এসো হে আলোর পথে। Come to the path of light

এসো হে আলোর পথে। Come to the path of light Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from এসো হে আলোর পথে। Come to the path of light, Grocers, Dhaka.

আপনি কি প্রথমবার হজ্বে যাচ্ছেন ⁉️হজ্ব একবারই ফরজ। মানে বেশিরভাগ মানুষের কাছে এটা জীবনের প্রথম আর একমাত্র বার। আর প্রথমবা...
06/08/2026

আপনি কি প্রথমবার হজ্বে যাচ্ছেন ⁉️

হজ্ব একবারই ফরজ। মানে বেশিরভাগ মানুষের কাছে এটা জীবনের প্রথম আর একমাত্র বার। আর প্রথমবার বলেই কিছু ভুল প্রায় সবাই করে — যেগুলো আগে জানা থাকলে সহজেই এড়ানো যেত।
কয়েকটা বলি।

ভুল ১ — অতিরিক্ত জিনিস নিয়ে যাওয়া।

প্রথমবারের মানুষ ভাবেন, ৪০ দিন থাকব, সব নিয়ে নিই। ফলে ব্যাগ ভরে যায় জামাকাপড়, খাবার, বাড়তি জিনিসে।
বাস্তবতা হলো — ওখানে সবই পাওয়া যায়, প্রায় দেশের দামেই। ভারী ব্যাগ টানা, বারবার গোছানো — এটাই সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। যত হালকা যাবেন, তত আরাম।

ভুল ২ — প্রথম কয়েকদিনেই সব শক্তি খরচ করে ফেলা।

মক্কায় পৌঁছে আবেগে অনেকে দিনরাত ইবাদত করেন, ঘুম বাদ দেন, বারবার তাওয়াফ করেন। কয়েকদিনেই শরীর ভেঙে পড়ে — আর ঠিক যখন মূল হজ্বের কঠিন দিনগুলো (মিনা-আরাফা) আসে, তখন আর শক্তি থাকে না।

জ্ঞানীরা বলেন — হজ্ব একটা ম্যারাথন, স্প্রিন্ট না। শক্তি জমিয়ে রাখুন মূল দিনগুলোর জন্য।

ভুল ৩ — বেশি কেনাকাটায় ডুবে যাওয়া।

খেজুর, জমজম, তাসবিহ, উপহার — আত্মীয়দের জন্য কিনতে কিনতে অনেকের মূল্যবান সময় বাজারেই কেটে যায়।

মনে রাখবেন, আপনি শপিং করতে যাননি। ওই সময়টা হারামে এক রাকাত বেশি পড়লে যে প্রতিদান, দুনিয়ার কোনো উপহার তার সমান না। কেনাকাটা শেষ দিকে, অল্প সময়ে সেরে ফেলুন।

ভুল ৪ — ফোন আর ছবিতে ডুবে থাকা।

কাবার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম কাজ — ছবি তোলা, ভিডিও করা, স্ট্যাটাস দেওয়া। অথচ এই মুহূর্তটা জীবনে আর আসবে না।

ছবি তুলুন, সমস্যা নেই। কিন্তু ক্যামেরার পেছনে পুরো সফরটা কাটিয়ে দেবেন না। কিছু দৃশ্য চোখ দিয়ে দেখার জন্য, ক্যামেরার জন্য না।

ভুল ৫ — মাসআলা না শিখে যাওয়া।

অনেকে ভাবেন, গাইড তো আছেই, ওখানে গিয়ে দেখা যাবে। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে, ক্লান্ত অবস্থায় নতুন জিনিস শেখা কঠিন। ইহরামের নিয়ম, তাওয়াফ-সাঈর তরিকা, কী করলে দম ওয়াজিব হয় — এগুলো আগে থেকে জানা থাকলে পুরো হজ্ব নিশ্চিন্ত হয়।

ভুল ৬ — ছোট ছোট বিরক্তিকে বড় করে ফেলা।

বাস দেরি করল, খাবার পছন্দ হলো না, রুমমেট বিরক্ত করল — প্রথমবারের মানুষ এসব নিয়ে মন খারাপ করে ফেলেন, আর হজ্বের আমেজটাই নষ্ট হয়।

মনে রাখবেন, আল্লাহ হজ্বে ঝগড়া নিষেধ করেছেন। ছোট ছোট জিনিসগুলো ছেড়ে দেওয়াই উত্তম।।

ভুল ৭ — আর সবচেয়ে বড় যে ভুলটা — সেটা আলাদা করে বলি।

হজ্বটাকে একটা "কাজ" হিসেবে দেখা।
তালিকা ধরে ধরে আমল করা, টাস্ক শেষ করার মতো করে তাওয়াফ-সাঈ সেরে ফেলা — কিন্তু অন্তরটা জুড়ে না দেওয়া।

অথচ হজ্বের আসল জিনিসটা তো অন্তরের। কতবার তাওয়াফ করলেন সেটা বড় না, তাওয়াফের সময় অন্তরটা কোথায় ছিল — সেটাই বড়।

একটা ছোট পরামর্শ দিই। যাওয়ার আগে একটা লিস্ট বানান — কী কী দুআ করবেন, কার কার জন্য করবেন। কারণ কাবার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকে আবেগে সব ভুলে যান, শুধু কাঁদেন। আগে থেকে লেখা থাকলে একটা দুআও বাদ পড়বে না।

সেই মুহূর্তটা — যেখানে দুআ ফেরানো হয় না — সেটা যেন হাতছাড়া না হয়।

আল্লাহ আমাদের প্রথমবারকেই সর্বোত্তম বানিয়ে দিন।
যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের হজ্ব কবুল করুন।

আমীন 🤲

ইয়া আল্লাহ, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, আসমান ও জমিনের সবকিছুর একচ্ছত্র অধিপতি আপনি। আমি আপনার এক নিতান্ত অসহায় ও দুর্বল ব...
30/06/2026

ইয়া আল্লাহ, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম,
আসমান ও জমিনের সবকিছুর একচ্ছত্র অধিপতি আপনি। আমি আপনার এক নিতান্ত অসহায় ও দুর্বল বান্দা। আমার সমস্ত পাপ, জানা-অজানা সব ভুলত্রুটি আপনি ক্ষমা করে দিন। আপনার রহমত ছাড়া এক মুহূর্তও টিকে থাকার কোনো ক্ষমতা আমার নেই।

ইয়া হাফিজ (মহান রক্ষক), ইয়া সালাম (শান্তিদাতা),
হে আল্লাহ, আপনি জমিনকে আমাদের জন্য বসবাসযোগ্য করেছেন, এই জমিনের যেকোনো কম্পন ও বিপর্যয় থেকে আমাদের হেফাজত করুন। ভয়াবহ ভূমিকম্প, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া এবং আকস্মিক যেকোনো আসমানি ও জমিনি বালা-মুসিবত থেকে আমাকে, আমার পরিবারকে এবং সমস্ত উম্মাহকে নিরাপদে রাখুন।

আমাদের ঘরবাড়িগুলোকে আপনার রহমতের চাদরে ঢেকে রাখুন। আমাদের ঘুমন্ত অবস্থায় বা অসতর্ক মুহূর্তে হঠাৎ আসা কোনো আজাব দিয়ে আমাদের পাকড়াও করবেন না।

ইয়া আরহামার রাহিমীন,
দুনিয়াতে আমার জন্য যতটুকু সময় নির্ধারিত, তা আপনার সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় করার তৌফিক দিন। আর যখন আমার বিদায়ের ডাক আসবে, তখন আমাকে 'হুসনে খাতীমা' বা এক সুন্দর ও প্রশান্তিময় মৃত্যু নসিব করুন।

ধ্বংসস্তূপের নিচে, আগুনে পুড়ে, পানিতে ডুবে বা কোনো যন্ত্রণাদায়ক আকস্মিক মৃত্যু থেকে আমাকে রক্ষা করুন।মৃত্যুর সময় আমার মুখে যেন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' জারি থাকে। সবচেয়ে সুন্দর অবস্থায়, সেজদারত অবস্থায় অথবা আপনার জিকিররত অবস্থায় আমার রুহ কবজ করার ব্যবস্থা করে দিন।

ইয়া গফফার (মহা ক্ষমাশীল), ইয়া কারীম (মহা দয়ালু),
কবরের আজাব থেকে আমাকে পানাহ দিন। মৃত্যু যেন আমার জন্য সমস্ত কষ্ট থেকে মুক্তির উপায় হয় এবং আখেরাতের প্রথম মনজিলে যেন আমি আপনার মেহমান হতে পারি।

ইয়া সামিউদ দুআ (দুআ শ্রবণকারী),
আমার এই আকুতি আপনি কবুল করে নিন। আমাকে ভয় ও আতঙ্ক থেকে মুক্ত করে আপনার ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল করার তৌফিক দিন।

*اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَدْمِ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ التَّرَدِّي، وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْغَرَقِ، وَالْحَرَقِ، وَالْهَرَمِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ يَتَخَبَّطَنِي الشَّيْطَانُ عِنْدَ الْمَوْتِ، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ فِي سَبِيلِكَ مُدْبِرًا، وَأَعُوذُ بِكَ أَنْ أَمُوتَ لَدِيغًا*

আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযূবিকা মিনাল হাদমি, ওয়া আউযূবিকা মিনাত তারাদ্দী, ওয়া আউযূবিকা মিনাল গারাক্বি, ওয়াল হারাক্বি, ওয়াল হারামি। ওয়া আউযূবিকা আঁই ইয়াতাখাব্বাত্বানিয়াশ শাইত্বানু ‘ইনদাল মাওতি, ওয়া আউযূবিকা আন্ আমূতা ফী সাবীলিকা মুদবিরান, ওয়া আউযূবিকা আন্ আমূতা লাদীগান।

হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি কোনো কিছুর নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে এবং গহ্বরে (বা উঁচু স্থান থেকে) পড়ে মৃত্যুবরণ থেকে। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে, আগুনে পুড়ে এবং অতি বার্ধক্যে উপনীত হয়ে মৃত্যুবরণ থেকে। মৃত্যুর সময় শয়তান যেন আমাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে, তা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। আপনার পথে (জিহাদের ময়দান থেকে) পলায়নরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা থেকে এবং বিষাক্ত প্রাণীর দংশনে মৃত্যুবরণ করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই।

*(সুনানে আবু দাউদ: ১৫৫২, সুনানে আন-নাসায়ী: ৫৫৪৬)*

আমীন, ইয়া রাব্বাল আলামীন।

এক দোয়ার বরকতে মুসা আলাইহিস সালামের: কর্মসংস্থান, বিয়ে, আবাসন ও নবুয়ত লাভ হয়েছিল।দোয়াটা👇ربي اني لما انزلت الي من خير فقي...
29/06/2026

এক দোয়ার বরকতে মুসা আলাইহিস সালামের: কর্মসংস্থান, বিয়ে, আবাসন ও নবুয়ত লাভ হয়েছিল।
দোয়াটা👇

ربي اني لما انزلت الي من خير فقير
রব্বি ইন্নি লিমা আংজালতা ইলাইয়্যা মিন খাইরিন ফাকির 💝

দরুদ শরীফের এক অলৌকিক ঘটনা 👇আরবের এক যুবক বলেন, আমি একসময় প্রচণ্ড দুঃখ-কষ্ট, বড় পরীক্ষা এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়...
25/06/2026

দরুদ শরীফের এক অলৌকিক ঘটনা 👇
আরবের এক যুবক বলেন, আমি একসময় প্রচণ্ড দুঃখ-কষ্ট, বড় পরীক্ষা এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলাম। আমার মনে হতো, এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া আমার জন্য প্রায় অসম্ভব।
সরকারি চাকরি পাওয়া ছিল আমার জীবনের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। আমি যখন দরুদ শরীফের ফজিলত সম্পর্কে জানতে পারলাম, তখন থেকে আমি প্রচুর পরিমাণে দরুদ পাঠ করতে শুরু করি।

​প্রতিটি মুহূর্তে, যাতায়াতের সময়, কাজের ফাঁকে এবং ঘুমানোর আগে প্রতিদিন ১০০০ বারেরও বেশি দরুদ পড়তাম। বিশেষ করে জুমার দিনে আমলটি আরও বাড়িয়ে দিতাম। এভাবে একটানা এক বছর আমি আমলটি চালিয়ে যাই।

আল্লাহ তা'আলা আমার জীবন থেকে সমস্ত দুঃখ, চিন্তা এবং বিপদ দূর করে দিলেন। আর সবচেয়ে অলৌকিক বিষয় হলো, এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে আমি তিনটি সরকারি চাকরির প্রস্তাব পেলাম! আমি নিজেই দ্বিধায় পড়ে গেলাম যে, এই তিনটির মধ্যে কোনটি রেখে কোনটিতে যোগ দেব।

​আল্লাহর কসম, এটি আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। দরুদ শরীফের এক অদ্ভুত গোপন রহস্য ও শক্তি রয়েছে, নিজে আমল না করলে বুঝতে পারবেন না। তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, আল্লাহর ওপর পূর্ণ দৃঢ় বিশ্বাস এবং আস্থা রাখা!
​আপনারা আমাকে দোয়ায় স্মরণ রাখবেন এবং আমার পরামর্শ হলো, বেশি বেশি দরুদ ও ইস্তিগফার পড়ুন।"

​আল্লাহর রহমত এবং দরুদ শরীফের বরকতেই এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে। দরুদ শরীফ হলো এমন এক গুপ্তধন, যার স্বাদ কেবল আমলকারীরাই পায়। কবি সত্যই বলেছেন,

إذا كنت في ضيق وهم وفاقة
وأمسيت مكروبا وأصبحت في حرج
​فصل على المختار من آل هاشم
كثيرًا فإن الله يأتيك بالفرج

​"যদি তুমি অভাব, অনটন ও সংকটে থাকো, যদি তোমার সন্ধ্যা কাটে দুঃখে আর সকাল হয় বিপদে; তবে বেশি বেশি দরুদ পড়ো হাশেমী বংশের সেই মহামানবের ওপর, নিশ্চয়ই আল্লাহ এর উসিলায় তোমার জন্য মুক্তির দুয়ার খুলে দেবেন।"

সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম

(সূত্র: কিসাসুন ওয়াকিয়্যাতুন ফি ফাযলিস সালাত পেজ; আরবি থেকে অনুদিত)

23/06/2026
সূরা আরাফে নতুন একটা ব্যাপার নিয়ে জানলাম। ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে, আখিরাতের পরিণাম হবে বাইনারি, হয় জান্নাত নয় জা*হান...
23/06/2026

সূরা আরাফে নতুন একটা ব্যাপার নিয়ে জানলাম। ছোট বেলা থেকে শুনে এসেছি যে, আখিরাতের পরিণাম হবে বাইনারি, হয় জান্নাত নয় জা*হান্নাম।

অথচ এই সূরার মাধ্যমে আমাদেরকে আল্লাহ জানিয়ে দিলেন— না, জান্নাত আর জা*হান্নামের মাঝামাঝিও আরেকটা জায়গা আছে। জায়গাটার নাম আরাফ!

এই জায়গার নাম অনুসারেই এই সূরার নামকরণ। "আরাফ" হবে তাদের জন্য, যারা এতটাও ভালো কাজ করেনি যে জান্নাতের টিকেট পেয়ে যাবে! আবার এতটাও খারাপ কাজ করেনি যে জা*হান্নামে যেতে হবে। এ যেন মিডেল ক্লাসদের চরণ ভূমি!

এই আরাফবাসি সবসময়ই আশায় থাকবে যে, তাদেরকে যেন কোন না কোন সময় জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়।

এই আরাফ ছাড়াও হাশরের (The Day Of Judgement) আরেকটা ইম্পর্টেন্ট ফেক্ট আমাদের অনেকেরই অজানা। আর সেটা হলো কান্তারা!

আমরা মনে করি, কোনো রকমে পুলসিরাত পার হইতে পারলেই বাঁচি। ভুল! পুলসিরাত পার হতে পারলেই জান্নাত নয়। পার হতে পারলে অপেক্ষা করবে মুমিনদের জন্য ফাইনাল পরীক্ষা।

হাশরের দিনে বিশ্বাসীদের বিচার হবে দু-বার। এক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পূর্বে। আরেক বার হবে সিরাত পার হওয়ার পরে। জি ঠিকই শুনেছেন।

পূর্বের বিচার হবে- "স্রষ্টার হক নষ্ট করার বিচার।"

আর পরের বিচার হবে- "বান্দার হক নষ্ট করার বিচার।"

আর যে জায়গাটায় বিচারটি হবে, সেই জায়গাটির নামই হলো— "কান্তারা।" আল-কান্তারাহ হলো- সিরাতের পর আরেকটি ছোট সিরাত। বিশ্বাসীগণ যখন জান্নাতে প্রবেশ করবে, তারা এই কান্তারার উপর দিয়েই প্রবেশ করবে। এবং স্রষ্টা এই কান্তারার উপরেই মুমিনদের মধ্যকার আন সেটেলড ইস্যুস গুলো রিসোলভ করবেন।
‎ ‎
কল্পনা করুন! একজন ব্যক্তি আল-কান্তারাহ তে, জান্নাতের দরজার অলমোস্ট দ্বারপ্রান্তে, অথচ সে সেথায় ঢুকতে পারছে না! কারণ তার সব সৎকর্মগুলো যা নিয়ে নিয়ে সে বড়াই করতো সব শেষ। উল্টো তাকে জা*হান্নামে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সেই হতোভাগাকে আপনি তখন কী বলবেন?

প্রিয় রাসূল (ﷺ) অবশ্য সেই হতভাগা কে ডিফাইন করেছেন "মুফলিস" হিসেবে। "মুফলিস" অর্থ হলো দেউলিয়া।

রাসূল (ﷺ) বলেছেন, “তোমরা কি জানো, কে আসল দেউলিয়া?”

সাহাবারা (রা.) উত্তর দেন, “যার কাছে অর্থ বা সম্পদ কিছুই নেই সে ইয়া রাসূলুল্লাহ?”

রাসূল (ﷺ) বললেন, “না! আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দেউলিয়া হচ্ছে সেই ব্যক্তি– যেই ব্যক্তি কি*য়ামতের দিনে অনেক নামাজ, অনেক রোজা ও অনেক সদকা নিয়ে উপস্থিত হবে। অথচ সে দেখতে পাবে যে, সে ঐ দিনে দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে! কারণ জীবদ্দশায় সে অন্যদের গা*লি দিয়ে বেড়াতো। অন্যদের অপবাদ দিয়ে বেড়াতো। অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াতো। অন্যের র*ক্তপাত ঘটিয়ে বেড়াতো এবং অন্যকে প্রহার করে বেড়াতো। আজ তার সব সৎকর্মগুলো ভুক্তভোগীদেরকে দিয়ে দিতে হচ্ছে!

শুধু তাই না! যদি তার ভালো কাজগুলো ক্ষতিপূরণ গুলোকে কভার করতে না পারে, তাহলে তাদের পাপ গুলোও তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জা*হান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।”

তাই বলছি, আপনার যারা নামাজ রোজা সাদাকার পাশাপাশি আপনার মুখের ভাষার মাধ্যমে অন্যদের কষ্ট দিয়ে বেড়াচ্ছেন কিংবা আমল দিয়ে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করে বেড়াচ্ছেন, তাদের জন্য একটাই কথা—
দেখা হবে বন্ধু!
দেখা হবে কান্তারায়!
‎ ‎
▪️রেফারেন্স :
১. (সূরা আল-আরাফ : ৪৬)
২. (সহীহ্ বুখারী : ২৪৪০)
৩. (সহীহ্ মুসলিম : ২৫৮১)

#সীরাহ

খুব বেশি বিপদে আছেন? ৩ দিনে আল্লাহর সাহায্য আসতে পারে—একটি পরীক্ষিত আমল। ইনশাআল্লাহ কিছু সময় আসে, যখন মানুষ সব পথ বন্ধ ...
25/05/2026

খুব বেশি বিপদে আছেন? ৩ দিনে আল্লাহর সাহায্য আসতে পারে—একটি পরীক্ষিত আমল। ইনশাআল্লাহ

কিছু সময় আসে, যখন মানুষ সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করে। দোয়া করে, চেষ্টা করে, তবুও যেন কোনো দরজা খুলছে না। আমি এমন একজন মানুষের ঘটনা শুনেছিলাম, যে ঠিক এমন এক কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল।

তার ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ঋণের চাপ বাড়ছিল প্রতিদিন। ফোন বেজে উঠলেই মনে হতো—হয়তো আবার কোনো পাওনাদার টাকা চাইতে ফোন করেছে। রাতে ঘুম আসত না, আর দিনে মাথায় শুধু একটাই চিন্তা—এভাবে আর কতদিন?

একদিন সে খুব ভেঙে পড়ে এক বুজুর্গ আলেমের কাছে গেল। সব খুলে বলল—হুজুর, আমি খুব বিপদে আছি। মনে হচ্ছে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। আলেম সাহেব শান্তভাবে তার কথা শুনলেন। তারপর বললেন— তুমি একটা ছোট আমল নিয়মিত করো। কিন্তু শর্ত হলো—মন থেকে করবে, আর আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখবে।

তিনি তাকে তিনটি সহজ জিকির শিখিয়ে দিলেন।
প্রতিদিন পড়তে হবে— ওই বুজুর্গ আলেমের কথা শুনে লোকটি প্রথম অবাক হয়ে ছিল, এত ছোট ছোট জিকিরের মাধ্যমে কিভাবে, তিন দিনে অলৌকিকভাবে দোয়া কবুল হতে পারে?

১️. "লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম" — ২১ বার
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো শক্তি ও ক্ষমতা নেই।

২️. "আস্তাগফিরুল্লাহ ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রহীম" — ২১ বার
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই, নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

৩️. "আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ" — ২১ বার
এই দরুদ পড়ে আমাদের প্রিয় নবী
Muhammad (সা.)-এর উপর রহমত প্রার্থনা করা হয়।

বুজুর্গ আলেম সাহেব বললেন—তিন দিন নিয়মিত করো। তারপর দেখো আল্লাহ কী করেন। প্রথম দিন সে এই আমল করল, কিন্তু তার মন খুব অস্থির ছিল। মনে হচ্ছিল—এতে কি সত্যিই কিছু বদলাবে?

দ্বিতীয় দিনেও সে একইভাবে জিকিরগুলো পড়ল। সেদিন তার মনে একটু শান্তি অনুভূত হলো।
তৃতীয় দিন সকালে হঠাৎ একটা ফোন এল।
একজন পুরোনো পরিচিত মানুষ, যার সাথে অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না, তাকে একটি নতুন কাজের প্রস্তাব দিল।কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তার ব্যবসার অবস্থা ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করল।

সে পরে বলেছিল—অলৌকিকভাবে আমার জীবনে টাকা হঠাৎ এসে পড়েনি। কিন্তু আমার ভাঙা পরিস্থিতির মধ্যে আল্লাহ এমন দরজা খুলে দিয়েছেন, যা আমি কল্পনাও করিনি। তখন সে বুঝতে পেরেছিল—আল্লাহর সাহায্য সবসময় বজ্রপাতের মতো আসে না। কখনো কখনো সাহায্য আসে নিঃশব্দে, একটি সুযোগের মাধ্যমে, একটি মানুষের মাধ্যমে, অথবা হৃদয়ের ভেতর নতুন শক্তি দিয়ে।
তাই যদি আপনি এখন খুব কঠিন সময়ের মধ্যে থাকেন—
হয়তো এই ছোট আমলটিই হতে পারে আপনার জন্য নতুন শুরু।

🌿 মনোযোগ দিয়ে পড়ুন—

১️. লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহিল আলিয়্যিল আযীম — ২১ বার

২️. আস্তাগফিরুল্লাহ ইন্নাল্লাহা গাফুরুর রহীম — ২১ বার

৩️. আল্লাহুম্মা সাল্লি ওয়া সাল্লিম আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ — ২১ বার

আর আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়া করুন। হয়তো আপনি বুঝতেও পারবেন না— কীভাবে ধীরে ধীরে আপনার কঠিন সময়টা বদলে যেতে শুরু করেছে।

সাওয়াবের নিয়তে এই আমলটি অন্যদের কাছেও পৌঁছে দিন। হয়তো কারো জীবনে এটি নতুন আশার আলো হয়ে উঠবে।

আরাফার দিন হল দু'আর দিন! দুয়া কবুলের দিন!এটুকু তো সবাই জানেন, তাই এ ব্যাপারে লিখতেছি না। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, কি দুয়া ক...
21/05/2026

আরাফার দিন হল দু'আর দিন! দুয়া কবুলের দিন!
এটুকু তো সবাই জানেন, তাই এ ব্যাপারে লিখতেছি না। কিন্তু প্রশ্ন হলো যে, কি দুয়া করবো? কিছু তো মাথায় আসে না।

এই আরাফার দিন আবার ৩৫৯/৩৬০ দিন পরে আসবে। অতএব এই দিনকে হারানো যাবে না। বেশি বেশি দোয়া করতে হবে, চোখের পানি ফেলে করতে হবে, চোখে পানি না আসলে কান্নার ভান করতে হবে।

আরাফার দিনের সবচেয়ে উত্তম দু’আ—

لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অর্থ: “আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই। সমস্ত রাজত্ব তাঁর, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর, আর তিনি সবকিছুর উপর সক্ষম।”

রাসূল ﷺ বলেন, "আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ যেটা এই দিনে বলেছি, তার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম দোয়া এটাই।" (তিরমিযি)

এই একটি মাত্র আরবি দুয়া যেটি আপনি একদম ঠোটস্থ করে নিন অর্থসহ।
এছাড়া অন্যান্য আরবি দুয়া যদি আপনার স্পষ্টভাবে অর্থসহ মূখস্থ থাকে এবং আপনি যদি সেগুলো পড়তে চান, তবেই কেবল পড়বেন। অন্যথায় মোনাজাতে বা নামাজে এমন দুয়া পড়বেন না যার অর্থ আপনি জানেন না।

আপনি কি চাইতেছেন আল্লাহর কাছে — সেটা যদি আপনি না জানেন — তাহলে রিডিং পড়ে লাভ আছে?
তবে নামাজ/মোনাজাতের বাইরে অর্থ দেখে আরবি দুয়া পড়তে পারেন। হিসনুল মুসলিমে অনেক দুয়া পাবেন।

তো আমার উপদেশ/রিকমেন্ডেশন হলো যে আপনারা নিজ ভাষায় দুয়া করুন।
আমার একটা কলম চাই থেকে শুরু করে আমার হাতের রান্না সুস্বাদু করে দিন! আমাকে সুন্দরী করে দিন থেকে শুরু করে আমাকে স্বামী সোহাগী করে দিন— সবকিছু এমন ভাষায় চান যেই ভাষা আপনি বুঝেন।
যে ভাষা আপনি বুঝতেছেন না সেই ভাষায় আবেগ আসবে না। আর এই আবেগ আর তাওয়াক্কুল দুয়া কবুলে অনেক অবদান রাখে।

এখন প্রশ্ন হলো নিজ ভাষায় কি চাইবো? দুয়া করার সময় তো মনে থাকে না।
উত্তর হলো, এতো ভাবার দরকার নেই। যা মনে আসবে তা-ই চাইবেন। সারাদিনই তো আছে। মোনাজাত শেষে যদি মনে পড়ে যে আরেকটা জিনিস চাওয়া বাকি রইছে, তবে আবার মোনাজাত ধরে সেটা চেয়ে নিবেন।
এক জিনিস বারবার চাইবেন। রসুল ﷺ এক দুয়া ৩ বার করতেন।

⚪ কি কি চাওয়া যায়?

আচ্ছা, আরাফার দিনে দুয়া করলেই শেষ?
এর পরে আর দুয়া করতে চান না আপনি? — অবশ্যই চান! তাহলে আজীবন দুয়া করার তৌফিক চাইতে হবে আল্লাহর কাছে। কিন্তু হিদায়াত না থাকলে তো এই তৌফিক হবে না। আর এই হিদায়াতের পথে মূল বাধা হচ্ছে গুনাহ!
তাই নিজের গোনাহ ও আত্মার সংশোধনের জন্য দুয়া করতে হবে।

হে আল্লাহ, আমার সব গোনাহ মাফ করে দিন, গোপন ও প্রকাশ্য।
হে আল্লাহ, আমার অন্তরকে শুদ্ধ করে দিন— আমাকে রিয়া, হিংসা, অহংকার ও সব নেগেটিভিটি থেকে বাঁচান।
হে আল্লাহ, আমাকে হিদায়াতে রাখুন, হিদায়াতের উপর মৃত্যু দিন।
হে আল্লাহ, দুনিয়াতে যা কিছু চাই তা একটা জুতার ফিতা হলেও তা আপনার কাছে চাওয়ার তৌফিক দিন আজীবন।
হে আল্লাহ, ইবাদাতকে আমার অক্সিজেনের মতো করে দিন— যেটা ছাড়া আমি থাকতে পারবো না। এবং ইবাদাতকে আমার জন্য সহজ করে দিন।

নিজের দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য চাইতে হবে—

হে আল্লাহ, আমার দুনিয়াও সুন্দর করে দিন, আর আখিরাতও! এবং আমাকে কষ্টের জায়গা থেকে সরিয়ে শান্তির জায়গায় রাখুন।
হে আল্লাহ, আমাকে এমন জীবন দিন, যেটা আপনাকে সন্তুষ্ট করে।
হে আল্লাহ, কিয়ামতের দিন যেন আমার মুখ উজ্জ্বল হয়, আমলনামা ডানে আসে।
হে আল্লাহ, আমাকে মেধাবী করে দিন এবং সুন্দরীও করে দিন।
হে আল্লাহ, আমার চেহারা এবং আচরন উভয়ই এমন করে দিন যা সকলকে আফিয়্যাতের সাথে আকৃষ্ট করবে।

জান্নাত লাভ ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাইতে হবে—

হে আল্লাহ, আমাকে জান্নাতুল ফিরদাওস দান করুন ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা করুন।
হে আল্লাহ, আমাকে কবরের আযাব ও কিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদে রাখুন।

পরিবার, স্বামী/স্ত্রী ও ভবিষ্যতের জন্য চাইতে হবে—

হে আল্লাহ, আমার মা-বাবাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সুখ দিন, ক্ষমা করুন। এবং আমার শশুড় শাশুড়ীকেও।
হে আল্লাহ, আমার স্বামী/স্ত্রীকে আপনার প্রিয় বান্দা/বান্দি হিসেবে কবুল করুন।
হে আল্লাহ, আমাদের স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা যেন আপনাকে ঘিরে হয়।
হে আল্লাহ, আমাদের স্বামী স্ত্রীকে একে অপরের চক্ষু শীতলকারী ও অন্তর প্রশান্তকারী করে দিন।
হে আল্লাহ, আমাদের ঘরে বরকত দিন, দ্বীনের আলো দিন।
হে আল্লাহ, আমাদেরকে নেককার সন্তান দিন! পুত্র এবং কন্যা উভয়ই।

রিজিক ও চাহিদার জন্য দুয়া করবেন—

হে আল্লাহ, হালাল রিজিক দিন এবং তাতে বরকত দিন।
হে আল্লাহ, দারিদ্র্যতা দূর করুন ও দারিদ্র্যতা দিবেন না।
হে আল্লাহ, অভাবে যেনো ইমান না হারাই আর আধিক্যে যেনো অহংকারী না হই।

ইলম, ইবাদত ও দ্বীনের জন্য চাইবেন—

হে আল্লাহ, আমাকে কুরআনের সাথী বানান।
হে আল্লাহ, আমাকে নামাজের মধুরতা বুঝার তাওফিক দিন! খুশু খুযু সহকারে সকল আমল করার তৌফিক দিন।
হে আল্লাহ, আমার দিনগুলোকে ইবাদতের জন্য বরকতময় করে দিন, আমার সময়ে বারাকাহ দিন।
হে আল্লাহ, আমাকে সহিহ ইলম দিন। আমার জন্য ইলম অর্জনকে সহজ করে দিন।

হে আমার রব! হে আরশের মালিক! হে আসমান জমিন ও এর মাঝে যা আছে সবকিছুর মালিক—
আপনি জানেন আমি কতটা অক্ষম… আমায় পথ দেখান।
হে আল্লাহ! আমি হয়তো বারবার ফিরে যাই গোনাহে, কিন্তু আমি আপনাকেই ভালোবাসি।
হে আল্লাহ! আমি আপনি ছাড়া আর কারো কাছে চাই না, তাই আমাকে ফেলে দেবেন না।
হে আল্লাহ, আপনি ছাড়া আমার কোনো দয়ার দরজা নেই, তাই আমার দোয়া কবুল করুন।
হে আল্লাহ! আমি জানি না, আমি জান্নাতের উপযুক্ত কি না, তবুও আপনার জান্নাত চাই।
হে আল্লাহ, আপনার কাছে আমি আপনাকেই চাই বারবার!
হে রব, যদিও আমি অযোগ্য, তবে আপনি দয়াময়!

কোনো শর্ত নেই, আপনি চাইলে কাঁদতে কাঁদতে নিজের মনের ভাষায় দোয়া করতে পারেন।
মনে যা আছে, সব খুলে বলুন।
নিজেকে ছোট, অক্ষম, গোনাহগার ভেবে বলুন।
দুয়ার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ পড়ুন।

বারবার বলুন: “হে আল্লাহ, আপনি কবুল করে নিন।”
গোপনে, ভাঙা হৃদয়ে, চোখের পানি ফেলে বলুন।

বারবার একই দোয়া করুন, একঘেয়েমি ভাববেন না। একটু পরপর করুন।৷

বারবার বলুন —হে আল্লাহ, কবুল করে নিন! হে আল্লাহ, কবুল করে নিন!

এবং অবশ্যই পরিবার আত্মীয় স্বজনদের দুয়াতে রাখবেন। এবং আপনার দ্বীনি বোনদেরকেও ভুলে যাবেন না।
এবং অবশ্যই অবশ্যই আপনার এই বোনটিকেও দুয়াতে রাখবেন।

জীবনে অনেক তো মুনাজাত করেছেন! এবার উত্তমরূপে এইভাবে একবার করুন।✅নিজের জন্য দোয়ার লিস্টআমাদের দু'আর সবচেয়ে বেশি হক্কদার আ...
11/05/2026

জীবনে অনেক তো মুনাজাত করেছেন! এবার উত্তমরূপে এইভাবে একবার করুন।

✅নিজের জন্য দোয়ার লিস্ট

আমাদের দু'আর সবচেয়ে বেশি হক্কদার আমরা নিজেরাই। রাসুলুল্লাহ্ (সা)এর সুন্নাহ, কারো জন্য দু'আ করলে প্রথমে নিজের জন্য দু'আ করা। (মুসনাদে আহমদ ২১২৪৭ (৫/১২১)

দু'আ লিস্টটাতে আমি নিজের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের বেসিক চাওয়াগুলোই লেখার চেষ্টা করেছি। আপনারা অবশ্যই আপনাদের নোটবুকে দু'আগুলো নোট করে নিবেন। এসব ছাড়াও আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনেক অনেক প্রয়োজন আছে। সেসবও নোট করে রাখার চেষ্টা করবেন। ছোট-বড় সকল প্রয়োজন আল্লাহকে বলবেন। খুব করে আল্লাহর কাছে চাইবেন। বেশি বেশি চাইবেন।

দু'আতেই সব সুখ! একমাত্র দোয়াই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, মৃত্যু পর্যন্ত পিছিয়ে যায় (নেক হায়াৎ বৃদ্ধি পায়)।

ইয়া আল্লাহ, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, ইয়া জাল জালালি ওয়াল ইকরাম,

আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দাও।

তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে।

আমি তোমার কাছে পানাহ চাই তাকদিরের খারাপ কিছু থেকে।

হে আল্লাহ! আমার উপর তোমার রহমত, দয়া, বরকত, শান্তি, ক্ষমা বর্ষণ করো।

ক্ষমা করে দাও আমার আগের পাপ, আমার পরের পাপ, আমার ছোট-বড় সকল পাপ, আমার গোপন পাপ, আমার প্রকাশ্য পাপ। আমার বাড়াবাড়ি এবং যে সকল পাপের কথা তুমি ভালো জানো। ক্ষমা করো সেসব পাপ, যা আমি ভুলে যাই। ক্ষমা করো সেসব পাপ, যা আমি পাপই মনে করি না।

আমাকে আশ্রয় দাও বিতাড়িত শয়তান থেকে, তার ওয়াসওয়াসা থেকে ও অতৃপ্ত নফস থেকে।

আমাকে আশ্রয় দাও দুনিয়ার জীবনের ফিতনা ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে। এবং দাজ্জালের অমঙ্গল থেকে।

আমার জন্য তোমার করুনার দরজা, তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।

আমার রিজিকে প্রশস্ততা দাও। অঢেল বরকতময় রিজিক দাও। বেহিসাবি রিজিক দাও। এবং সেসব তোমার সন্তুষ্টি অনুযায়ী তোমার পথে ব্যয় করার নসীব দাও।

আমাকে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার জীবন দাও। পরিপূর্ণ সুস্থতা, নিরাপত্তা দাও।

আমাকে মৃত্যু অবধি পরিপূর্ণ হিদায়তের উপর অটল রাখো। আমাকে এক মূহুর্তের জন্যও নিজের জিম্মায় ছেড়ে দিও না।

ইয়া রব্ব, আমার অভিভাবক, বন্ধু হিসেবে তুমিই যথেষ্ট হয়ে যাও।

হে আমার প্রতিপালক, আমাকে বানিয়ে দাও তোমার জন্য অধিক

কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, অধিক যিকরকারী, অধিক তাকওয়াবান, তোমার প্রতি অধিক বিনয়ী, অধিক আনুগত্যকারী, তোমার প্রতি বেশি বেশি তওবাকারী।

আমার জিহ্বাকে তোমার যিকর দ্বারা সুসজ্জিত, পবিত্র করে দাও। আমার কলবকে আখিরাতের ফিকির দ্বারা পূর্ণ করে দাও।

আমার তওবা কবুল করে নাও। আমার পাপকে ধুয়ে দাও, আমার দুআ কবুল করো। আমার জিহ্বাকে পবিত্র ও সুসংরক্ষিত রাখো।

আমার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করো। হিংসা, বিদ্বেষ, সংকীর্ণতাসহ সমস্ত অন্তরের রোগ থেকে আমার অন্তরকে পবিত্র রাখো।

আমার হৃদয়কে আজীবনের জন্য প্রশান্ত করে দাও।

যা কিছু আমাকে পীড়িত করে, সেসব কিছু আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও।

আমার ইজ্জত-আব্রুকে হেফাজত করো আমার মৃত্যু অবধি এবং এর পরেও।

দুনিয়ার কারো কাছে আমার মাথা নত হতে দিও না। সৃষ্টির মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে পানাহ দাও।

আল্লাহ! আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াতের সাথে সম্মানিত করো।

আমাকে দুনিয়ায় দাও উত্তম বাসস্থান, উত্তম পরিজন, উত্তম সঙ্গী ও উত্তম রিজিক। আখিরাতকে করো দুনিয়ার চেয়ে বহুগুণে উত্তম, পবিত্র ও সম্মানিত।

মৃত্যুকে আমার জন্য সহজ ও আনন্দদায়ক করে দাও। ইজ্জতের সাথে আমার মৃত্যু দাও। জবানে কালিমা রেখে, অন্তরে তোমার ভরপুর ভালোবাসা, তাকওয়া রেখে মৃত্যুবরণ করার তওফিক দাও। আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু দাও। রাসুলের শহরে আমার মৃত্যু দাও। জান্নাতুল বাকিতে দাফন হওয়ার নসীব দাও। আমার কবরকে প্রশস্ত, আরামদায়ক করে দাও।

তোমার নিয়ামত দেওয়ার পর তা ছিনিয়ে নিও না। এবং এর সাথে পরীক্ষাও রেখো না।

আমাকে এমন কষ্ট দিও না, যা আমার ইমানকে সংকটে ফেলবে, আমার অন্তর বিধ্বস্ত করে দিবে। আমার শরীর ভেঙে দিবে। আমলে ঘাটতি আনবে।

আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ চাই। আমার জানা-অজানা যত কল্যাণ, সব তুমি আমায় দাও। আমার জানা-অজানা সমস্ত অকল্যাণ থেকে আমাকে আজীবন পানাহ দাও।

ইয়া রব্ব! তোমার কোনো বান্দা আমার উপর যেন প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে জুলুম করতে না পারে। আমিও যেন তোমার কোনো বান্দার উপর জুলুম না করি।

আমাকে সবসময় এমন মানুষদের সঙ্গে রেখো, যাদের সঙ্গ ঈমানকে বৃদ্ধি করে।

মা-বাবা ও জীবনসঙ্গীর সন্তুষ্টি নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাতের তওফিক দাও।

ইয়া রব্ব। এমন দু'আ থেকে পানাহ চাই, যে দু'আ কবুল হয় না। আমার অন্তরের চাওয়াগুলো আমার চেয়ে তুমি ভালো জানো। আমার চাওয়াগুলো আফিয়াতের সাথে, উত্তমভাবে কবুল করে নাও।

আমিন

☞ ইসলামের যে কোনো বিষয় সুন্দরভাবে জানতে-বুঝতে পেইজটি ফলো দিয়ে রাখুন।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when এসো হে আলোর পথে। Come to the path of light posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category