27/07/2026
“আজকে পাতে কী খেলেন? আমিষ, নাকি বিষ?”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হোসেনের ল্যাব-টেস্টের রিপোর্ট দেখলে আঁতকে উঠতে হয়! ব্রয়লার মুরগির মাংসে ২০০০ মাইক্রোগ্রাম, কলিজায় ৬১২ মাইক্রোগ্রাম, আর মগজে পাওয়া গেছে ৪০০০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত ক্যান্সার সৃষ্টিকারী বিষাক্ত ক্রোমিয়াম। যেখানে WHO-এর গাইডলাইন অনুযায়ী মানবদেহে ক্রোমিয়ামের সহনশীল মাত্রা মাত্র ২৬–৩৫ মাইক্রোগ্রাম! কেবল মাংসই নয়, ফার্মের ডিমেও মিলছে সহনীয় মাত্রার চেয়ে ৬-৭ গুণ বেশি ক্রোমিয়াম।
কারণটা আমাদের সবার জানা—পুরান ঢাকার টেনারি বর্জ্য দিয়ে তৈরি পোল্ট্রি ও মাছের ফিড। হাইকোর্টের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই বিষাক্ত চক্র থেমে নেই।
ভাবছেন মাছ খেয়ে বাঁচবেন?
চাষের পাংগাস, তেলাপিয়াসহ অন্যান্য মাছেও মিলছে উচ্চমাত্রার নাইট্রোফোরন ও আর্সেনিক (যা দিয়ে ইঁদুর মারার বিষ তৈরি হয়!)। কারণ সেই এক—দূষিত পানি আর বিষাক্ত টেনারি বর্জ্যের ফিড।
তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
নদী বা সামুদ্রিক মাছের দাম সাধারণের নাগালের বাইরে। সিলেটের লালবাজারে গত সপ্তাহেই মলা-ঢেলা মাছ কিনতে হয়েছে ৪৫০ টাকা কেজি দরে! কার্বোহাইড্রেটের পর শরীরের সবচেয়ে জরুরি উপাদান ‘আমিষ’। কিন্তু এই বিষের বাজারে একজন মধ্যবিত্ত বা সাধারণ মানুষ কোথা থেকে পাবে একটু নির্মল আমিষ?
সব খাবার বর্জন করাও তো কোনো টেকসই সমাধান নয়—না খেয়ে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?
ঘরে ঘরে আজ ক্যান্সার আর কিডনি রোগী। অকালেই ঝরে যাচ্ছে কত তাজা তরুণ প্রাণ! বুকের ভিতর কেবল এক বোবা কান্না জমে থাকে। পৃথিবীতে আর কোনো দেশ আছে কি, যেখানে খাদ্যের মতো মৌলিক অধিকার নিয়ে এমন মারাত্মক ও নৃশংস নৈরাজ্য চলে?
আমরা আসলে কী খাচ্ছি? আর কতদিন এভাবে না জেনে, বাধ্য হয়ে বিষ গিলে যাব?
#নিরাপদখাদ্য #খাদ্যেভেজাল #স্বাস্থ্যঝুঁকি #জনস্বাস্থ্য #খাদ্যনিরাপত্তা