Aarohi Islam aru

Aarohi Islam aru Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Aarohi Islam aru, Grocers, Mymensingh, Dhaka.

আমি দেখতে ততোটা সুন্দর না। কলেজ লাইফে আমার স্ত্রীর সাথে আমার রিলেশন হয়। অনেক টা ঝর ঝাপটা জায় আমার উপর। কিন্তু সে মানুষ ট...
31/10/2023

আমি দেখতে ততোটা সুন্দর না। কলেজ লাইফে আমার স্ত্রীর সাথে আমার রিলেশন হয়। অনেক টা ঝর ঝাপটা জায় আমার উপর। কিন্তু সে মানুষ টি কখনো আমায় একা রেখে চলে যায়নি। একটা প্রাইভেট স্কুলে চাকরি করি, বেতন তেমন বেশি না। সে ৪ টা টিউশন করে।
আমার অনেক খারাপ লাগে ভালোবাসার মানুষ টার কষ্ট দেখে। মাঝে মাঝে বলি তোমার টিউশন করতে হবেনা। আমি জা পাই তা দিয়েই চলবে। কিন্তু মানুষ টা আমার দুহাত আলতো করে ধরে বলে, আমাদেরি তো সংসার। আমার স্ত্রী দেখতে খুব সুন্দর। কিন্তু আমি শ্যাম সুন্দর। কখনো আমার মধ্যে সে খুত ধরেনি। ২ বছর হয়েছে বিয়ের এর মধ্যে কখনো একবারও তার সাথে আমার ঝগড়া হয় নি।
যখন ও কাজ করে আমি ওর দিকে তাকিয়ে ভাবি ভালোবাসা সত্যিই সুন্দর।
সারাদিন কাজ শেষে তার মুখের মিষ্টি হাসি আমার সব দুর্বলতা দূর করে দেয়।

✨🖤 ভালোবাসা সত্যি সুন্দর যদি সেটা পূর্ণতা পায়।

এক ভাইয়ার জীবনি।

সমাপ্ত
® Rizwana Asifa

একদিন ৩ জন লোক সমুদ্রে বেরাতে গেলো!!🥹🫰একজন ভারতের 🇮🇳একজন পাকিস্তানি🇵🇰একজন বাংলাদেশী 🫢🇧🇩হঠাৎ এক দৈত্য পানির ভিতর থেকে ওঠে...
28/10/2023

একদিন ৩ জন লোক সমুদ্রে বেরাতে গেলো!!🥹🫰

একজন ভারতের 🇮🇳
একজন পাকিস্তানি🇵🇰
একজন বাংলাদেশী 🫢🇧🇩

হঠাৎ এক দৈত্য পানির ভিতর থেকে ওঠে এলো!!👺
৩ জনেই ভিষন‌ ভয় পেলো অনেক কান্না করছে!!😭
ওদের কান্না দেখে দৈত্যের মনে মায়া লাগলো!!😁

দৈত্য বললো: আমি তোমাদের একটা করে সুযোগ দিলাম!!☺️
তোমরা পানিতে কিছু ফেলো আমি আনতে পারলে তোমাদের
খেয়ে ফেলবো😊

প্রথম ভারতীয় একটা বন্ধুকের গুলি ফেললো!!🧐
দৈত্য সেটা খুঁজে আনল অতঃপর দৈত্য তাকে খেয়ে ফেললো!!😑

দ্বিতীয় পাকিস্তানি পানিতে একটা সুই ফেললো!!🤫
দৈত্য সেটা খুঁজে আনলো অতঃপর তাকেও খেয়ে ফেললো!!🫤

#এবার বাংলাদেশির পালা সে পানিতে মুতে দিল!!😁
মুত পানিতে মিশে গেছে দৈত্য আর মুত আনতে পারলো না!!🤗
এভাবে সে বেঁচে গেছে!!🥹🥹🥹

 #মেঘের_আড়ালে_রোদ  #পর্ব_10লেখিকা   ব্যস্ত নগরী।চারপাশ শুনশান নীরবতা। রাত না হলেও ১২টা বাজে। জানালার পর্দা টেনে বাহিরে ত...
27/10/2023

#মেঘের_আড়ালে_রোদ
#পর্ব_10
লেখিকা

ব্যস্ত নগরী।চারপাশ শুনশান নীরবতা। রাত না হলেও ১২টা বাজে। জানালার পর্দা টেনে বাহিরে তাকালো আহনাফ। দুইপ্রান্তে জ্বল জ্বল করছে হলুদ রঙের ল্যাম্পপোস্টের বাতি।

বিকেলের দিকে হসপিটাল এসেছে। এসেই একের পর এক পেসেন্ট দেখে যাচ্ছে। ভিন্ন মানুষ ভিন্ন রোগ।

রনির থেকে বেশি কিছুই জানা যায়নি ওকে ওই বাড়িতেই আঁটকে রেখেছে যতোক্ষন সব সত্যি না বলবে এক ফোঁটা পানিও দেওয়া হবে না।

পেসেন্ট দেখা শেষ করে করিম চাচাকে ডাকলো।

হসপিটালে এখন কেউ ঝিমোচ্ছে, কেউ দায়িত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।
করিম চাচাঃ জ্বি স্যার।
আহনাফঃ আমার জন্য এক মগ কফি পাঠিয়ে দেন ।

করিম ছুটলো ক্যান্টিনের দিকে। হসপিটালের দুইতালায় ক্যান্টিন।

কফি খেয়ে বেরিয়ে পড়লো হসপিটাল থেকে। বাড়ি যাওয়া প্রয়োজন। ওর ডিউটি শেষ।

বাড়ি ফিরে লম্বা একটা শাওয়ার নিলো। সারাদিনের ক্লান্তি এসে ভীর করলো। এখন একটু বিশ্রামের প্রয়োজন। কিছু খেতেও ইচ্ছে করছে না। সাদা স্বচ্ছ কাঁচের চশমা খুলে পাশে রাখলো। ল্যাপটপ নিয়ে বসে পড়লো কিছু কাজ বাকি শেষ করেই ঘুমাতে হবে।

দরজার কড়া নাড়তেই বিরক্ত হলো! এতো রাতে আবার কে এসেছে..? আম্মু নয় তো..? নিশ্চয়ই খাবার খাওয়ার জন্য এখনো জেগে আছে!!..।

আহনাফ ল্যাপটপ রেখে উঠে চশমা পড়ে দরজা খুলে দিলো। সামনে ছোঁয়াকে দেখে অবাক হলো।
ছোঁয়ার শরীর কাঁপছে। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে।
আহনাফঃ কি হয়েছে..? তুই এভাবে ভয় পেয়ে আছিস কেনো..? কান্না কেনো করছিস.?
ছোঁয়াঃ ভাইয়া জলদি আমার রুমে চলো। প্লিজ ভাইয়া,
আহনাফঃ শান্ত হ! কি হয়েছে আগে সেটা বল.?
ছোঁয়াঃ মহুয়া...রক্ত..
আহনাফঃ কি হয়েছে উনার.? বলেই ছোঁয়ার সাথে পাশের রুমে দ্রুত আসলো৷

ছোঁয়া আহনাফ কে ওয়াশরুমে দরজার কাছে নিয়ে গেলো৷ ভেতরে মহুয়া অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। কপাল ফেঁটে রক্ত পড়ছে।

আহনাফ মহুয়ার এমন অবস্থা দেখে দ্রুত ওকে কোলে তুলে নিলো। মহুয়ার ঘা পুড়ে যাচ্ছে । আহনাফ মহুয়াকে বিছানায় শুইয়ে কপাল শক্ত করে চেপে ধরলো জেনো রক্ত পড়া বন্ধ হয়। ছোয়ার দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে উঠলো, ' দ্রুত আমার রুম থেকে ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আয়।'

ছোঁয়া দাঁড়িয়ে ফুপিয়ে কান্না করছিলো আহনাফের কথা শুনতেই দৌড় দিলো আহনাফের রুমের দিকে। মহুয়ার এমন অবস্থার জন্য নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে! সে ঠিক মতো মহুয়ার খেয়াল রাখতে পারেনি সেই জন্যই এখন মেয়েটার এই অবস্থা।

আহনাফ দরজা থেকে চোখ সরিয়ে মহুয়ার দিকে তাকিয়ে হাসফাস করতে লাগলো৷ ওড়না নেই মহুয়ার গায়ে হয়তো ওয়াশরুমে পড়ে আছে। আহনাফ মহুয়ার কপালটা শক্ত করে ধরেই আশেপাশে ওড়না খুঁজলো। পাশেই একটা ওড়না দেখে, ওড়না একটা হাতে অন্য দিকে ফিরে মহুয়া উপর দিয়ে তাকালো। কেমন শান্ত হয়ে পড়ে আছে বিছানায়। কপাল পুড়ে যাচ্ছে! জ্বর অনেক।

ছোঁয়া ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে এসে আহনাফের সামনে রাখলো। আহনাফ যত্ন করে দ্রুত ব্যান্ডেজ করে দিলো। মহুয়ার পেসারও মেপে নিলো।

~ উনার তো জ্বরে শরীর পুড়ে যাচ্ছে। ঠিক মতো খাওয়া দাওয়াও করে না..? । পেসার তো একদম কম।

ছোঁয়া নাক টেনে বলে উঠলো, ' বিকাল থেকেই শরীর ভালো না। জ্বর এসেছে আমি অনেকবার বলেছি চলো ডাক্তারের কাছে যাই, মেডিসিন নিয়ে আসি। কিন্তু বললো একটু পর সেরে যাবে প্রয়োজন নেই। আম্মুকে বলতে চেয়ে ছিলাম নিষেধ করেছে। সন্ধ্যার পর তিনবার বমি করেছে আমাকে বলেনি।আর এখন ওয়াশরুমে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে কপাল ফেঁটে গেছে। আমি কি করবো বুঝতে পারছিলাম না, তুমি তো জানো রক্ত দেখলে আমি নিজেও অজ্ঞান হয়ে যাই। বলেই মহুয়ার হাত ধরে কান্না শুরু করলো।

~ এমন ফ্যাঁচফ্যাঁচ না করে মুখ চোখ দুইটাই বন্ধ রাখো। আমাকে বিকেলে বলতে পারতে ফোন করে নাকি আমাকে ডাক্তার মনে হয় না?

ছোঁয়া মাথা নিচু করে আছে।আহনাফ কে আসলেই বলা উচিত ছিলো।

~ উনার শরীর ভীষণ দূর্বল ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া না করার কারনে। কিছু খাইয়ে মেডিসিন খাওয়াতে হবে।

~ আমি স্যুপ করে নিয়ে আসছি। বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলো ছোঁয়া।

আহনাফ মহুয়ার পাশে টুলের উপর বসে আছে। পাশে গ্লাস থেকে পানি হাতে নিয়ে মহুয়ার মুখে হাল্কা ছিটা মারলো৷ কিছু সময় যেতেই পিটপিট চোখ খুলে তাকালো মহুয়া। সব কিছু চোখের সামনে ঝাপসা দেখছে৷ আস্তে আস্তে চোখ ঝাপটে আশেপাশে তাকালো৷ বুঝার চেষ্টা করলো সে এখন কোথায় আছে.? পাশে তাকাতেই আহনাফ কে দেখে উঠে বসতে চাইলো। কিন্তু শরীর ভীষণ দূর্বল উঠতে গিয়েও চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লো।

আহনাফ ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে উঠলো, ' চুপচাপ শুয়ে থাকুন। আপনার শরীর ভালো নেই।এখন বিশ্রাম নেওয়া প্রয়োজন। ডক্টরের কাছে অসুস্থ হওয়ার সাথে সাথে যাওয়ার দরকার ছিলো! এতোটা অসুস্থ আর বাড়ির কেউ জানেও না.? এখন আপনার কিছু হয়ে গেলে আপনার বাড়ির লোকেরা বলতো আমরা আপনার ঠিক খেয়াল রাখতে পারিনি। বাড়িতে ডাক্তার থেকেও চিকিৎসা করিনি! আমরা কি জবাব দিতাম তখন.?? '

মহুয়াঃ আপনি এখানে কেনো.? আর আমি একদম ঠিক আছি বেলেন্স হারিয়ে পড়ে গিয়ে ছিলাম।
আহনাফঃ পাকনামো করে ডাক্তারের কাছে জাননি আবার নিষেধ করেছেন ডাক্তার ডাকতে। এখন আকাম করে পড়ে আছেন। তাই নিজ থেকে ডাক্তার চলে এসেছে। বেলেন্স হারাবেন না কেনো.? শরীরে এতো শক্তি যে বেলেন্স রাখতে পারেননি!!।
মহুয়াঃ আমি এখন ঠিক আছি ডাক্তার এবার আপনি প্লিজ আসুন। আর অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।

আহনাফের ভীষন রাগ হলো। এই মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে তাও এটিটিউড দেখাচ্ছে!!??

" মাথা চিনচিন ব্যাথা করছে মহুয়া কথা বলতে চাইলেই ব্যাথা বাড়ছে।"

আহনাফ মহুয়ার দিকে তাকিয়ে ছিলো।

আহনাফঃআপাতত মুখ বন্ধ রাখুন, মুখে মুখে কথা বলা আমার একদম পছন্দ না৷ কিছু খেয়ে মেডিসিন খেয়ে নিলে ব্যাথা কমে যাবে।"

মহুয়ার শরীর কেঁপে জ্বর আসলো। জ্বরে থরথর করে কাঁপছে। বিরবির করে কি জেনো বলছে।

আহনাফ দ্রুত ওর হাত ধরলো।

" মিস মহুয়া আপনি ঠিক আছেন..? জ্বর তো বেড়ে চলছে। আহনাফের অস্থিরতা বাড়তে লাগলো। সে এখন কি করবে.? এখন কি হসপিটাল নিয়ে যাবে.?

ছোঁয়া স্যুপ নিয়ে আসলো। মহুয়া খেতে চাইল না জোর করে দুই চামচ খাইয়ে মেডিসিন খাইয়ে দিলো।

মহুয়া আহনাফের হাত শক্ত করে ধরে আছে৷ জ্বরের ঘুরে ছোঁয়া ভেবে আহনাফ কে আঁকড়ে ধরে আছে।
আহনাফ না চাইতেও মহুয়ার দিকে তাকালো। ফর্সা মুখটা কেমন মলিন হয়ে গেছে। চুলগুলো নিচে পড়ে আছে। চোখ গুলো লালচে হয়ে ফুলে আছে।

ছোঁয়াঃ ভাইয়া আম্মুকে ডাকবো.?
~ প্রয়োজন নেই। একটু পর জ্বর কমে আসবে, ব্যাথাও কমে যাবে। কাল সকালে হসপিটালে নিয়ে আসবি আমি কিছু টেস্ট দিবো।

ছোঁয়াঃ মামী জেগে ছিলো তোমার জন্য। আমি বললাম আমি জেগে আছি ঘুমিয়ে পড়তে তাই মামী চলে গেছে আমি কি তোমার খাবার গরম করে দিবো.?
আহনাফঃ না লাগবে না। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো আর উনার খেয়াল রেখো।

মহুয়ার হাত থেকে নিজের হাতটা আস্তে করে ছাড়িয়ে নিলো। ঘুমের মেডিসিন খাওয়ায় মহুয়া কিছু সময়ের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়েছে।

আহনাফ ফিরে একবার মহুয়ার দিকে তাকিয়ে নিজের রুমে চলে গেলো।

সেই ছোটো বয়স যখন থেকে বুঝতে শিখেছে। তখন থেকেই সয়নে স্বপ্নে মনের ঘরে জায়গা দিয়ে রেখেছে ছোঁয়া এই কঠিন মানবটিকে। যদি এই পুরুষটি একবার বুঝতো!.? ছোঁয়া একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো আহনাফের যাওয়ার দিকে। সে খুব ভালো করে জানে আহনাফ শুধু ওকে বোন ভাবে তাও নিজের আপন বোনের মতো দেখে। ওর এই ভালোবাসার কোনো মূল্য নেই৷ আহনাফ কখনো ওকে বোন ছাড়া অন্য নজরে দেখেনি।

ছোঁয়া মহুয়ার চুলগুলো যত্ন করে মুছে শরীরটা হাল্কা মুছে দিলো। গায়ে কাঁথা টেনে দিয়ে কপালের ব্যান্ডেজটার দিকে তাকালো বলে উঠলো ইসস কতোগুলো রক্ত ঝড়েছে!.

ছোঁয়া খুব মিশুক একটা মেয়ে। যার সাথে মিশে একদম মন থেকে মিশে। তাকে আপন ভাবতে শুরু করে।

মহুয়াকে জড়িয়ে ধরে লাইট বন্ধ করে ঘুমিয়ে পড়লো।

আহনাফ রুমে এসে আবার ল্যাপটপ নিয়ে বসে । কিন্তু কাজে আর মন দিতে পারছে না। মেয়েটা কি জেগে গেছে.? মাথা কি ব্যাথা করছে.? নিশ্চয়ই ভীষণ কষ্ট পেয়েছে কপালে!.?

কিছু আজগুবি চিন্তাভাবনা মনে এসে উঁকি মারছে। ল্যাপটপ বন্ধ করে চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লো।

_______________

ফজরের দিকে শরীর ঘাম দিয়ে ঘুম ভেঙে গেলো মহুয়ার। শরীর থেকে ছোঁয়ার হাত সরিয়ে উঠে বসলো। মাথাটা কেমন ভার হয়ে আছে। কপালে হাত দিতেই আহ্ বলে হাত সরিয়ে ফেললো। শরীরে জ্বর নেই৷

আজান শেষ হতেই মহুয়া আস্তে ধীরে ওয়াশরুমে গিয়ে ঘা দোয়ে নিলো। কপাল না ভিজিয়ে আলগোছে মাথায় পানি ঢালার চেষ্টা করলো।

আহনাফ বাগানে গিয়ে একবার মহুয়ার ব্যালকনির দিকে তাকালো। মেয়েটা কি ঘুম থেকে উঠেছে..? এখন শরীর কেমন আছে..? আজ রাতে একদম ঘুম হয়নি আহনাফের। সারা রাত হাসফাস করে সকাল হতেই বাগানে ছুটে এসেছে যদি মেয়েটাকে দেখা যায়.? আবার নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করছে, " এই মেয়ের জন্য তার কেনো এতো টেনশন কেনো এতো বেকুলতা.?? এইসবের উত্তর মিলবে কোথায়..?

সকালে মহুয়ার কপালে ব্যান্ডেজ দেখে সবাই অবাক হলো।
ছোঁয়া কাল রাতের সব কথা সবাইকে বললো।
আমেনা বেগম মহুয়ার কাছে এসে বললো,' আমাদের আপন মনে করো না তাই না..? এতো কিছু হয়ে গেলো আর আমরা কেউ কিছু জানতে পারলাম না!.. '

মহুয়া এক হাতে ঘোমটা টা টেনে ধরলো। নিচু স্বরে বলে উঠলো " কি বলছেন আন্টি! আমি আপনাদের আপন মনে করছি বলেই তো আপনাদের সাথে আছি। আমি আপনাদের টেনশনে ফেলতে চাইনি আন্টি.'

নিরুপমা বিরক্ত হয়ে নিজের রুমে চলে গেলো। এইসব আধিখ্যেতা দেখানোর সময় নেই। দেখারও সময় নেই এর থেকে বসে বসে সিরিয়াল দেখা ভালো।

আনোয়ার চৌধুরীঃ কিছু খেয়ে এখন মেডিসিন খেয়ে নিও। একবার হসপিটাল গিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে আসবে।

মহুয়া চুপচাপ সোফায় বসে আছে ওর মুখে কোনো শব্দ নেই।
আহনাফ আঁড়চোখে একবার মহুয়াকে দেখে নিলো। খাবার শেষ করে রুমে চলে গেলো।

আহনাফ বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে ছোঁয়া উঠে পড়ে লাগলো হসপিটাল নিয়ে যাওয়ার জন্য। মহুয়া বুঝানোর চেষ্টা করলো সে ঠিক আছে কিন্তু কে শুনে কার কথা! এক পর্যায় রেডি হয়ে বের হলো হসপিটালের উদ্দেশ্য।

আহনাফ হসপিটালে এসে পেশেন্ট দেখে এসে বসলো। সাদা এপ্রোন পাশে রেখে কফি হাতে নিলো।

দরজায় খটখট আওয়াজে বলে উঠলো।
" আসুন"
করিম ভেতরে এসে বলে উঠলো, ' স্যার একটা পেশেন্ট এসেছে বলছে উনি নাকি আপনার বোন।'
আহনাফ গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো, ' আসতে বলুন।'

ছোঁয়া মহুয়া কে নিয়ে ক্যাবিনে আসলো।
আহনাফ মাথা নামিয়ে ফাইল দেখছে।
ছোঁয়া চেয়ার টেনে বসতে নিলে মহুয়া হাত ধরে থামিয়ে দিলো। চোখের ইশারায় চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে বললো। ছোঁয়াও ভালো মেয়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে।

আহনাফ একবার ওদের দিকে তাকিয়ে বললো,' বসুম'

মহুয়া আর ছোঁয়া বসতেই আহনাফ বলে উঠলো, ' কিছু টেস্ট করতে হবে আপনার।'

____

মহুয়া টেস্ট করে এসে আহনাফের সামনে বসে আছে। খুব বিরক্ত লাগছে। এই অসুস্থ শরীর নিয়ে তিন ঘন্টা হসপিটালে। খিদেও পেয়েছে ভীষণ।

ছোঁয়া বার্গার, পিজ্জা নিয়ে হসপিটালে আসলো। নিশ্চয়ই মহুয়ারও খিদে পেয়েছে। সকালে একটা রুটি শুধু খেয়েছে।

আহনাফ রিপোর্ট দেখে মুখ গম্ভীর করে তাকিয়ে আছে রিপোর্টের দিকে।

ছোঁয়া চুপচাপ ক্যাবিনের বাহিরে বসে আছে। আহনাফ করিম চাচাকে ডাকলো। পেশেন্টের সাথে যে এসেছে তাকে আসতে বলুন।

ছোঁয়া ভেতরে গিয়ে মুখ ভার করে বলে উঠলো , ' ভাইয়া তুমি হসপিটালে এমন ভাব করছো জেনো আমাদের এর আগে কখনো কোথাও দেখোনি!.? আমরা সম্পূর্ণ অপরিচিত। এর থেকে ভালো ছিলো অন্য ডাক্তারের কাছে যেতাম টিকেট কাটতে এতো গুলো টাকা লাগতো না বলেই দুঃখী দুঃখী মুখ করে ডেস্কে হাতের উপর মুখ রেখে আপসোস করতে শুরু করলো। অন্য ডাক্তারের কাছে গেলে না খাইয়ে এতোক্ষন রাখতো না। ভালো ভালো খাবার দিয়ে আপ্যায়ন করতো।

আহনাফের ভীষণ হাসি পেলো তাও মুখে গম্ভীরতা বজায় রেখে বললো,' তাহলে তুই হসপিটালে না এসে কোনো রেস্টুরেন্টে চলে গেলেই পারতি খুব ভালো আপ্যায়ন করতো। এটা হসপিটাল কোনো আপ্যায়ন সালা নয়, আর তুই যেমন ভাবছিস তেমন কিছু না আমি বাড়িতে তোর ভাই কিন্তু হসপিটালে একজন দায়িত্ববান ডাক্তার। '
ছোঁয়া মাথা তুলে আহনাফের দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বললো,' ডাক্তার না কসাই।'

আহনাফ রেগে ছোঁয়ার দিকে চোখ রাঙ্গিয়ে তাকালো।

" মিস মহুয়া আপনার শরীর দুর্বল ঠিক ঠাক ভাবে খাওয়া দাওয়া করা প্রয়োজন। আমি সব কিছু লিখে দিয়েছি আর যে মেডিসিন গুলো দিচ্ছি ঠিক ঠাক সব গুলো খেলে আর নিয়ম মেনে চললে আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন। আর এইসব বাহিরের খাবার খাওয়া আপনার জন্য বন্ধ। আমি এখানে লিখে দিয়েছি কি কি খেতে হবে..১৫দিনের মধ্যে আপনার মধ্যে পরিবর্তন দেখতে চাই .'

মহুয়া উঠতে গেলে আহনাফ বলে উঠলো, " আপনার কি কোনো জমজ বোন আছে"..???

__________

সন্ধ্যায় ছোঁয়া কিছুতেই একটা সাবজেক্ট বুঝতে পারছে না। হেলতে দুলতে বই নিয়ে নির্জনের রুমের সামনে আসলো। নির্জনের থেকে বুঝে নিবে।

" অক্সিজেন ছাড়া যেমন মানুষ বাঁচতে পারে না তেমন তুমি ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না নিহা।"

ছোঁয়ার পা আপনা আপনি থেমে গেলো। দরজা আলগোছে খুলে মাথা প্রথম ভেতরে দিলো। নির্জনের ব্যালকনি থেকে শব্দ আসছে।

" তুমি মিশে গেছো আমার প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তুমিহীনা আমি কিছু ভাবতে পারি না কোনো মেয়ের দিকে তাকালেই তোমাকে দেখতে পাই। ভোরের আলো শুরু হয় তোমাকে ভেবে, রাতের আঁধারের সমাপ্তি আসে তোমার কথা ভেবে।"

ছোঁয়া খুব কষ্ট হাসি আঁটকে রাখলো। নির্জনের টেবিলের উপর বসে মোবাইল বের করে রেকর্ড চালু করে রাখলো।

" এই বুকেতে লিখেছি তোমার নাম, স্বপ্ন তুমি, সাধনা তুমি, তুমি আমার প্রান।"

এই পর্যায় এসে ছোঁয়া আর নিজের হাসি আঁটকে রাখতে পারলো না। খিলখিল করে হেসে উঠলো।

কারো হাসির শব্দ শুনেই নির্জন ফোন কেটে দিলো। ভ্রু কুঁচকে রুমে আসতেই টেবিলের উপর ছোঁয়াকে এভাবে হাসতে দেখে বুঝলো সব এই কটকটি শুনে নিয়েছে। কিন্তু তাতে সমস্যা ছিলো না সমস্যা তো যখন দেখলো মোবাইলে রেকর্ডিং অপশন চালু। তার মানে এতোক্ষন ওর বলা সব কথা রেকর্ড হয়েছে..?
ভীষণ রেগে হুংকার দিয়ে বলে উঠলো, ' ছোঁয়ার বাচ্চা কটকটি তোর জন্য কি প্রেম করেও শান্তি পাবো না??। কতোটা নির্লজ্জ তুই লুকিয়ে একজনের প্রেম ভালোবাসা রেকর্ড করিস!..?'

ছোঁয়া ভয় পাওয়ার বদলে নির্জনের কথা শুনে আরও হাসতে শুরু করলো। বই রেখে মোবাইল নিয়ে রুম থেকে বের হতে নিলে নির্জন হাওয়ার বেগে সামনে চলে আসলো।

" মোবাইল দে.?"
~ ফুট সামনে থেকে।
~ ছোঁয়া ভালো হবে না মোবাইল দে।
~ তুই প্রেম করবি লোক দেখিয়ে আর আমরা দেখলেই দোষ!.? আহারেএএ কি ভালোবাসা! বলেই আবার হাসতে লাগলো।
~ আমি লোক দেখিয়ে কখন করলাম.?
~ দরজা তো খুলা ছিলো!
~ তাই বলে না পারমিশন নিয়ে কেনো রুমে আসবি?!

ছোঁয়া নির্জনের দিকে ইনোসেন্ট মুখ করে বলে উঠলো, ' ভাইয়া।'

~ হুম বল শুনছি তবে আগে মোবাইল থেকে রেকর্ড ডিলিট কর।

ছোঁয়া এক পা দুই পা করে নির্জনের আরও কাছে এগিয়ে গেলো।

বেচারা ছোঁয়ার এমন এগিয়ে আশা দেখে পিছিয়ে গেলো,' এ্যাঁই দূরে থাক'।

ছোঁয়া আরও এগিয়ে আসলো। কেমন করে তাকালো সাথে সাথে নির্জন থমকে গেলো৷ ছোঁয়া নির্জনের বুকে এক হাত রাখলো। সাথে সাথে নির্জন জমে গেলো বরফের মতো। ছোঁয়া মুচকি হাসি দিতেই নির্জনের ভাবনা গুলো এলোমেলো হতে শুরু করলো।

ছোঁয়া হঠাৎ নির্জন কে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে জোরে জোরে শ্বাস ফেলে দৌড় দিলো মোবাইল নিয়ে, আজ সে সবাই কে শুনাবে নির্জনের ভালোবাসার গল্প ৷

নির্জন এখনো সেই আগের মতো থমকে দাঁড়িয়ে আছে।

চলবে...
ভুলত্রুটি মার্জনীয়।

 #মেঘের_আড়ালে_রোদ  #পর্ব_9লেখিকা   আহনাফ কে বাসায় ফিরে আসতে দেখে আমেনা বেগম জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে..?  শরীর খারাপ কিনা.!...
27/10/2023

#মেঘের_আড়ালে_রোদ
#পর্ব_9
লেখিকা

আহনাফ কে বাসায় ফিরে আসতে দেখে আমেনা বেগম জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে..? শরীর খারাপ কিনা.!?

আহনাফ চুপচাপ নিজের রুমে চলে গেলো। গাড়িটা আহনাফের অনেক প্রিয় গাড়ি ছিলো। চোখের সামনে নিজের গাড়ির এই অবস্থা দেখে থমকে গিয়ে ছিলো। এই গাড়িতে তো তখন ও থাকার কথা!!

আহনাফ চলে যেতেই হন্তদন্ত হয়ে আজাদ চৌধুরী বাড়িতে এসে আহনাফ কে খুজতে লাগলেন।

আমেনা বেগমঃ আহনাফ তো এইমাত্র বাড়িতে আসলো। শরীর মনে হয় ভালো নেই আমি কফি করে নিয়ে আসছি ওর জন্য এখন রুমে গেছে। কি হয়েছে.? ওকে খুঁজছ কেনো..? অফিস থেকে চলে আসলে যে.?
আজাদ চৌধুরী বুকে হাত দিয়ে সোফায় বসলেন।একটুর জন্য পুরো পৃথিবী থমকে গিয়ে ছিলো।
আমেনা বেগম পানি এনে দিলেন।
আমেনা বেগমঃ তোমার কি শরীর ভালো নেই.?
আজাদ চৌধুরীঃ আমি ঠিক আছি।
আমেনা বেগম গ্লাস নিয়ে উঠে যেতেই আজাদ চৌধুরীর মোবাইলে মেসেজ আসলো " কি বন্ধু ভয় পেয়েছো..?? ইসসস তোমার ভয়ার্ত মুখটা দেখে আমার পৈশাচিক আনন্দ লাগছে! বলতে হবে তোর ছেলের ভাগ্য ভালো না হয় গাড়ির সাথে নিজেও পরপারে চলে যেতো।তবে টেনশন নেই নেক্সট টাইম শুধু গাড়ি নয় গাড়ির সাথে তোর ছেলেকেও পাঠিয়ে দিবো। এক এক করে সবাইকে পাঠাবো"

আজাদ চৌধুরী বার কয়েক কল দেওয়ার চেষ্টা করলেন। নাম্বার বন্ধ। ক্লান্ত শরীরটা সোফায় ছেড়ে চোখ বুঁজে রাখলেন কি করবেন এখন..? ছেলেদের কিভাবে বন্ধু নামের শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করবে!..? বোনটার মতো কি ছেলেদের ও হারাতে হবে!!..?? সিদ্ধান্ত নিলেন মিরাজ চৌধুরী কে আজ সবটা জানাবেন আর পুলিশের সাহায্যে রায়হানকে খুঁজে বের করবে।

_____________

আহনাফ রুমে এসে চুপ করে বসে ছিলো। সে কিছুতেই হিসাব মিলাতে পারছে না। মেঘলার আগমন, বিয়ে, বাবা ছেলের মধ্যে আস্তে আস্তে ঝামেলা তৈরি করা, আর আজকের এক্সিডেন্ট সবটাই সাজানো কারো প্লেন।খুব সুন্দর করে নিজের প্লেন অনুযায়ী এগিয়ে যাচ্ছে।

ফ্রেশ হয়ে রুম থেকে বের হয়ে মেঘলার রুমের কাছে গেলো। রুমে তালা দেখে ভীষণ অবাক হলো। রুম কেনো তালা দেওয়া.? বাড়িতে এতো মানুষ থাকতে চোর তো আসবে না!

নিচে গিয়ে নিরুপমা কে জিজ্ঞেস করতেই বললো। এই রুম শ্রাবণ তালা দিয়ে গেছে জেনো মেঘলা রুমে কখনো প্রবেশ করতে না পারে।

আহনাফ পেছন ফিরতেই দেখলো মেঘলা বাহির থেকে এসেছে। কারো দিকে না তাকিয়ে গেস্ট রুমে চলে যাচ্ছে ।

আহনাফ আজাদ চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে কিছু বললো না। আজাদ চৌধুরী চোখ বন্ধ করে বসে আছেন।

আহনাফ কফি খেয়ে মেঘলার দরজার সামনে টুকা দিলো।

মেঘলা দরজা খুলে আহনাফ কে দেখে কিছু সময় তাকিয়ে রইলো।
~ কি চাই.?
আহনাফঃ আপনার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো।
মেঘলাঃ বলেন।
আহনাফঃ একটু ছাঁদে আসুন।

ছাঁদে দাঁড়িয়ে আছে আহনাফ আর মেঘলা।

আহনাফঃ আমি আপনার বিষয় জানতে চাচ্ছি না। আমি শুধু জানতে চাই।আপনাকে এখানে কে পাঠিয়েছে.? কেনো পাঠিয়েছে.?
মেঘলাঃ এতে আমার লাভ কি.?
আহনাফ হাসলো। সে জানে এমনিতে কিছু বলতে চাইবে না মেয়ে।
আহনাফঃ এর পরিবর্তে আপনি যা চাইবেন দেওয়া হবে।
মেঘলার মুখেও হাসি ফুটে উঠলো। তারপর সে বলে উঠলো,
মেঘলাঃ আমি প্রতিদিনের মতো সেদিনও নিজের কাজে বেরিয়ে ছিলাম। তখন একটা ছেলে এসে আমার সামনে এসে দাঁড়িয়ে বললো" যদি এক ঘন্টার জন্য কাজ করি অনেক টাকা দিবে। 'আমি রেগে গিয়ে ছিলাম কাজের কথা জিজ্ঞেস ছেলেটাকে মে'রে হসপিটালনা করেই ভর্তি করিয়ে দেই। দুইদিন পর কয়েকজন ছেলে অজ্ঞান করে একটা আস্তানায় নিয়ে আসলো। যখন আমার জ্ঞান ফিরে নিজেকে চেয়ারে বাঁধা দেখলাম৷ একটা কালো কোট পড়া লোক সামনে আসলো কিন্তু মাক্স দিয়ে মুখ ডাকা ছিলো। আর উনার পাশে রনি মাস্তান দাঁড়িয়ে ছিলো। রনিকে আমি অনেক আগে থেকেই চিনি।

সেখানে লোকটার সাথে বেশি কথা হয়নি। লোকটা ৫০হাজার টাকা আমার সামনে রেখে বললো দুই ঘন্টা প্রেগন্যান্ট হওয়ার অভিনয় করলে এই টাকা আমার। যেহেতু শুধু অভিনয় ছিলো তাই আমিও রাজি হয়ে যাই।

আহনাফঃ এইটুকু কাজের জন্য এতো টাকা!..? সন্দেহ হয়নি.?
মেঘলাঃ হয়েছে!
আহনাফঃ তাহলে জিজ্ঞেস করেননি কেনো.?
মেঘলাঃ আমি নিষেধ করে দিলে অন্য মেয়ে আসতো। একজন না একজন তো সেজে আসতো। আমারও টাকার প্রয়োজন ছিলো কিন্তু সাংবাদিকের জন্য ফেঁসে গেলাম বিয়ের ফাঁদে।
আহনাফঃ রনি কোথায় থাকে.??
মেঘলাঃ কলেজের সামনে পাওয়া যাবে।
আহনাফঃ চলুন আমার সাথে..।
মেঘলাঃ কোথায়.?
আহনাফঃ রনির কাছে।
মেঘলাঃ আমি পারবো না।
আহনাফ অন্য দিকে তাকিয়ে ছিলো৷ সে এই রহস্যের সমাধান করতে চায়! কে আসলে, কোথায় থেকে গেইম খেলছে..? ওর পরিবারের সাথে কার এতো শত্রুতামী.?

আহনাফঃ আজ আমার গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়েছে..।
মেঘলা অবাক হলো। কিছু সময় চুপ থেকে বললো,' কিভাবে..? '
আহনাফ সবটা বলতেই মেঘলা চুপ করে রইলো। মেঘলা খুব চালাক মেয়ে। তার বুঝতে বাকি নেই এই কাজ নিশ্চয়ই ওই লোকের। আর এক্সিডেন্ট নিশ্চয়ই রনি করিয়েছে!।

মেঘলা রাজি হলো রনির কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

__________

মেঘলা কলেজের সামনে গাড়ি থেকে নামলো৷ ওর সাথে আহনাফ ও বের হলো৷

মেঘলা আশেপাশে রনিকে খুঁজলো কিন্তু কোথাও না দেখে কিছুটা অবাক হলো। কলেজ ছুটি হওয়ার আগ পর্যন্ত রনি কলেজের আশেপাশে ঘুরঘুর করে।

মেঘলা কলেজের পাশে চায়ের দোকানে বসলো।

~ চাচা কেমন আছেন.?
~ আরেএএ মেঘলা মা না.? কতোদিন পর আইলা দোকানে! কই থাকো দেখা যায় না। তোমার চাচি বলছিলো তোমারে দেখারলাই একদিন যদি যাইতা।
~ চাচা সময় করে একদিন যাবো। চাচির কেমন অবস্থা.?
~ এখন আগের থাইকা ভালা।
~ কোনো সমস্যা হলে বস্তুিতে চলে আসবেন।
~ আল্লায় তোমার মঙ্গল করুক মা। আজ তুমি না থাকলে...

~ প্লিজ চাচা এমনে বইলেন না। উনি আমার মায়ের মতো।নিজের তো মা নাই। মা দেখতে কেমন তাও জানিনা আমার মা অসুস্থ হইলে কি আমি চিকিৎসা করতাম না.? মনে করেন আমি আমার মা কে দিছি।

আহনাফ গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। মেঘলার দিকে তাকিয়ে বিরক্ত হলো। সেই কখন দোকানে গিয়েছে আশার নাম নেই।

কিছুক্ষন পর মেঘলা ফিরে এসে জানালো রনি চলে গেছে।
আহনাফঃ কোথায় গেছে.? কোথায় গেলে পাওয়া যাবে.?
মেঘলাঃ ঠিক জানা নেই। কলেজের কোন মেয়ে নাকি ওরেএ সবার সামনে জুতা খুলে মে'রছে। রেগে কই গেছে জানিনা। কলিজা আছে মেয়েটার বলতে হবে।

আহনাফঃ নিশ্চয়ই বাজে কিছু করেছে তাই মেয়েটা মেরেছে।
মেঘলাঃ এখন আমি যাই।
আহনাফঃ কোথায়.?
মেঘলা কিছু না বলেই চলে গেলো।

আহনাফ গাড়িতে উঠতে গিয়ে দেখলো কলেজ ছুটি হয়েছে। আহনাফ গাড়িতে উঠার আগেই ছোঁয়া এসে হাজির হলো ওর সামনে।

কলেজের মেয়েরা আহনাফের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে যাচ্ছে। এটা একদম সহ্য হলো না ছোঁয়ার। শাঁকচুন্নি গুলো কি জীবনেও ছেলে দেখেনি! চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে।

মহুয়াও এসে দাঁড়ালো।

ছোঁয়াঃ ভাইয়া তুমি এখান.?
আহনাফঃ একটা কাজে এসে ছিলাম।
ছোঁয়াঃ খুব ভালো হলো। তোমার সাথে মহুয়াকে নিয়ে যাও।
আহনাফঃ তুই কোথায় যাবি.?
ছোঁয়াঃ সামনে আমার একটু কাজ আছে।
আহনাফ গাড়িতে বসে পড়লো। মহুয়া পেছনে বসতে নিলে আহনাফ রেগে বলে উঠলো, ' আমাকে কি ড্রাইভার মনে হয়.!?? 'মহুয়া ফুস করে একটা নিশ্বাস ফেললো তারপর সামনে বসলো।

গাড়ি চলছে কারো মুখে কোনো কথা নেই৷ নিরবতা ভাঙে আহনাফ বলে উঠলো, ' আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়.?'
মহুয়াঃ হৃদয় পুড় গ্রামে।

আহনাফ হাসলো। তারপর আবার প্রশ্ন করলো,' আপনারা ভাই বোন..?'
মহুয়াঃ আমি একজন। আমার বাবা-মা নেই,আমি মামা-মামীর কাছে বড় হয়েছি, আমি ছোটো থাকতেই নাকি মা-বাবা এক্সিডেন্টে মা-রা যায় ।

হুট করে গাড়ি থেমে যাওয়াই মহুয়ার হুস ফিরে।
মহুয়াঃ কি হয়েছে.?
আহনাফঃ একটু আগে কি বললেন.?
মহুয়াঃ কি.?
আহনাফঃ আপনার আব্বু আম্মু এক্সিডেন্টে মা-রা গেছে.?
মহুয়ার গলা শুকিয়ে আসলো। আমতাআমতা করে বলে উঠলো, ' আমার খেয়াল ছিলো না। আমি হয়তো ভুল বলেছি।আব্বু আম্মু গ্রামে'
আহনাফঃ গ্রামটাও কি তাহলে খেয়াল ছিলো না? এটাও তো ভুল বলেছেন!ভাই-বোন ও ভুল বলেছেন.

মহুয়া কিছু না বলে চুপ করে আছে।এখনি তো ধরা খেয়ে গিয়ে ছিলো। কিন্তু সে সত্যি থেকে কেনো লুকাতে চাচ্ছে..? কেনো নিজের সব পরিচয় লুকিয়ে মিথ্যা বলে বেড়াচ্ছে.? সত্যি বেশি দিন চাপা থাকে না!

আহনাফ আর কিছু না বলে গাড়ি স্টার্ট দিলো। সে খুব জলদি সব রহস্যের সমাধান বের করবে। কে এই মহুয়া.? কি পরিচয়.?

___________

রনি একটা ছেলের গায়ে গরম লোহা চেপে ধরে আছে।
~ সামান্য একটা মেয়ের ছবি রাখতে পারছ না তোদের মতো জা*নো*য়া*র বিশ্বাস ঘাতক আমার দরকার নাই। এখন আমি কি জবাব দিমু বসকে!..? আজ যদি তোদের কারনে আমি পৃথিবী ছাড়তে হয় তাহলে তোদের সাথে নিয়েই ছাড়মু শ** বাচ্চারদল।

~ ভাই!! ভাই এবারের মতো ছাইড়াদেন। আমি কথা দিচ্ছি মাইয়া ডারে আমি নিজে আপনার সামনে নিয়া আসমু।
রনি রাগে আরও শক্ত করে লোহা চেপে ধরলো। মোবাইলে মেয়ের ছবি ছিলো আর সেই মোবাইল পানিতে পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বসকে কি জবাব দিবে রনি.? একতো একটা মেয়ের হাতে সবার সামনে জুতাপিটুনি খেয়ে এসেছে মাথা গরম তার উপর এমন একটা খবর শুনে মাথা আরও খারাপ হয়ে গেছে।

কে সেই বে**.? একটা মাইয়া হয়ে তিনটা পুরুষ কে খু*ন করছে। সাথে ১৫টা মাইয়া নিয়া পলায় গেছে। যেমনেই হোক ওই মাইয়ারেএ বসের সামনে নিতে হইবো। পতিতা পল্লীতে থাইকাও বে** গিরি কমে নাই!

রনিঃ ওই গাড়ি বার কর ফুলবানুর পল্লীতে যামু ওখানে তো মাইয়ার ছবি থাকবো। যেভাবেই হোক ওই মাইয়ারে খুঁজে বের করতে হইবো।

___________

মহুয়াকে নামিয়ে দিয়ে আহনাফ গাড়ি ঘুরিয়ে কাউকে কল দিলো।

কিছু কথা বলেই বলে উঠলো, ' আজ রাতেই এই ছেলেকে পুরান বাড়িতে দেখতে চাই। '
~ কাজ হয়ে যাবে।

মহুয়া ফ্রেশ হয়ে বেলকনিতে বসে আছে।

আহনাফ গেইটের ভেতর এসেই চোখ গেলো বেলকনির দিকে। বাগান থেকে মহুয়ার বেলকনি দেখা যায়।
মহুয়া গোসল করে চুল গুলো ছেড়ে বই নিয়ে বসে আছে। একটু পর পর বই পড়ছে আর হাসছে।এই প্রথম আহনাফ মহুয়াকে হাসতে দেখে তাকিয়ে রইলো। সারা দিনের ক্লান্তি এক নিমিষেই ভুলে গেলো। কারো হাসিতেও জাদু থাকে!..?

মহুয়ার মনে হলো কেউ ওর দিকে তাকিয়ে আছে। বই থেকে চোখ সরিয়ে এদিক ওদিকে তাকালো। কেউ তো নেই হয়তো মনের ভুল।

মহুয়া তাকানোর আগেই আহনাফ সরে গিয়ে ছিলো।

________

সন্ধ্যার দিকে আহনাফ তারাহুরো করে রুম থেকে বের হতে গিয়ে মহুয়ার সাথে ধাক্কা খেলো।
মহুয়া কপাল ঢলতে ঢলতে আহনাফের দিকে রেগে তাকালো৷
আহনাফঃ এভাবে তাকাবেন না দোষ আপনার!.
মহুয়াঃ একদম নিজের দোষ অন্যের ঘারে চাপিয়ে দিবেন না। আমি তো যাচ্ছিলাম আপনি দেখে বের হবেন না।গরুর মতো ছুটেছেন।
আহনাফঃ আমি গরু!.?
মহুয়া কিছু না বলে চুপ করে রইলো। আহনাফ রাগী দৃষ্টিতে মহুয়ার দিকে তাকিয়ে বললো,' বেয়াদব মহিলা ' বলেই চলে গেলো।
মহুয়া সাপের মতো ফুঁসে উঠলো৷ কতো বড় সাহস বার বার বিনা দোষে ওকে বেয়াদব মহিলা বলছে! কিন্তু এখন আর ঝগড়া করতে ইচ্ছে হলো না।

মহুয়া রান্না ঘরে উঁকি দিয়ে দেখলো আমেনা বেগম রান্না করছেন।
মহুয়া গিয়ে উনার পাশে দাঁড়াতেই আমেনা বেগম খুশি হলেন।
~ কিছু লাগবে.?
মহুয়াঃ না আন্টি। হেল্প করতে আসলাম।
~ সব কিছু করা শেষ আর হেল্প করতে হবে না। আন্টির সাথে গল্প করো।
মহুয়া টুকটাক এটা সেটা জিজ্ঞেস করলো। আমেনা বেগম উনার শাশুড়ী থেকে শুরু করে এই বাড়ির প্রত্যেকটা মানুষের বিষয় সব বলতে শুরু করলেন মহুয়াও মন দিয়ে তা শুনছে আর হাসছে।

_______

আহনাফ বাড়িটার ভেতরে ঢুকে লাইট জ্বেলে দিলো৷

রনির হাত পা বাঁধা অবস্থায় ঝুঁকে আছে।
আহনাফ রনির সামনে গিয়ে তাকাতেই অবাক হলো। এটা তো সেই দিনের অসভ্য ছেলেটা!

আহনাফ ওর সামনে হাতে চাকু নিয়ে বসলো৷ রনির মুখে পানির ছিটা মারতে আস্তে আস্তে চোখ খুলে তাকালো।
সামনে আহনাফ কে দেখে ভয় পেলো। আজও সেই দিনের মাইরের কথা মনে আছে! কিন্তু আজ তো সে কিছু করেনি! নাকি কলেজের মেয়েটার জন্য তুলে এনেছে.? হাজারটা প্রশ্ন আর ভয় নিয়ে আহনাফের দিকে তাকিয়ে আছে।

আহনাফ শান্ত ভাবে পুরো রুমটার দিকে তাকালো।
রনির চেয়ারটা ঠিক করতে একজনকে ইশারা দিলো।

চেয়ার ঠিক করতেই রনির পকেট থেকে মোবাইলটা নিচে পড়ে গেলো।

আহনাফ বিরক্ত হলো। ওর পায়ের কাছ থেকে মোবাইলটা তুলে রনির পকেটে রাখতে গিয়েও থেমে গেলো৷ মোবাইলটা নিজের দিকে ঘুরিয়ে স্কিনে পরিচিত একটা মেয়ের ছবি দেখে কৌতুহলী চোখে আরও ভালো করে তাকালো। রনির দিকে তাকিয়ে চোখ মুখ শক্ত করে ফেললো। যদিও স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে না মেয়েটাকে কারন মেয়েটার মুখে অনেক কাঁটা দাগ,ঠোঁটে রক্ত জমাট বেঁধে আছে, চুল এলোমেলো, শরীরে জরজেট পাতলা শাড়ি।

চলবে.......

ভুলত্রুটি মার্জনীয়

 #মেঘের_আড়ালে_রোদ  #পর্ব_8লেখিকা   মহুয়ার মাঝ রাতে  হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো। রুমে পানি খুঁজলো  কোথাও একটুও পানি নেই। আস্তে কর...
27/10/2023

#মেঘের_আড়ালে_রোদ
#পর্ব_8
লেখিকা

মহুয়ার মাঝ রাতে হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলো। রুমে পানি খুঁজলো কোথাও একটুও পানি নেই। আস্তে করে রুম থেকে বের হয়ে ড্রয়িং রুমে আসলো। ড্রয়িং রুমে এসে অবাক হলো, রান্না ঘরের লাইট জ্বালানো সাথে ঠুকঠাক শব্দ আসছে।

ধীর পায়ে রান্না ঘরের দিকে এগিয়ে গেলো৷

আহনাফ এক হাত পকেটে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
মহুয়া আরও ভালো করে তাকালো। আহনাফ কে দেখেই যেভাবে এসে ছিলো সেভাবেই হাঁটা ধরলো।

" মাঝ রাতে চুল ছেড়ে ভূতের মতো সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছেন কেনো..?"

মহুয়ার পা থেমে গেলো। পেছন ফিরে বলে উঠলো, ' ভূত বিশ্বাস করেন..?'
আহনাফ কিছু সময় চুপ থেকে বললো,' হুম অবশ্যই আমাদের বাড়ির পেছনে যে বন্ধ ঘর আছে ওখানে অনেকে ভূত দেখেছে। ওই ঘরে এক মেয়ে আত্মহত্যা করে ছিলো তারপর থেকে মাঝে মাঝে মেয়ের আত্মাকে অনেকেই দেখতে পায়। আর যে দেখে সে আর বেঁচে থাকে না।'

মহুয়া আস্তে ধীরে আহনাফের কাছে এসে দাঁড়ালো।

মহুয়াঃ কিন্তু আমি তো শুনেছি ভূত বলতে কিছু নেই।
আহনাফঃ ভূত বলতে নেই তবে পেত্নী, আত্মা, জ্বীন তো আছে।
মহুয়া ভয়ে এদিক ওদিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো, ' মেয়েটা আত্মহত্যা কেনো করেছে...?

আহনাফ কাপে কফি ঢেলে বললো,' তা তো আমি জানিনা৷ তবে মাঝ রাতে মেয়েটার চিৎকারের শব্দ শুনা যায়।'

মহুয়াঃ আপনি শুনে ছিলেন..?
আহনাফঃ না। লোকের মুখে শুনেছি।
মহুয়া ভয়ে আহনাফের দিকে তাকিয়ে বললো,' আমি এইসব ভয় পাই না।'
আহনাফঃ তাহলে এভাবে কাঁপছেন কেনো..? আগে চুল গুলো বেঁধে নিন আপনাকে দেখে আমার ভয় লাগছে বলে আহনাফ চলে যেতে ধরলো।
মহুয়াও আহনাফের পিছন পিছন যাচ্ছে।
আহনাফ পেছন ফিরে বলে উঠলো, ' এখানে কেনো এসে ছিলেন.??'
মহুয়া শান্ত কন্ঠে বলে উঠলো, ' পানির জন্য। '
আহনাফঃ খেয়েছেন..?
মহুয়াঃ না!
আহনাফ গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো,' তাহলে খেয়েনিন।'

মহুয়া চুপচাপ পানি খেয়ে আহনাফের পিছু পিছু দোতলায় চলে আসলো। আহনাফ নিজের রুমে প্রবেশ করতে গিয়েও থেমে গেলো৷
মহুয়া আহনাফ কে পাশ কাটিয়ে নিজের রুমের দিকে চলে গেলো ।
আহনাফও এবার নিজের রুমে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দিলো৷

মহুয়া রুমে এসে দেখে ছোঁয়া ঘুমাচ্ছে। দরজা বন্ধ করতে গিয়ে থেমে গেলো। দক্ষিণ পাশের রুম থেকে একটা মেয়েকে নিচে নেমে যেতে দেখে অবাক হলো সাথেও একঝাঁক ভয় এসে হানা দিলো। তাও সাহস করে মহুয়া এগিয়ে আসলো মেয়েটাকে দেখার জন্য। এটাই কি আহনাফের বলা সেই মেয়েটি!..?তাহলে কি আহনাফ সত্যি বলে ছিলো!..?

মহুয়া ভালো করে তাকালো। মেয়েটা নিচে গিয়ে পানি খেয়ে আবার উপরে উঠে আসলো। সিঁড়ি দিয়ে ছাঁদে উঠতে নিলেই মহুয়া পেছন থেকে ডাক দিলো।

মেঘলা বিরক্ত হয়ে পেছন ফিরলো৷ এই মাঝ রাতেও এই বাড়িতে শান্তি নেই এর থেকে তো বস্তিতেই ঢের ভালো শান্তিতে ঘুমানো যায়!..

মহুয়াঃ এতো রাতে তুমি ছাঁদে কেনো যাচ্ছো.?
মেঘলাঃ ঘুমাতে!..
মহুয়া ভ্রু কুঁচকে ফেললো। এই মেয়ে এতো রাতে ছাঁদে ঘুমাতে যাবে.? এমনতো নয় আত্মা মেঘলার মতো সেজে এসেছে!..
মহুয়াঃ তোমার রুমে কি হয়েছে.?
মেঘলাঃ রুম থেকে বের করে দিয়েছে আর কিছু জিজ্ঞেস করবে..? আমার এখন ঘুম প্রয়োজন।
মহুয়াঃ কে রুম থেকে বের করেছে..?
মেঘলাঃ আমার প্রানপ্রিয় স্বামী।
মহুয়াঃ কিন্তু উনি তো বাসায় নেই, আসেও না।
মেঘলাঃ এই মেয়ে এতো কথা জিজ্ঞেস না করে রুমে গিয়ে দেখে আসো। এতো রাতে না ঘুমিয়ে বাড়ি কেনো পাহাড়া দিচ্ছো.?
মহুয়াঃ আমি পানি খাওয়ার জন্য বেরিয়ে ছিলাম। এতো রাতে ছাঁদে না গিয়ে আমাদের সাথে আজকের রাত থেকে যেতে পারো।
মেঘলাঃ লাগবে না বাহিরে ঘুমিও অভ্যস আছে।

মহুয়াঃ এখানে শুনেছি রাতে কোনো এক মেয়ের আত্মা ঘুরে বেড়ায়। আমার রুমে আসো না হয় ভয় পাবে।
মেঘলাঃ এই সব ফালতু কথা মাথায় না নিয়ে ঘুমাতে যাওও। মানুষ মৃত্যুর পর আর কখনো ফিরে আসতে পারে না, নিজের হিসেব-নিকেশ দিয়ে কোল পায় না। আর আত্মা মেয়ে সেজে ঘুরে বেড়াবে!! যাওও মেয়ে ঘুমিয়ে পরও। বলেই মেঘলা হেলতে দুলতে ছাঁদে চলে গেলো।

মহুয়া চুপচাপ নিজের রুমে চলে আসলো। কেনো জানি এই মেয়েটার সাথে কথা বলতে ভালো লাগে মহুয়ার। কেমন আপন আপন মনে হয়।

_______

সেই প্রতিদিনের মতো আজও নামাজ পড়ে মহুয়া, ছোঁয়া ছাঁদে আসলো।

মেঘলা তখনো ঘুমাচ্ছে।

ছোঁয়া মেঘলাকে ছাঁদে দেখে প্রথম ভয় পেয়ে ছিলো।
ছোঁয়াঃ এই মেয়ের কি রুমে শান্তিতে ঘুম আসে না! অবশ্য আসবে কিভাবে কখনো চোখে এতো সুন্দর রুম দেখেছে!.? হুট করে তো আর এতো ভালো রুমে ঘুম আসবে না। লোভী মেয়ে একটা! দেখলেই বিরক্ত লাগে।

মহুয়া একবার মেঘলার দিকে তাকালো। ছোঁয়াকে মুখ বন্ধ রাখতে বললো। ওর কথার শব্দে মেয়েটার ঘুম ভেঙে যাবে।

ছোঁয়া বুঝে পায় না এই মেয়ের প্রতি এতো আদিখ্যেতা দেখানোর কি আছে.?? এই মেয়ের জন্য আজ ওর ভাই বাড়ি ছাড়া, বড় মামি ভালো নেই। সামনে আরও কি কি সমস্যা যে এই মেয়ে তৈরি করে আল্লাহই জানে।

________

আমেনা বেগম অনেক খুশি বড় ছেলে বাড়ি ফিরে এসেছে। নিজ হাতে ছেলের পছন্দের সব কিছু রান্না করলেন।

সবাই এক এক করে নিচে নেমে আসলো।

আহনাফ দাদিজানকে খাবার, মেডিসিন খাইয়ে নিচে নেমে আসলো৷

আজাদ চৌধুরীকে বসে থাকতে দেখে উনার পাশে গিয়ে বসলো।
আহনাফঃ আব্বু আপনি মনে হচ্ছে আমাদের থেকে কিছু লুকাচ্ছেন!.?
আজাদ চৌধুরীঃ এমনটা কেনো মনে হচ্ছে তোমার.?
আহনাফঃ আমি খেয়াল করছি আপনি সব সময় টেনশনে আর ভয়ের মধ্যে থাকছেন!।
আজাদ চৌধুরীঃ তুমি ভুল ভাবছো।
আহনাফঃ মেঘলা মেয়েটার বিষয়টা আপনি যতোটা সাধারণ সবার সামনে দেখাচ্ছেন ততোটাও নয়। মেয়েটা কে.? আর কে পাঠিয়েছে.?? কেনোই বা পাঠিয়েছে..? এতে লোকটার লাভ কি.?কে সেই লোক.? তার সাথে আমাদের কিসের শত্রুতা.?
আজাদ চৌধুরী গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো,' এতো কিছু তোমার ভাবতে হবে না। নিজের হসপিটালে মন দাও আর সাবধানে সব কিছু দেখা শোনা করো। তোমাদের আর এই পরিবারের নিরাপত্তার জন্য এখনো তোমার আব্বু বেঁচে আছে।'

আহনাফ স্থির চোখে তাকিয়ে রইলো আজাদ চৌধুরীর দিকে। আজাদ চৌধুরী মুখে কিছু না বললেও আহনাফ ঠিক বুঝতে পারছে কিছু তো একটা রহস্য লুকিয়ে আছে।

খাবার টেবিলে মেঘলা ছাড়া সবাই বসে আছে।

আমেনা বেগম সব কিছু এগিয়ে দিচ্ছেন।
আজাদ চৌধুরীঃ শ্রাবণ কিছু দিন অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছুদিন বাসায় থাকো বন্ধুদের সাথে সময় কাটাও।
শ্রাবণ খাবারের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে আজাদ চৌধুরীর দিকে তাকালো,' আমি ঠিক আছি আজ থেকে অফিসে আসবো।'
আজাদ চৌধুরীঃ আমি নিষেধ করেছি।
শ্রাবণঃ আমি এখন ছোটো বাচ্চা নেই আপনার সকল সিদ্ধান্ত আমার উপর চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করুন!!..
আজাদ চৌধুরীঃ আমি কিছু চাপিয়ে দিচ্ছি না তোমার ভালোর জন্য বলছি।
শ্রাবণঃ অনেক ভালো বুঝেছেন এখন আমার ভালো আমাকে বুঝতে দেন।
আজাদ চৌধুরী চুপ করে ছেলের দিকে তাকিয়েরইলেন৷ বুঝতে পারলেন উনার উপর ছেলের অনেক অভিমান জমে গেছে।

শ্রাবণ মহুয়ার দিকে তাকিয়ে উঠে গেলো। বড় বড় পা ফেলে নিজের রুমের দিকে চলে গেলো।

_______

শ্রাবণ রুমে এসে শার্ট খুলে বিছানায় ফেলে দেয়ালে স-জোরে একটা ঘুষি মারলো। বুকের ভেতর কিছু একটা নেই মনে হচ্ছে। ভীষণ খালি খালি লাগছে৷ চুল খামচে ধরে বিছানায় বসে পড়লো। কেমন জীবনটাই এলোমেলো হয়ে গেছে। এই এলোমেলো জীবনে সে আর কাউকে চায় না। কিন্তু বেহায়া মন মানতে চায় না নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি এতো মায়া, টান কেনো...? কেনো দেখলেই বুকের বা পাশে চিনচিন ব্যাথা হয়!.?

পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে মেঘলা। রুমে এসে ছিলো নিজের কাপড় নিতে। কাপড় হাত দিতেই বুঝলো শ্রাবণ আসছে ভয়ে পর্দার আড়ালে লুকিয়ে আছে। এখন তো এই ছেলের রাগ দেখে বের হতে আরও ভয় লাগছে।

শ্রাবণ পাশে টেবিল থেকে একটা ফাইল তুলে নিলো। হঠাৎ চোখ আটকালো পর্দার নিচে এক জোরা পায়ের দিকে।

শ্রাবন কিছু সময় তাকিয়ে থেকে চোখ সরিয়ে বলে উঠলো, ' পর্দার আড়াল থেকে বের হয়ে আসো।'
গুণে গুণে পাঁচ মিনিট চলে গেলো মেঘলা বের হলো না।
শ্রাবণ দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো, ' বের হতে আর এক মিনিট দেরি হলে গুণে গুণে ছয়টা থাপ্পড় পড়বে গালে।'

থাপ্পড়ের কথা শুনে সাথে সাথে মেঘলা বের হয়ে গেলো।
শ্রাবণঃ কি চুরি করতে এসে ছিলে..?
মেঘলাঃ আমি চুরি করতে আসিনি।
শ্রাবণ তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে উঠলো, ' তাহলে কি আমাকে দেখতে এসে ছিলে..?'
মেঘলাঃ আপনি দেখতে অতোটাও হ্যান্ডসাম নন যে আপনাকে দেখতে রুমে এসে লুকিয়ে থাকবো!..
শ্রাবণ ভীষণ রেগে গেলো। স্কুল,কলেজ, ভার্সিটিতে কতো মেয়ে ওর জন্য পাগল ছিলো আর এই সামান্য বস্তির অশিক্ষিত মেয়ে কিনা খুব সুন্দর করে ওকে অপমান করে ফেললো‌!..? শ্রাবণ নিজেকে বুঝালো " বস্তির মেয়েদের চয়েস আর কতো টুকু ভালো হবে শ্রাবণ তুই এই মেয়ের কথায় রেগে যাচ্ছিস!!.?"

শ্রাবণঃ তাহলে এই রুমে কি..? আমি কাল রাতে বলে দিয়েছি এই রুমে তোমার ছায়াও জেনো না দেখি!।
মেঘলাঃ কাপড় নিতে এসে ছিলাম।
শ্রাবণঃ শুধু কাপড় নয় সব কিছু নিয়ে বের হয়ে যাও। তোমার গায়ের গন্ধ ও জেনো বাতাসের সাথে এই রুমে না থাকে।

মেঘলা চুপচাপ সব কিছু নিয়ে বের হয়ে গেলো। এখানে ঝগড়া ঝামেলা করে লাভ নেই বস্তিতে যেতে হবে অনেক কাজ বাকি।
যাওয়ার আগে বলে উঠলো, ' আমার শরীর থেকে আপনার মতো বিশ্রী গন্ধ আসে না মাতাল লোক।'

________

মহুয়া, ছোয়া কলেজের উদ্দেশ্য বের হলো।

আজাদ চৌধুরী নির্জন কে ওদের নিয়ে যাওয়া আবার ছুটির পর নিয়ে আশার কাজ দিলো। কিন্তু তাতে রাজী হলো না ছোঁয়া। ছোঁয়া কিছুতেই এই নির্জনের সাথে যাওয়া আশা করবে না।

নির্জন ও বলে দিলো এই ছোঁয়া কটকটি কে সাথে নিবে না।

অনেক ঝামেলার পর সিদ্ধান্ত হলো যাওয়ার সময় আহনাফের সাথে যাবে আশার সময় নির্জন নিয়ে আসবে।

মহুয়া তো প্রচুর রেগে আছে আহনাফের উপর বেয়াদব লোক কাল রাতে ওকে মিথ্যা বলে ভয় দেখিয়েছে। সকালে মহুয়া ছোঁয়া কে জিজ্ঞেস করে ছিলো। ছোঁয়া তো মহুয়ার কথা শুনে প্রচুর হেঁসে ছিলো।

আহনাফ গাড়ি নিয়ে ওদের জন্য অপেক্ষা করছে।

মহুয়া শুভ্র রঙের সেলোয়ার-কামিজ পড়েছে, চুল গুলো বেনি করে এক পাশে রাখা। বাড়ি থেকে বের হয়েছে।
আহনাফ একবার তাকিয়ে চশমা ঠিক করে গাড়িতে বসে পড়লো।

ছোঁয়া, মহুয়া পেছনে বসতেই আহনাফ বলে উঠলো, ' আমাকে দেখে কি তোর ড্রাইভার মনে হয় ছোঁয়া!..? '

ছোঁয়াঃ আমাদের জন্য হয়ে যাওও ভাই। শ্রাবণ ভাইয়া সব সময় আমাদের এক সাথে বসতে দিয়েছে।
আহনাফঃ আমি শ্রাবণ নই। একজন সামনে চলে আয়।
ছোঁয়াঃ তুমি তো জানো সামনে বসলে আমার মাথা ঘুরায়, শরীর খারাপ লাগে, বমি আসে।

আহনাফ মোবাইল ছোঁয়ার হাতে দিয়ে বলে উঠলো, ' তাহলে পেছনে বসে গেইম খেল আর পাশের জনকে সামনে চলে আসতে বল।
মহুয়াঃ একদম মোবাইলের লোভ দেখাবেন না আমি আপনার সাথে বসবো না। ছোঁয়া সামনে যাওও।
ছোঁয়াঃ তাহলে আজ আর কলেজ না হসপিটাল যেতে হবে।
মহুয়াঃ তাহলে চলো রিক্সা দিয়ে যাই আমরা।
ছোঁয়াঃ ভাই রেগে যাবে।
মহুয়াঃ আমি আছি।

আহনাফ এতোক্ষন ওদের কথাগুলো চুপ করে শুনলো।এবার গম্ভীর কণ্ঠে বলে উঠলো, ' যে গাড়ি থেকে এক পা নিচে রাখবে তাকে আজ হেঁটে কলেজ যেতে হবে!!..।
ছোঁয়া বাধ্য মেয়ের মতো সামনে বসতে গেলে আহনাফ নিষেধ করে গাড়ি স্টার্ট দিলো।

মহুয়া বাহিরের দিকে তাকিয়ে রইলো।

আহনাফ ওদের কলেজ গেইট নামিয়ে চলে গেলো।
কলেজে আসতেই আরেক ঝামেলা এসে সামনে দাঁড়ালো।

রনি দলবল নিয়ে মহুয়ার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
ছোঁয়াঃ এই সমস্যা কি তোর..?
রনিঃ তোর সাথে আমার কোনো সমস্যা নেই শালিকা, বোন জিজুর মাঝে কাবাবে হাড্ডি না হয়ে গুস্ত হওয়ার চেষ্টা কর।
ছোঁয়া লম্বা একটা শ্বাস নিয়ে হাসলো।, ' কাক ও আজকাল দেখি নিজেকে ময়ূর ভাবতে শুরু করেছে গুড! অনেক জোক্স শুনলাম এবার রাস্তা ছাড়।'
রনি সিগারেটে আগুন জ্বালিয়ে মহুয়ার দিকে তাকালো। মাথা নিচু করে ভদ্র মেয়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
রনিঃ আমার বিষয় কি ভাবলে.?
ছোঁয়া কিছু বলার আগেই রনি ইশারায় একটা কে কিছু বললো। কালো চিকনা একটা ছেলে ছোঁয়ার মুখে টেপ মেরে দিলো। হাতগুলো শক্ত করে ধরে বললো" আগে বসের সাথে মেডামের কথা শেষ হোক।"

মহুয়া তখন মাথা নিচু করে আছে।
রনিঃ দেখ আমি একটা কথা সোজাসাপটা কইয়া দেই ভালোই ভালো বিয়ে করতে রাজি হয়ে যা, না হয় এই রনি এমন অবস্থা করবো লোকের সামনে মুখ দেখাইতে পারবি না। রনির চোখ শিকারীর চোখ। বলেই বিশ্রী হাসি দিলো। যা চাই নিজের করেই ছাড়ি।

ছোঁয়া ছুটার চেষ্টা করেও লাভ হলো না চিকনার শরীরে এতো শক্তি!

মহুয়া রনির দিকে তাকাতেই রনি বলে উঠলো, ' এভাবে তাকিয়ে লাভ নাই রনি ভয় পায় না আরও প্রেমে পড়ে, মুগ্ধ হয়,নিজের করবার ইচ্ছে জাগে।'

মহুয়া ব্যাগটা রনির এক চেলার হাতে রাখলো। তারপর ঠাসস ঠাসস করে রনির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার গালে কয়েকটা থাপ্পড় বসিয়ে, ছোঁয়ার হাত ধরা ছেলেটার গালেও মারলো। রনির চুপচাপ তাকিয়ে দেখতে লাগলো। মহুয়া রনির দিকে তাকালো কিছু সময় তাকিয়ে পা থেকে জুতা খুলে রনির গালে মারতে শুরু করলো।
কেউ ভাবতেও পারেনি এমন কিছু হবে!!৷ রনিও হয়তো কল্পনাও করেনি। এতোক্ষন রনির ছেলেদের মেরেছে রনি কিছু বলেনি, এখন রনিকে মারছে রনির ছেলে গুলো দর্শকের মতো চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছে। মানে সমানে সমান!! মহুয়ার দিকে পুরো কলেজের স্টুডেন্ট অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। মহুয়া জেনো নিজের হুসে নেই। রনির এখন মনে হচ্ছে ওরসামনে সামান্য একটা মেয়ে নয় ওর মৃত্যু দাঁড়িয়ে আছে। একটা মেয়ের সামনে আজ সে বিড়াল। মেয়েদের শরীরে এতো শক্তি!.?

মহুয়াঃ লজ্জা, ভয় থাকলে আর দ্বিতীয় বার এই কলেজের আশেপাশে তোকে দেখবো না।

সব ছেলে মেয়েরা এক সাথে হাত তালি দিতে লাগলো।
________

আহনাফের রাস্তায় এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেলো। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে অনেক কথা বলে গাড়ি রেখে রেস্টুরেন্টের দিকে যাচ্ছিলো।

বিকট শব্দ শুনে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখলো ওর গাড়িকে বড় একটা ট্রাক ধাক্কা মেরেছে। গাড়িটা দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে একদম ভেঙে মুচড়ে আগুন ধরে গেছে।

আহনাফ স্তব্ধ হয়ে শুধু তাকিয়ে রইলো।

চলবে.....
ভুলত্রুটি মার্জনীয়।

Address

Mymensingh
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Aarohi Islam aru posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category