07/01/2026
রাসূলুল্লাহ (সা:) এবং সাহাবীগণ জানাজার নামাজে সূরা ফাতেহা পড়তেন না !
১) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) – ফাতিহা পড়েননি
كَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْعُودٍ لَا يَقْرَأُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ شَيْئًا
অর্থ: আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রা.) জানাযার নামাজে কোনো কিরাআত পড়তেন না।
মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা: 11471
মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক: 6436
২) আলি ইবন আবি তালিব (রা.) – কিরাআত নেই,
أَنَّ عَلِيًّا كَانَ لَا يَقْرَأُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ
অর্থ: আলি (রা.) জানাযার নামাজে কিরাআত করতেন না।
মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা: 11472
আবদুর রাজ্জাক: 6437
৩) আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা.) – ফাতিহা ছাড়া জানাযা
كَانَ ابْنُ عُمَرَ لَا يَقْرَأُ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ
অর্থ: ইবন উমর (রা.) জানাযার নামাজে কিরাআত করতেন না। মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক: 6438
৪) আবু হুরায়রা (রা.) – দোয়া ছাড়া কিছু নয়
أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ كَانَ يَقُولُ: الصَّلَاةُ عَلَى الْجَنَازَةِ دُعَاءٌ
অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) বলতেন: “জানাযার নামাজ হলো দোয়া।” মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা: 11473
৫) তাবেঈনদের বক্তব্য : ইব্রাহিম নাখাঈ (রহ.) বলেন:
لَا قِرَاءَةَ فِي الصَّلَاةِ عَلَى الْجَنَازَةِ
অর্থ : জানাজার নামাজে কোন কেআরাত নেই।
মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা: 11474
তিনি সাহাবিদের আমল থেকেই এ কথা বলেছেন।
জানাযার নামাযে
সুরা ফাতেহা পড়বেনা।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা.-এর আমল
مالك عن نافع أن عبد الله بن عمر كان لا يقرأ في الصلاة على الجنازة
অর্থ: নাফে রাহ. বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. জানাযার নামাযে (কুরআন) পড়তেন না। -মুয়াত্তা মালিক, হাদীস ৫২৩; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১১৫২২
এবার আসুন বিস্তারিত আলোচনা করি :-
জানাযার নামায সুরতের দিক থেকে নামায। যেমন এর জন্য নামাযের মত অজু করা জরুরী। তাকবীরে তাহরিমা বলে নিয়ত করা জরুরী। কিবলামুখী হওয়া। সতর ঢাকা ইত্যাদি নামাযের মতই জরুরী।
কিন্তু মৌলিকভাবে এটি নামায নয়। বরং এটি হল মৃত ব্যক্তির জন্য দুআ ও ক্ষমা প্রার্থনা তথা ইস্তিগফার। হাদীসে এসেছে-
عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال : ( إذا صليتم على الميت فأخلصوا له الدعاء
যখন তোমরা মাইয়্যেতের জন্য জানাযার নামায পড়, তখন ইখলাসের সাথে দুআ কর। {সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩০৭৬, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩২০১, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৭৯৭, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৬৭৫৫}
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম লিখেনঃ
ويُذكر عن النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، أنه أمر أن يقرأ على الجنازة بفاتحة الكتاب ولا يصح إسناده
অনুবাদঃ উল্লেখ করা হয় যে, রাসূল সাঃ জানাযার নামাযে সূরায়ে ফাতিহা পড়তে আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু এ বক্তব্যের সনদ সহীহ নয়। {যাদুল মা’আদ-১/১৪১}
সূরা ফাতিহা না থাকার আরেকটি বড় কারণ হল, জানাযার নামাযে কেরাত নেই। আল মুদাওয়ানাতুল কুবরা গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে যে,
قلت لعبد الرحمن بن القاسم: أي شيء يقال على الميت في قول مالك؟ قال: الدعاء للميت. قلت: فهل يقرأ على الجنازة في قول مالك؟ قال: لا(المدونة الكبرى، كتاب الجنائز، باب ما جاء فى القرائة على الجنائز-1/158
অনুবাদঃ আমি আব্দুর রহমান বিন কাসেম রহঃ কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, ইমাম মালিক রহঃ এর মাযহাবে মৃতের জন্য কী পড়া হয়? তিনি বললেনঃ মৃতের জন্য দুআ পড়া হয়। আমি বললামঃ ইমাম মালিক রহঃ এর মতে কি জানাযার নামাযে কিরাত আছে? তিনি বললেনঃ না। আল মুদাওয়ানুতল কুবরা-১/১৫৮}
এ কারণে ইবনে ওহাব রহঃ অনেক বড় বড় সাহাবী যেমন হযরত ওমর রাঃ, হযরত আলী রাঃ, হযরত আব্দুল্লাহ বিন ওমর রাঃ, হযরত ফুযালা বিন ওবাদা রাঃ, হযরত আবু হুরায়রা রাঃ, হযরত জাবের বিন আব্দুল্লাহ রাঃ, হযরত ওয়াসিলা বিন আসক্বা রাঃ, এবং আকাবীরে তাবেয়ীগণ যেমন কাসেম বিন মুহাম্মদ, সালেম বিন আব্দুল্লাহ, সাআদ বিন মুসায়্যিব, আতা বিন আবী রাবাহ, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ রহঃ প্রমূখদের ব্যাপারে নকল করেন যে, তারা কেউ জানাযার নামাযে কেরাত পড়তেন না। আর ইমাম মালিক রহঃ ও জানাযার নামাযে কেরাত পড়াকে আমলযোগ্য হওয়াকে অস্বিকার করেছেন। {প্রাগুক্ত}
হ্যাঁ, তবে যেহেতু সূরায়ে ফাতিহার আলোচ্য বিষয় আল্লাহ তাআলা হামদ এবং সানা এবং দুআ সমৃদ্ধ। তাই যদি কেউ কেরাতের নিয়ত ছাড়া হামদ-সানা এবং দুআর নিয়তে প্রথম তাকবীরের পর জানাযার নির্ধারিত দুআর বদলে সূরা ফাতিহা পড়ে নেয়,তাহলে এর সুযোগ আছে।
رُوِيَ عن ابْنِ مَسْعُودٍ رضي الله عنه أَنَّهُ سُئِلَ عن صَلَاةِ الْجِنَازَةِ هل يُقْرَأُ فيها فقال لم يُوَقِّتْ لنا رسول اللَّهِ صلى اللَّهُ عليه وسلم قَوْلًا وَلَا قِرَاءَةً وفي رِوَايَةٍ دُعَاءً وَلَا قِرَاءَةً كَبِّرْ ما كَبَّرَ الْإِمَامُ وَاخْتَرْ من أَطْيَبِ الْكَلَامِ ما شِئْت وفي رِوَايَةٍ وَاخْتَرْ من الدُّعَاءِ أَطْيَبَهُ
হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ থেকে বর্ণিত। তাকে জানাযার নামাযে কেরাতের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হল। তখন তিনি জবাবে বলেন যে, রাসূল সাঃ আমাদের জন্য কোন বিশেষ শব্দ বা কেরাত নির্ধারিত করেননি। এক বর্ণনায় এসেছে যে, কোন বিশেষ দুআ বা কেরাত নির্ধারিত করেননি। যখন ইমাম তাকবীর বলবে, তখন তোমরাও তাকবীর বলবে। আর উত্তম থেকে উত্তম বাক্য [সানা, দুআ, ইত্যাদি] চাইলে এখতিয়ার করে নাও। অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, উত্তম থেকে উত্তম দুআ ইখতিয়ার করে নাও। {বাদায়েউস সানায়ে-১/৩১৩, আলমুগনী লিইবনে কুদামা-২/৪৮৫}
সুতরাং বুঝা গেল যে, জানাযার নামাযে সূরা ফাতিহা পড়া ঠিক নয়।
সূরায়ে ফাতিহা পড়ার পক্ষে একটি দুর্বল দলিল ও জবাব
যারা জানাযার নামাযে সূরায়ে ফাতিহা পড়ার কথা বলে থাকেন। তারা একটি দলিল দিয়ে থাকেন যে, রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন সূরা ফাতিহা ছাড়া নামায হয় না। তাই জানাযার নামাযও সূরা ফাতিহা ছাড়া হবে না।
উত্তর
আসলে জানাযার নামায মূলত নামায নয়। বরং সুরতের দিক থেকে নামায, মূলত দুআ। যা ইতোপূর্বে বলা হয়েছে। যদি নামাযই হতো, তাহলে জানাযায় কেরাত নেই কেন?
জানাযায় রুকু সেজদা নাই কেন?
সুতরাং বুঝা গেল এটি পূর্ণাঙ্গ নামায নয়,তাই খালেস নামাযের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হাদীসকে জানাযার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা ইসলামী ফিক্বহ সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক।