01/04/2021
'ঘৃতকুমারী’র ৪০টি অসাধারণ গুণাগুণ!!!
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী মানুষ ব্যবহার করে আসছেন বহুকাল আগে থেকে। অনেকে এর জেল সৌন্দর্যের জন্যে ব্যবহার করেন। প্রাচীন গ্রীক’রা এটাকে ব্যবহার করছেন অনিদ্রা ও টাক থেকে নিরাময়ের জন্য, নেটিভ আমেরিকান’রা ঘৃতকুমারীকে বলে “ওয়ান্ড অভ দ্যা হ্যাভেন”। অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অন্তত ছয়টি প্রাকৃতিক এন্টিসেপ্টিক হিসেবে কাজ করে থাকে, যা ছাঁচ,ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, এবং ভাইরাস হত্যা করতে সক্ষম। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন এই উদ্ভিদ এইডস এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে খুব শক্তিশালী কাজ করে থাকে। প্রতি দিন ১ গ্লাস অ্যালোভেরার শরবত পান করলে দেহের ভেতর থেকে ত্বকের নানা সমস্যা যেমন ব্রন, ইনফেকশন এমনকী ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়ার সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। এ ছাড়াও অ্যালোভেরার রস সরাসরি ত্বকে প্রয়োগ করলে ব্রন এবং ব্রনের দাগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। ত্বকের পাশাপাশি অ্যালোভেরা চুলের জন্যও বেশ ভালো একটি উপকারী উপাদান।
ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা’র পাতার মাঝখান দিয়ে লম্বালম্বি অংশটুকু সর্বোচ্চ ব্যবহার হয়ে থাকে।
ঘৃতকুমারী’র ৪০টি ব্যবহার ও অসাধারণ গুণাগুণ:
১। ছোটখাট দুর্ঘটনা যেমন রান্নাঘরে
পোড়া বা গরম পাত্রে হঠাত হাত দেওয়া
চিকিৎসায়।
২। ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরা গোসল করার
আগে শরীর ঘষে গোসল করে পেলতে
পারেন, এতে শরীরের জীবাণু ধ্বংস হবে।
৩। ঘৃতকুমারী জেল এবং ভিটামিন ই তেল
মিশ্রিত করে একটি বয়ামে রাখতে পারেন
যা রান্নাঘর দুর্ঘটনায় সাহায্য করবে।
৪।কালো দাগ ও কাটায় ক্ষত ধূর করতে ভাল
উপকার করে।
৫। সূর্য- পোড়া ত্বকে ঘৃতকুমারী শীতল
অনুভূইতি উপস্থিত মনে হবে যেমন মেন্থল
অনুরূপ।
৬। পোকা/মাকড়ের কামড় বা দংশনে।
৭। ঠান্ডা উপসর্গে টিস্যু ক্ষতি কমাতে
ঘৃতকুমারী ভাল উপকারী।
৮। লাল লাল র্যাশ/ফুসকুড়ি উপশমে।
৯। পায়ের শিশুর নরম করতে, ওটমিল আধা
কাপ, ভূট্টা আধা কাপ, চার টেবিল চামচ
ঘৃতকুমারী জেল এবং সুবাসহীন বডি লোশন
আধা কাপ একসঙ্গে মিশিয়ে মাস্ক করে
লাগাতে পারেন।
১০। খুজলি প্রাদুর্ভাব আরোগ্য সাহায্য
করে।
১১। পায়ের পাতা মজবুত করতে।
১২। ফোসকা থেকে দ্রুত ত্রাণ পেতে।
১৩। এলার্জি চামড়া প্রতিক্রিয়া থেকে
রক্ষা পেতে প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার
করুন।
১৪। শরীরে ক্রিম এবং লোশন হিসেবে
ব্যবহার করতে পারেন, এটি শুষ্ক ত্বকে
ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ঘৃতকুমারী দ্রুত
কার্যকর।
১৫। বিরক্তিকর ফুস্কুড়ি দুর এবং ব্রণ
চিকিত্সায় ভাল উপকারী।
১৬। সোরিয়াসিস প্রশমে কাজ করে।
১৭। দাগ এবং চিহ্ন দুর করতে।
১৮। Rosacea পরিত্রাণে সাহায্য করে।
১৯। সঙ্কুচিত warts/আঁচিল পরিত্রাণে
সাহায্য করে।
২০। মৃত ত্বক এবং কুঁচিত ত্বকে,
ক্লিওপেট্রা করতে।
২১। চর্মরোগ নিষ্কাশনে সাহায্য করে।
২২। উজ্জ্বল ত্বক, ঘৃতকুমারী চর্মাদির
স্বাভাবিক রং এবং গাঢ় দাগ হ্রাস করতে
সাহায্য করে।
২৩। নতুন ত্বক আবার উঠবে, অর্গানিক চিনি
দুই টেবিল চামচ, ঘৃতকুমারী ২ টেবিল চামচ,
বাদামী চিনি ১ চা চামচ, অর্গানিক লেবুর
রস একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করুন।
২৪। অমসৃণ প্যাচ ত্বকের জন্য, অর্গানিক
লবণ স্কার্ব দুই কাপ সামুদ্রিক লবণের
সাথে, ঘৃতকুমারী এক কাপ, অর্গানিক
নারকেল তেল এক কাপ এবং দুই টেবিল
চামচ অর্গানিক মধু একসঙ্গে মিশ্রিত করে
ব্যবহার করতে
পারেন।
২৫। দ্রুত চুল বৃদ্ধির বাড়াতে মাথার খুলি
মধ্যে ঘৃতকুমারী মেখে ৩০ মিনিট রেখে
ধুয়ে ফেলুন।
২৬। চুল খুশকি কমাতে ঘৃতকুমারী রস
নারকেলের দুধ এবং গম জার্ম তেল সাথে
মিশিয়ে, মাথার খুলিতেম্যাসেজ ধুয়ে
ফেলুন।
২৭। ঘৃতকুমারী কন্ডিশনার হিসেবে ব্যবহার
করতে পারেন চুল সিল্ক এবং স্মুথ করতে।
২৮। চোখের নিচে কালো দাগ অপসারণ
করতে।
২৯। ছোটখাট যোনির চুলকানি সারাতে
সাহায্য করে।
৩০। ঘৃতকুমারী’র রস গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল
ও বদহজম উপশমে পান করতে পারেন।
৩১। সুস্থ দাঁত ও মাড়ি জোরদার এবং
শক্তিশালী করতে মুখে গ্রহণ করতে পারেন
বা টুথপেস্ট হিসেবে ঘৃতকুমারী ব্যবহার
করতে পারেন।
৩২। কোলেস্টেরল কমাতে এবং
ট্রাইগ্লিসারাইড ও সুস্থ হৃদয় জন্য মুখে তা
গ্রহণ করতে পারেন।
৩৩। বুকজ্বালা ও বাত এবং বাত ব্যথা
উপশমে পান করতে পারেন।
৩৪। ফোঁড়া জল এবং শ্বাস বা হাঁপানি
উপশমে।
৩৫। রক্তে চিনির মাত্রা কমে গেলে
বিশেষ করে ডায়াবেটিকসের জন্য।
৩৬। অল্প অল্প পান করতে পারেন চোখ
এবং কানের ইনফেকশন থেকে রক্ষা পেতে।
৩৭। অল্প অল্প পান করতে পারেন, পেটের
উষ্ণস্বভাব সহ অন্ত্র সিন্ড্রোম এবং
অস্বস্তি উপসর্গ কমাতে।
৩৮। অল্প অল্প পান করতে পারেন, কোষ্ঠ
কাঠিন্য’র জন্যে।
৩৯। পাকস্থলীর ঘা, কোলাইটিস, অর্শ্বরোগ,
মূত্রনালীর সংক্রমণ এবং প্রস্টেট সমস্যায়
পান করতে পারেন।
৪০। পান করতে পারেন detoxifierএবং
স্বাস্থ্য গুণাবলী উন্নতির জন্যে।
তাজা ঘৃতকুমারীর ডাটা অথবা শুকনো গুড়া কিনতে পাওযা যায়। আপনার পছন্দ মতো ব্যবহার করতে পারেন।।
আপনার পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট।