06/08/2026
আপনি কি প্রথমবার হজ্বে যাচ্ছেন ⁉️
হজ্ব একবারই ফরজ। মানে বেশিরভাগ মানুষের কাছে এটা জীবনের প্রথম আর একমাত্র বার। আর প্রথমবার বলেই কিছু ভুল প্রায় সবাই করে — যেগুলো আগে জানা থাকলে সহজেই এড়ানো যেত।
কয়েকটা বলি।
ভুল ১ — অতিরিক্ত জিনিস নিয়ে যাওয়া।
প্রথমবারের মানুষ ভাবেন, ৪০ দিন থাকব, সব নিয়ে নিই। ফলে ব্যাগ ভরে যায় জামাকাপড়, খাবার, বাড়তি জিনিসে।
বাস্তবতা হলো — ওখানে সবই পাওয়া যায়, প্রায় দেশের দামেই। ভারী ব্যাগ টানা, বারবার গোছানো — এটাই সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। যত হালকা যাবেন, তত আরাম।
ভুল ২ — প্রথম কয়েকদিনেই সব শক্তি খরচ করে ফেলা।
মক্কায় পৌঁছে আবেগে অনেকে দিনরাত ইবাদত করেন, ঘুম বাদ দেন, বারবার তাওয়াফ করেন। কয়েকদিনেই শরীর ভেঙে পড়ে — আর ঠিক যখন মূল হজ্বের কঠিন দিনগুলো (মিনা-আরাফা) আসে, তখন আর শক্তি থাকে না।
জ্ঞানীরা বলেন — হজ্ব একটা ম্যারাথন, স্প্রিন্ট না। শক্তি জমিয়ে রাখুন মূল দিনগুলোর জন্য।
ভুল ৩ — বেশি কেনাকাটায় ডুবে যাওয়া।
খেজুর, জমজম, তাসবিহ, উপহার — আত্মীয়দের জন্য কিনতে কিনতে অনেকের মূল্যবান সময় বাজারেই কেটে যায়।
মনে রাখবেন, আপনি শপিং করতে যাননি। ওই সময়টা হারামে এক রাকাত বেশি পড়লে যে প্রতিদান, দুনিয়ার কোনো উপহার তার সমান না। কেনাকাটা শেষ দিকে, অল্প সময়ে সেরে ফেলুন।
ভুল ৪ — ফোন আর ছবিতে ডুবে থাকা।
কাবার সামনে দাঁড়িয়ে প্রথম কাজ — ছবি তোলা, ভিডিও করা, স্ট্যাটাস দেওয়া। অথচ এই মুহূর্তটা জীবনে আর আসবে না।
ছবি তুলুন, সমস্যা নেই। কিন্তু ক্যামেরার পেছনে পুরো সফরটা কাটিয়ে দেবেন না। কিছু দৃশ্য চোখ দিয়ে দেখার জন্য, ক্যামেরার জন্য না।
ভুল ৫ — মাসআলা না শিখে যাওয়া।
অনেকে ভাবেন, গাইড তো আছেই, ওখানে গিয়ে দেখা যাবে। কিন্তু ভিড়ের মধ্যে, ক্লান্ত অবস্থায় নতুন জিনিস শেখা কঠিন। ইহরামের নিয়ম, তাওয়াফ-সাঈর তরিকা, কী করলে দম ওয়াজিব হয় — এগুলো আগে থেকে জানা থাকলে পুরো হজ্ব নিশ্চিন্ত হয়।
ভুল ৬ — ছোট ছোট বিরক্তিকে বড় করে ফেলা।
বাস দেরি করল, খাবার পছন্দ হলো না, রুমমেট বিরক্ত করল — প্রথমবারের মানুষ এসব নিয়ে মন খারাপ করে ফেলেন, আর হজ্বের আমেজটাই নষ্ট হয়।
মনে রাখবেন, আল্লাহ হজ্বে ঝগড়া নিষেধ করেছেন। ছোট ছোট জিনিসগুলো ছেড়ে দেওয়াই উত্তম।।
ভুল ৭ — আর সবচেয়ে বড় যে ভুলটা — সেটা আলাদা করে বলি।
হজ্বটাকে একটা "কাজ" হিসেবে দেখা।
তালিকা ধরে ধরে আমল করা, টাস্ক শেষ করার মতো করে তাওয়াফ-সাঈ সেরে ফেলা — কিন্তু অন্তরটা জুড়ে না দেওয়া।
অথচ হজ্বের আসল জিনিসটা তো অন্তরের। কতবার তাওয়াফ করলেন সেটা বড় না, তাওয়াফের সময় অন্তরটা কোথায় ছিল — সেটাই বড়।
একটা ছোট পরামর্শ দিই। যাওয়ার আগে একটা লিস্ট বানান — কী কী দুআ করবেন, কার কার জন্য করবেন। কারণ কাবার সামনে দাঁড়িয়ে অনেকে আবেগে সব ভুলে যান, শুধু কাঁদেন। আগে থেকে লেখা থাকলে একটা দুআও বাদ পড়বে না।
সেই মুহূর্তটা — যেখানে দুআ ফেরানো হয় না — সেটা যেন হাতছাড়া না হয়।
আল্লাহ আমাদের প্রথমবারকেই সর্বোত্তম বানিয়ে দিন।
যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের হজ্ব কবুল করুন।
আমীন 🤲