23/11/2025
কালাই রুটি রাজশাহী তথা উত্তরবঙ্গ ও এদেশের মানুষের ঐতিহ্যবাহী খাবার হওয়ার কারণ :
বংশপরম্পরায় মাষকলাই রুটি এখানকার মানুষের ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে প্রচলিত আছে। বিশেষত আবহাওয়া ও জলবায়ু অনুকূল হওয়ায় সারা বাংলাদেশের মধ্যে উত্তরবঙ্গের মাটি মাষকলাই জন্মানোর জন্য সর্বোচ্চ উপযোগী। এজন্য শত শত বছর ধরে পূর্বপুরুষের দেখানো পথে চাষাবাদের মৌসুম তথা বছরে একবার নিরবচ্ছিন্নভাবে কৃষকেরা মাষকলাই চাষ করে থাকে। কথিত আছে পূর্বে এই এলাকার মানুষ ডালের জন্য শুধু মাষকলাই এর উপর নির্ভরশীল ছিল । কিন্তু কালের পরিক্রমায় মাষকলাই থেকে আটা তৈরি করে অন্যান্য সহযোগী উপাদানের সংমিশ্রণ এ রুটি তৈরি করা প্রথা হয়ে যায়। বিশেষ করে শ্রমজীবী বা কৃষকদের সকালের নাস্তা হিসেবে কালাইরুটি সর্বাগে প্রাধান্য পায়। কারণ কালাই রুটি প্রচুর শক্তি জোগায় ও কালাইরুটি খাওয়ার পর সহজে ক্ষুধা লাগে না । তাই সার্বজনীন অভ্যাস বা প্রথা থেকে কালাই রুটি রাজশাহী তথা উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে সগৌরবে । তবে কালের চক্রে বাংলাদেশের মানুষ বর্তমানে কালাই রুটি সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং অনেকেই এর স্বাদ আস্বাদন করেন।ফলে সকল শ্রেণি- পেশার মানুষের কাছে দারুণ জনপ্রিয় ও পছন্দের খাবার হয়ে ওঠে এই কলাইরুটি।
পুষ্টিগুণ:
মাষকলাইয়ে থাকে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল (জিঙ্ক, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম) ও অল্প পরিমাণে ফ্যাট, চালে কার্বোহাইড্রেট, সামান্য প্রোটিন ও ফ্যাট এবং গমে প্রোটিন থাক। চাল, গম এবং মাষকলাইয়ের ময়দার সংমিশ্রণে তৈরি হয় কালাই রুটি। এই রুটিতে যে পরিমাণ মিনারেল থাকে তা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট শরীরের গঠন মজবুত ও অতিরিক্ত শক্তি জোগায়। মিনারেলগুলো শরীরের বিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়া কালাই রুটিতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় তা শরীরের গঠন মজবুত করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ভাতের চেয়ে রুটি খাওয়াই বেশি ভালো। সেক্ষেত্রে কলাই রুটি তাদের জন্য অধিক উপকারী।
#কালাইরুটি #আড্ডা #বাঙলি_খাবার