20/05/2025
শেষ চিঠি
সন্ধ্যার আলো গাঢ় হয়ে আসছিল। ট্রেন ছাড়তে মাত্র পাঁচ মিনিট বাকি। অরণ্য চুপচাপ বসে ছিল স্টেশনের বেঞ্চে। হাতে একটা পুরোনো চিঠি—যেটা সে লিখেছিল অনুরাকে, কিন্তু কোনোদিন দেওয়া হয়নি।
অরণ্য আর অনুরা কলেজের প্রথম দিনেই একে অপরকে চোখে পড়ে। অনুরা প্রাণচঞ্চল, হাসিখুশি; অরণ্য চুপচাপ, গভীর। ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম। দুজনের স্বপ্ন ছিল—একসাথে ঘুরবে পাহাড়ে, গড়বে নিজেদের ছোট্ট এক দুনিয়া।
কিন্তু অনুরার পরিবার জানত এই প্রেমের কথা, আর তারা মানতে রাজি ছিল না। তারা ঠিক করে অনুরার বিয়ে দেবে—এক ধনী ব্যবসায়ীর সঙ্গে। অনুরা কাঁদত, হাত ধরে বলত,
"চলে যাই না কোথাও, অরণ্য!"
কিন্তু অরণ্য চুপ থেকেছিল। সে চাইত না অনুরা সমাজ আর পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে জীবন নষ্ট করুক। সে শুধু বলেছিল—
"তুমি খুশি থাকো, এইটুকুই চাওয়া।"
বিয়ের একদিন আগে, অনুরা অরণ্যের দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল। হাতে একটা লাল শাড়ি। বলেছিল,
"আজ যদি বলো, আমি সব ছেড়ে তোমার সঙ্গে যাব।"
অরণ্য তাকিয়ে ছিল তার চোখে, কিছু বলতে পারেনি। অনুরা চলে যায়। সেদিন রাতে সে একটা চিঠি রেখে যায় অরণ্যের দরজায়।
পরদিন সকালে পত্রিকায় খবর আসে—"বিয়ের আগের রাতে আত্মহত্যা করল কলেজছাত্রী অনুরা সেন।"
চিঠিতে শুধু একটাই লাইন ছিল—
"তুমি না বললে, আমিও যেতে পারি না। তাই চললাম একা, চিরদিনের মতো।"
আজ অনেক বছর পর, অরণ্য সেই চিঠিটা হাতে করে সেই একই স্টেশনে বসে, যেখানে ওরা একসাথে পালানোর প্ল্যান করেছিল।
ট্রেন আসে, চলে যায়।
অরণ্য ওঠে না।