Golpo vandar By Aysha

Golpo vandar By Aysha আসসালামুয়ালাইকুম🥰

14/12/2024

I am back 🙋❤️

13/12/2024

Assalamualaikum ❤️

13/06/2024

কিছু কিছু মেয়ে আছে যারা তাদের বিএফকে এমন টাইট দিবে🥀 যে অন্য কোনো মেয়ের সাথে মেশা যাবে না, কথা বলা যাবে না, তাইলে কুরুক্ষেত্র বাজাইয়া দিবে।🥀 কিন্তু নিজে অন্য ছেলে নিয়ে রেস্টুরেন্টে যাবে তাতে কোনো সমস্যা নেই😁 নিজের বেলায় সব হালাল আর অন্য কারো বেলায় হারাম।😆🤪

11/11/2023
23/10/2023

- 🙄 স্কুল লাইফের জাতীয় সংগীত.😁

আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায়..😊
ওই গনিত নোট খাতা আনছস?🤐

ওমা ফাগুনে তোর 🙄 ঐ দেখ ম্যাম আজকেও লাল হেজাব পইরা আইছে, বজ্জা*ত বেডি 😶

ওমা অঘ্রাণে তোর 😐 আজকে টিফিন টাইমে পালাই যামুগা, হ্যাঁ?😂

কি শোভা কি ছায়া গো কি স্নেহ কি 😞 কাল পিটির আগে আসমু না। তুই ও আসবি না।
রোদ এর মধ্যে এমনে কেউ দাঁড়াই থাকে..!😒

- আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি।🥱

এধরনের জাতীয় সংগীত গাওয়া পাবলিক গুলো কই😊

23/10/2023

হাসবেন না...! 😏

স্যার আমাকে ইংরেজিতে জাতীয় সঙ্গীত
গাইতে বলছিলো...! 😐

আমি 🙆
" মাই
গোল্ড বাংলা🙃....আই লাভ ইউ 😇
চিরদিন ইয়োর ইস্কাই ইয়োর
বিস্কাই, মাই প্রাণে....! 😉
ও মাদার! মাই প্রাণে বাজায় বাশি!
গোল্ড বাংলা আই লাভ ইউ...! 🐸
ও মাদার ফাগুনে তোর
ম্যাঙ্গোর বনে ঘ্রাণে...!🙆
মে*ন্টা*ল করে... 🙂 মরি হায়.. হায়রে এএ
ও মাদার...!😇
ফাগুনে তোর ম্যাঙ্গোর বনে ঘ্রাণে
মে*ন্টা*ল করে এএএএএ!😂
অবশেষে স্যার বেহুশ আর আপনি অবাক..!☺
😁😁😂😂🤣🤣😆😆🤭🤭

23/10/2023

-আপনার ব্যাপারে তিনটি বিষয় জেনে নিন.?

তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি,
তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি,তুমি, তুমি,
তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি,
তুমি, তুমি, তুমি, তুমি, তুমি,তুমি,
তুমি, তুমি, তুমি, তুমি,
তুমি, তুমি,

(১) আপনি এতটা অলস যে সব কয়টা তুমি পড়তে পারেন নাই। 😐

(২) আপনি খেয়ালই করেন নাই যে এগুলার মধ্যে আমিও ছিল। 🙄

(৩) Good এবারের সবগুলা তুমি পড়ে নিলেন। আগে অলসতা না করলেই হতো। 😛
: :

:
( অলস কোথাকার )
😁

13/10/2023

গল্পঃ আসক্তিময়_আকাঙ্খা

পর্ব_5

সারাদিন এদিক ওদিক খাবারের সন্ধানে ঘোরার পর পাখিরা ফেরে তাদের আশ্রয়স্থলে...একঝাঁক পাখি দলবদ্ধ ভাবে ফিরে চলেছে তাদের ঠিকানায়...কোনো এক ডোবা থেকে ভেসে আসছে ব্যাঙের কর্কশ গর্জন...ঝিঁঝিঁ পোকারাও তাদের নিজস্ব সুরে গান বেঁধেছে...দূরের কোনো এক লোকালয় থেকে ভেসে আসছে বাউল গানের সুর... এরই সঙ্গে সুর বেঁধেছে কোনো এক নতুন গৃহবধূ....

“ ভালো আছি, ভালো থেকো
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো ।।
ভালো আছি, ভালো থেকো
আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো।।
দিও তোমার মালাখানি
বাউলের এই মনটা রে
ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে ।।
দিও তোমার মালাখানি
বাউলের এই মনটা রে
ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।।
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।।

পুষে রাখে যেমন ঝিনুক
খোলসের আবরনে মুক্তোর সুখ ।।
পুষে রাখে যেমন ঝিনুক
খোলসের আবরনে মুক্তোর সুখ ।।
তেমনি তোমার নিবিড় ছোঁয়া
ভিতরের এই বন্দরে
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে ।।

ঢেকে রাখে যেমন কুসুম
পাপড়ির আবডালে ফসলের ঘুম
তেমনি তোমার নিবিড় চলা
মরমের মূল পথ ধরে
আমার ভিতর বাহিরে অন্তরে অন্তরে
আছো তুমি হৃদয় জুড়ে......”

আনমনে গান বেঁধেছে সৈরীতির চঞ্চল মন....বাবার বাড়িতে সারাক্ষণ দৌড়ঝাঁপ করা মেয়েটার জীবনটা যেনো আজ নিঃসঙ্গতায় ভরে গেছে...যদিও সে আগে থেকেই জানতো বিভোর কে বিয়ে করলে তাকে বাড়িতে একাই থাকতে হবে...তাই সে মনকে অনেক বুঝিয়েই এই জীবনটা বেছে নিয়েছে...তবুও সৈরীতির মনটা আজ বিষাদে ভরে আছে...

হসপিটাল থেকে এসে নিজের রুমের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মেয়েলি সুরেলা কণ্ঠ শুনে থমকে যায় বিভোর...গুটি গুটি পায়ে প্রায় দুদিন পর নিজের রুমে প্রবেশ করে বিভোর...সেই কণ্ঠস্বরের উৎস খুঁজতে খুঁজতে ব্যালকুনিতে যায় সে... সৈরীতির পিছনে দাঁড়িয়ে ওর গান শুনতে থাকে.... সৈরীতির গান শেষ হলে সে চোখ থেকে গড়িয়ে পড়া অশ্রু টা হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে মুছে নেয়...

-- “আমাদের জীবনটা তো এমন হওয়ার কথা ছিলো না ... একটা ঘটনা সবকিছু এলোমেলো করে দিলো... যার সাথে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলাম তাকেই যে এভাবে দূরে ঠেলে দিতে হবে কখনও ভাবিনি...আমাকে ক্ষমা দিন ডাক্তার সাহেব...আমি অসহায়...আপনার স...”

কথাগুলো নিজের মনে বললেও পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা বিভোর যে কথাগুলো শুনেছে সেটা সৈরীতি জানেনা...তাইতো পিছন ঘুরে বিভোর কে দেখেই দু পা পিছিয়ে গিয়ে রেলিংয়ে পিঠ ঠেকায় সৈরীতি...ভয়ে দুটো শুকনো ঢোঁক গিলে....

-- “তোমাকে না কতবার বলেছি আমাকে ডাক্তার সাহেব বলে ডাকবেনা...”

জোরে জোড়ে দুবার দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো সৈরীতি...বিভোর তাহলে তার কথা শোনেনি....

-- “আপনাকে একটা সত্য জানানোর দরকার আছে আমার...”

-- “তোমার তো সবটাই মিথ্যে...তবুও ভালো একটা সত্য জানাবে বলছো.... বলো..”

সৈরীতি চোখ বুজলো... ও ঠিক করেই নিয়েছে এখন থেকে বিভোর এর চোখে নিজেকে প্রচন্ড পরিমাণে খারাপ একটা মেয়ে প্রমাণ করবে সে...

-- “আমার বয়ফ্রেন্ড আছে বিভোর বাবু...”

বিভোর ভ্রু কুঁচকে তাকায় সৈরীতির দিকে...তারপর বাঁকা ভাবে হাসে....মনে মনে কোনো একটা ছক কষে ফেলে সে...

-- “বাব্বাহ!! আচ্ছা কে সেই ভাগ্যবান পুরুষ শুনি..”

-- “আমার কলেজের সিনিয়র... এখন পাস আউট হয়ে বেরিয়ে গেছে...”

-- “বয়ফ্রেন্ড থাকা সত্বেও আমাকে বিয়ে করলে?? তোমাদের বাবা মেয়ের উদ্দেশ্য টা ঠিক কি আমাকে বলবে??”

-- “আপনি বাবার থেকে জেনে নিচ্ছেন না কেনো??”

-- “সে তো সময় হলেই জেনে যাবো আমি...এখন এইসব ছাড়ো...আমার খিদে পেয়েছে ...খেতে দেবে আসো...”

সৈরীতি চমকে ওঠে...নিজের জিভে কামড়ে শুকনো ঢোক গিলে একটা..চোখ মুখ কুঁচকে তাকায় বিভোর এর দিকে...বিভোর ভ্রু কুঁচকায়....

-- “রান্না হয়নি??”

-- “আসলে হয়েছে কি....”

সৈরীতিকে কথা টা শেষ করতে দেয়না...হাত দেখিয়ে থামিয়ে দেয় বিভোর ওকে....

-- “পঁয়তাল্লিশ মিনিট সময় দিচ্ছি...ফ্রিজে চিকেন আছে...চিকেন আর রুটি বানিয়ে আনো...এক সেকেন্ডও যেনো দেরি না হয়...”

কথাটা বলেই হনহন করে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো বিভোর...সঙ্গে সঙ্গে সৈরীতি আঁচল টা কোমরে গুঁজে ছুটলো রান্নাঘরের দিকে...

*
পঞ্চাশ মিনিটের জায়গায় সৈরীতি পঞ্চাশ মিনিট সময় নিয়ে নেয় রান্না কমপ্লিট করতে..সে ভয়ে ভয়ে ডাইনিং টেবিলে রুটির প্লেট টা রাখে...টেবিলে বসে থাকা বিভোর রাগী চোখে তাকায় সৈরীতির দিকে....

-- “ফাইভ মিনিটস অ্যান্ড টোয়েন্টি থ্রি সেকেন্ড লেট...এর জন্য কি শাস্তি চাই তোমার??”

সৈরীতি দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বুজে...না এভাবে বিভোর এর অত্যাচার সহ্য করবেনা ও...ও তো কোনো ফেলনা নয় যে বিভোর ওকে এভাবে কাজের লোকের মত ট্রিট করবে...

-- “আমি আপনার বাড়ির কাজের লোক নই ডক্টর কাঞ্জিলাল...আমার সাথে যদি এমন ব্যবহার করতে থাকেন তাহলে আমি বাবার কাছে চলে যাবো...”

বিভোর রেগে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ায়.... সৈরীতির হাত দুটো শক্ত করে ধরে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে ওকে... সৈরীতি ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলে...হৃৎপিণ্ডের গতি খুব দ্রুত...হাত পা কাঁপছে সৈরীতির...বিভোর আরও শক্ত করে চেপে ধরতেই হাতে খুব ব্যথা পায় সে...ব্যথার জন্য চোখে জল চলে আসে...

-- “হুমকি দিচ্ছ?? আমাকে হুমকি দিচ্ছ তুমি??”

-- “ছা..ছাড়ুন...লাগছে আমার...”

-- “লাগুক,তোমার জন্য যে আমার হৃৎপিণ্ড টাই পুরো গুঁড়িয়ে গেছে...তখন কতটা লেগেছে আমার বুঝতে পারছো?? সেই ব্যথার তুলনায় তো এটা কিছুই না...”

-- “আপনি যেটা আমার সঙ্গে করছেন সেটা যদি আমার দাদা, বৌদির সাথে করে তাহলে আপনার কেমন লাগবে ডক্টর বিভোর কাঞ্জিলাল??”

বিভোর এর হাতের বাঁধন হালকা হতেই সৈরীতি সরে যায় ওখান থেকে...ছুটে রান্নাঘরে এসে মুখ চেপে কাঁদতে থাকে...বিভোর ওখানেই থমকে দাঁড়িয়ে আছে...এতক্ষন তো এটা ভেবে দেখেনি ও...যদি কোনোভাবে ওর বোনের শ্বশুরবাড়িতে এইসব কথা জানাজানি হয় তাহলে ওর বোনেরও যে লাইফ রিস্ক হয়ে যাবে...

-- “না, আমার ভুলের জন্য নিতুকে কষ্ট পেতে দেবো না আমি...কিছুতেই না..”

*
দুজনের কারোরই আর রাতে খাওয়া হয়ে ওঠেনি....একজনের মনে অভিমানের পাহাড় জমতে শুরু করেছে আর অন্যজনের মনে শুধুই ঘৃনা...বিভোর যত ভাবে ও নর্মালি থাকবে সৈরীতির সামনে...আর পাঁচটা স্বামী স্ত্রীর মতোই থাকবে...কিন্তু সেটা পেরে ওঠেনা বিভোর... সৈরীতিকে দেখলেই একরাশ ঘৃনা এসে ভর করে বিভোর কে আর সেই ঘৃনা টাই পরবর্তীতে রাগে রূপান্তরিত হয়... যার জন্য পশুর মত ব্যবহার করে বিভোর সৈরীতির সঙ্গে...মা বাবার রুমের বারান্দায় সিগারেট ধরিয়ে নির্জন অন্ধকারকে উপভোগ করছে বিভোর...মানসপটে ভেসে আসছে গত আড়াই বছর আগের স্মৃতি....

“সন্ধ্যাতারা” নামটা বেশ আনকমন লাগাতেই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলো বিভোর...প্রায় একমাস পর সেই রিকোয়েস্ট টা অ্যাকসেপ্ট করে অপরপ্রান্ত...সেটা দেখে বিভোর আইডিতে ভিসিট করে.... হাতে একগুচ্ছ কাশফুল নিয়ে মুখমণ্ডল অপ্রকাশিত রেখে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে...এমনি ছিলো প্রোফাইল পিকচার টা...তারপর প্রোফাইলের নিচের দিকে নামতেই অনেক ফুল এর ছবি পায় বিভোর,এতে করে বোঝে মেয়েটা হয়তো ফুল ভালোবাসে......তারপর আরও নিচে যেতে কয়েকটা মেয়ে হাতের ওপর হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এমনও দুটো তিনটে ছবি দেখেছিলো বিভোর...তারপর কৌতূহল বসতই মেসেঞ্জারে বার্তা প্রদান করে সে...

-------“আপনাকে শুকতারা রূপে ভোরের আকাশে আসার জন্য অভ্যর্থনা জানানো হচ্ছে, মাননীয়া সন্ধ্যাতারা....”

ম্যাসেজ ডেলিভারি হওয়ার প্রায় সাত ঘণ্টা পর অপরপ্রান্ত থেকে ফিরতি বার্তা পায় বিভোর...

--------“সন্ধ্যাতারা সন্ধার আকাশেই মানানসই।ভোরের আকাশে যেতে হলে যে সময়ভেদ করতে হবে...”

ম্যাসেজটি খানিকক্ষণ যাবত পর্যবেক্ষণ করে বিভোর...আইডি টা কি আসল নাকি নকল বুঝতে বেগ পেতে হচ্ছে তাকে...সারাজীবন পড়াশোনা নিয়ে থাকায় এইসব বাহ্যিক জ্ঞান খুবই কম তার....কিছু একটা ভেবে টাইপ করতে বসে বিভোর....

--------“সন্ধ্যাতারা কি আসলেই সন্ধ্যাতারা?? নাকি এর ভিতরেও লুকিয়ে আছে অন্য কোনো নক্ষত্র??”

ম্যাসেজটি পাঠিয়ে ওটির জন্য রেডী হয় বিভোর...মস্তিষ্কের ডাক্তার ডক্টর বিভোর কাঞ্জিলাল হলো একজন সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব....হসপিটাল জুড়ে শুধুই বিভোরের নাম...তখন ত্রিশ বছরের এই ডাক্তারের রূপে পাগল হয়েও অনেক বেনামী অসুখ নিয়ে আসে মহিলারা...

সেদিন হসপিটাল থেকে বাড়ি ফিরে ফোন চেক করতেই পাঁচ ঘণ্টা আগে “সন্ধ্যাতারা”আইডি থেকে আসা ম্যাসেজটি পায় বিভোর...

---------“সন্ধতারার মাঝেই লুকিয়ে আছে এই মানবীর গোপন পরিচয়....”

বিভোর মুচকি হেসে ম্যাসেজ লেখে...

---------“সন্ধ্যা?? নাকি তারা???”

অপরপ্রান্ত থেকে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানেই সিন হয় ম্যাসেজটি...

--------“সেখানে আমি নিজে নক্ষত্র হই কী করে? যেখানে আমার আকাশেই বসবাস লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি নক্ষত্রের... ”

বিভোর একটা বিশ্বজয় করা হাসি দেয়.... মানে বুঝতে পেরেছে সে...গোপন পরিচয় উপলব্ধি করতে পেরেছে...

--------“ভোরের আকাশে একটা শুকতারার বড্ড অভাব...তাই সন্ধার আকাশের সন্ধ্যাতারা কে যে ভোরের আকাশে খুবই প্রয়োজন ম্যাডাম। ”

--------“সাক্ষাৎবিনা সন্ধ্যাতারা যে কখনোই ভোরের আকাশের শুকতারা হতে পারবেনা ডাক্তার সাহেব...”

বিভোরের কৌতূহল বেড়েই চলেছে...আবারও টাইপ শুরু করে সে...

--------“সন্ধ্যা আর ভোরের মিলনস্থল যে একমাত্র ওই শুক্র গ্রহ..সময়ভেদে যে সন্ধার আকাশে সন্ধ্যাতারা আর ভোরের আকাশের শুকতারা....”

--------“তাহলে পরজন্মে পৃথিবী গ্রহের ভোর না হয়ে শুক্র গ্রহের ভোর হোন...দেখা হবে তখন আমাদের....”

--------“এই পৃথিবীতেই সন্ধ্যা আর ভোরের মিলন ঘটবে...কথার মায়াজালে যে আটকে গেছে মস্তিষ্ক বিশেষজ্ঞ ডক্টর বিভোর কাঞ্জিলালের অবাধ্য মন ,মস্তিষ্ক দুটোই....”

--------“দিবাস্বপ্ন না দেখে এই মায়াজাল থেকে বেরিয়ে পড়ুন ডাক্তার সাহেব...মায়া বাড়লে কিন্তু আর বেরোতে পারবেন না...সন্ধ্যা আর ভোরের মিলন কোনোদিনই সম্ভব নয়...”

13/10/2023

গল্পঃ আসক্তিময়_আকাঙ্খা
পর্ব_4

দুদিন আগে পর্যন্ত সন্ধ্যা তার ডাক্তার সাহেব কে নিজের করে পাওয়ার জন্য যেই উতলা টা ছিলো সেই উতলা টাই যেনো ধীরে ধীরে একটা আতঙ্কে পরিণত হয়ে সর্বদা গ্রাস করে চলেছে সৈরীতিকে... একটা সুন্দর সকাল পাওয়ার উদ্দেশ্যে গত কুড়ি দিন ধরে যে দূরত্ব বাড়িয়েছিল বিভোরের থেকে আজ সেই সকালের সূর্যোদয় টাই বিষাক্ত মনে হচ্ছে সৈরীতির...রান্নাঘরে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আনমনে সবজি কাটছে সৈরীতি...উদ্দেশ্য বিভোরের জন্য খাবার বানানো হলেও মনের মধ্যে হাজারও চিন্তা ঘুরপাক খাচ্ছে তার...

--“ আজকের দিনটা একটু কষ্ট করে রান্না করে নাও,কাল থেকে কাজের মাসি আসবে...”

বিভোরের আওয়াজ পেয়ে পিছনে তাকাতেই দেখে বিভোর একেবারে রেডী হয়ে নিচে নেমে এসেছে...সামনের দিকে ঘুরে লুকিয়ে চোখের জলটা মুছে নিলো সৈরীতি...

-- “কোনো কাজের লোক লাগবেনা...আমি পারবো সব করতে...”

-- “তোমার কষ্টের কথা ভেবে আমি কাজের লোক আনছি না...উনি আগে থেকেই ছিলো এখানে...গ্রামের বাড়ি গেছে বলে ছুটি নিয়েছে...”

-- “একটা কথা বলি??”

বিভোর ভ্রু কুঁচকে তাকায়... সৈরীতির পিছন দিক থেকে সরে গিয়ে রীতির পাশে দাঁড়ায়...

-- “বলো...”

সৈরীতি সবজি কাটা বাদ দিয়ে বিভোরের দিকে তাকায়...

-- “আপনি এই বিয়ে মানেন না..তাই আমি আপনার বাড়ির আশ্রিতা... তাই বসে বসে খেতে পারবো না...বাড়ির কাজ করলে যদি আপনার ঋণ কিছুটা শোধ করতে পারি..তাই বলছি কাজের লোককে আসতে মানা করে দিন...”

-- “যতটা খারাপ ভাবছো আমি ততটাও খারাপ নই...সামান্য মনুষ্যত্ব বোধ আমার আছে...আমি মেনে না নিলেও কাগজে কলমে তুমি এই বাড়ির বউ...তাই নিজেকে আশ্রিতা ভাবা বন্ধ করো...”

সৈরীতি এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বিভোর এর দিকে...মানুষটাকে যতই দেখছে মুগ্ধ হচ্ছে সে...কিন্তু সৈরীতির সমস্ত মুগ্ধতা কেটে গেলো মুহূর্তের মধ্যেই... হো হো করে হেসে উঠলো বিভোর...

-- “কি ভেবেছিলে এই কথাগুলো বলবো?? কতটা মূর্খ তুমি...আমার সাথে এতবড়ো অন্যায় করার পরও ভাবছো তোমাকে আমি স্ত্রী হিসাবে মেনে নেবো...কখনোই হবেনা এরকম...বাড়ির সব কাজ তুমিই করবে...আর একটা কথা...এই বাড়ির খবর ভুলেও বাবার কানে তোলার চেষ্টা করো না...তাহলে খুন করে রেখে দেবো তোমায়.... কাকপক্ষীতেও টের পাবে না...”

বিভোর রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গিয়ে ডাইনিং টেবিলে ল্যাপটপ খুলে বসে... সৈরীতি এই ক্ষুব্ধ,ক্রোধান্বিত বিভোর কে চিনতে পারে না কোনোভাবেই...তার নরম মনের ডাক্তার সাহেবকে কি সত্যিই সে হারিয়ে ফেললো...এইসব ভাবনার মধ্যেই আবার রান্নায় মনোযোগ দেয় সে...বিভোর ল্যাপটপে হসপিটালের কিছু জরুরী কাজ করে নেয়...ততক্ষনে সৈরীতির রান্না হয়ে যায়...প্লেটে খাবার বেড়ে বিভোর কে টেবিলে দিয়ে যায়...

-- “একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো??”

-- “বলুন”

-- “তুমি সকালে বললে তুমি যে মা হতে পারবেনা সেটা জানতে না...তাহলে আজ কি করে জানলে??”

ঘাবড়ে যায় সৈরীতি...খুব বড়ো একটা ভুল করে ফেলেছে সে...বিভোর এর প্রশ্নের উত্তর যে তার কাছে নেই..কি বলবে ও...

-- “কি হলো চুপ করে আছো যে?? তাহলে আমার ধারণা টাই ঠিক...কি ভাবলে তোমার আর তোমার বাবার প্ল্যান আমি ধরতে পারবো না...সব জেনেও আজ না জানার ভান করে ডিভোর্স চেয়ে যে ভালোমানুষির নাটকটা করলে সেটা আমি ধরে ফেলেছি সৈরীতি লাহিড়ী...”

সৈরীতি মনে মনে হাসে... বিভোর এর কাছে নিজেকে যত বেশি খারাপ প্রমাণ করতে পারবে ততই সে মুক্তি দিতে পারবে বিভোর কে...

-- “ধরেই যখন ফেলেছেন তাহলে ডিভোর্স পেপার টা রেডী করুন...”

বাঁকা ভাবে হাসে বিভোর...তার চোখে অন্যরকম একটা চাওনি দেখে বুক কেঁপে ওঠে সৈরীতির...

-- “উহু, এত সহজে তোমাকে আমি মুক্তি দেবো না...তুমি আর তোমার বাবা মিলে আমার সাথে যা যা করেছো ঠিক সেটাই ফেরত দেবো আমি...”

-- “মেরে ফেলুন আমায়...এটাই সবথেকে উত্তম..”

-- “আমি যেই কষ্টটা পাচ্ছি...সেই কষ্টটা তোমাকেও পেতে হবে...তিলে তিলে মরবে তুমি...তোমার জীবনটা আমি নরক বানিয়ে দেবো...”

সৈরীতি চোখ বন্ধ করে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে...তাচ্ছিল্য ভরা চাওনিতে তাকায় বিভোর এর দিকে...

-- “পরে যেনো না আবার আফসোস করতে হয়...”

-- “আফসোস?? আফসোস শব্দটা বিভোর কাঞ্জিলাল তার ডিকসেনারি থেকে মুছে ফেলেছে কাল রাত্রিবেলা...”

-- “আচ্ছা যত ইচ্ছে শাস্তি দিন আপনি আমায়...তিলে তিলে , দগ্ধে দগ্ধে মারুন আমায়...শুধু একটা অনুরোধ রাখবেন?? ”

বিভোর খাওয়া বন্ধ করে সরু চোখে তাকায় সৈরীতির দিকে...তারপর আবার মনোযোগ দেয় খাওয়ায়...

-- “কি??”

-- “ফাঁসির আসামীর থেকেও তো তার শেষ ইচ্ছের কথা জানা হয়...আমি তিলে তিলে মরে যাওয়ার আগে আমার একটা ইচ্ছে পূরণ করবেন??”

-- “আচ্ছা বলো, শুনি তোমার শেষ ইচ্ছা...”

-- “আমার মাস্টার্সের ফাইনাল ইয়ার চলছে এটা...মাস্টার্স টা কমপ্লিট করতে দেবেন আমায়??”

-- “হুম ,তবে বাড়ির সব কাজ যেনো সময়ে হয়ে যায়..”

-- “ধন্যবাদ...”

সৈরীতি আর দাঁড়ায় না বিভোর এর সামনে...খুব কষ্ট হচ্ছে তার....ছুটে রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়.... সৈরীতির খুব ইচ্ছে হয় চিৎকার করে কাঁদতে....ওয়াশরুমে গিয়ে শাওয়ার চালিয়ে ধপ করে বসে পড়ে শাওয়ারের নিচে...

-- “আমি সত্যিই জানতাম না ডাক্তার সাহেব আমার বাবা এইভাবে আপনার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছেন...আমাকে কেউ ঘুণাক্ষরেও জানতে দেয়নি যে আমি সন্তান জন্ম দিতে অপারগ...যদি জানতাম তাহলে না আপনার সঙ্গে সম্পর্কে জরাতাম আর না করতাম আপনাকে বিয়ে....যেদিন আপনি গিয়েছিলেন আমাদের বাড়ি বাবার সাথে কথা বলতে সেদিনই আপনাকে দেখেছিলাম আমি...বাবা তো আমাকে বলেছিলো আপনার বোন নাকি চাইছেনা দাদার আগে নিজে বিয়ে করতে তাইতো আপনি রাজি হয়েছেন আমাকে বিয়ে করতে...আমি অনেক খুশি হয়েছিলাম...আপনাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য কিচ্ছু বলিনি আপনাকে...যোগাযোগও বন্ধ করেছিলাম...কিন্তু এই বিয়ের মধ্যে যে এত রহস্য আছে সেটা আমি জানতাম না...এখানে আমি কি করবো বলতে পারেন?? ”

প্রায় আধাঘন্টা পর ওয়াশরুম থেকে বেরোয় সৈরীতি...রুমে এসে শাড়ি পাল্টে ভেজা শাড়িটা মিলে দেয় বারান্দায়...তারপর নিচে যায়...বিভোর কে কোথাও দেখতে পায়না...তারমানে চলে গেছে বিভোর.... সৈরীতি ড্রয়িং রুমের সোফায় বসে টিভি অন করে...কিছুক্ষনের মধ্যেই বাড়ির ল্যান্ডফোন টা বেজে ওঠে...ফোন টা রিসিভ করে সৈরীতি...

-- “হ্যালো..”

-- “হ্যালো রীতি?? আমি বিনীতা বলছি...”

-- “হ্যাঁ বৌদি বলো...কেমন আছো?? ভাইয়া কেমন আছে?? আর আমার পুঁচকে ভাইপো টা কেমন আছে??”

-- “সব্বাই খুব ভালো আছে...দাদাভাই বাড়িতে আছে ??”

-- “না, উনি তো একটু আগেই হসপিটাল বেরিয়ে গেলো...”

-- “তাহলে ভালোই হলো...তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে...”

-- “হুম বলো,শুনছি..”

-- “দাদাভাই অন্য কাউকে ভালোবাসে...”

-- “জানি”

-- “বলেছে তোমাকে?? আচ্ছা শোনো...তুমি এখন দাদাভাই এর স্ত্রী...আমার মনে হয় তোমার সাথে থাকতে থাকতে দাদাভাই তোমাকে ভালোবেসে ফেলবে...”

-- “বলছি বৌদি,এইসব কথা বাদ দাও না...ভাইয়া কোথায়?? আমি একটু ওর সাথে কথা বলবো...”

-- “ধরো,দিচ্ছি...”

হঠাৎই সৈরীতির ব্যক্তিগত ফোনটা বেজে ওঠে...স্ক্রিনে বিভোর এর নাম দেখে অবাক হয় সৈরীতি...টেলিফোন টা পাশে রেখে নিজের ফোনটা রিসিভ করে সে...

-- “হ্যালো..”

-- “ভুলেও তোমার দাদাকে বলার চেষ্টা করো না কিছু..”

সৈরীতি বিস্ময়ের সাথে এদিক ওদিক তাকায়...বিভোর বা কাউকে কোথাও দেখতে পায়না...খুব অবাক হয় সৈরীতি...ওপর পাশ থেকে হো হো করে হেঁসে ওঠে বিভোর...

-- “বোনের সুরক্ষার জন্য সারা বাড়িতে সি সি ক্যামেরা লাগিয়েছিলাম আমি...বোনের বিয়ের পরও যে সেটা এভাবে কাজে লেগে যাবে ভাবিনি....ভুলেও অতিরিক্ত সাহস দেখাতে যেও না...তোমার একটা ছোট্ট ভুল কিন্তু তোমার জীবনটা নরক বানিয়ে দেবে...”

-- “আমার ওপর নজরদারি না করে পেশেন্টের ওপর নজরদারি করুন...সেটা আপনার জন্য উপকার...”

-- “বিভোর কাঞ্জিলাল কে জ্ঞান দিতে এসো না...বিভোর কাঞ্জিলাল এর খারাপ রূপ তুমি এখনও দেখোনি...”

-- “আপনার সাথে কথা বলতে আমার বিন্দুমাত্র ইচ্ছে করছেনা...আমার প্রাইভেসি নষ্ট করে ওখানে বসে বসে খারাপ রূপ দেখাচ্ছেন...”

-- “আর তুমি যে আমার পুরো জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছো...”

-- “ডিভোর্স দিয়ে দিন...আপনার জীবন নষ্ট হবেনা আর...”

-- “তোমাকে এত সহজে কি করে ছেড়ে দিই বলো...কষ্ট জিনিসটা উপলব্ধি করো আগে...”

-- “একটা নারী সন্তান জন্ম দিতে ব্যার্থ...এই সংবাদ টা কি কষ্টকর নয় কোনো নারীর জন্য???”

Address

Barishal
Dhaka

Opening Hours

09:00 - 17:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Golpo vandar By Aysha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category