26/01/2025
শিশুজন্মের প্রথম তিন বছরকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ শিশুর মেধা বিকাশে এটি সর্বোত্তম সময়; তাই তাদের খাবার নির্বাচন করা উচিত ভেবেচিন্তে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর মেধা বিকাশে ও মস্তিষ্ক গঠনে সারা বিশ্বে স্বীকৃত কিছু খাবার রয়েছে, যেগুলো সুপার ফুড হিসেবে দারুণ কাজ করে।
🟢 ডিম: মস্তিষ্ক গঠনের পাশাপাশি মেধা বিকাশে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম এমন খাবারের তালিকায় একেবারে প্রথমদিকে রয়েছে ডিমের নাম। ডিমের আয়রন লোহিত কণিকা তৈরি করে রক্তের উপাদানে সঠিক মাত্রা বজায় রাখে। এর ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে, যা ধীরে ধীরে শিশুর চিন্তাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তা বাড়িয়ে তোলে।
🟢কলা: শিশুর মস্তিষ্ক বিকাশে প্রতিদিন একটি করে কলা ডায়েটে প্রাধান্য দেয়া দরকার। কলাতে থাকা শর্করা দীর্ঘক্ষণ শরীরে শক্তি ধরে রাখতে পারে। এটি শিশুর যেকোনো বিষয়ে মনোযোগ বাড়িয়ে তোলার মাধ্যমে মস্তিস্কের প্রখরতা দৃঢ় করে।
🟢 বাদাম: বাদামে থাকা ভিটামিন ই শিশুর মস্তিষ্কের সমন্বয় সাধনের ক্ষমতা বাড়ায়। তাই প্রতিদিন বিকেলে শিশুকে বাইরের খাবার না দিয়ে দেয়া যেতে পারে ৮ থেকে ১০টি বাদাম।
🟢মধু: প্রাকৃতিক উপাদানে ভরপুর একটি খাবার হলো মধু। ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, পটাশিয়াম, ফসফরাস ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুলো থাকার কারণে এটি শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার পাশাপাশি শিশুর হার্ট ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দারুণ কাজ করে।
🟢পালং শাক: শিশুর দুপুরের খাবারে নিয়মিত পালং শাক রাখা দরকার। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন কে এবং বিটা ক্যারোটিন রয়েছে, যা শিশুর মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধি করে স্মৃতিশক্তিকে বাড়িয়ে তোলে।
🟢 মাছের তেল: মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা দ্রুত বাড়িয়ে তুলতে পারে মাছের তেল। শিশুর খাবারে তাই মাছের তেলের প্রাধান্য দেয়া প্রয়োজন। বেশি ভালো ফলাফল পেতে সামুদ্রিক মাছ ও এর তেল দেয়া যায়।
এ ৬টি ছাড়াও শিশুকে খাওয়াতে পারেন কর্নফ্লেকস, শুকনো ফল, কিউই, পনির, আখরোট, স্ট্রবেরি, আমলকি, কালোজিরা, লাল আপেল ইত্যাদি। এসব খাবার নিয়মিত খাওয়ার অভ্যাসে শিশুর মস্তিষ্কের দক্ষতা অন্য শিশুর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকরী হতে বাধ্য।