10/11/2023
ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)
হাদিয়া: ১৮০ টাকা নির্ধারিত মূল্য
বিশেষ ছাড় ⭕✅১৭০ টাকা
কেউ দাওয়াত উদ্দেশ্য নিলে বেশি করে নিলে কম রাখা হবে ইন শা আল্লাহ
মাদানী বই ঘর পোজ অডার করতে যোগাযোগ করতে পারেন বা মেসেজ করুন
01972-747183
লেখক: মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
রাসূল (ছাঃ) এর শিখিনো পদ্ধতিতে ছালাত আদায় করার বাংলা ভাষায় সর্বশ্রেষ্ঠ বই "ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)
রাসূল (ছা:) বলেন, কিয়ামতের দিন বান্দাকে প্রথম প্রশ্ন করা হবে তার 'ছালাত' সম্পর্কে। ছালাত হিসাব সঠিক হ'লে তার সমস্ত আমল সঠিক হবে । আর ছালাতের হিসাব বেঠিক হ'লে অন্য সব আমল বরবাদ হবে (ত্বাবারান আওসাত্ব,ছহীহাহ হা/১৩৫৮)।
অনুধাবন করুন আপনার প্রভুর বাণী- ‘সফলকাম হবে সেই সব মুমিন যারা ছালাতে রত থাকে ভীত সন্ত্রস্ত ভাবে’।[1] অতএব গভীরভাবে চিন্তা করুন! আপনার প্রভু আল্লাহ কিজন্য আপনাকে সৃষ্টি করেছেন? মনে রাখবেন তিনি আপনাকে বিনা প্রয়োজনে সৃষ্টি করেননি। তাঁর সৃষ্ট এ সুন্দর সৃষ্টি জগতকে সুন্দরভাবে আবাদ করার দূরদর্শী পরিকল্পনা নিয়েই তিনি আপনাকে এ পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। কে এখানে কত বেশী সুন্দর আমল করে এবং তার সৃষ্টিকর্তার হুকুম যথাযথভাবে পালন করে, তা পরীক্ষার জন্য আল্লাহ মউত ও হায়াতকে সৃষ্টি করেছেন।[2] আপনার হাত-পা, চক্ষু-কর্ণ, নাসিকা-জিহবা সর্বোপরি যে মূল্যবান জ্ঞান-সম্পদ এবং ভাষা ও চিন্তাশক্তির নে‘মত দান করে আপনাকে আপনার প্রভু এ দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, তার যথার্থ ব্যবহার আপনি করেছেন কি-না, তার কড়ায়-গন্ডায় হিসাব আপনাকে আপনার সৃষ্টিকর্তার নিকটে দিতে হবে।[3]
কেউ আপনার উপকার করলে আপনি তার নিকটে চির কৃতজ্ঞ থাকেন। সর্বপ্রদাতা আল্লাহর নিকটে আপনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কি? একবার ভেবে দেখুন দুনিয়ার সকল সম্পদের বিনিময়ে কি আপনি আপনার ঐ সুন্দর দু’টি চক্ষুর ঋণ শোধ করতে পারবেন? পারবেন কি আপনার দু’টি হাতের, পায়ের, কানের বা জিহবার যথাযথ মূল্য দিতে? আপনার হৃৎপিন্ডে যে প্রাণবায়ুর অবস্থান, সেটি কার হুকুমে সেখানে এসেছে ও কার হুকুমে সেখানে রয়েছে? আবার কার হুকুমে সেখান থেকে বেরিয়ে যাবে? [4] সেটির আকার-আকৃতিই বা কি, তা কি কখনও আপনি দেখতে পেয়েছেন? শুধু কি তাই? আপনার পুরো দেহযন্ত্রটাই যে এক অলৌকিক সৃষ্টির অপরূপ সমাহার। যার কোন একটি তুচ্ছ অঙ্গের মূল্য দুনিয়ার সবকিছু দিয়েও কি সম্ভব?
অতএব আসুন! সেই মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর প্রতি মন খুলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তাঁর প্রেরিত মহান ফেরেশতা জিব্রীলের মাধ্যমে শিখানো ও শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ) প্রদর্শিত পদ্ধতিতে ‘ছালাত’ আদায়ে রত হই
ভূমিকা
ছালাত শিক্ষার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার শীর্ষে ওঠা ছালাতুর রাসূল (ছাঃ)-এর ৪র্থ সংস্করণ বের করতে পেরে আমরা সর্বান্তঃকরণে আল্লাহর শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি, আলহামদুলিল্লাহ। কঠোর অধ্যবসায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে মাননীয় লেখক পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে যে সংস্কারধর্মী লেখনী সমূহ সমাজকে একের পর এক উপহার দিয়ে চলেছেন, অত্র ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) তারই একটি অংশ।
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ/৭৮১-৮৫৫ খৃঃ) বলেন, ‘যদি তুমি (বাগদাদের) একশত মসজিদেও ছালাত আদায় কর, তবুও তুমি কোন একটি মসজিদে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের ছালাত দেখতে পাবে না। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের নিজেদের ছালাত ও তোমাদের সাথীদের ছালাতের প্রতি দৃষ্টি দাও’(আবু ইয়া‘লা, তাবাক্বাতুল হানাবিলাহ (বৈরূত: দারুল মা‘রিফাহ, তাবি) ১/৩৫২)। এটি ছিল দূর অতীতের অবস্থা। এক্ষণে আমাদের এ ফিৎনার যুগে অবস্থার অবনতি কতদূর হয়েছে, তা সহজেই অনুমেয়। প্রধানতঃ অজ্ঞতা, সংকীর্ণতা ও শৈথিল্যবাদিতার ফলেই এগুলি ঘটেছে। অথচ ‘ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনে এযাম থেকে অবিরত ধারায় একথা বর্ণিত হয়েছে যে, কোন বিষয়ে হাদীছ পেলে তাঁরা বিনা শর্তে তার উপর আমল করতেন’ (অলিউল্লাহ দেহলভী, আল-ইনছাফ, বৈরূত: পৃঃ ৭০)। এতদ্ব্যতীত ইমাম আবু হানীফা (৮০-১৫০ হিঃ) সহ সকল মুজতাহিদ ইমাম বলেছেন যে, ‘ছহীহ হাদীছই আমাদের মাযহাব’ (শা‘রানী, কিতাবুল মীযান, দিল্লী: ১/৭৩)। উল্লেখ্য যে, শরী‘আতের ব্যাখ্যা অবশ্যই হ’তে হবে ছাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী, অন্যদের বুঝ অনুযায়ী নয়।
রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের দিন বান্দাকে প্রথম প্রশ্ন করা হবে তার ‘ছালাত’ সম্পর্কে। ছালাতের হিসাব সঠিক হলে তার সমস্ত আমল সঠিক হবে। আর ছালাতের হিসাব বেঠিক হ’লে অন্য সব আমল বরবাদ হবে (সিলসিলা ছহীহাহ হা/১৩৫৮)। সেকারণ মাননীয় লেখক সমাজের এই গুরুত্বপূর্ণ দিকটির প্রতি গভীরভাবে দৃষ্টি দিয়েছেন এবং চূড়ান্ত সাধনার মাধ্যমে মুহাদ্দেছীন ও সালাফে ছালেহীনের মাসলাক অনুসরণে ছহীহ হাদীছের ভিত্তিতে অত্র বইটি রচনা করেছেন। এ বইয়ের অনন্য বৈশিষ্ট্য হ’ল, বড় একটি বিষয়কে ছোট পরিসরে বিশুদ্ধ দলীল সহ পেশ করা। আল্লাহভীরু মুসলমানের জন্য এ বই পরকালীন মুক্তির পথে আলোকবর্তিকা হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
সঙ্গত কারণেই বইয়ের কলেবর বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ম সংস্করণে ৮০ পৃঃ, ২য় সংস্করণে ১৪৪ পৃঃ, ৩য় সংস্করণে ২৪৮ পৃঃ এবং ৪র্থ সংস্করণে ৩০৪ পৃঃ হয়েছে। উল্লেখ্য যে, ৪র্থ সংস্করণের হুবহু অনুবাদ হিসাবে ১ম ইংরেজী সংস্করণ একই সাথে প্রকাশিত হ’ল। ফালিল্লা-হিল হাম্দ।
পরিশেষে আমরা ‘দারুল ইফতা’ ও গবেষণা বিভাগের সম্মানিত সদস্যগণকে এই বিশ্বজনীন গ্রন্থটি প্রকাশে আন্তরিক সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানাই। সাথে সাথে এ মূল্যবান বইটি মাননীয় লেখকের ও তাঁর পিতামাতা ও পরিবারবর্গের এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ও সহযোগী সকলের পরকালীন মুক্তির অসীলা হৌক, এই দো‘আ করি -আমীন!