23/05/2023
মধু মানুষের জন্য আল্লাহ প্রদত্ত এক অপূর্ব নেয়ামত। রাসূলুল্লাহ (সা.) একে ‘খাইরুদ্দাওয়া’ বা মহৌষধ বলেছেন। মধুতে যেসব উপকরণ রয়েছে তন্মধ্যে প্রধান উপকরণ সুগার। কিন্তু মধুতে গ্লুকোজ ও ফ্রুকটোজ এ দুটি সরাসরি মেটাবলাইজড হয়ে যায় এবং ফ্যাট হিসাবে জমা হয় না। এতে ভিটামিন সি বা অ্যাসকরবিক এসিড, ভিটামিন বি-১, বি-২, বি-৩, বি-৫, বি-৬, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-এ বা ক্যারোটিন ইত্যাদি বিদ্যমান। মধু এমন ধরনের ওষুধ, যার পচন নিবারক (অ্যান্টিসেপটিক), কোলেস্টেরলবিরোধী এবং ব্যাকটেরিয়াবিরোধী ধর্ম আছে। প্রতিদিন সকালে এবং বিকালে খালি পেটে চা চামচের দুই চামচ করে মধু ডান হাতের তালুতে নিয়ে চেটে খেতে হবে। নিয়মিত ও পরিমিত মধু সেবন করলে যেসব উপকার পাওয়া যায়। তা হলো-
* হৃদরোগ প্রতিরোধ করে
* দাঁতকে পরিষ্কার ও শক্তিশালী করে
* দৃষ্টিশক্তি ও স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করে
* অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে ও কোষকে ফ্রি রেডিকেলের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে
* বার্ধক্য অনেক দেরিতে আসে
* মধুর ক্যালরি রক্তের হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায়, ফলে রক্তবর্ধক হয়
* গ্লাইকোজেনের লেভেল সুনিয়ন্ত্রিত করে
* আলচার ও গ্যাস্ট্রিক রোগের জন্য উপকারী
* শিশুদের মুখের ভেতর পচনশীল ঘায়ের জন্য খুবই উপকারী
* শরীরের বিভিন্ন ধরনের নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং উষ্ণতা বৃদ্ধি করে
* মধু স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের কলা সুদৃঢ় করে
* মধু চুল ও ত্বক ঠিক রাখতে অনন্য ভূমিকা পালন করে
* কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে
* ক্ষুধা, হজমশক্তি ও রুচি বৃদ্ধি করে
* শরীর ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে
* মধু মুখের দুর্গন্ধ দূর করে
* শিশুদের দৈহিক গড়ন ও ওজন বৃদ্ধি করে
* গলা ব্যথা, কাশি-হাঁপানি এবং ঠাণ্ডা জনিত রোগে বিশেষ উপকার করে
* শিশুদের প্রতিদিন অল্প পরিমাণ মধু খাওয়ার অভ্যাস করলে তার ঠাণ্ডা, সর্দি-কাশি, জ্বর ইত্যাদি সহজে হয় না
* মধু শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, ফলে শরীর হয়ে উঠে সুস্থ, সতেজ এবং কর্মক্ষম
ড. কে এম খালেকুজ্জামান*
* ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব), মসলা গবেষণা কেন্দ্র, বিএআরআই, শিবগঞ্জ, বগুড়া
সূত্র - কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস)