02/11/2025
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের বাজারে সবজি ও ফল রপ্তানি একটি দারুণ সম্ভাবনাময় ব্যবসা — বিশেষ করে যেহেতু সেখানে প্রায় ২৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি প্রবাসী আছেন।
তাদের জন্য “দেশি স্বাদ” মানে ঘরের স্মৃতি বাড়ির জিনিস আলাদা কদর আছে।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে রপ্তানির মূল ধাপসমূহ
ধাপ ১: এক্সপোর্ট লাইসেন্স (Exporter Registration)
👉 EPB (Export Promotion Bureau) বা বাংলাদেশ ট্রেড লাইসেন্স অফিস থেকে রপ্তানিকারক হিসেবে নিবন্ধন নিতে হবে।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
ট্রেড লাইসেন্স (রপ্তানি অনুমোদিত)
TIN / BIN সার্টিফিকেট
ব্যবসায়িক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
চেম্বার অব কমার্সের সদস্যপদ
ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন
ধাপ ২: পণ্য সংগ্রহ ও মান যাচাই
সবজি/ফল সংগ্রহ করার সময়:
তাজা ও এক্সপোর্ট গ্রেড হতে হবে (আঘাতহীন, পোকামাকড় মুক্ত)
বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) থেকে ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট (Phytosanitary Certificate) নিতে হবে
ধাপ ৩: প্যাকেজিং ও হ্যান্ডলিং
সৌদি আরবে সবজি ও ফলের প্যাকেজিং খুব গুরুত্বপূর্ণ:
ফুড গ্রেড প্লাস্টিক বা কার্টুন বক্স ব্যবহার করতে হবে
গায়ে ইংরেজি ও আরবি লেবেল: Product Name, Origin: Bangladesh, Net Weight, Date of Packing
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে সংরক্ষণ ও পাঠানো (চিলড কার্গো)
ধাপ ৪: রপ্তানি প্রক্রিয়া
প্রোফর্মা ইনভয়েস তৈরি করুন
লেটার অব ক্রেডিট (L/C) বা TT Payment এর মাধ্যমে পেমেন্ট নিন
ব্যাংক ও কাস্টমসের সব ডকুমেন্ট সম্পন্ন করুন
কার্গো ফ্লাইট বা কন্টেইনার শিপে পাঠান (বেশিরভাগ সবজি বিমানপথে যায়)
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা
নং ডকুমেন্ট
১ ট্রেড লাইসেন্স
২ TIN ও BIN
৩ চেম্বার অব কমার্স সার্টিফিকেট
৪ এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (ERC)
৫ ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট
৬ ইনভয়েস ও প্যাকিং লিস্ট
৭ বিল অব লেডিং / এয়ারওয়ে বিল
৮ Certificate of Origin
৯ হেলথ সার্টিফিকেট (যদি ফল/পাতা হয়) কৃষি বিভাগ / BSTI
বর্তমানে সৌদিতে বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য রপ্তানি হচ্ছে
জনপ্রিয় আইটেম
লাউ, পুঁই, ধুন্দল, ঢেঁড়স, কাঁচা মরিচ, পাতা জাতীয় সবজি, বেগুন, করলা
কাঁচা কলা, পেয়ারা, আম, কাঁঠাল, লিচু, আনারস
আচার, শুঁটকি, দেশি মিষ্টি, মশলা
পানপাতা, ধনেপাতা, পুদিনা
পরিবহন মাধ্যম
মাধ্যম
বিমান (Air Cargo) ১–২ দিন
সমুদ্র (Sea Freight) ২০–২৫ দিন
শুরুতে ছোট পরিমাণে প্রবাসী ক্রেতাদের অর্ডার নিয়ে ট্রায়াল এক্সপোর্ট করুন।
সৌদির বাঙালি মুদি দোকান বা বাঙালি রেস্টুরেন্ট এর সাথে চুক্তি করতে পারেন।
Facebook / WhatsApp গ্রুপে থাকা প্রবাসীদের মাধ্যমে প্রি-অর্ডার সংগ্রহ করুন।
বাংলাদেশে “Vegetable Export Association” আছে – তাদের সাথে যুক্ত হলে অনেক সহায়তা পাবেন।