সুলভের মালিক ক্রেতারাও
উত্তরখানের বড়বাগের কয়েকটি পরিবার ঈদ এলে বস্তা হিসাবে পোলাওর চাল কিনে এনে ভাগ করে নিতো । এতে তাদের চালের দাম দোকান থেকে অনেক কম পড়তো আর তারা চালও পেত এক নম্বরটা । প্রতি রমজানে তারা ফেতরা দিতে একসাথে পোলাওর চাল কিনতো। এতে তারা দেখলো তাদের বেশ সেভ হচ্ছে। ফলে ২০২২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী তারা রমজানের বাজার একসাথে করতে এক লক্ষ টাকার একটা ফান্ড গঠন করে এবং তা দিয়ে বাজার করে একজনের
বাসার বসার ঘরে মালামাল রাখার ব্যবস্থা করে। সবাই এসে সেখান থেকে যার যার প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে যায়। দেখা গেল সবার পণ্য নেওয়ার পরেও কিছু মালামাল রয়ে গেল। এখন কি করা যায়? সিদ্ধান্ত হলো অন্যদের কাছে মালগুলো বিক্রয় করে দেয়া হবে। দাম কম তাই অন্যরাও সুযোগটা লুফে নেয় এবং উৎসাহ দেয় যেন ঈদ পর্যন্ত সার্ভিসটা চালু থাকে।
সার্ভিসতো চালু থাকবে কিন্তু বাজার করা, মাপামাপি, মালামাল রাখার ব্যবস্থা কি? কে করবে? কোথায় করবে? কিভাবে করবে? একদিন না হয় করে দেয়া যায় কিন্তু এক মাস কে এই কাজ করে দিবে ? যাহোক দুই যুবক দায়িত্ব নিতে রাজি হলেন এবং ঐ বসার ঘরটাও এক মাসের জন্য পাওয়া গেলো । যুবকদের সামান্য সম্মানির ব্যবস্থা করা হলো। দেখা গেলো অনেকেই দাম কম হয়ায় আগ্রহ নিয়ে কেনাকাটা করতে আসছে আর পরামর্শ দিচ্ছে এটাকে একটা স্থায়ী রুপ দেয়া যায় কিনা। বিশেষ করে মাসিক বাজা্রের ব্যবস্থা করার অনুরোধ আসতে থাকে। এই উৎসাহ দাতারা হলেন তারা, যারা সাধারণত টঙ্গী বাজারে কিছুটা কমের আশায় বাজার করে অভ্যস্ত।
যাহোক, সাধারন মানুষকে কম দামে পণ্য সরবরাহ করবে, নিজেরাও কম দামে পণ্য নিবে, এ লক্ষ্য নিয়ে গলির একটি নির্মানাধীন বাড়ীর নিচ তলায় শুরু হয় সুলভের যাত্রা। বড়বাগে সুলভ ব্যাপক সাড়া ফেলে। হোমডেলিভারি সার্ভিস আর দাম কম থাকায় দিন দিন ক্রেতা বাড়তে থাকে,সাথে সাথে হয়ে উঠে গরিব মানুষের ভরসাস্থল । ৩০ টা ডিম কিনলে দামের যে হার একটা কিনলেও তা। ১ কেজি এলাচ কিনলে যা ১০ গ্রাম কিনলেও তা । স্বল্প আয়ের মানুষ কিনে এমন পণ্য সামান্য লাভে ফ্লাট রেটে বিক্রয় করতে থাকে সুলভ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারনে ভোজ্য তেলের সংকট হলে বাজার থেকে তেল উধাও হয়ে যায়। ব্যবসায়ীরা বোতলের তেল খুলে বেশি লাভের জন্য খোলা তেল হিসাবে বিক্রি করতে থাকে, যাতে ইচ্ছেমত দাম নিতে পারে। সে সময় সুলভ ৭৬০ টাকা গায়ের দামের পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেল ৭৫০/৭৫৫ টাকা বিক্রি করেছে যখন বাজারে ৮০০ টাকা দিয়েও তেল পাওয়া যাচ্ছিলনা। সুলভ পাঁচ লিটারের তেল ১ টির বেশি কেনাকে নিরুৎসাহিত করেছে, যতক্ষণ তেল ছিল ততক্ষণ গায়ের দামে বা তার থেকে কমে সরবরাহ করে গেছে। তেলের বিষয়ে সুলভের এই নীতি সুলভকে বড়বাগবাসীর আস্থা ও বিশ্বাস এনে দেয় এবং মানুষ সুলভের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারনা পায়।
কম দামে ছাড়ে পণ্য দিতে হলে পণ্য কম দামে কিনতে হবে-এটাই স্বাভাবিক। কম দামে পণ্য কিনতে বেশি করে মাল কিনতে হয়। কম দামে কেনার সুবিধাটা সুলভ ক্রেতাদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। এভাবেই চলছিলো, সমস্যা দেখা দেয় কিছু পচনশীল পণ্যের ক্ষেত্রে। বড়বাগ একটা ছোট এলাকা হওয়ায় বেশি বেশি কেনা পচনশীল পণ্যগুলো শেষ হতোনা, নষ্ট হতো। ফলে সুলভের লোকসান হতো আর এটা সার্বিক মূল্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতো। এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে পরে সুলভ বড়বাগ থেকে আরেকটু বড় ক্রেতাগোষ্ঠীর কাছে পোঁছাতে আটিপাড়া বাজারে স্থানান্তরিত হয়।
আটিপাড়ায় এসে পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। ছোট পরিসরে হলেও সুলভ এখন আল্লাহর ইচ্ছায় অনেক শক্তিশালী। সুলভের প্রভাব বাজারে আস্তে আস্তে পড়তে শুরু করেছে। সুলভ অতি মুনাফাখোর ব্যবসায়িক মানসিকতায় আঘাত করতে চায়। ব্যবসা যে শোষণের যন্ত্র নয় বরং সেবার পবিত্র মাধ্যম-সুলভ তা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। সুলভ মনে করে সুলভের প্রত্যেক ক্রেতাই তার লভ্যাংশের অংশীদার। পণ্যের দাম নির্ধারণের সময়ই এই বিষয়টির প্রতি খেয়াল রাখা হয়। মুলত সুলভের মালিক প্রথম থেকেই ক্রেতারাই ছিল এবং আছেও। আর এজন্য সুলভ কখনও বাজার পরিস্থিতির অবৈধ সুবিধা গ্রহন করে না। আয়কে হারামমুক্ত রাখতে সুলভ ইসলামে হারাম এমন কোন পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করে না।
সুলভ সমাজে সদর্থক ভুমিকা রাখতে চায়। স্বপ্ন অনেক বড়,অনেক পরিকল্পনাও আছে। এখন শুধু আল্লাহর সাহায্যের অপেক্ষা।
স্বপ্ন বাস্তবায়নে সুলভের সাথে থাকুন। সুলভের সক্ষমতা বাড়লে আপনারও সক্ষমতা বাড়বে, ইনশা-আল্লাহ।
SULOV -The Best quality affordable reliable grocery in Dhaka