08/08/2026
জান্নাত থেকে আরাফ কি তিক্ত অভিজ্ঞতা রে ভাই!!
সব মাসনাওয়ালারা যদি এভাবে শেয়ার করতো তাহলে অনেকেরই এই ফালতু ফ্যান্টাসি কমতো।
আজ হঠাৎ জনৈকা আহলিয়ার অনুমতিক্রমে তার ডায়েরির কয়েকটা পাতা উল্টালাম। কোন্ আহলিয়ার সাথে কত রাত্রি যাপন করেছি এবং কতদিন সফরে ছিলাম—এর পূর্ণ ডিটেইলস লেখা দেখে আমি রীতিমত অবাক। এমনকি কোন্ দিন রাত কতটা কত মিনিটে তার ঘরে প্রবেশ করেছি—তাও লেখা।
যখন বৌ একটা ছিল তখন 'খেয়ে থাকি, আর না খেয়ে থাকি' যেন জান্নাতে ছিলাম। আর দ্বিতীয় বিবাহের পর সেই তুলনায় অনেক প্রাচুর্যে থাকা সত্ত্বেও আছি যেন আরাফে (অর্থাৎ জান্নাত-জাহান্নামের ঠিক মাঝখানে)। ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় সামান্য উনিশ-বিশ হলে কোন্ বউ ধাক্কা দিয়ে জাহান্নামে ফেলে দিবে—এই আশঙ্কায় ভুগি সব সময়। এজন্য ইনসাফের দাঁড়িপাল্লার দুই প্রান্ত সমান্তরাল আছে কিনা—এই আশঙ্কায় হৃদয়ে রোমান্টিকতার খরা চলতে থাকা অবস্থায়ও রোমান্টিকতার অভিনয় চালিয়ে যেতে হয় পুরোদমে।
কখনো বাস্তবেই একটু রোমান্টিক হওয়ার জন্য একজনকে নিয়ে ঘুরতে গিয়ে একটু আচার কিনে দিলেও স্মরণ রাখতে হয় এর বিপরীতে আরেকজনকেও যেন কিছু দিতে পারি। কারণ আরেকজন অনুপস্থিত হলেও তার পক্ষে আল্লাহ দেখছেন, ফেরেশতারা লিখছেন। ফলে কখনো কখনো একটা ভালো জিনিস পছন্দ হলেও জোড়া না মিললে কিংবা দুটো কেনার সামর্থ্য না থাকলে নিতে পারি না। কখনো কখনো একই জিনিস ভিন্ন রঙের পাওয়া গেলেও দেখা যায় দুজনেরই একই রঙ পছন্দ।
নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার সামান্য কিছু কথা এজন্যই শেয়ার করলাম, যাতে কেউ বহু বিবাহের ফ্যান্টাসিতে না ভুগে বাস্তববাদী হয়। কেননা, অনেকেই বউকে শুধু ফিরাশ বা বিছানা হিসেবেই কল্পনা করে। দুই বউ মানে দুটো বিছানা। আজ এই বিছানায় শোবে। তো, কালো ও বিছানায়। জীবনের বাস্তবতা না বুঝে যারা এমন ফ্যান্টাসিতে ভোগে তারা দ্বিতীয় বিবাহ করে কখনোই ইনসাফ করা তো দূরের কথা স্ত্রীদের ন্যূনতম হকও আদায় করতে পারবে না।
এজন্য বলি, মাছনা-ব্যবসায়ীদের উস্কানিতে কেউ দ্বিতীয় বিবাহের ফাঁদে পা দিবেন না। এই সেকুলার সমাজে দুই স্ত্রী নিয়ে সুখে থাকা অনেক চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এজন্য ভেবেচিন্তে পা ফেলা উচিত। দ্বিতীয় বিবাহ করে সুখে থাকতে হলে যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলোর মধ্যে কয়েকটা হল:
১) কোন অবস্থাতেই বিবাহের বিষয় গোপন রাখা যাবে না। কারণ যাকে গোপন রাখা হবে সে সব সময় ইনসিকিউর ফিল করবে। অথচ বিবাহের অন্যতম উদ্দেশ্য إحصان তথা নারীর নিরাপত্তা। তাছাড়া গোপনে বিবাহ করলে রাত্রিযাপনসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈষম্য অবধারিত হয়ে দাঁড়াবে। আর বিশেষ অফার হিসেবে রয়েছে, গোপন স্ত্রীর কাছে গিয়ে জনতার হাতে ধরা খেয়ে মান-ইজ্জত চলে যাওয়ার অবিরাম আতঙ্ক।
২) সেকুলার সমাজ দ্বিতীয় বিবাহকে কোনোভাবেই ভালো চোখে দেখবে না। এজন্য সমাজের মোকাবেলা করার জন্য দৃঢ় ও শক্তিশালী মানসিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হতে হবে। কেননা অনেক সময় দেখা যায়, আবেগের বশে অনেকেই দ্বিতীয় বিবাহ করেন। এরপর সেকুলার সমাজের চাপে পড়ে স্ত্রীকে তালাক দিতে বাধ্য হন।
৩) একাধিক স্ত্রীর উপর প্রভাব বিস্তার করার মত ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হতে হবে। মনে রাখবেন, ব্যক্তিত্বহীন ব্যক্তি একাধিক বিবাহ করলে সে হবে মাঠের ফুটবলের মত।
৪) শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি স্ত্রীদের অন্যান্য মৌলিক চাহিদা (খাদ্য, বস্ত্র আলাদা বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি) পূরণ করার জন্য আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে এবং বিবাহের পর যে কোন সময় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে স্ত্রীরা যাতে পরিস্থিতিকে মেনে নিয়ে সবর করতে পারে—এজন্য অল্পে তুষ্টি রয়েছে এমন মানসিকতা সম্পন্ন পাত্রী নির্বাচন করতে হবে।
৫) মনে রাখতে হবে, ইসলাম সকল ক্ষেত্রেই ইনসাফ বজায় রাখার কথা বলে এবং বিশেষভাবে স্ত্রীদের ক্ষেত্রে। সুতরাং একাধিক বিবাহ করার আগে অন্যান্য বিধান পালনের ক্ষেত্রে (যেমন, পিতা মাতা, সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজনের হক ইত্যাদির ক্ষেত্রে) ইনসাফ করার অভ্যাস রয়েছে কিনা—এ ব্যাপারে নিজেকে যাচাই করতে হবে। কারণ যে অন্যান্যদের ব্যাপারে ইনসাফ রক্ষা করে না সে কিছুতেই স্ত্রীদের ক্ষেত্রে ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না। কেননা আল কোরআনের ভাষ্যমতে, স্ত্রীদের মাঝে শতভাগ ইনসাফ রক্ষা করা প্রায় অসম্ভব বিষয়।
৬) দীনদারীর পাশাপাশি বংশ মর্যাদা ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন পাত্রী নির্বাচন করা। কেননা নিচু জাতের নারীরা হুকুকুল্লাহর ক্ষেত্রে সচেতন হওয়া সত্ত্বেও অল্পতেই মানুষের কাছে স্বামী, শশুর-শাশুড়ী কিংবা সতীনের বদনাম করে নিজের মর্যাদাও কমিয়ে ফেলে। পক্ষান্তরে ভালো বংশের নারীরা নিজের মর্যাদা রক্ষার জন্য হলেও এসব নোংরামি থেকে বিরত থাকে।
আলহামদুলিল্লাহ প্রথম বিবাহ করার আগেই উপরোক্ত বিষয়গুলোর উপলব্ধি আমার ছিল এবং এগুলোর প্রতি শতভাগ খেয়াল রাখার চেষ্টা করেছি। তবুও আমার বর্তমান অবস্থান জান্নাত টু আরাফ। তবে আশাবাদী, দুজনকে সাথে নিয়েই আরাফ থেকে জান্নাতের দিকেই ইউটার্ন করবো ইনশাআল্লাহ।
©©