09/11/2024
অশ্বগন্ধার ব্যবহার এবং উপকারিতা
আপনি যদি আয়ুর্বেদ চিকিৎসা করে থাকেন বা বিকল্প চিকিৎসায় বিশ্বাসী হন, তাহলে বহুবার অশ্বগন্ধার নাম শোনার সম্ভাবনা আছে। আর কেনই বা নয়? অশ্বগন্ধা হচ্ছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়ুর্বেদী ভেষজ। অথর্ববেদ অনুসারে, হাজার হাজর বছর ধরে অশ্বগন্ধার উপস্থিতি এবং ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রের ইতিহাসে এটিকে ‘‘অত্যাশ্চর্য ভেষজ’’ বা অ্যাডাপ্টোজেন (মানসিক চাপ মুক্তির এজেন্ট) বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে কারণ মানসিক চাপের উপসর্গ বা দুশ্চিন্তার উপসর্গ কমাতে সাধারণ ভেষজের মধ্যে এটি সর্বাপেক্ষা বেশি ব্যবহৃত হয়।
অশ্বগন্ধা কীভাবে কাজ করে
মহিলাদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে, হরমোনের সমতা আনতে এবং এবং রজঃস্রাবের উপসর্গ যেমন দুশ্চিন্তা, খিটখিটে ভাব এবং মহিলাদের মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধা খুবই কার্যকরী। টনিক হিসাবে অশ্বগন্ধা গ্রহণে খাদ্যাভ্যাসের কারণে বহু ঘাটতি পূরণে তা সাহায্য করে আর ডায়রেটিক (মূত্রবর্ধক) হিসাবে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদানসমূহ (টক্সিন) বার করে দেয়। শরীরে যত টক্সিন কম থাকবে তত শরীরের কার্যকলাপ ভাল হবে। গবেষকরা দেখিয়েছেন, মহিলাদের মধ্যে যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধিতে অশ্বগন্ধা কার্যকরী ভূমিকা নেয়। শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং শরীরের চাপ কমিয়ে এটি এই কার্য সমাধা করে।
পুরুষদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
সমস্ত ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে অশ্বগন্ধা অন্যতম প্রধান যা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত অশ্বগন্ধা সেবনে পুরুষদের মধ্যে শুধু যৌন ইচ্ছা বাড়ায় না, শুক্রাণু সংখ্যা এবং টেস্টোটেরনের হার বৃদ্ধিতে এটি কার্যকরী হয়। অশ্বগন্ধার এই যে চাঙা করার উপকারিতা আছে তা পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্য উন্নয়নের সময় দেখা যায়, কারণ এটি শক্তি এবং পৌরুষত্ব বৃদ্ধি করে বলে যৌনক্রিয়ার উন্নতি হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধার বহু উপকারিতা এবং ব্যবহার আছে তবে এটি প্রাথমিকভাবে মানসিক চাপ প্রতিরোধী থেরাপির জন্য ব্যবহৃত হয়।
এর দুশ্চিন্তা নিরোধক উপাদানের সঙ্গে চিন এবং সাইবেরিয়ার জিনসেন-এর তুলনা করা হয়। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অশ্বগন্ধার ব্যবহারে দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপের কারণে উদ্ভূত অবসাদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এর অ্যাড্যাপ্টোজেনিক এবং পুষ্টিবর্ধক ক্ষমতার জন্য বিশেষভাবে তা সম্ভব হয়। বলতে হয়, এর অ্যাড্যাপ্টোজেনিক গুণ বহু মানসিক চাপ সম্পর্কিত রোগ, যেমন অকাল বার্ধক্য, উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) এবং ডায়বিটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে।
ডায়বিটিসের জন্য অশ্বগন্ধা
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের ডায়বিটিস আছে সে সব রোগীর ক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন ক্ষরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। শুধুমাত্র যাঁদের ডাইবিটিস আছে তাঁদের ক্ষেত্রেই নয়, দেখা গিয়েছে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতেও এটি একইরকম কার্যকরী। তবুও প্রতাহিক রুটিনের মধ্যে অশ্বগন্ধা ব্যবহার চালু করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার সুপারিশ করা হয়ে থাকে।
আর্থারাইটিক-বিরোধী হিসাবে অশ্বগন্ধা
আপনি কি গাঁটের (সন্ধিস্থল) যন্ত্রণা বা সেখানে ফুলে যাওয়ার জন্য কষ্ট পাচ্ছেন? সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অশ্বগন্ধার মধ্যে প্রদাহ বিরোধী উপাদানসমূহ রয়েছে। আর্থারাইটিস-এর উপসর্গ লাঘবে এগুলি বিশেষভাবে কার্যকরী। আয়ুর্বেদে আর্থারাইটিসকে বাত এবং শরীরে পরিপাক ক্রিয়া বা পিত্ত-এর অসামঞ্জস্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়, অশ্বগন্ধা পিত্ত বৃদ্ধি করে এবং বাত এবং কফ হ্রাস করে। এভাবে গাঁটের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রদাহ বিরোধী গুণের দরুণ ত্বকের সমস্যা যেমন এগজিমা, সোরাইসিস এবং খুসকি জাতীয় চুলের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
সংক্রমণ বিরোধী ক্ষমতা ভালভাবে বাড়াতে অশ্বগন্ধা
‘‘মিটাকি মাশরুম নির্যাস’’-এর (খাদ্যোপযোগী ছত্রাক যা সাধারণত এশিয়ায় খাওয়া হয়) সঙ্গে অশ্বগন্ধাও ফ্যাগোসাইটিক ক্রিয়া (আমাদের শরীরে অচেনা প্যাথোজেনকে ধ্বংস করার ক্ষমতা) বাড়াতে সাহায্য করে। এভাবে এটি আমাদের শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ায়। কাজেই পরের বার যখন আপনার শরীর খারাপ লাগবে তখন অশ্বগন্ধা চায়ে চুমুক দিন এবং সর্দি-কাশি বা ঠান্ডা লাগার সঙ্গে যুঝতে শুরু করুন।
ক্ষত নিরাময়ে অশ্বগন্ধা সাহায্য করে
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের মতে ক্ষত নিরাময়ে অশ্বগন্ধা একটি চমৎকার এজেন্ট। সাধারণত অশ্বগন্ধার একটি প্রলেপ আক্রান্ত ত্বকের ওপর লাগানো হয়। ডায়বিটিসে আক্রান্ত পশুদের ওপর অশ্বগন্ধার প্রয়োগের প্রভাব পরীক্ষা করতে ভারতে ব্যাপক গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ক্ষতস্থান দ্রুত নিরাময় হয় এবং যদি শরীরের ওপরে অশ্বগন্ধার প্রলেপ না দিয়ে তা মুখ দিয়ে খাওয়ানো হয় তাহলে তা আরও ভাল কাজ করে। তবে যেহেতু, মানব শরীরের ওপর পরীক্ষানিরীক্ষা হয়নি, অতএব যে কোনও ক্ষত নিরাময়ের জন্য অশ্বগন্ধার প্রয়োগের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সুনিদ্রার জন্য অশ্বগন্ধা
গবেষকেরা ইঙ্গিত করেছেন, নিজে কড়া ঘুমের ওষুধ না হলেও এটি মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা কমিয়ে উত্তেজনা কমিয়ে এবং সুনিদ্রায় সাহায্য করে।
যৌনক্ষমতা বাড়াতে অশ্বগন্ধা
বলা হয়, অশ্বগন্ধা পুরুষ এবং নারীদের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং পুরুষদের সাইকোজেনিক কারণে লিঙ্গ উচ্ছৃত না হলে (মানসিক সমস্যার দরুণ পুরুষদের লিঙ্গ দৃঢ় না হওয়া) তার চিকিৎসা করলে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত অশ্বগন্ধা সেবনে শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে।
থাইরয়েড প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করে
নির্দিষ্ট গবেষণায় জানা গিয়েছে, অশ্বগন্ধা শরীরে T4 হরমোন মাত্রা বৃদ্ধি করে। হাইপোথাইরয়েডিজমের (এমন এক অবস্থা যখন শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম আছে) সম্ভাব্য চিকিৎসার ক্ষমতা এই ভেষজ উদ্ভিদের আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বহুবিধ সমীক্ষা চলছে।
স্বাস্থ্যকর হার্টের জন্য অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধা শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমায়। এই স্নেহ পদার্থগুলিই হৃদযন্ত্রের সমস্যা যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ধমনীতে রক্ত জমাট হয়ে যাওয়া জাতীয় বর্তমান যুগের বিভিন্ন অসুখের জন্য দায়ী।
অতএব, অশ্বগন্ধার অ্যাডপ্টোজেনিক উপাদানসমূহ চাপ কমাতে খুব সাহায্য করে, এবং এই উদ্ভিদ পেশি শিথিল করে। সুতরাং হৃদয়ের পেশিগুলির ওপর চাপ কমাবার জন্য এটি উপযুক্ত এজেন্ট। কিছু গবেষক দাবি করে থাকেন, হৃদয়ের পেশিগুলির শক্তি বাড়াতে এই উদ্ভিদের টনিক কার্যকরী ভূমিকা নেয়। শারীরিক কসরতের সময় হার্ট এবং ফুসফুস কত পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে অর্থাৎ কার্ডিওরেসপিরেটরি ক্ষমতার ওপর অশ্বগন্ধার প্রভাব কী পড়ে তা বুঝবার জন্য ভারতের কিছু নামকরা সাইকেল আরোহীর ওপর গবেষণা চালিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছে। রক্তে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ হলে অতিরিক্ত সময় আমরা সক্রিয় থাকতে পারি। অনেকে শুনে বিস্মিত হতে পারেন যে অশ্বগন্ধার অন্টিকোঅ্যাগুলেন্ট গুণ আছে যা ধমনীতে রক্ত জমাট হওয়া প্রতিরোধ করে। কাজেই এই ভেষজ হার্টের অধিকাংশ সাধারণ সমস্যা প্রশমনে সাহায্য করে বলে একে চমৎকার কার্ডিওপ্রোটেক্টিভ (কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে রক্ষা করে) বলা যেতে পারে।
স্নায়বিক রোগের জন্য অশ্বগন্ধা
দেখা গিয়েছে পার্কিনসন বা ADHD ( মনোযোগহীনতা অতিরিক্ত চঞ্চলতা)-এর রোগের উপসর্গ হ্রাস করে অশ্বগন্ধা, যদিও এর কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু জানা যায়নি।
অ্যাড্রিনাল ফেটিগ প্রতিরোধে অশ্বগন্ধা
আপনি কি সবসময় ক্লান্তি বোধ করেন? এর কারণ হতে পারে অ্যাড্রিনাল ফেটিগ (অড্রিনাল ক্ষরণজনিত ক্লান্তি)। কখনও এর নাম শোনেননি? অধিকাংশ মানুষই শোনেননি। কিন্তু আজকের সদা ব্যস্ত এবং প্রবল গতির জীবনধারা, যখন জীবন প্রবলভাবে চাপের সম্মুখীন, তখন এটি নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। সেটা কাজের চাপই হোক বা অন্য ধরনের চাপ, শরীরের ওপর নিরবচ্ছিন্ন চাপের ফলে অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড (বৃক্কের ওপরিভাগে অবস্থিত গ্ল্যান্ড) থেকে কর্টিসল নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরের অব্যতম ‘‘স্ট্রেস হরমোন’’। এরজন্যই ক্লান্তি, হজমের সমস্যা, অনিদ্রা এবং স্নায়ুদৌর্বল্য জাতীয় উপসর্গ দেখা দেয়। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন অশ্বগন্ধা চাপ প্রতিরোধী (অন্টি-স্ট্রেস) ভেষজ বলে আপনার অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে, ফলত আপনার কর্টিসল মাত্রা কম হয় এবং আপনি অ্যাড্রিনাল ফেটিগ-এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন।
সাপের বিষে অশ্বগন্ধা
বহু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সাপের বিষের (ভেনম) বিরুদ্ধে শরীরে স্বাভাবিক প্রতিরোধী ভূমিকা পালন করে অশ্বগন্ধা। বলা হয়, এটি হচ্ছে গ্লাইকোপ্রোটিন (এক ধরনের প্রোটিন) যা শরীরে হায়ালোনিডেস-সাপের বিষের একটি সক্রিয় উপাদান যা বিষকে পাশের টিস্যুগুলিতে পৌঁছে দেয়- ছড়াতে দেয় না। সাপের কামড়ের বিরুদ্ধে ভারতে প্রতিষেধক হিসাবে চিরাচরিতভাবে অশ্বগন্ধার একটি প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।
ত্বকের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
এমন কেউ আছেন কি যিনি অমলিন এবং মসৃণ ত্বক পছন্দ করেন না? আপনি কি জানেন যে অশ্বগন্ধা ত্বকের অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সাহায্য করে? শরীরে বয়স নেমে আসার সবচেয়ে প্রধান কারণ হচ্ছে ফ্রি র্যাডিক্যাল যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যকলাপের দরুণ সৃষ্টি হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলীর কারণে অশ্বগন্ধা এইসব ফ্রি র্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে পারে এবং আপনার ত্বককে উজ্জ্বল এবং তাজা রাখতে পারে। শুধু তাই নয়, শরীরে ফ্রি র্যাডিক্যালের জন্য যে সমস্যা দেখা দেয় অর্থাৎ ত্বক কুঁচকে যাওয়া, ডার্ক স্পট এবং অকাল বার্ধক্যের অন্যান্য লক্ষণ, সেসব থেকে এটি বাঁচায়। অতিরিক্তভাবে, শুষ্ক এবং অমসৃণ ত্বকের জন্য দায়ী কেরাটোসিস-এর (ত্বকের একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি) বিরুদ্ধে ব্যবহার করা চলে। কেরাটোসিস-এর উপসর্গ কমাবার জন্য দৈনিক এক কাপ অশ্বগন্ধা চা সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চুলের জন্য অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধা চুলে পুষ্টি জোগায়, যা চুল পড়া কমতে সাহায্য করে এবং চুল দীর্ঘ এবং উজ্জ্বল করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ার কারণে অকালে চুলে পাক ধরা এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। অশ্বগন্ধার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টিকর প্রভাবের দরুণ এটি একটি আদর্শ কেশ টনিক হিসাবে কাজ করে। অশ্বগন্ধা চুলের গোড়ায় (ফলিকল) পুষ্টি জোগায় এবং চুল শক্ত করে। নিয়মিত অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে শরীরের মানসিক চাপ কমে বলে জানা গিয়েছে, এবং ফলত চুল পড়া কমে। তাছাড়া, অশ্বগন্ধার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র্যাডিক্যাল প্রতিরোধ করে এবং চুলের স্বাভাবিক রং নষ্ট হতে দেয় না।