এই লাশসহ ভেলাটা আঁকড়ে ধরেই জাহিদ এগিয়ে যাচ্ছে ঐ পরিত্যক্ত চিতাপারের দিকে।
গভীর রাতে অভিশপ্ত ঝিলের মাঝে একটা লাশের সাথে পথ চলা কতটা ভয়ংকর হতে পারে। সেটা ভাবলেই গা শিউরে ওঠে। অথচ এই কাজটিই করতে হচ্ছে জাহিদ কে। নিজের জীবন বাঁচাতে আর আয়েশা কে বাঁচাতে হলে জাহিদ কে সেই তান্ত্রিকের কাছে পৌঁছাতেই হবে।

★★
অবশেষে জাহিদ সেই লাশসহ ভেলাটা আঁকড়ে ধরেই চিতাপারে এসে পৌঁছালো। আর ঝিলের দিকে তাকিয়ে দেখলো: ঝড় থেমে গেছে। ঝিলের পানির স্রোতও নেই। সবই নিরব‌।
আর এই চিতাপারটা একদম নিস্তব্ধ। কোলাহোল মুক্ত। গাঁ ছমছমে পরিবেশ।
জাহিদ শুনেছে যে, এই ঝিলের পানি আগে এতো বেশি ছিলোনা। আগে শুধু বর্ষাকালে এই ঝিলে পানি থাকতো। আর সারা বছর এই ঝিল শুকনো থাকতো। আর সেই সময় মানুষ এই তিনটা উঁচু জায়গায় মৃত মানুষের চিতা জ্বালাতো। কিন্তু গত বিশ বছর ধরে এই ঝিলের পানি শুকায় না। আর সেই থেকেই এই ঝিলে আর এই গ্ৰামে ঘটে সব অদ্ভুত অদ্ভুত জিনিস।
রাত্রি বেলা নাকি এই ঝিলের মাঝ থেকে ভেসে আসে মানুষের কান্নার শব্দ। আর মাঝে মাঝেই রাত্রি বেলা এই ঝিলের মাঝখানে চিতা জ্বলে। অথচ রাত্রি বেলা এই ঝিলের আসেপাশেও কখনো মানুষ আসে না। আর তাই সন্ধ্যা নামলেই এই এলাকার লোকজন বাড়ির বাইরে বেরুয় না। অথচ জাহিদ মাঝরাতে এই এলাকায় অভিশপ্ত ঝিলের মাঝখানে একটি চিতাপারে একা দাড়িয়ে আছে।
জাহিদ ভয়ে শুধুই কাঁপছে। একপাও এগোনোর সাহস পাচ্ছে না। ঘুটঘুটে অন্ধকার। নিস্তব্ধ পরিবেশ। যেন অন্ধকারই জাহিদ কে গিলে খাবে।
তবুও জাহিদ নিজেকে শক্ত করে, মনে একটু সাহস নিয়ে সামনের দিকে পা বাড়ালো। জাহিদ যতবারই পা বাড়াচ্ছে, জাহিদের মনে হচ্ছে সে মানুষের হার-গোর মাড়িয়ে এগিয়ে চলছে। জাহিদের নিজের হাঁটার শব্দটাই জাহিদ কে বেশি ভয় দেখাচ্ছে।
এই নির্জন স্থানে একা একা হেঁটে চলেছে জাহিদ। একটু এগোতেই সামনে জাহিদ একটা ছোট ঘর দেখতে পায়। ঘরটা দেখে জাহিদের সমস্ত ভয় দূর হয়ে গেলো। জাহিদ ভাবলো সে তান্ত্রিকের কাছে পৌঁছে গেছে। জাহিদ ঐ ঘরটার দিকে দৌড়ে যায়। আর আনন্দের সাথে দরজায় নক করে। কিন্তু দড়জার ওপাশ থেকে কোনো সারা-শব্দ পাচ্ছে না। তাই জাহিদ দরজা ধাক্কা দিলো। আর মূহুর্তের মধ্যেই দরজা খুলে, জাহিদের উপর একটা ঝুলন্ত কংকাল ছুরে পড়লো। জাহিদ ভয়ে আঁতকে উঠলো। মানুষের কংকাল দেখে জাহিদ ভয়ে কাঁপতে শুরু করলো। ভিতরে তান্ত্রিক কে না দেখতে পেয়ে জাহিদ ভয়ে ভয়ে পিছিয়ে আসলো।
জাহিদ মনে ভয় নিয়ে, ধীরে ধীরে হাঁটছে এই চিতাপার দিয়ে। আর তান্ত্রিক কে খুঁজছে। কিন্তু তান্ত্রিক কে কোথাও পাচ্ছে না জাহিদ।
জাহিদ হতাশ হয়ে বসে পড়লো মাটিতে। বসে বসে ভাবছে সে যদি তান্ত্রিক কে না পায়, তাহলে তো মায়া সবাই কে শেষ করে দিবে। তার সব পরিশ্রম নষ্ট হয়ে যাবে। সে কোন মুখ নিয়ে বাড়িতে ফিরবে?? এসব ভাবনার মধ্যেই হটাৎ,

জাহিদ শুনতে পায়, কোনো মেয়ের কান্নার শব্দ। এই ঝিলের মাঝে একটা চিতাপারে কে কাঁদছে?? তাহলে কি মায়া ফিরে এসেছে‌?? ভাবতেই জাহিদের শরীর ভয়ে শিউরে উঠলো। জাহিদ একবার ভাবছে, এগিয়ে গিয়ে দেখবে কে কাঁদছে। আবার ভয়ে এগোতে সাহস পাচ্ছে না। তবুও জাহিদ এগিয়ে চললো। ঐ কান্নার শব্দের দিকে। গভীর রাতের অন্ধকারে ঝিলের মাঝে একটা মেয়ের কান্নার শব্দ আসছে।
আর জাহিদ গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে চলছে ঐ শব্দের দিকে। কিন্তু জাহিদের হটাৎ মনে হলো কেউ তার পিছু পিছু আসছে। জাহিদ থমকে দাঁড়ালো। আর পিছনে তাকিয়ে দেখলো, কেউ নেই। জাহিদ যেন প্রাণে বাঁচলো। তবে জাহিদ বুঝতে পারলো এখানে তান্ত্রিক নেই। কিন্তু এখানে অন্য কিছু আছে। আর তখনই জাহিদের মনে পরলো। কবিরাজের সহকারীর কথা, সহকারী বলেছিলো: তান্ত্রিক কালিয়া ঝিলের মাঝে তিনটা চিতাপারের একটাতে আছে।
তাই জাহিদ আর দেরি করলো না। দুই নাম্বার চিতাপারে যাওয়ার জন্য ফিরে আসলো সেই লাশওয়ালা ভেলার কাছে। কিন্তু ভেলার মধ্যে লাশ দেখতে পেয়ে জাহিদের একটু ভয় করছে। জাহিদ ভেলায় উঠার আগে সেই লাশটাকে ভেলা থেকে ফেলে দিলো। তারপর জাহিদ সেই ভেলায় করে ২য় চিতাপারের দিকে রওনা দিলো। জাহিদ ভাবছে যদি এখানে
তান্ত্রিক কে না পাওয়া যায়। তাহলে এই চিতারপারে বেশিক্ষণ থাকা যাবে না। যেকোনো ধরনের বিপদ হতে পারে।

★★
অবশেষে জাহিদ পৌঁছে গেলো সেই ২য় চিতারপারে। কিন্তু ভেলা থেকে মাটিতে পা রাখতেই জাহিদের শরীর কেঁপে উঠলো। জাহিদ বুঝতে পারলো না। কেন এমন হলো??
তবে জাহিদের বুঝতে বাকি নেই যে, এই জায়গায় আরো বেশি ভয়ংকর। আর বিপদে ভরা। আর এসব ভাবতেই জাহিদের মনে ভয় শুরু হলো। তবুও জাহিদ এগিয়ে চললো সামনের দিকে। হঠাতই জাহিদ আবারো মেয়েলি কণ্ঠে কান্নার শব্দ শুনতে পেলো। এবার জাহিদের ভয় আরো বেড়ে গেলো। তবুও জাহিদ ভয়ে ভয়ে পা বাড়াচ্ছে ঐদিকে। কে কাঁদছে খুঁজে বের করার জন্য।
কিন্তু হঠাতই জাহিদের কাধে কারো হাত পড়লো। জাহিদ ভয়ে আঁতকে উঠলো। কে তার কাঁধে হাত রাখলো?? জাহিদ ভয়ে ভয়ে পিছনে তাকালো। আর দেখতে পেলো, একটা খাটো আকৃতির লোক দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে। লোকটার মুখ ভর্তি দাড়ি। চুলগুলো অনেক বড় বড় আর এলোমেলো। পড়নে তার শুধুই একটা কালো লুঙ্গি। জাহিদ ভযে কাঁপা কাঁপা জিজ্ঞেস করলো:
কে আপনি??

আমি সেই, যাকে তুই খুজতেছিস। যার কাছে আসার জন্য তুই এতো পরিশ্রম করেছিস।

আপনি কি তান্ত্রিক কালিয়া??

হ্যা! আমি তান্ত্রিক কালিয়া। বল তুই এখানে এসেছিস কেন??

আমাকে বাঁচান। আমি আজ বড়ই অসহায়। আপনি ছাড়া আমায় কেউ বাঁচাতে পারবে না।

তুই অনেক সাহসী। আর আমি সাহসীদের পছন্দ করি। তাই আমি তোকে সাহায্য করবো। এবার বল তোর সমস্যা কি??

একটা জ্বীন আমাকে মারতে চায়। শুধু আমাকেই না, আমার স্ত্রীকেও মারতে চায়। আমাদের কে সেই জ্বীনের হাত থেকে বাঁচান প্লীজ।

সামন্য একটা জ্বীন কে মারতে, তুই এতো কষ্ট করে এখানে আসলি?? এটা তো যে কোনো কবিরাজরাই করতে পারতো।

না! সেই জ্বীনকে কেউ হারাতে পারে না। সেই জ্বীন বড়ই পবিত্র আর আল্লাহওয়ালা। হয়তো আপনিও হারাতে পারবেন না। কিন্তু আপনিই আমার শেষ ভরসা।

আমার ক্ষমতা সম্পর্কে তুই কিছুই জানিস না। তোর জানা প্রয়োজন, রাস্তায় তোর সাথে যা যা হয়েছে। সব আমার আদেশে হয়েছে। তোর আরো জানা প্রয়োজন। এখানে আসার সময় আমি সবাই কে ভয় দেখাই। যারা ভয় পেয়ে ফিরে যেতে চায়। তারা আর ফিরতে পারে না। মারা যায় এই ঝিলের মাঝে। কিন্তু তুই ভয় কে তুচ্ছো করে আমার এখানে এসেছিস। আমি তোকে অবশ্যই বাঁচাবো।

তাহলে চলুন ঐ গোরস্থানে। আমায় বাঁচান।

আগে বল, ঐ জ্বীনটা তোকে মারতে চায় কেন??

কারন আমি আমার স্ত্রীকে খুন করেছি। আর সেই জ্বীনটা তার প্রতিশোধ নিতে চায়। এই কথা শুনা মাত্রই তান্ত্রিক জাহিদের গালে থাপ্পর মেরে বললো:
তুই নিজের স্ত্রীকে খুন করার মতো জগন্য কাজ করেছিস। তাহলে তোর জন্য মৃত্যুই ঠিক শাস্তি। যা এখান থেকে। আমি তোকে কোনো সাহায্য করবো না।
জাহিদ তান্ত্রিকের কথা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলো।এখন কি হবে জাহিদের??
চলবে........??

( ব্যস্ততার কারণে পর্বটা বড় আর ভালোভাবে লিখতে পারিনি। গল্পটি ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন। লেখক: Hasan - হাসান)

নিয়মিত মজার মজার গল্প পড়তে চাইলে পেজ টা ফলো দিয়ে রাখুন 👉 BD Tech

30/09/2023

[] পর্ব ০১ []

আসাদ সাহেব,আপনার স্ত্রীর দুটো কিডনিই ড্যামেজ হয়ে গিয়েছে। এখন শরীরে নতুন কিডনি না লাগালে উনাকে আর বাঁচানো যাবে না।

ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিনের কথা শুনে আসাদের মাথায় যেন পুরো আকাশ ভেঙে পড়লো। সে অবিশ্বাস্য কন্ঠে বললো " কী? আমার স্ত্রীর দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছে? এসব কী বলছেন ম্যাডাম?

ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন তখন সহজ ভঙ্গিতে বললেন " জ্বী,আপনি একদম ঠিক কথাই শুনেছেন। আর আমার ধারণা,আপনার অবহেলার কারণেই আজ উনার এই অবস্থা। আপনি হয়তো ঠিকমতো তার চিকিৎসা করাননি।

ডক্টরের শেষের কথাগুলো শুনে আসাদের মাথায় রক্ত উঠে যায়। মহিলার কত্তবড় সাহস,তাকে খোঁচা দিয়ে কথা বলে। উনার জায়গায় যদি অন্য কোনো ছেলে ডক্টর থাকতো,তাহলে আসাদ এতক্ষণে তুলকালাম কান্ড বাঁধিয়ে দিতো।

তবে এখন ঝামেলা করলে উল্টো নিজেকেই বিপদে পড়তে হবে। তাই আসাদ ডক্টরের কথাগুলো অনেক কষ্টে হজম করে। এরপর সে চুপচাপ স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে একটা সিএনজিতে উঠে যায়।

আসাদের স্ত্রী মিতু ক্লান্ত চোখে স্বামীর দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করে " আচ্ছা ডক্টর আপা আমার রিপোর্ট দেখে কী বলেছে?

স্ত্রীর এই প্রশ্নের উত্তরে আসাদ তখন অলস গলায় বললো " কী আর বলবে,তোমার ডক্টর আপা আমাকে বললো " আসাদ সাহেব,আপনার স্ত্রীর জন্য কাফনের কাপড় কিনে রেখে দিন। কারণ উনার মরণ হতে আর খুব বেশি দিন বাকি নেই।

মিতু স্বামীর কথা শুনে কাঁদো কাঁদো গলায় বললো " এই তুমি এসব কী বলছো? আচ্ছা আসাদ তুমি কী আমার সঙ্গে মজা করে কথাগুলো বলছো? নাকি সত্যি সত্যিই ডক্টর আপা তোমাকে এগুলো বলেছে?

আসাদ এবার স্ত্রীর উপরে রেগে গিয়ে বললো " আরে আজব তো,তুমি কী আমার দুলাভাই লাগো যে তোমার সঙ্গে আমি মজা করবো? আচ্ছা এত করে যখন জানতে চাচ্ছো তখন বলি,ডক্টর ম্যাডাম আসলে বলেছে তোমার দুটো কিডনিই নাকি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন শরীরে নতুন একটি কিডনি বসাতে হবে। তা নাহলে তোমাকে বাঁচানো যাবে না।

মিতু এতক্ষণে তার স্বামীর রাগের আসল কারণটা ধরতে পারে। ও তখন আসাদের কথা বলা শেষ হলে শুধু " ও আচ্ছা। বলে চুপ হয়ে যায়।

কিছুক্ষণ দম নিয়ে আসাদ আবারও বলতে শুরু করে " দেখো,তুমি তো আমার আর্থিক অবস্থা জানো। এখন শরীরে একটি নতুন কিডনি লাগাতে গেলে কমসে কম চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার খরচ পড়বে। যেই খরচ বহন করা আমার পক্ষে কখনোই সম্ভব না।

মিতু এবার শুকনো গলায় বললো " তুমি খামাকা আমাকে নিয়ে এত টেনশন করছো কেন? আমি কী তোমাকে আমার শরীরে নতুন কিডনি বসানোর জন্য জোর জবরদস্তি করেছি?

আসাদ বললো " না,জোর করোনি। কিন্তু তোমার কিছু হয়ে গেলে তো পরে তোমার পরিবার আমাকে ধরবে। তখন আমি তাদেরকে কী জবাব দেবো?

মিতু আসাদকে শান্ত গলায় বললো "শোনো,তোমার কাউকেই কোনো কৈফিয়ৎ দিতে হবে না। আর আমার শরীরে নতুন করে কিডনিও বসাতে হবেনা। পুরোনো কিডনি দিয়ে যতদিন চলতে পারি চলবো। তারপর যদি মারা যাই,তাহলে ধরে নেবো মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে এইটুকু জীবন দিয়েই পৃথিবীতে পাঠিয়ে ছিলেন। আর নতুন কিডনি লাগালেই যে আমি আরও বেশি বছর বাঁচবো তার কী গ্যারান্টি আছে?

স্ত্রীর কথা শুনে আসাদ বেশ অবাক হয়। এ কোন মিতুকে দেখছে সে? মিতু তো আগে এরকম ইতিবাচক চিন্তাধারার মানুষ ছিল না। পাঁচ বছরের সংসার জীবনে আসাদ আজই প্রথমবার মিতুর মুখে একটি সুন্দর চিন্তাধারার কথা শুনলো।
--------------------------------------------------------------
যাইহোক,এভাবে তিন চার মাস কেটে যায়। মিতুর শরীরের অবস্থা আগের থেকে আরো বেশি খারাপ হতে শুরু করে।

একদিন বিকাল বেলা আসাদ অফিস থেকে বাসায় ফিরে এসে দেখে,মিতু রান্নাঘরের মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে রয়েছে। দৃশ্যটা দেখা মাত্রই আসাদ দৌড়ে স্ত্রীর কাছে ছুটে যায়। অনেক ডাকার পরেও মিতু সাড়া দিচ্ছে না দেখে আসাদ তখন ওর মুখে পানির ছিটা মারতে থাকে। কিন্তু তাতেও কোনো কাজ হয় না।

আসাদ তখন তাড়াতাড়ি মিতুকে নিয়ে হাসপাতালে ছুটে যায়। ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন মিতুকে দেখে তখন চিন্তিত গলায় আসাদকে বললেন " ও মাই গড! পেশেন্টের অবস্থা তো সিরিয়াস পর্যায়ে চলে গিয়েছে। এখন ইমিডিয়েট নতুন কিডনি না লাগালে আপনার স্ত্রী আর জীবিত থাকবে না।

আসাদ তখন মৃত কন্ঠে বললো " ম্যাডাম অপারেশন করার টাকা তো অনেক কষ্টে জোগাড় করতে পেরেছি। কিন্তু যেই কিডনির জন্য এতকিছু,এখন সেই জিনিসটারই আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

এই দুই তিন মাসে কিডনি দান করতে চাওয়া যতজনের নাম পেয়েছিলাম,তাদের কারোর কিডনির সঙ্গে আমার স্ত্রীর কিডনি ম্যাচ হয়নি। যার কারণে আমি টাকা জোগাড় করার পরেও এক প্রকার খালি হাতেই আপনাদের এখানে ছুটে এসেছি। শুধুমাত্র এই আশায় আপনারা নিশ্চয়ই কোনো না কোনো উপায়ে আমার মিতুকে আবার সুস্থ করে দিবেন।

আসাদের কথা শুনে ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন অবাক হয়ে বললেন "আশ্চর্য,এতগুলো মানুষ আপনার স্ত্রীকে নিজের কিডনি দান করার জন্য এগিয়ে আসলো। অথচ একজনের সঙ্গেও আপনার স্ত্রীর কিডনি ম্যাচ করেনি? অন্তত একটি হলেও তো ম্যাচিং করার কথা।

" আচ্ছা আপনি কী আপনার কিডনি একবার ম্যাচিং করে দেখেছিলেন? না মানে,এমনও তো হতে পারে হয়তো আপনার কিডনির সঙ্গে আপনার স্ত্রীর কিডনি ম্যাচ হয়ে যেতে পারে।

আসাদ বললো " আমারটা তো দেখা হয়নি।

ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন তখন বললেন " আর বেশি সময় নেই,যা করার জলদি করতে হবে। নার্স পেশেন্টকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাও। আর আসাদ সাহেব,আপনি আমার সঙ্গে এদিকে আসুন।

আসাদকে অন্য একটি কেবিনে ভালো করে পরিক্ষা করে দেখার পরে ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন দেখলেন আসাদের কিডনি ওর স্ত্রীর কিডনির সঙ্গে পুরোপুরি ম্যাচিং করেছে।

ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন তখন আসাদকে প্রশ্ন করলেন " আসাদ সাহেব,আপনার কিডনি আপনার স্ত্রীর কিডনির সঙ্গে ম্যাচিং হয়েছে। এখন আপনি কী আপনার স্ত্রীকে নিজের একটি কিডনি দিতে ইচ্ছুক?

আসাদ উনার এই প্রশ্নের উত্তরে বললো " এখন কিডনি না দিলে তো আমি আমার স্ত্রীকে বাঁচাতেও পারবো না।

ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন তখন বললেন "সেটাই,তাহলে আমরা আমাদের কাজ শুরু করি,কী বলেন?

আসাদ বললো " জ্বী,শুরু করেন।

আসাদকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বেডে শোয়ার আগে আসাদ মিতুর অচেতন হয়ে থাকা মুখটার দিকে বেশ কিছুক্ষণ শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। এরপর সে চুপচাপ স্ত্রীর পাশের বেডে শুয়ে পড়ে। অপারেশনের কাজ শুরু হয়ে যায়।
--------------------------------------------------------------
অপারেশনের ঠিক পাঁচ ঘন্টা পরে মিতুর জ্ঞান ফিরে। ওর পাশে একজন নার্স বসে ছিল। মিতু ক্লান্ত কন্ঠে তাকে জিঙ্গেস করলো " আমি এখানে এলাম কী করে?

নার্স বললো " আপনার হাজবেন্ড আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছেন,আর আপনার শরীরে অপারেশন করে নতুন একটি কিডনি বসানো হয়েছে।

নার্সের কথা শুনে মিতু বেশ অবাক হয়। আর মনে মনে ভাবে " কী? আমার শরীরে নতুন কিডনি লাগানো হয়েছে? কিন্তু আসাদ যে আমাকে বলেছিলো,আমার চিকিৎসা করানোর আর্থিক অবস্থা ওর নেই? তাহলে ও হঠাৎ এতগুলো টাকা কোথায় পেলো?

মিতু এবার নার্সকে আসাদের কথা জিঙ্গাসা করলে সে চুপ হয়ে যায়। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলে " আচ্ছা আপনি একটু বসুন,আমি আপনার খাবার আসছি।

কথাগুলো বলেই নার্স তাড়াতাড়ি কেবিন থেকে বেরিয়ে যায়। তার আচরণে মিতুর মনে কিছুটা সন্দেহ তৈরি হয় " কী ব্যাপার? নার্সকে আসাদের কথা জিঙ্গাসা করায় সে ওভাবে তাকে এড়িয়ে গেল কেন?
--------------------------------------------------------------
দশ মিনিট পরে ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন নিজের হাতে মিতুর জন্য খাবার নিয়ে কেবিনে প্রবেশ করেন। মিতু উনাকে দেখে চিনতে পারে।

ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন মিতুকে জিঙ্গেস করলেন " এখন কেমন লাগছে?

মিতু বললো " জ্বী,ভালো। আচ্ছা আমার স্বামীকে দেখছি না,ও কোথায়?

মিতুর এই প্রশ্নে ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিনের চেহারা গম্ভীর হয়ে যায়।

তিনি তখন ভারী গলায় বললেন " দেখুন কথাটা আমি আপনাকে ঠিক কিভাবে বলবো বুঝতে পারছি না। আপনার স্বামী আপনাকে বাঁচানোর জন্য তার থেকে একটি কিডনি আপনাকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিন্তু উনার মেডিকেল চেকআপ করার পর দেখা যায় তার নিজেরই একটি কিডনি নষ্ট হয়ে গিয়েছে।

এখন আপনাকে তার ভালো কিডনিটা লাগাতে গেলে উনাকেই বাঁচানো যাবে না। তাই আমি তাকে বলেছিলাম,আপনি আরেকবার ভেবে দেখেন,আপনার স্ত্রীকে কিডনি দিলে কিন্তু আপনি নিজে মারা পড়বেন।

কিন্তু এর উত্তরে তিনি আমাকে বললেন " মারা পড়লে পড়বো সমস্যা তো নেই,আমার মতো অপদার্থদের এই দুনিয়া থেকে চলে যাওয়াই ভালো। আর আমার জীবন থেকে যদি একটি ভালো মানুষের জীবন বাঁচে তাহলে তো সেটা লাভ ই হবে তাই না?

আমি তার কিডনি আপনার শরীরে বসাতে চাইছিলাম না,কিন্ত আপনার প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা দেখে শেষ পযর্ন্ত কঠিন কাজটা করতে বাধ্য হই। আমি অপারেশন করে উনার ভালো কিডনিটা আপনার কিডনির স্থানে বসিয়ে দিয়েছি।

আর আসাদ সাহেবের লাশটা আমাদের হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে,,।

এই পযর্ন্ত শোনা মাত্রই মিতু একটা বিকট চিৎকার দিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগলো। ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন ওকে শান্ত করার চেষ্টা করতে গেলে মিতু তাকে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। আর দুই হাত দিয়ে নিজেই নিজের পেটের ক্ষতস্থানে আঘাত করতে থাকে। এটা দেখামাত্রই ডক্টর নিলুফা ইয়াসমিন মেঝে থেকে উঠে দৌড়ে মিতুর কাছে গিয়ে ওকে আবারো থামানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো ভাবেই তাকে থামানো যাচ্ছে না।

মিতু পেটে আঘাত করতে করতে বলছে " আসাদ তো চলে গিয়েছে,এখন আমি একা বেঁচে থেকে কী করবো? চাই না আমার নতুন কিডনি। চাই না আমার আর নতুন জীবন। আমি আমার আসাদের কাছে চলে যেতে চাই।

মিতুর জামা পুরো রক্তাক্ত হয়ে গিয়েছে। ও যদি আরেকবার নিজের পেটের ক্ষতস্থানে আঘাত করে তাহলে তার জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। মিতু হাত দিয়ে যখন আবারো নিজেকে আঘাত করতে যাবে,ঠিক এমন সময় হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন তার হাতটা খপ করে ধরে ফেলে। মিতু মাথা ঘুরিয়ে পিছনে তাকাতেই দেখে আসাদ তার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে...
--------------------------------------------------------------
** চলবে **

>> হৃদয়ের রঙ

Address

Dacope

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when LK Vlog posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category