Deshi Safe Food

Deshi Safe Food ১০০% নিরাপদ ও ন্যাচারাল খাদ্য পণ্য।

23/08/2025

🌱 সকালের নাস্তায় সিড জাতীয় খাবার রাখার উপকারিতা 🌱

সকালের নাস্তা আমাদের দিনের প্রথম পুষ্টির উৎস, এবং সঠিক পুষ্টি পেলে দিনের বাকি সময়টাও হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। সিড জাতীয় খাবার যেমন ফ্ল্যাক্স সিড, চিয়া সিড, বা তিসি সিডের উপকারিতা অসাধারণ! এখানে জানুন কেন এগুলো আপনার সকালের নাস্তায় থাকা উচিত:

1️⃣ উচ্চ ফাইবার: সিডে প্রচুর ফাইবার রয়েছে যা হজম প্রক্রিয়া সুগম করে এবং দীর্ঘসময় ক্ষুধা কমায়। এটি ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

2️⃣ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: বিশেষ করে ফ্ল্যাক্স সিডে রয়েছে ওমেগা-৩, যা হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

3️⃣ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য: সিডে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শরীরের কোষগুলোকে ক্ষতিকর র‌্যাডিকেলস থেকে রক্ষা করে, এবং শরীরের প্রদাহ কমায়।

4️⃣ প্রোটিনের উৎস: চিয়া সিড প্রোটিনের ভালো উৎস, যা পেশী গঠন এবং শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

🥄 কীভাবে ব্যবহার করবেন? ফ্ল্যাক্স সিড বা চিয়া সিড আপনার দই, স্মুদি, সিরিয়াল বা মাখন এবং মধুর সাথে মেশাতে পারেন।

সুস্থ থাকার জন্য আজই আপনার নাস্তায় সিড যোগ করুন এবং পেয়ে যান সারাদিনের শক্তি! 🌟

23/08/2025
23/08/2025

হেলদি ব্রেকফাস্ট: দিনের শক্তির আসল চাবিকাঠি

সকালের নাস্তা শুধু ক্ষুধা মেটানোর জন্য নয়, বরং সারাদিনের এনার্জি আর মনোযোগ ধরে রাখার মূল ভিত্তি। এক কাপ চা বা কফি দিয়ে দিন শুরু করা অনেকের অভ্যাস হলেও, শরীরের সত্যিকার জ্বালানি আসে হেলদি ব্রেকফাস্ট থেকে।

বাংলাদেশে অনেকের সকাল শুরু হয় পরোটা, ভাজি, পুরি, সমুচা, সিঙ্গারা, চা আর বেশি চিনি দিয়ে। এটা খেতে মজা লাগলেও শরীরের জন্য মোটেই ভালো না।
👉 সমস্যাটা কোথায়? তেলে ভাজা খাবারগুলোতে থাকে অতিরিক্ত ফ্যাট আর ক্যালরি, যা ওজন বাড়ায়। সকালের চায়ে বেশি চিনি খাওয়ার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ভাত বা পরোটার মতো শুধু কার্বোহাইড্রেট খেলে দ্রুত এনার্জি শেষ হয়ে যায়, ফলে ক্লান্তি আসে। অনেকেই আবার একেবারেই ব্রেকফাস্ট করে না, শুধু চা খেয়ে অফিসে যায়—এটা শরীরের মেটাবলিজমের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

✨ কিন্তু একটু সচেতন হলে এই অভ্যাস বদলানো কঠিন না। এক বাটি ওটস, ডিম, ফল বা বাদাম দিয়ে নাস্তা করলে শরীর পাবে প্রোটিন, ফাইবার আর ভিটামিন। এতে পেটও ভরবে, সারাদিন এনার্জিও থাকবে।

🥣 ওটস, ডিম, দুধ, ফল, বীজ জাতীয় খাবার ( সীডস )আর বাদাম — এগুলো একসাথে শরীরকে দেয় প্রোটিন, ফাইবার আর ভিটামিন। এতে যেমন ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে, তেমনি হজম ভালো হয়, মন ভালো থাকে।

✨ অনেকেই ভাবে সকালবেলা খেতে সময় নষ্ট হয়। কিন্তু আসল কথা হলো, নাস্তা বাদ দিলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে, মনোযোগ কমে যায় আর হঠাৎ ক্ষুধা পেলে অস্বাস্থ্যকর খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়া হয়।

👉 তাই নিয়মিত হেলদি ব্রেকফাস্টকে অভ্যাসে আনুন। এক বাটি ওটস, কিছু ফল, এক গ্লাস দুধ অথবা এক মুঠো বাদাম—এই ছোট ছোট চয়েস আপনার প্রতিদিনের জীবনকে অনেকটা বদলে দিতে পারে।

31/12/2024
শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে নানারকম দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য...
19/11/2024

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ঠিকঠাক রাখতে পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে নানারকম দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকি রয়েছে।

ঘুমের অভাবে হৃদরোগ, রক্তনালীর রোগ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও স্মৃতিভ্রংশতার ঝুঁকি বাড়ে। এমনকি একদিনের ঘুমের ঘাটতিও সুস্থতার ক্ষতি করতে পারে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা পর্যাপ্ত ঘুমান না তাদের উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও আকস্মিক মেজাজ পরিবর্তন বা বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি বেশি।

তবে কম ঘুমানোর মতোই বেশি ঘুমানোটাও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার অন্তর্গত কেক স্কুল অব মেডিসিনের সহকারী অধ্যাপক রাজ দাসগুপ্ত বলেন, একজন মানুষের কতক্ষণ ঘুমানো দরকার তার উত্তর সহজে দেয়া যায় না। কতক্ষণ ঘুমানো প্রয়োজন তা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু সাধারণ সুপারিশকৃত পরিসর হলো- প্রতিরাতে সাত থেকে নয় ঘণ্টা। বয়স অনুসারেও সুপারিশকৃত পরিসর রয়েছে।

ডা. রাজের মতে, ঘুমের পরিমাণ যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ঘুমের মানও বজায় রাখতে হবে। ঘুমের পরিমাণ ঠিক থাকার পরও ক্লান্তি লাগলে বুঝতে হবে যে ঘুমের মান বজায় ছিল না। ঘুমের মধ্যে আমরা কিছু স্টেজে চলে যাই, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন ঘুম না হলে এসব স্টেজে পৌঁছানো অসম্ভব হতে পারে। ঘুমের স্টেজগুলোতে পৌঁছলে দিনের বেলা শরীর ও মন দুটোই সতেজ থাকে।

বয়স অনুসারে ঘুমের পরিমাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের পরামর্শ হলো-

* শূন্য থেকে ৩ মাস বয়সী শিশুদের ১৪ থেকে ১৭ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

* ৪ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের জন্য ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা ঘুম দরকার হয়।

* ১ থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের দরকার হয় ১১ থেকে ১৪ ঘণ্টার ঘুম।

* ৩ থেকে ৫ বছর বয়সীদের জন্য ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা।

* ৬ থেকে ১৩ বছর বয়সী শিশুদের রাতে অন্তত ৯-১১ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। তবে নিয়মিত ৭-৮ ঘণ্টা ঠিকঠাক ঘুমাতে পারলেও ওরা নিজেকে চালিয়ে নিতে পারে।

* ৮-১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের।

* ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী মানুষের রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

* ২৬ থেকে ৬৪ বছর বয়সী মানুষের রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।

* ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সীদের জন্য ঘুমানো প্রয়োজন ৭-৮ ঘণ্টা।

তথ্যসূত্র: হেলথ লাইন

অশ্বগন্ধার ব্যবহার এবং উপকারিতাআপনি যদি আয়ুর্বেদ চিকিৎসা করে থাকেন বা বিকল্প চিকিৎসায় বিশ্বাসী হন, তাহলে বহুবার অশ্বগন্ধ...
09/11/2024

অশ্বগন্ধার ব্যবহার এবং উপকারিতা
আপনি যদি আয়ুর্বেদ চিকিৎসা করে থাকেন বা বিকল্প চিকিৎসায় বিশ্বাসী হন, তাহলে বহুবার অশ্বগন্ধার নাম শোনার সম্ভাবনা আছে। আর কেনই বা নয়? অশ্বগন্ধা হচ্ছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়ুর্বেদী ভেষজ। অথর্ববেদ অনুসারে, হাজার হাজর বছর ধরে অশ্বগন্ধার উপস্থিতি এবং ব্যবহার লক্ষ করা যায়। ভারতীয় চিকিৎসা শাস্ত্রের ইতিহাসে এটিকে ‘‘অত্যাশ্চর্য ভেষজ’’ বা অ্যাডাপ্টোজেন (মানসিক চাপ মুক্তির এজেন্ট) বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে কারণ মানসিক চাপের উপসর্গ বা দুশ্চিন্তার উপসর্গ কমাতে সাধারণ ভেষজের মধ্যে এটি সর্বাপেক্ষা বেশি ব্যবহৃত হয়।

অশ্বগন্ধা কীভাবে কাজ করে
মহিলাদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
সমীক্ষায় পাওয়া গিয়েছে, হরমোনের সমতা আনতে এবং এবং রজঃস্রাবের উপসর্গ যেমন দুশ্চিন্তা, খিটখিটে ভাব এবং মহিলাদের মানসিক চাপ কমানোর ক্ষেত্রে অশ্বগন্ধা খুবই কার্যকরী। টনিক হিসাবে অশ্বগন্ধা গ্রহণে খাদ্যাভ্যাসের কারণে বহু ঘাটতি পূরণে তা সাহায্য করে আর ডায়রেটিক (মূত্রবর্ধক) হিসাবে শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদানসমূহ (টক্সিন) বার করে দেয়। শরীরে যত টক্সিন কম থাকবে তত শরীরের কার্যকলাপ ভাল হবে। গবেষকরা দেখিয়েছেন, মহিলাদের মধ্যে যৌন ইচ্ছা বৃদ্ধিতে অশ্বগন্ধা কার্যকরী ভূমিকা নেয়। শরীরে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে এবং শরীরের চাপ কমিয়ে এটি এই কার্য সমাধা করে।

পুরুষদের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
সমস্ত ভেষজ উদ্ভিদের মধ্যে অশ্বগন্ধা অন্যতম প্রধান যা পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত অশ্বগন্ধা সেবনে পুরুষদের মধ্যে শুধু যৌন ইচ্ছা বাড়ায় না, শুক্রাণু সংখ্যা এবং টেস্টোটেরনের হার বৃদ্ধিতে এটি কার্যকরী হয়। অশ্বগন্ধার এই যে চাঙা করার উপকারিতা আছে তা পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্য উন্নয়নের সময় দেখা যায়, কারণ এটি শক্তি এবং পৌরুষত্ব বৃদ্ধি করে বলে যৌনক্রিয়ার উন্নতি হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধার বহু উপকারিতা এবং ব্যবহার আছে তবে এটি প্রাথমিকভাবে মানসিক চাপ প্রতিরোধী থেরাপির জন্য ব্যবহৃত হয়।

এর দুশ্চিন্তা নিরোধক উপাদানের সঙ্গে চিন এবং সাইবেরিয়ার জিনসেন-এর তুলনা করা হয়। একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অশ্বগন্ধার ব্যবহারে দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপের কারণে উদ্ভূত অবসাদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এর অ্যাড্যাপ্টোজেনিক এবং পুষ্টিবর্ধক ক্ষমতার জন্য বিশেষভাবে তা সম্ভব হয়। বলতে হয়, এর অ্যাড্যাপ্টোজেনিক গুণ বহু মানসিক চাপ সম্পর্কিত রোগ, যেমন অকাল বার্ধক্য, উচ্চ রক্তচাপ (হাইপারটেনশন) এবং ডায়বিটিস প্রতিরোধে সহায়তা করে।

ডায়বিটিসের জন্য অশ্বগন্ধা
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, যাঁদের ডায়বিটিস আছে সে সব রোগীর ক্ষেত্রে শরীরে ইনসুলিন ক্ষরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। শুধুমাত্র যাঁদের ডাইবিটিস আছে তাঁদের ক্ষেত্রেই নয়, দেখা গিয়েছে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও রক্তে শর্করার পরিমাণ কমাতেও এটি একইরকম কার্যকরী। তবুও প্রতাহিক রুটিনের মধ্যে অশ্বগন্ধা ব্যবহার চালু করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার সুপারিশ করা হয়ে থাকে।

আর্থারাইটিক-বিরোধী হিসাবে অশ্বগন্ধা
আপনি কি গাঁটের (সন্ধিস্থল) যন্ত্রণা বা সেখানে ফুলে যাওয়ার জন্য কষ্ট পাচ্ছেন? সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, অশ্বগন্ধার মধ্যে প্রদাহ বিরোধী উপাদানসমূহ রয়েছে। আর্থারাইটিস-এর উপসর্গ লাঘবে এগুলি বিশেষভাবে কার্যকরী। আয়ুর্বেদে আর্থারাইটিসকে বাত এবং শরীরে পরিপাক ক্রিয়া বা পিত্ত-এর অসামঞ্জস্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়, অশ্বগন্ধা পিত্ত বৃদ্ধি করে এবং বাত এবং কফ হ্রাস করে। এভাবে গাঁটের ব্যাথা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রদাহ বিরোধী গুণের দরুণ ত্বকের সমস্যা যেমন এগজিমা, সোরাইসিস এবং খুসকি জাতীয় চুলের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

সংক্রমণ বিরোধী ক্ষমতা ভালভাবে বাড়াতে অশ্বগন্ধা
‘‘মিটাকি মাশরুম নির্যাস’’-এর (খাদ্যোপযোগী ছত্রাক যা সাধারণত এশিয়ায় খাওয়া হয়) সঙ্গে অশ্বগন্ধাও ফ্যাগোসাইটিক ক্রিয়া (আমাদের শরীরে অচেনা প্যাথোজেনকে ধ্বংস করার ক্ষমতা) বাড়াতে সাহায্য করে। এভাবে এটি আমাদের শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা বাড়ায়। কাজেই পরের বার যখন আপনার শরীর খারাপ লাগবে তখন অশ্বগন্ধা চায়ে চুমুক দিন এবং সর্দি-কাশি বা ঠান্ডা লাগার সঙ্গে যুঝতে শুরু করুন।

ক্ষত নিরাময়ে অশ্বগন্ধা সাহায্য করে
আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের মতে ক্ষত নিরাময়ে অশ্বগন্ধা একটি চমৎকার এজেন্ট। সাধারণত অশ্বগন্ধার একটি প্রলেপ আক্রান্ত ত্বকের ওপর লাগানো হয়। ডায়বিটিসে আক্রান্ত পশুদের ওপর অশ্বগন্ধার প্রয়োগের প্রভাব পরীক্ষা করতে ভারতে ব্যাপক গবেষণা চালানো হয়েছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ক্ষতস্থান দ্রুত নিরাময় হয় এবং যদি শরীরের ওপরে অশ্বগন্ধার প্রলেপ না দিয়ে তা মুখ দিয়ে খাওয়ানো হয় তাহলে তা আরও ভাল কাজ করে। তবে যেহেতু, মানব শরীরের ওপর পরীক্ষানিরীক্ষা হয়নি, অতএব যে কোনও ক্ষত নিরাময়ের জন্য অশ্বগন্ধার প্রয়োগের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

সুনিদ্রার জন্য অশ্বগন্ধা
গবেষকেরা ইঙ্গিত করেছেন, নিজে কড়া ঘুমের ওষুধ না হলেও এটি মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা কমিয়ে উত্তেজনা কমিয়ে এবং সুনিদ্রায় সাহায্য করে।

যৌনক্ষমতা বাড়াতে অশ্বগন্ধা
বলা হয়, অশ্বগন্ধা পুরুষ এবং নারীদের যৌনক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং পুরুষদের সাইকোজেনিক কারণে লিঙ্গ উচ্ছৃত না হলে (মানসিক সমস্যার দরুণ পুরুষদের লিঙ্গ দৃঢ় না হওয়া) তার চিকিৎসা করলে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায়। একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত অশ্বগন্ধা সেবনে শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে।

থাইরয়েড প্রক্রিয়া বৃদ্ধি করে
নির্দিষ্ট গবেষণায় জানা গিয়েছে, অশ্বগন্ধা শরীরে T4 হরমোন মাত্রা বৃদ্ধি করে। হাইপোথাইরয়েডিজমের (এমন এক অবস্থা যখন শরীরে থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা কম আছে) সম্ভাব্য চিকিৎসার ক্ষমতা এই ভেষজ উদ্ভিদের আছে কিনা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বহুবিধ সমীক্ষা চলছে।

স্বাস্থ্যকর হার্টের জন্য অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধা শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টোরেলের মাত্রা কমায়। এই স্নেহ পদার্থগুলিই হৃদযন্ত্রের সমস্যা যেমন হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং ধমনীতে রক্ত জমাট হয়ে যাওয়া জাতীয় বর্তমান যুগের বিভিন্ন অসুখের জন্য দায়ী।

অতএব, অশ্বগন্ধার অ্যাডপ্টোজেনিক উপাদানসমূহ চাপ কমাতে খুব সাহায্য করে, এবং এই উদ্ভিদ পেশি শিথিল করে। সুতরাং হৃদয়ের পেশিগুলির ওপর চাপ কমাবার জন্য এটি উপযুক্ত এজেন্ট। কিছু গবেষক দাবি করে থাকেন, হৃদয়ের পেশিগুলির শক্তি বাড়াতে এই উদ্ভিদের টনিক কার্যকরী ভূমিকা নেয়। শারীরিক কসরতের সময় হার্ট এবং ফুসফুস কত পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ করে অর্থাৎ কার্ডিওরেসপিরেটরি ক্ষমতার ওপর অশ্বগন্ধার প্রভাব কী পড়ে তা বুঝবার জন্য ভারতের কিছু নামকরা সাইকেল আরোহীর ওপর গবেষণা চালিয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছে। রক্তে বেশি পরিমাণ অক্সিজেন সরবরাহ হলে অতিরিক্ত সময় আমরা সক্রিয় থাকতে পারি। অনেকে শুনে বিস্মিত হতে পারেন যে অশ্বগন্ধার অন্টিকোঅ্যাগুলেন্ট গুণ আছে যা ধমনীতে রক্ত জমাট হওয়া প্রতিরোধ করে। কাজেই এই ভেষজ হার্টের অধিকাংশ সাধারণ সমস্যা প্রশমনে সাহায্য করে বলে একে চমৎকার কার্ডিওপ্রোটেক্টিভ (কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমকে রক্ষা করে) বলা যেতে পারে।

স্নায়বিক রোগের জন্য অশ্বগন্ধা
দেখা গিয়েছে পার্কিনসন বা ADHD ( মনোযোগহীনতা অতিরিক্ত চঞ্চলতা)-এর রোগের উপসর্গ হ্রাস করে অশ্বগন্ধা, যদিও এর কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার করে কিছু জানা যায়নি।

অ্যাড্রিনাল ফেটিগ প্রতিরোধে অশ্বগন্ধা
আপনি কি সবসময় ক্লান্তি বোধ করেন? এর কারণ হতে পারে অ্যাড্রিনাল ফেটিগ (অড্রিনাল ক্ষরণজনিত ক্লান্তি)। কখনও এর নাম শোনেননি? অধিকাংশ মানুষই শোনেননি। কিন্তু আজকের সদা ব্যস্ত এবং প্রবল গতির জীবনধারা, যখন জীবন প্রবলভাবে চাপের সম্মুখীন, তখন এটি নিয়মিত শোনা যাচ্ছে। সেটা কাজের চাপই হোক বা অন্য ধরনের চাপ, শরীরের ওপর নিরবচ্ছিন্ন চাপের ফলে অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড (বৃক্কের ওপরিভাগে অবস্থিত গ্ল্যান্ড) থেকে কর্টিসল নামে একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা শরীরের অব্যতম ‘‘স্ট্রেস হরমোন’’। এরজন্যই ক্লান্তি, হজমের সমস্যা, অনিদ্রা এবং স্নায়ুদৌর্বল্য জাতীয় উপসর্গ দেখা দেয়। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন অশ্বগন্ধা চাপ প্রতিরোধী (অন্টি-স্ট্রেস) ভেষজ বলে আপনার অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে, ফলত আপনার কর্টিসল মাত্রা কম হয় এবং আপনি অ্যাড্রিনাল ফেটিগ-এর বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারেন।

সাপের বিষে অশ্বগন্ধা
বহু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সাপের বিষের (ভেনম) বিরুদ্ধে শরীরে স্বাভাবিক প্রতিরোধী ভূমিকা পালন করে অশ্বগন্ধা। বলা হয়, এটি হচ্ছে গ্লাইকোপ্রোটিন (এক ধরনের প্রোটিন) যা শরীরে হায়ালোনিডেস-সাপের বিষের একটি সক্রিয় উপাদান যা বিষকে পাশের টিস্যুগুলিতে পৌঁছে দেয়- ছড়াতে দেয় না। সাপের কামড়ের বিরুদ্ধে ভারতে প্রতিষেধক হিসাবে চিরাচরিতভাবে অশ্বগন্ধার একটি প্রলেপ ব্যবহার করা হয়।

ত্বকের জন্য অশ্বগন্ধার উপকারিতা
এমন কেউ আছেন কি যিনি অমলিন এবং মসৃণ ত্বক পছন্দ করেন না? আপনি কি জানেন যে অশ্বগন্ধা ত্বকের অকাল বার্ধক্য প্রতিরোধে সাহায্য করে? শরীরে বয়স নেমে আসার সবচেয়ে প্রধান কারণ হচ্ছে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল যা আমাদের শরীরে বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যকলাপের দরুণ সৃষ্টি হয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণাবলীর কারণে অশ্বগন্ধা এইসব ফ্রি র‌্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে পারে এবং আপনার ত্বককে উজ্জ্বল এবং তাজা রাখতে পারে। শুধু তাই নয়, শরীরে ফ্রি র‌্যাডিক্যালের জন্য যে সমস্যা দেখা দেয় অর্থাৎ ত্বক কুঁচকে যাওয়া, ডার্ক স্পট এবং অকাল বার্ধক্যের অন্যান্য লক্ষণ, সেসব থেকে এটি বাঁচায়। অতিরিক্তভাবে, শুষ্ক এবং অমসৃণ ত্বকের জন্য দায়ী কেরাটোসিস-এর (ত্বকের একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতি) বিরুদ্ধে ব্যবহার করা চলে। কেরাটোসিস-এর উপসর্গ কমাবার জন্য দৈনিক এক কাপ অশ্বগন্ধা চা সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চুলের জন্য অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধা চুলে পুষ্টি জোগায়, যা চুল পড়া কমতে সাহায্য করে এবং চুল দীর্ঘ এবং উজ্জ্বল করে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হওয়ার কারণে অকালে চুলে পাক ধরা এবং চুল পড়া বন্ধ হয়। অশ্বগন্ধার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টিকর প্রভাবের দরুণ এটি একটি আদর্শ কেশ টনিক হিসাবে কাজ করে। অশ্বগন্ধা চুলের গোড়ায় (ফলিকল) পুষ্টি জোগায় এবং চুল শক্ত করে। নিয়মিত অশ্বগন্ধা সেবনের ফলে শরীরের মানসিক চাপ কমে বলে জানা গিয়েছে, এবং ফলত চুল পড়া কমে। তাছাড়া, অশ্বগন্ধার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র‌্যাডিক্যাল প্রতিরোধ করে এবং চুলের স্বাভাবিক রং নষ্ট হতে দেয় না।

একজন মানুষের সুস্থ থাকার অন্যতম নিয়ামক হলো ঘুম। স্বাভাবিক প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প...
30/10/2024

একজন মানুষের সুস্থ থাকার অন্যতম নিয়ামক হলো ঘুম। স্বাভাবিক প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালে তা স্বাস্থ্যহানির কারণ হতে পারে। তবে বয়স অনুযায়ী শরীরে ঘুমের চাহিদা ভিন্ন হয়।

সাধারণত পূর্ণবয়স্ক মানুষদের ৭-৮ ঘণ্টা, শিশুদের ৯-১৩ ঘণ্টা, নবজাতক বাচ্চাদের ১২-১৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ঘুমানোর মাধ্যমে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, টক্সিন নামক পদার্থ শরীর থেকে বের করে দিয়ে কর্মক্ষমতাও বাড়ে। সুতরাং পরবর্তী দিনের শক্তি ও দক্ষতার অনেকটাই নির্ভর করে ব্যক্তির পর্যাপ্ত ঘুমের ওপর।

রাতে ঘুম না আসা বা আসলেও বারবার ভেঙ্গে যাওয়াকে বলা হয় ইনসমনিয়া বা অনিদ্রা রোগ। যার ফলে দিনের বেলা ঘুমোনো, সারাদিন ঝিমুনি ভাব, কাজে মনোযোগ না দিতে পারা, সারাদিন মেজাজ খিটখিটে ও বিষণ্ণ হয়ে থাকার মত ঘটনা ঘটতে পারে। শিশু থেকে বৃদ্ধ সবারই ইনসমনিয়া হতে পারে। তবে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঘুমের হার কমে যাওয়া বা ঘুম পাতলা হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তির কারণে ইনসমনিয়ার ভুক্তভোগী। এই সমস্যা এখন এতটাই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে অনিদ্রাকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলছে কেউ কেউ।

অধ্যাপক ওয়াকার 'হোয়াই উই স্লিপ' বইয়ে লিখেছেন, 'বিশ্বের একটা বিশাল অংশ অন্ধকারে জেগে থাকে। যে ঘুম তাদের নষ্ট হচ্ছে, সেটা যে পূরণ করা দরকার, সেটা তারা ভাবে না। তারা মনে করে, 'যা গেছে তা গেছে।'

অনিদ্রা স্বাস্থ্যের যা ক্ষতি করেঃ

ঘুম কম হওয়া বা ঘুমের সমস্যার কারণে ব্যক্তি শারীরিকভাবে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। এ পর্যন্ত ১৫৩টি গবেষণা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ওজন বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। জার্নাল সায়েন্সের সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, অনিদ্রার সঙ্গে দ্রুত মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু অন্যান্য অসুখ যেমন ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশতা এবং ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতার সঙ্গে ইনসমনিয়ার যোগসূত্র রয়েছে।

এক গবেষণা বলছে, কেউ টানা ১৭ থেকে ১৯ ঘণ্টা জেগে থাকলে মস্তিষ্কে যে ধরনের প্রভাব পড়ে, অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলেও একই ধরনের প্রভাব পড়ে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। গবেষণায় বলছে, কোনো ব্যক্তি যদি টানা ১১ দিন না ঘুমিয়ে থাকে, এতে স্বাভাবিক আচরণ ও দৈনন্দিন কাজেকর্মে মারাত্মক প্রভাব পড়ে যা তাকে শর্ট টাইম মেমোরি লস থেকে শুরু করে হেলুসিনেশন, এমনকি মস্তিষ্ক বিকৃতির দিকেও নিয়ে যেতে পারে।

অনিদ্রা দূর করার উপায়ঃ

অনেকে ঘুমের সমস্যা দূর করতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে থাকেন। এটি স্বাস্থ্যকে আরও ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয়। স্লিপিং পিল বা ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমানোর প্রবণতা, একসময় অভ্যাসে পরিণত হয়। যার ফলে স্লিপিং পিল সেবন না করলে স্বাভাবিকভাবে আর ঘুম আসে না।
অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করতে পারে। এটি মানুষের হার্ট ও ব্রেনের রক্তনালীর রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। অনেকসময় অতিরিক্তি ঘুমের ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্তির প্যারালাইসিস পর্যন্ত হতে পারে। অনিদ্রা দূর করার একমাত্র উপায়ই হলো পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম।

চলুন দেখে নিই ঘুমের সমস্যা দূর করার কয়েকটি ঘরোয়া উপায়

রাত জেগে কাজ না করাঃ

যারা রাত জেগে কাজ করেন তারা অনেক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় পড়েন। রাতে কাজ করে তারা দিনে ঘুমিয়ে রাতের ঘুমের অভাব পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। কারণ সাধারণত তারা দিনের বেলার ঘুম কখনোই তেমন গভীর হয় না এবং তা রাতের ঘুমের সুফল দিতে পারে না শরীরকে। হার্ভাডের এক গবেষণা বলছে, রাতে কাজ করা লোকজনের অনেকেই নিশাচর হয়ে যান। তারা কিছুতেই দিনের আলোয় বের হতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।

প্রতিদিন একই সময় ঘুমোতে যাওয়াঃ

প্রতিদিন রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যেতে হবে এবং সকালে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বিছানা জেগে উঠতে হবে। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটা ঘুমানোর সময়কালকে নিয়মিত রাখে এবং শরীরও সময়ের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারে।

চা-কফি থেকে দূরে থাকাঃ

চা-কফি খেলে অনেকেরই ঘুমের সমস্যা হয়৷ শুধু চা-কফি নয় যেকোনো কোমল পানীয়ও ঘুমের সমস্যার কারণ হতে পারে। প্রফেসর ওয়াকার বলছেন, ঘুমানোর সময়ে থেকে ১২ ঘণ্টা আগে এসব খাওয়া বন্ধ করা উচিত। কেননা এর প্রভাব শরীরে থেকে যায় দীর্ঘ সময়।

দূরে রাখুন ফোন ল্যাপটপঃ

আমরা অনেকেই বিশ্রাম নিতে কিংবা ঘুমের আগে ফেসবুক থেকে ঢু মেরে আসি। কিন্তু এতে ঘুম আসার পরিবর্তে মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে চোখ থেকে ঘুম তাড়িয়ে দেয়। তাই ঘুমের সমস্যা দূর করতে চাইলে দীর্ঘসময় ধরে মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনঃ

আমরা অনেকেই জানিনা, ঘুমের সমস্যার পেছনে খাদ্যাভাসের ভূমিকা অনেক। যারা ইনসমনিয়ায় ভুগছেন তাদের জন্য খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা ঘুমের জন্য সহায়ক হতে পারে।

ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত খাবারঃ

ম্যাগনেসিয়াম হলো এমন একটি খনিজ পদার্থ যা পেশীকে শিথিল করতে এবং স্ট্রেস কম করতে সাহায্য করে। ডার্ক চকোলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডো এগুলোতে ম্যাগনেসিয়াম আছে। রাতে এগুলো খেলে ভালো উপকার পাবেন।

মেলাটোনিনযুক্ত খাবারঃ

মেলাটোনিন শুধু ঘুম আসতে নয়, ঘুম দীর্ঘস্থায়ী করতেও সাহায্য করে। আমরা সালাদ হিসেবে যা খাই যেমন টমেটো, শসা, ব্রোকোলি, সরিষা, আখরোট, বেদানা ইত্যাদিতে মেলাটোনিন থাকে। প্রতিদিনের খাবারে সবজিগুলো যোগ করলে ঘুমের সমস্যা কেটে যাবে৷

কলাঃ

অনিদ্রা কমাতে কলা খুবই কার্যকর৷ কলাতে আছে ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম যা মাংসপেশি শিথিল করে দ্রুত ঘুম আনয়নে সাহায্য করে৷

গরম দুধঃ

অনিদ্রা দূর করতে গরম দুধের কোনো বিকল্প নেই। গরম দুধে থাকে ট্রিপটোফ্যান নামে এক ধরনের অ্যামাইনো অ্যাসিড। যা সিরোটোনিন হিসেবে কাজ করে আর এই সিরোটোনিন ঘুম আনতে খুবই সহায়ক।

মধুঃ

মধুকে বলা হয় সর্বরোগের মহৌষধ। এক চামচ মধু ভালো ঘুমের জন্য খুবই সহায়ক কেননা এটি শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। তাছাড়া মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন কমাতেও মধুর জুড়ি নেই।

যে ১০ খাবারে সবচেয়ে বেশী অ্যালার্জি হয়অ্যালার্জি খুবই কমন একটি সমস্যা। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগী...
28/10/2024

যে ১০ খাবারে সবচেয়ে বেশী অ্যালার্জি হয়

অ্যালার্জি খুবই কমন একটি সমস্যা। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই অ্যালার্জিতে আক্রান্ত রোগীর দেখা পাওয়া যায়। কারও দুধে এলার্জি, কারও বিশেষ কোন সবজি কিংবা ফলে, আবারও কারও ধুলোবালিতে। সব্জির মধ্যে টোম্যাটো, বেগুন, ফলের মধ্যে আনারস, কলা থেকে যেমন অ্যালার্জি হতে পারে, তেমনই মাশরুম বা হাঁসের ডিম খেলেও অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে।

একজনের যে খাবারে অ্যালার্জি হয়ে, অন্যজনের সেই খাবারে না ও হতে পারে। জেনে নিন যে দশ খাবারে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী মানুষ অ্যালার্জিতে ভুগে:
০১. দুধ: তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আড়াই শতাংশ শিশুর গরুর দুধে অ্যালার্জি থাকে। তবে দুধে অ্যালার্জি থাকা আর ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স, কখনই এক নয়।

০২. গম: গমের আটা, পাঁউরুটি খেলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়।

শিশুদের যদি গমে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে বার্লি বা অন্যান্য দানাশস্যের ক্ষেত্রেও সেই অ্যালার্জি দেখা যেতে পারে।
০৩. সয়া: সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রেই সয়া থেকে অ্যালার্জি দেখা যায়। সয় বিনস, সয়া মিল্কে অ্যালার্জি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১০ বছর বয়সের পর থেকে কমে আসে।

০৪. ডিম: অধিকাংশ শিশুই দুধের মতোই ডিমের অ্যালার্জিতে ভোগে।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ডিমের সাদা অংশে থাকা প্রোটিন থেকে এই অ্যালার্জি হয়। তবে অ্যালার্জি থাকলে ডিম পুরোপুরি্ এড়িয়ে চলাই ভাল।
০৫. ফল ও সবজি: বেশ কিছু ফল ও সবজি থেকে অনেকেরই অ্যালার্জি হয়। বেগুন, গাজর, টোম্যাটো, পিচ, কলা থেকে অনেকেই অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন।

০৬. ট্রি নাটস: কাজু, পেস্তা, আমন্ড, আখরোট, ব্রাজিল নাটে অনেকেরই অ্যালার্জি থাকে।

তবে কোনও এক ধরনের বাদামে অ্যালার্জি থাকা মানেই অন্য বাদামেও অ্যালার্জি হবে এমনটা নাও হতে পারে।
০৭. শেল ফিশ: এই অ্যালার্জি খুবই কমন। চিংড়ি, কাঁকড়া, ওয়েস্টার, শামুক জাতীয় খাবার যার শক্ত খোল রয়েছে তার থেকেই অ্যালার্জি হয় বিশ্বের প্রায় ৬০% মানুষের।

০৮. চিনা বাদাম: শিশুদের মধ্যে প্রায়ই চিনা বাদামে অ্যালার্জি দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল ক্যাম্পাসগুলোতে ১৯৯৭-২০০৮ সাল পর্যন্ত চিনা বাদাম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

০৯. মাছ: অনেকের কোনও এক বিশেষ প্রকার মাছে অ্যালার্জি থাকে, আবার অনেকের স্যালমন, টুনা, ম্যাকরলে জাতীয় সামুদ্রিক মাছ খেলে অ্যালার্জি হয়।

১০. ফালফাইট: খাবারের রং নষ্ট হয়ে যাওয়া, বা বাদামি রং ধরাতে অনেক খাবারে সালফাইট ব্যবহার করা হয়। এই সালফাইট থেকে অনেকের অ্যালার্জি হয়।

বিরক্তিকর অ্যালার্জি থেকে মুক্তির উপায়যাদের অ্যালার্জি আছে, তাদের খুব সাবধানে থাকতে হয়। সামান্য এদিক–সেদিক হলেই শুরু হয়ে...
22/10/2024

বিরক্তিকর অ্যালার্জি থেকে মুক্তির উপায়

যাদের অ্যালার্জি আছে, তাদের খুব সাবধানে থাকতে হয়। সামান্য এদিক–সেদিক হলেই শুরু হয়ে যায় চুলকানি, চোখ লাল, ত্বকে লালচে দানা ওঠা ইত্যাদি। অ্যালার্জি আছে এমন অনেকেরই ঘর ঝাড়ামোছা করলেই ত্বকে চুলকানি শুরু হয়ে যায়। আবার কারও কারও ধুলাবালির সংস্পর্শে এলেই ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। কোনো কোনো ওষুধের অ্যালার্জিতে তো জীবন–সংশয়ও দেখা দিতে পারে।

ধুলাবালি ছাড়াও কোনো বস্তুর প্রতি অতি সংবেদনশীলতার কারণেও অ্যালার্জি হতে পারে। যেমন ধাতব অলংকার, প্রসাধনসামগ্রী, কোনো রাসায়নিক, ডিটারজেন্ট, সাবান, পারফিউম, প্লাস্টিকের তৈরি গ্লাভস বা বস্তু, গাছ, ফুলের রেণু, ওষুধ, সিনথেটিক কাপড় ইত্যাদি। এ সমস্যা জন্মগত ও পারিবারিক কারণে হতে পারে। বিশেষ বস্তুতে অ্যালার্জির ক্ষেত্রে ওই বস্তুর সংস্পর্শে এলে শরীরে হিস্টামিন, সেরোটনিন ইত্যাদি রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয়। এর ফলে ত্বকে চাকা, ত্বক লাল, চুলকানি, চোখ লাল বা চোখে চুলকানি ইত্যাদি হতে পারে। কারও কারও শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানিও হতে পারে। নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়ার সমস্যাও থাকতে পারে। তীব্র প্রতিক্রিয়া হলে রোগী অচেতন হয়ে পড়তে পারেন।

অ্যালার্জি থেকে মুক্ত থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, যে বস্তুতে অ্যালার্জি রয়েছে, তার সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা। যেমন, যার ডিটারজেন্ট বা সাবানে অ্যালার্জি, তিনি বাসনকোসন, কাপড়চোপড় ধোয়ার সময় হাতে গ্লাভস পরবেন। যার অলংকারে অ্যালার্জি, তিনি তা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। এ ক্ষেত্রে রোগীর যেসব বস্তুতে অ্যালার্জি, সেগুলোর একটি তালিকা করতে পারেন। স্কিন টেস্ট করে এটা বোঝা যায়। কোনো ওষুধে অ্যালার্জি হলে অবশ্যই তার নাম লিখে রাখবেন এবং চিকিৎসককে অবহিত করবেন।

ত্বকে প্রদাহ বা অ্যালার্জি হয়ে গেলে তা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিহিস্টামিন, স্টেরয়েড মলম, ক্যালামিন লোশন ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। হঠাৎ লাল হয়ে চুলকানির ক্ষেত্রে ঠান্ডা সেঁক বা ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে খানিকটা আরাম পাওয়া যায়। এ সময় বাতাস চলাচল করে এমন পাতলা সুতি কাপড় পরুন। প্রসাধনসামগ্রীতে অ্যালার্জি থাকলে রাসায়নিকযুক্ত প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে।
#অ্যালার্জি

22/10/2024

Address

Plot 195/196, Road 16, Block C, Mirpur 06
Dhaka

Telephone

+8801894420575

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Deshi Safe Food posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Deshi Safe Food:

Share