27/12/2025
অপরিচিত আগন্তুকের মতো একদিন
মৃত্যুর ফেরেশতা সম্মুখে এসে দাঁড়াবে।
যে কলকাকলিতে ভরে ছিল ঘরদোর
হঠাৎ সেখানে নেমে আসবে কবরের নির্জনতা।
রঙিন মখমল স্বপ্নগুলো
তুলির সর্বশেষ আঁচড় যেখানে এখনো দেওয়া বাকি,
এক করুণ ধূসরতায় ভরে উঠবে সেসব।
যে মুখ না দেখলে ঘুম আসত না
যে চোখের ভাষা না পড়লে মন জুড়াত না
যে শব্দ না শুনলে থামত না বুকের ধুকপুকুনি—
কেমন দুঃসহ দুঃস্বপ্নের মতো সেগুলো পর হয়ে যাবে সহসাই।
আমি ভুলে যাব জোছনা রাতের কথা
উঠোন ভরে থাকা সন্ধ্যামালতী ফুলের কথা,
কুয়াশাচ্ছন্ন ভোরের কথা।
ভুলে যাব পাখিদের গান, নদীর কলতান।
হাঁড় কাঁপানো শীতের রাতে
বরফি বাতাসে যেরকম না না করে কাঁপতে থাকে বাবলা গাছের পাতা;
ভীষণ ঝড় বাদলার দিনে
অকস্মাৎ মেঘের গর্জনে যেভাবে
ধক করে উঠে ছোট্ট কাক ছানাটির হৃদপিণ্ড,
আজকাল মৃত্যুর সংবাদে আমারও সেরকম অনুভূতি হয়।
তবু চাই মৃত্যু আসুক—
ভোরের শিশির ফোঁটার মতো
শীতের সকালের কুসুম কোমল রোদের মতো
সন্ধ্যের ঝিরিঝিরি বাতাসের মতো।
যা আসবার তাকে আটকানো যায় না
প্রতিটা নতুন জন্মই যেহেতু একটি নতুন মৃত্যুর ইশতেহার,
ফলে, মৃত্যুকে ভালোবাসাই মানুষের নিয়তি।
জীবনের দাম যেহেতু মৃত্যু দিয়ে চুকোতে হবে,
তাই আজকাল মুগ্ধ হলে বলি—বাঃ, ওটা তো মৃত্যুর মতো সুন্দর!