Arif's World

Arif's World I'm a normal man but I want to something for my life.

07/08/2024

''স্বাধীনতা কি আমরা রক্ষা করতে পারলাম? নাকি আবার একই পথে বাংলাদেশ !''

আমাদের স্বাধীনতা অর্জনে সবচেয়ে বেশি খুশি একশ্রেণীর চোরেরা। তাই দয়া করে সবাই এইটা পড়ুন এবং সবাই মিলে এই রকম একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

আমাদের দেশের মূল সমস্যাঃ

১। আইনের শাসনের অভাবঃ আইন সবার জন্য সমান এই কথা সংবিধানে থাকলেও বাস্তবে নাই। আপনার কি মনে হয় আওয়ামী লীগ চলে গেছে এখন নতুন সরকার গঠন হলেই কি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে?

২। ঘুষ-দূর্নীতিঃ দেশের বড় একটা জায়গা দখল করে আছে ঘুষ-দূর্নীতি। আপনার কি মনে হয় আওয়ামী লীগ চলে গেছে এখন সব বন্ধ হয়ে যাবে? নাকি নতুন সরকার আসলে এটা ঠিক হয়ে যাবে? নাকি কিছু নতুন মুখ প্রশাসনে এই সব জায়গায় গেলেই ঠিক হয়ে যাবে?

৩। রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষমতার দাপটঃ রাজনৈতিক নেতাদের দাপট কি এখন কমে যাবে? আপনাদের কি ধারণা আপনারা দেশ স্বাধীন করলেন আর স্বাভাবিকভাবেই নেতাদের ক্ষমতার দাপট কমে গেলো। নতুন যে সরকার আসবে তার দাপট কি আপনারা গ্রহণ করবেন? বর্তমানে সাধারণ যে শিক্ষার্থীরা দেশ স্বাধীন করলো তারাই বিপদে পড়া শুরু করেছে, এখনই আর কেউ দাম দেয়না। আরো অনেক দিন পরেই আছে।এখানে যার যত জনবল তার তত ক্ষমতার দাপট। সাধারণ শিক্ষার্থী কখনও এক সাথে হতেও পারবে না, তারা দামও পাবে না।

৪। বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় রাজনীতিঃ আপনাদের কি ধারণা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলীয় রাজনীতি কি এখন বন্ধ হয়ে যাবে? নাকি নতুন কোন সরকার আসলে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অসুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হবে।

সমালোচনাঃ বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সত্যিই আমি আশা দেখছিলাম নতুন একটা সুন্দর দেশ হবে। তবে যদি এইবার আমরা সেটা গঠন করতে না পারি, তাহলে এই দেশ আর কোন দিন সামনে এগিয়ে যেতে পারবে না । আবার সেই একই শাসন ব্যবস্থার মধ্যে দিনে দিনে ধাবিত হবে। আমাদের সবার উচিৎ ছিল এই সমস্যাগুলোর সমাধান খুঁজে বের করা, যাতে আমরা একবারে দেশটাকে সুন্দরভাবে গঠন করতে পারি। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমি এমন কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করলাম না। আপনারা যে রূপরেখার কথা বলছেন এটা দিয়ে শুধু ব্যক্তির পরিবর্তন হবে কিন্তু আবার সেই একই পথেই যাবে বাংলাদেশ।

সমাধানঃ যদিও সমাধান অনেক কঠিন, তবে আমার ব্যক্তিগত চিন্তা থেকে মনে হয় সমাধান করা যাবে। তবে যদি ভুল মনে হয় ক্ষমা করে দিবেন।

প্রথমে প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় রাজনীতি বন্ধ করতে হবে। রাষ্ট্রের জন্য নতুন একটা প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে "রাষ্ট্র মনিটরিং ইউনিট"। এটার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রাষ্ট্রের হাতে থাকবে না। দেশের সুশীল সমাজ এবং শিক্ষার্থীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে। এমনকি প্রয়োজন হলে দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহীদের তালিকা প্রকাশ হবে এবং নাম্বার ভেরিফিকেশন দিয়েও ভোটের আয়োজন করা যেতে পারে। একটা ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এখানে অভিযোগ সিস্টেম চালু থাকবে রাষ্ট্রের নেতাদের ক্ষমতার দাপট, ঘুষখোর ও দূর্নীতিবাজদের তালিকা তৈরি হবে।

তবে এটা অটোমেটিক সিস্টেম থাকবে যারা ভুক্তভোগী হবে তারা অভিযোগ দিবে, যার বিরুদ্ধে ২০+ অভিযোগ যুক্ত হবে তার বিষয়ে সরকারি সংস্থা তদন্ত শুরু করবে। ২৫+ অভিযোগ জমা হলে মিডিয়া তদন্ত শুরু করবে। ৩০+ অভিযোগ জমা হলে তার নাম+ সকল তথ্য সাইটে প্রকাশ হবে অটোমেটিক। এখানে যারা অভিযোগ দিবে তাদের নাম প্রকাশ করা হবে না। তবে যারা অভিযোগ দিবে তাদের মোবাইল নাম্বার ভেরিফাই হবে। কোন জটিল পরিস্থিতি না হলে সেই নাম্বার দেখতে পারবে না। আর যখন কারো বিরুদ্ধে ৫০+ অভিযোগ জমা হবে তখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাজ হবে সেই বিষয়ে সমালোচনা করা এবং বিভিন্ন কর্মসূচি দেওয়া। সপ্তাহে একদিন আমরা দেশ গড়তে সময় দিলাম।

আমি আশা করি এভাবে যদি আমরা এগিয়ে যেতে পারি তাহলে নতুন রাষ্ট্র দেখবো, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, ঘুষ-দূর্নীতি করার আগে ১০০ বার ভাববে, আর নেতাদের ক্ষমতার দাপট ও কমিয়ে যাবে। যারা রাজনৈতিক নেতা হবে তাদের কাজ শুধু আমাদের সার্ভিস দেওয়া, বাহিনী গঠন করে আমাদের উপর ক্ষমতার দাপট দেখানো না।

দ্রুত যদি এমন কোন পদক্ষেপ না নিতে পারেন, তাহলে আবার সেই আগের অবস্থায় দেশ চলে যাবে। নেতাদের লুটপাট শুরু হয়েছে, আইনের শাসন ভেঙ্গে পড়েছে, নেতাদের বাহিনী তৈরি হয়েছে ছাত্রদের কাজ শেষ হয়েছে এখন আর দাম নাই, সব কিছু চালু হলেই ঘুষ-দূর্নীতি শুরু হবে। আগে ছিল আওয়ামী লীগ এখন খাবে অন্য কেউ। তাই এখনই একটা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান দরকার যা জনগণের জন্য কথা বলবে, তার বিরুদ্ধে সরকার কথা বলতে পারবে না। প্রয়োজন হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে নির্বাচনের মাধ্যমে এই রকম একটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করার দায়িত্ব দেওয়া উচিৎ।

সর্বশেষঃ এই আন্দোলনে হয়তো অন্য সবার মত আমাদের অধিক অবদান ছিল না, অনলাইনে এবং জেলা শহরে যেটুকু পেরেছি আমরা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছি। তবে সত্যি বলতে আমরা নতুন একটা রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতেছিলাম। তবে মনে হচ্ছে সেই স্বপ্ন আর পূর্ণ হলো না। আমার কাছে মনে হচ্ছে এতো মানুষের জীবন দিয়ে কোন লাভ হলো না। সেই আগের মত অবস্থায় ফিরিয়ে যাবো আমরা, যেমন ১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে আমরা ভাবছিলাম আমরা স্বাধীন, এখন আওয়ামী লীগের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে ভাবছি আমরা স্বাধীন, যত দিন যাবে আবার সেই আগের রূপে ফিরবে দেশ। তাই আবারও বলছি এখনই সময় এমন একটা ব্যবস্থা করা যা দূর্নীতিবাজদের রাতের ঘুম হারাম করবে।

বিশেষ অনুরোধঃ সকল শিক্ষার্থীদের কাছে অনুরোধ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করুন। আপনারা এখন ভাবছেন কিন্তু আপনাদের ভাবা উচিৎ আগামীর ভবিষ্যৎ ।

তবে আমার কথায় কারো খারাপ লাগলে বা ভুল মনে হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

16/04/2024

ঈদ-কুরবানির ছুটিতে সাধারণত আমরা অনেকেই গ্রামের বাড়ি বেড়াতে যাই, অনেক আত্মীয়স্বজনও আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসে থাকেন। খালু-ফুপা-চাচা-মামা এবং চাচাতো-মামাতো-ফুফাতো-খালাতো ভাইবোনেরা একত্রিত হন। এ ছাড়াও নানারকম নিকট-দূরের অনেক আত্মীয়স্বজন আমাদের বাসায় বেড়াতে আসেন, আমরাও যাই। এ-সময় ঘুমানোর জায়গা নিয়েও অনেক পরিবারে সংকট দেখা যায়। স্থান সংকুলান না করতে পেরে ছেলেমেয়েদেরকে অনেক সময় আমরা এমন মানুষদের সাথে ঘুমাতে দিয়ে থাকি, যেটা ইসলামি মূল্যবোধের সাথে যায় না। মেহমানদের আপ্যায়ন, নানারকম ব্যস্ততার কারণে ছেলেমেয়েরা কোথায় থাকে, তার খোঁজ রাখতে মায়েরা ভুলে যান। আর এই সুযোগেই অনেক সময় আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবনে ঘটে যায় অনেক ভয়াবহ ঘটনা।

দাম্পত্য ও পারিবারিক কাউন্সেলিংয়ের কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে আমার। আমি প্রফেশনাল কাউন্সেলর নই, নিজের জানাশোনা লোকদের মধ্যে অনেক সময় অনেকে এসেছেন কাউন্সেলিংয়ের জন্য। আমার যতটুকু জ্ঞানবুদ্ধি আল্লাহ দিয়েছেন, সে অনুযায়ী সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি।

আজ তেমনই একটা কাউন্সেলিংয়ের ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

বেশ অনেক বছর আগের কথা। এক ভদ্রলোক আমাকে ইনবক্স করেছেন, তিনি আমার সাথে দেখা করতে চান। পারিবারিক বিষয়ে তার পরামর্শ প্রয়োজন। আমি ব্যক্তিগতভাবে না-চেনার কারণে সাক্ষাতে আগ্রহবোধ করছিলাম না। তিনি জানালেন—বিষয়টি খুবই মানবিক এবং তাকে একজন নির্ভরযোগ্য লোক আমার সাথে এ নিয়ে পরামর্শ করতে বলেছে।

পারিপার্শ্বিক নানা পরিস্থিতির কারণে আমি তারপরও সাক্ষাতের ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখালে তিনি সমস্যার কথা ইনবক্সেই বললেন। সমস্যা হলো তিনি তার স্ত্রীকে ডিভোর্স দিতে চান। মোটামুটি সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন। শেষবারের মতো তিনি একটু বুঝতে চান; আর এজন্যই আমার শরণাপন্ন হয়েছেন। একটি সংসার রক্ষা করার কথা চিন্তা করে অবশেষে তাকে অফিসে আসতে বললাম।

ডিভোর্সের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণ জানতে চাইলে তিনি বললেন, বিছানায় যেতে চাইলেই তার স্ত্রী রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। কিছুতেই তাকে শান্ত করা যায় না। এরপর এক পর্যায়ে অপ্রকৃতস্থ হয়ে পড়েন। তখন কাউকে সহ্য করতে পারেন না—বিশেষ করে পুরুষ কাউকে। মারাত্মকরকম অস্বাভাবিক আচরণ করেন।

আমি তার কাছে জানতে চাইলাম—এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে বলে মনে করেন। তিনি খুব নির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারলেন না। তবে পরিবারের অন্যান্যরা বলে—তার স্ত্রীর নাকি অন্য কারও সাথে রিলেশন আছে, তার কাছ থেকে ডিভোর্স নেওয়ার জন্য এসব অভিনয় করে। আর স্ত্রীর পরিবার থেকে কে নাকি বলেছে তার ‘উপরি ভাব’; অর্থাৎ জিনের আছর আছে। কারণ যা-ই হোক, বেচারা স্বামীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। নতুন বিয়ে করে কোথায় একটু সুখ-আনন্দ করবে, তার তো উপায় নাই-ই, উলটো ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থা। তবে ভদ্রলোক নিজে এর কোনোটায় বিশ্বাস করেন বলে মনে হলো না; বরং স্ত্রীর প্রতি তিনি যথেষ্ট আন্তরিক, তবে পরিস্থিতি এতটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে যে, তিনি একরকম অসহায় বোধ করছেন।

আমি তাকে আরেকটু ধৈর্য ধরতে বললাম। বললাম আপনি ডিভোর্স দিলে তো যেকোনো সময়েই দিতে পারবেন, তবে তার এ-আচরণের কারণ উদ্‌ঘাটন না করে যদি ডিভোর্স দেন, তা বোকামি হবে। কারণ উদ্‌ঘাটন করে যদি দেখেন তা সমাধান সম্ভব, তাহলে সমাধানের চেষ্টা করেন আর যদি সমাধানের অযোগ্য হয়, তাহলে আপনি তখন যা খুশি, সিদ্ধান্ত নিয়েন। পরামর্শ দিলাম স্ত্রীর বাবা-মা, ভাইবোন কারও সাথে একান্তে বসে তাদের থেকে জানতে চেষ্টা করুন এর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ আছে কি না!

কিছুদিন পর ভদ্রলোক আবার এলেন। তিনি জানালেন যে এবার তিনি কারণ উদ্ধার করতে পেরেছেন। কারণটা হলো, তার স্ত্রী কিশোরী বয়সে তাদের বাসায় বেড়াতে আসা এক দূর সম্পর্কের মামা বা চাচা টাইপের এক আত্মীয়ের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। তাদের বাসার লোকজন তেমন ধর্ম-কর্ম করতেন না, পর্দা-পুশিদার ধার ধারতেন না। দশ-এগারো বছর বয়স। বাচ্চা মেয়ে। ‘আরে উনি তো তোমার মামা লাগেন, এখানেই ঘুমাও, কী হবে!’ এভাবে নাকি একই রুমে ঘুমাতে দিয়েছিলেন বাবা মা।

সেই দুর্ঘটনা তার কিশোরী মনে এত গভীর রেখাপাত করেছিল যে, এখন তার জীবনটাই ধ্বংসের মুখে। যখন তার স্বামী তার কাছে আসতে চায়, তখন তার মানসপটে কৈশোরের সেই ভয়ংকর দৃশ্য ভেসে ওঠে। তার স্বামীকে সে তখন চিনতে পারে না, মনে হয় সেই ধর্ষক তার দিকে এগিয়ে আসছে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করে বাঁচতে। সে চিৎকার করে ওঠে। দৌড় দেয়। ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর প্রলাপ বকতে থাকে।

একটু অসচেতনতা, একটু অসতর্কতা, একটি ঘটনা। আজ একজন পুরুষের, একজন নারীর ও দুটি পরিবারের জীবন এমন সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে, যা থেকে কোনো দিন উত্তরণ হবে কিনা, কেউ জানে না।

আহ! বাবা, মা! কেন মহান স্রষ্টা মানুষকে বাবা-মা বানিয়েছেন! কেন মানবপ্রজন্ম রক্ষার জন্য এই নিয়ম দিয়েছেন? তিনি চাইলে তো আকাশ থেকে মানুষ বৃষ্টি করতে পারতেন। তিনি চাইলে মাটি থেকে গাছের মতো মানুষ গজাতে পারতেন। তিনি চাইলে নদী থেকে মাছের মতো জলজ্যান্ত মানুষ উঠে আসত; কিন্তু মানুষ তো মানুষ। সৃষ্টির সেরা জীব। তার জন্ম, প্রতিপালন, আচার-ব্যবহার, আদব-কায়দা, নিরাপত্তা, আবাসন তো সৃষ্টির সেরা জীবের মতই হওয়া চাই।

আপনি কেমন বাবা-মা হলেন, আপনার যে সন্তানের জীবনের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়া ছিল আপনার দায়িত্ব, আপনি তাকে ধর্ষিতা হওয়ার জন্য তুলে দিলেন অন্যের বিছানায়!

আমাদের সমাজে এমন অনেক মানুষও আছেন; যারা নিজেরা নামাজ-কালাম করেন, অনেক মহিলা আছেন; যারা বাইরে যাওয়ার সময় যথারীতি মুখ-ঢাকা বোরকা পরে যান; কিন্তু ঘর-বাড়িতে পর্দার ব্যাপারে মোটেই সচেতন নন। চাচাত, মামাত আর পাড়াত ভাই-বোনদের সাথে এমনভাবে চলেন, যেন তারা পর্দার হুকুমের বাইরে।

মনে রাখবেন, রাস্তার একজন মানুষ হঠাৎ এসে আপনার মেয়ের ওপর, আপনার ছেলের ওপর চড়াও হবে না। যারা আপনার বাড়িতে থাকে কিংবা আসা-যাওয়া করে, তাদের দ্বারাই এ-ধরণের অঘটন ঘটার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি; অথচ বাইরে বেরোবার সময় সাতপাট্টা পরে বের হলেও বাড়ি-ঘরে নারী-পুরুষদের পৃথকীকরণ ও পর্দার ব্যাপারে আমরা সবচে বেশি উদাসীন।

প্রত্যেক মানুষের একটি পাবলিক চেহারা আছে, যেটা সবাই প্রকাশ করে। এখানে কেউই নিজেকে খারাপভাবে প্রকাশ করে না। নিজের চারিত্রিক, নৈতিক যত খারাপ দোষ আছে, তার ওপর অনেকগুলো পর্দা ঝুলিয়ে তা ঢেকে রাখে। নিজে যতটুকু ভালো, তার চেয়ে অনেক বেশি ভালো সাজিয়ে নিজেকে প্রকাশ করে। এ-কারণে আমাদের মনে আমাদের চারপাশের মানুষদের সম্পর্কে একটা সাধারণ নিষ্পাপ ধারণা থাকে। আরে ও আমাদের অমুক, আরে এ তো আমাদের...।

বিশেষত ভাইবোনের ছেলেমেয়েদের ব্যাপারে। তাদের প্রতি যেহেতু একটা সন্তানসুলভ দৃষ্টিভঙ্গি থাকে, তাই তাদেরকে আমরা স্বতন্ত্র একটি ছেলে বা মেয়ে, একজন নারী বা পুরুষ হিসেবে মূল্যায়ন করে উঠতে পারি না। এভাবে আমরা বিষয়টিকে হালকাভাবে নিই। আসলে আমরা মানুষদেরকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে চিনি না। সঠিকভাবে কেবল তিনিই চেনেন; যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। তাই তিনি তাদের জীবন পরিচালনার জন্য যে নিয়ম দিয়েছেন, তা হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। আর আমরা যে এভাবে হালকাভাবে দেখিয়ে নিজেদেরকে ভালো মানুষ সাজাতে চাই, এটাও আসলে ভালো মানুষ সাজানো নয়।

আমরা মনে করি—আহ! আমার বোনের ছেলেকে, ভাইয়ের ছেলেকে যদি ভেতরঘরে ঢুকতে নিষেধ করি, ড্রয়িংরুমে বসিয়ে রাখি, তাহলে তারা মাইন্ড করবে, আমার ভাইবোনেরা মনে কষ্ট পাবে। পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে যদি ঘরে অবাধে প্রবেশ করতে না-দেওয়া হয়, তারা মনে মনে ক্ষিপ্ত হবে।

আমাদের মেয়েদের ক্ষতি হবার চিন্তা করে আমরা তাদেরকে পর্দার মধ্যে না লুকালেও সেই একই লোকেরা যখন আমাদের বাড়িতে আসে, আমরা আমাদের টাকাপয়সা, সোনাদানা ও মূল্যবান জিনিসপত্র কিন্তু ঠিকই লুকিয়ে রাখি। তখন আমরা ঈমান রক্ষার ব্যাপারে সচেতন হয়ে যাই। বলি, মাল যায় যার ঈমান যায় তার। কিন্তু আমাদের ইজ্জত, আমাদের মেয়েদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হলে আমাদের ঈমান যায় না!

যে লোকদের ওপর আপনি সামান্য টাকাপয়সার ব্যাপারে আস্থা রাখলেন না, আপনার অমূল্য সম্পদ কন্যাটির ব্যাপারে তাদেরকে কীভাবে ফেরেশতা ভাবলেন? অথচ অর্থের প্রতি লোভের চেয়ে নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণের মাত্রা অনেক বেশিই থাকে।

পর্দার ব্যাপারে শক্ত অবস্থান নিলে যে বহিরাগতদের সাথে পরিবারের লোকদের অবাধ মেলামেশা বাধাগ্রস্ত হয়, তারা অনেক সময় এমন কথা নিয়ে উপস্থিত হন যে, এর দ্বারা তাদেরকে অপমান করা হয়েছে। তারা বোঝাতে চান যে, তাদেরকে এর দ্বারা চরিত্রহীন সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্রশ্ন হলো, তাহলে একই ব্যক্তি যখন তার টাকাপয়সা সোনাদানা সুরক্ষিত স্থানে লুকিয়ে রাখেন, তখন কি আপনারা আপনাদেরকে চোর সাব্যস্ত করা হয়েছে বলে অপমান বোধ করেন? করেন না; অথচ ওটা করলে এটা মনে করাও যৌক্তিক ছিল!

আসলে সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে যেসব সাবধানতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তার উদ্দেশ্য প্রত্যেক ব্যক্তিকে অপরাধী মনে করা নয়। আপনি বাইরে গেলে আপনার ঘরে তালা দিয়ে যান—এর অর্থ আপনার প্রতিবেশীরা সব চোর তা নয়। আপনার বাড়িতে ঘরের টাকাপয়সা, সোনাদানা বিশেষভাবে আলমারি সিন্দুকে লুকিয়ে রাখেন—এর অর্থ এই নয় যে, আপনার বাড়িতে আগত মেহমানরা সবাই চোর!

যে-কারণে তারপরও আমরা এসব সতর্ক থাকি তা হলো, আমরা তো সবাইকে নিশ্চিতভাবে চিনি না, কারও একটু হাতটানের স্বভাব থাকতে পারে। কারও চুরির স্বভাব থাকতেও পারে। আর এ-ধরনের লোকেরা যদি অরক্ষিত কিছু পায়, তা নিয়ে যেতেও পারে। একইভাবে পর্দা-ব্যবস্থা গ্রহণ করা দ্বারা সবাইকে চরিত্রহীন সাব্যস্ত করা হয় না। তবে অবাধ মেলামেশা হলে নারী-পুরুষের কারও সাথে কারও অনৈতিক কিছু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে ওঠে।

তাই আপনার প্রাণপ্রিয় কন্যাটির ব্যাপারে, ছেলেটির ব্যাপারে আরও একটু সচেতন হোন। আপনি তার অভিভাবক। তার নিরাপত্তার দায়িত্ব আপনার। আপনার সামান্য অবহেলা তার গোটা জীবনটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

আপনি কি তা চান?

15/04/2024

পিতৃহারা ৭-৮ বছর বয়সের ছেলেটি স্কুল হতে বাড়ীতে এসে মাকে বলল,
"মা, প্রিন্সিপাল আমাকে আদর করে কিছু ক্যান্ডি দিয়েছে। আর, তোমার জন্য এই চিঠিটা।"
মা চিঠিখানা খুলে পড়ে কেঁদে ফেললেন।
মায়ের চোখে জল দেখে ছেলেটি বলল, "মা,
কাঁদছো কেনো?"
চোখ মুছতে মুছতে মা বললেন, "বাবা,
এটা আনন্দের কান্না!"
বলেই ছেলেটিকে চুমু দিয়ে বললেন, "আমার
জিনিয়াস বাবা,তোকে চিঠিটা পড়ে শোনাই।
মা আনন্দের সাথে চিৎকার করে স্যার‌ের ল‌েখার ভাষা বদল‌ে নিজের মত কর‌ে পড়তে লাগলেন, "ম্যাম,
আপনার ছেলেটি সাংঘাতিক জিনিয়াস।
আমাদের ছোট্ট শহরে ওকে শিক্ষা দেওয়ার মত
শিক্ষক আমাদের নেই।
তাই, যদি পারেন আপনার ছেলেকে বড় শহরে
কোনো স্কুলে ভর্তি করে দিলে ভালো হয়। এই ছেলেটি একদিন বিশ্বে প্রচুর সুনাম অর্জন করবে।"
পত্রখানা পড়েই মা, ছেলেটিকে চুমু দিয়ে বললেন, "এই জিনিয়াস ছেলেটিকে আমি নিজেই পড়াব।"
মা নিজেই শিক্ষা দিয়ে ছেলেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের তথা সমগ্ৰ পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক বানালেন
"টমাস আলভা এডিসন"
বৈদ্যুতিক বাল্ব, শব্দ রেকর্ডিং, মুভি ক্যামেরা বা চলমান ছবি ইত্যাদি সহ হাজারো আবিষ্কার তাঁর।
মায়ের মৃত্যর পর টমাস এডিসন একদিন সেই ছোট্ট গ্রামে মায়ের সেই ছোট্ট বাড়ীতে গিয়ে ঘর পরিষ্কারের সময় স্কুলের প্রিন্সিপ্যালের দ‌েয়া চিঠিটা পেল। চিঠিখানা পড়ে টমাস কেঁদে দিল।
তাতে লেখা ছিল,
"ম্যাডাম,
আপনার ছেলে টমাস এডিসন একজন মেন্টালি রিটার্ডেড।
সে এতটাই নির্বোধ যে, তাকে শিক্ষা দেওয়ার মত ক্ষমতা আমাদের নেই।
কার'ও আছে বলেও আমাদের জানা নেই। আপনার ছেলের কারণে আমাদের স্কুলটির সুনাম ক্ষুন্ন হবে।
তাই কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আপনার ছেলেকে স্কুল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হল।"
শিক্ষনীয়ঃ
সন্তানের সাথে সর্বদাই পজিটিভ আচরন করবেন। বাসস্থান হল সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক।

02/04/2024

তোর আপন জনে ছাড়বে তোরে,
তা ব'লে ভাবনা করা চলবে না ।
ও তোর আশালতা পড়বে ছিঁড়ে,
হইতো রে ফল ফলবে না ।।
আসবে পথে আঁধার নেমে,
তাই ব'লেই কি রইবি থেমে -
ও তুই বারে বারে জ্বালবি বাতি,
হয়তো বাতি জ্বলবে না
তা ব'লে ভাবনা করা চলবে না
শুনে তোমার মুখের বাণী
আসবে ঘিরে বনের প্রাণী
হয়তো তোমার আপন ঘরে
পাষাণ হিয়া গলবে না ।
বদ্ধ দুয়ার দেখলি বলে
অমনি কি তুই আসবি চলে
তোর বারে বারে ঠেলতে হবে,
হয়তো দুয়ার টলবে না
তা ব'লে ভাবনা করা চলবে না ।

24/03/2024

✍️ডিভোর্সের আগে শ্বশুর বাড়ি জেলখানা মনে হতো, ডিভোর্সের পরে এখন নিজের বাড়িই দোজখের মত লাগছে। (নাম না প্রকাশে এক ডিভোর্সি নারীর কথা।)
পরিস্থিতি যেমনই হোক, ডিভোর্স কখনো সুখ দেয় না!! কমপক্ষে কোন মেয়ে সুখী হতে পারে না।
এক ডিভোর্সি নারীর বাস্তব জীবনী😭
জানিনা, আমি কেন লিখছি। হয়তো এজন্য কারণ আমি চাই আর কেউ আমার মতো ভুল না করুক। হয়তো এজন্য কারণ আমি চাই ঠুনকো কারণে সংসারগুলো ভেঙে না পড়ুক।
আমি ঊনিশ বছর বয়সী একজন নারী। আমাদের বিয়ে হয়েছিল আমার পছন্দে। সংসারও টিকে ছিল দেড় বছর। আমাদের একটা ছেলেও আছে, ওর বয়স এক বছর।
আমার স্বামীর স্বভাব-চরিত্র সবই বেশ ভালোই ছিল। শুধু একটু জেদি । অবশ্য তাও সবসময় না, মাঝে মধ্যে। মানুষ ভাবে ওর বদ জেদের জন্যই বুঝি আজ এই অবস্থা, কিন্তু আমি জানি, আমাদের সমস্যার শুরুটা ওর দিক থেকে হয় নি।
সব সংসারেই তো টুকটাক কিছু সমস্যা থাকে। ওরকম আমাদের মধ্যেও মাঝে মাঝে ঝগড়া-ঝাটি হতো। কিন্তু ঝগড়া বাধলেই আমি তল্পিতল্পা গুছিয়ে বাপের বাড়ির দিকে হাঁটা দিতাম। বাপের বাড়িতে বোনরাও আসতো, আর ভাইরা তো ছিলই। ওদের কাছে কেঁদেকেঁটে সব বলতাম। তখন সবাই ওকে ফোন করে বেশি কথা শোনাত। আমার ছোট বোন তো রীতিমত অপমান করত!
আমার কাছেও মনে হতো, ঠিকই আছে। কত বড় সাহস, আমার সাথে লাগতে আসে। আমাকে নিজের মতো চালাতে চায়। আমার মধ্যে কেমন একটা জেদ কাজ করতো। ওর কাছে ছোট হব, ওর কাছে নিজের ভুল স্বীকার করব, মাফ চাইব, এটা ভাবতেই পারতাম না। উল্টো বড় গলা করে বলতাম, “ডিভোর্স দাও! তোমার মতো লোকের সাথে কে সংসার করে?”
তবে, ডিভোর্স আমি কখনোই মন থেকে চাইনি। ওটা ছিল মুখের কথা। ওর সামনে ছোট হওয়ার চাইতে ডিভোর্স চাওয়াই আমার কাছে সঠিক মনে হতো।
একদিনের কথা এখনও মনে পড়ে। সেদিন ছোট একটা ব্যাপার নিয়ে তর্ক করতে করতে দুজনেই খুব উত্তেজিত হয়ে পড়েছি। রাগে আমার শরীর কাঁপছে। যা মুখে আসছে তাই বলছি। তুই-তোকারি, গালিগালাজ, অপমান কিচ্ছু বাদ যায়নি। এক পর্যায়ে সহ্যের বাঁধ ভেঙে ও আমার গায়ে হাত তুললো!
এর আগে কিংবা পরে কখনোই ও আমার গায়ে হাত তুলেনি। কিন্তু ঐ একটা থাপ্পড়, ওটাই যথেষ্ট ছিল।
আমি বাপের বাড়ি চলে গেলাম। আর হ্যাঁ বরাবরের মতো এবারও আমি নিজের দোষের দিকটা না বলে খালি ওর দিকটাই বলে গেলাম। মানুষের দোষ দিয়ে আর কী লাভ! সবাইকে যা বলেছি, সেটার উপর ভিত্তি করেই তারা বিচার করেছে।
পরিবারের সবাই বললো, এমন ছেলের সাথে সংসার করার কোনো দরকার নাই। মামলা ঠুকে দাও।
আমি সবার পরামর্শে মামলা করলাম।
ওর নামে নারী নির্যাতনের কেইস করা হল। খুব দ্রুতই ওকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। ওর পরিবার থেকে মুরুব্বিরা এসে বার বার অনুরোধ করল, আমি যেন এই কেইস তুলে নিই।
ভেতরে ভেতরে আমিও চিন্তা করতাম, আচ্ছা, আমার স্বামী কি আসলেই জালেম? ও কি কোনদিন নিজে থেকে আমার গায়ে হাত তুলেছে? আমি যদি ওকে এত খারাপ কথা না শোনাতাম, তাহলে কি ও আমার গায়ে সেদিন হাত তুলতো?
আমার বাবা মা আমাকে বুঝিয়েছিল, আমি যদি এতকিছুর পর ফিরে যাই, তাহলে ও ভাববে, আমি বুঝি অসহায়। আমাকে আরো পেয়ে বসবে। আমার উপর ইচ্ছামত ছড়ি ঘুরাবে। একবার গায়ে হাত তুলেছে মানে বার বার একই কাজ করবে। কাজেই নিজে থেকে ফিরে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না।
কিন্তু আমার মনের ভেতর কে যেন চিৎকার করে বলতো, ও তো এমন লোক না। তবে ও যেদিন আমার গায়ে হাত তুলেছিল, সেদিনই হাত জোড় করে আমার কাছে মাফ চেয়েছিল। এসব ভেবে ভেবে আমি মামলা তুলে নিলাম। তবে ওর কাছে ফেরত গেলাম না।
কিছুদিন পর দুই পরিবার থেকে বিচার-সালিশ হল। সবার কাছে ও দোষী প্রমাণিত হল। সবাই ওকে নানা কথা বোঝাল, উপদেশ দিল। তারপর আবার সংসার শুরু করলাম।
এর পরের কয়েক মাস ভালোই চলছিল, কিন্তু হুট করে আবার কী একটা নিয়ে আমাদের ঝগড়া বেধে গেল। ব্যস, কাপড় চোপড় গুছিয়ে আবার আমি বাপের বাড়ি গিয়ে উঠলাম। এর মধ্যে শুনলাম ও নাকি খুব অসুস্থ ! আমি বাসায় ফিরতে চাইলে আমার পরিবার বললো, এভাবে একটা ঝগড়ার পর একা একা ফিরলে সেটা ভালো দেখায় না। আর আমার বোনদের কথা ছিল, ওসব অসুস্থ-টসুস্থ কিছু না, সব বাহানা!
আমরা চাচ্ছিলাম ঐ পক্ষ থেকে কিছু আত্মীয়-স্বজন এসে ওর ভুল স্বীকার করে আমাকে হাতেপায়ে ধরে নিয়ে যাক। কিন্তু এবার কেউই আসলো না।
এরও কিছুদিন পর ও আমাকে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দিল। ডিভোর্স লেটার দেখে আমাদের পরিবারের সবাই খুব খেপে গেল। কতবড় সাহস, মেয়েকে এত কষ্টে রেখেছে, তার উপর ডিভোর্স লেটার পাঠায়।
সবার কথায় আমার কাছেও মনে হলো, ঠিকই তো, কত বড় সাহস! আমাকে ডিভোর্স দিতে চায়? ওর সব ভুলগুলো চোখের উপর ভাসতে লাগলো। মা বাবা মনে করিয়ে দিলো, ও হলো সেই ছেলে যে কিনা আমার গায়েও হাত তুলেছে।
প্রতিশোধের আগুনে জ্বলতে জ্বলতে আমিও ঠিক করলাম, এবার ডিভোর্সই দেব। কে চায় এমন ফালতু লোকের সংসার করতে? কোর্টে গিয়েও ওকে হেনস্থা করার চেষ্টা করলাম। আমার মাসিক খরচ বাড়িয়ে একটা আকাশ ছোঁয়া অংক দাবি করলাম! আমি চাচ্ছিলাম ওর যেন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায়। যেন নিজে থেকে আমার কাছে এসে আবার সংসার করতে চায়।
আসলে ডিভোর্স হোক আমি কখনোই চাই নি৷ কিন্তু জিদ আমাকে খেয়ে নিচ্ছিল। আগ বাড়িয়ে ওকে ডিভোর্স তুলে নিতে বলা আমার পক্ষে অসম্ভব! ওর কাছে ছোট হওয়া আমি মানতেই পারি নি।
কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার, ও আমার আকাশ ছোঁয়া সমস্ত দাবি মেনে নিলো। আমাদের ছেলেকে আমি পেয়ে গেলাম। ভরণপোষণ, মাসিক খরচ, ওর সম্পত্তি সব! বিনিময়ে ও পেলো শুধু ডিভোর্স।
আমাদের ডিভোর্স হয়েছে আজ সাড়ে তিন বছর। ও আবারও বিয়ে করেছে। সুখেই আছে বোঝা যায়। আসলে ওর মতো নির্ঝঞ্ঝাট স্বামীকে নিয়ে মেয়েরা হয়তো সুখেই থাকবে।
এখন আমার নিজের কথা ভেবে আফসোস হয়। মানুষের মুখের কথা কখনো কখনো ছুরির চেয়েও ধারালো হতে পারে। ও আমাকে একবার থাপ্পড় মেরেছিল ঠিকই, কিন্তু আমি কথার তীরে ওকে ছিন্ন-বিছিন্ন করে ফেলতাম। শারীরিক নির্যাতন করিনি সত্যি, কিন্তু মানসিকভাবে কষ্ট দিতাম।
এসব কথা আমার মা বাবাকে কখনোই বলা হয় নি। নিজের দোষের কথা মানুষ কতটাই বা বলে!
মাঝে মাঝে ভাবি, ইশ, আমার পরিবার যদি একটু নিজে থেকে বুঝে আমাকে সংসার করার উপদেশ দিতো। যখন আমি ওর কাছে ফিরে যেতে চাইতাম, তখন ওর খারাপটা না বলে যদি একটু ভালো দিকগুলোর কথা মনে করাতো!
আমি যদি নিজের জিদ নিয়ে পড়ে না থেকে, একটু ওর কাছে নত হতাম! তাহলে হয়তো আজ আমাকে এই দিন দেখা লাগতো না। ডিভোর্সের আগে শ্বশুর বাড়ি জেলখানা মনে হতো, ডিভোর্সের পরে এখন নিজের বাড়িই দোজখের মত লাগছে।
আজ আমার ভাইবোন বন্ধুবান্ধব সবার নিজেদের সংসার আছ কিন্তু ছোট্ট ভুলে সব শেষ হয়ে গেছে। তাই দোয়া করি আর কারো সাথে যেন এমন না হয়।🙏

©

24/03/2024

ইফতারের সময় টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখি কোথাও বেলের শরবত নেই। আমি আমার স্ত্রী শ্রাবণীকে ডেকে বললাম,
-- 'শুধু লেবুর শরবত আছে। বেলের শরবত কোথায়?'

শ্রাবণী মাথা নিচু করে বললো,
-- 'বেলের শরবতটা বানানোর সময় পাই নি!'

কথাটা শুনার পর মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। শ্রাবণীকে ধমক দিয়ে বললাম,
-- 'তুমি কি রাষ্ট্র পরিচালনা করো; যে শরবত বানানোর সময় পাও নি? সারাদিন রোজা রাখার পর একটু যে বেলের শরবত খাবো সেটাও আমার কপালে নেই।'

শ্রাবণী আর কিছু না বলে চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো। এই মেয়েকে নিয়েই এক সমস্যা। ও কোন কাজ পরিপূর্ণ ভাবে করতে পারে না

দুপুরের দিকে শ্রাবণীকে বললাম,
-- 'ফ্রিজে কি মুরগির গোশত আছে?'

শ্রাবনী বললো,
-- 'হ্যাঁ আছে।'

আমি বললাম,
-- 'এক কাজ করো তো; আজ ইফতারিতে মুরগির গোশত দিয়ে চপ বানিও!'

আমার কথা শুনে শ্রাবণী হা করে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো।

আমি কিছুটা ধমকের স্বরে বললাম,
-- 'এইভাবে বোকার মত হা করে তাকিয়ে আছো কেন?'

শ্রাবণী আমতা আমতা করে বললো,
-- 'মুরগির গোশত দিয়ে কিভাবে চপ বানায়?'

এমনিতেই রোজা রেখেছি আর এখন মধ্য দুপুর। গরমে মেজাজ এমনিতেই খারাপ তার উপর শ্রাবণীর এই কথা শুনে মেজাজটা আরো খারাপ হয়ে গেলো।

শ্রাবণীর দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বললাম,
-- 'তোমার মা কি তোমায় রান্না বান্না কিছু শিখিয়ে বড় করে নি? যেটা বানাতে বলি সেটাই দেখি পারো না। আমি জীবনে সবচেয়ে বড় ভুল করেছি তোমাকে বিয়ে করে!'

শ্রাবণী কিছু না বলে চুপচাপ আমার সামনে দাঁড়িয়ে রইলো। আমি অন্য রুমে চলে গেলাম। এইমেয়েটাকে দেখলেই আমার আজকাল রাগ লাগে। দিন দিন আমার ওকে অসহ্য মনে হচ্ছে...


সেহরির সময় ভাতে হাত রাখতেই বুঝালাম ভাতগুলো ঠান্ডা। আমি কিছু না বলে শুধু শ্রাবণীর দিকে তাকালাম। আমার রাগী চেহারা দেখে শ্রাবণী ভয়ে মাথা নিচু করে বললো,

-- 'আজ ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে গেছে। এখন গরম ভাত রান্না করলে আযান দিয়ে দিবে। আজ একটু কষ্ট করে ঠান্ডা ভাত খেয়ে নাও। কাল থেকে আর এমন হবে না।'

শ্রাবণীর কথা শুনে আমি আর ওকে কিছু বললাম না। চুপচাপ ভাতের প্লেটটা ফেলে দিয়ে টেবিল থেকে উঠে পড়লাম...!!

আমার বন্ধু খালিদের বাসায় আজ ইফতারের দাওয়াত আছে। আমাদের বাসা কাছাকাছি হওয়ার কারণে আমি ওর বাসায় একটু তাড়াতাড়িই চলে গেলাম। কলিংবেল বাজাতেই খালিদ দরজা খুললো। খালিতে অবস্থা দেখে খুব অবাক হলাম। ওর সারা মুখে সাদা পাউডানের মত কি যেন লেগে আছে।

আমি খালিদকে বললাম,
-- 'তোর এই অবস্থা কেন?'

খালিদ মুচকি হেসে বললো,
-- 'অর্পিতাকে (খালিদের স্ত্রী) একটু ইফতারি বানানোর কাছে হেল্প করছিলাম।'

আমি তখন বললাম,
-- 'তুই রোজা রেখে রান্না বান্না করছিস?'

খালিদ আবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

-- 'তুই গাধা না কি? আমি তো শুধু একা রোজা রাখি নি; অর্পিতাও তো রেখেছে। অফিস যেহেতু ছুটি সেহেতু আমি রোজা রেখে সারাক্ষণ বাসায় শুয়ে বসে দিন পার করি কিন্তু অর্পিতার কোন ছুটি নেই। ও রোজা রেখে ঘর পরিষ্কার করছে, কাপড় ধুঁয়ে দিচ্ছে, রান্না বান্না করছে আবার ইফতারিও বানাচ্ছে। বেগুনী, আলুর চপ, বুট-ভরা খেতে যতটা মজা এইসব বানানো ঠিক ততটাই কঠিন। ও একা হাতে সব কিছুই সামলায় আমি মাঝে মধ্যে একটু হেল্প করি এই যা।'

ইফতারের সময় আমি আড়চোখে খালিদ আর অর্পিতাকে দেখছিলাম। অর্পিতার প্রতি খালিদের ভালোবাসা দেখে নিজেকে তখন অমানুষ মনে হচ্ছিলো।

হঠাৎ অর্পিতা খালিদকে বললো,
-- 'তোমার শরবতে তো ইসুপগুলের ভুসি দিতে ভুলে গেছি!'

খালিদ তখন মুচকি হেসে বললো,
-- 'আরে দূর একদিন ইসুপগুলের ভুসি না খেলে কিছু হবে না!'

নিজেকে খালিদের জায়গায় দাঁড় করালাম। আজ যদি শ্রাবণী এমন ভুলটা করতো আমি হয়তো ওকে প্রচন্ড রকম গালি গালাজ করতাম। অথচ একদিন বেলের শরবত না খেলে কিছুই হতো না। আমি শুধু আমার দিকটাই ভেবে দেখেছি অথচ আমার পাশে একজন রোজাদার মানুষ কত কাজ করছে সেটা আমার কখনো চোখেই পরে নি।

সেহরির সময় শ্রাবণীর কপালে হাত রেখে ওকে ডাক দিতেই ও তাড়াহুড়ো করে ঘুম থেকে উঠলো।

আমাকে দেখে কিছুটা ভয়ে ভয়ে বললো,
-- 'আমি আজকেও দেরি করে ফেললাম তাই না? কিছু মনে করো না প্লিজ। আমি এখনি রান্না করছি!'

আমি মুচকি হেসে বললাম,
-- 'আমি রান্না করে ফেলেছি। তবে মাছের তরকারীটা মনে হয় খুব বেশি ভালো হয় নি। আজ একটু কষ্ট করে খেয়ে নাও। আর হে, কাল আমায় মাছের তরকারী রান্না করা শিখাবে বিনিময়ে মুরগীর গোশত দিয়ে কিভাবে চপ বানাতে হয় সেটা তোমায় শিখাবো!'

আমার কথা শুনে শ্রাবণী আমায় কিছু বলতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি ওকে থামিয়ে দিয়ে ওর হাতটা ধরে বললাম,

- 'আমার এতদিনের ব্যবহারের জন্য আমায় প্লিজ মাফ করে দিও। কথা দিচ্ছি পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো স্বামী হয়ে তোমাকে দেখাবো। তখন তোমার চোখে আমার প্রতি ভয় না; শুধু ভালোবাসা দেখা যাবে!'
বিঃদ্রঃ- সকল মুসলমান ভাইদের প্রতি আমার একটা অনুরোধ রইলো, আপনি যেমন রোজা রাখেন তেমনি আপনার মা বোন স্ত্রী ওরাও রোজা রাখে। তাই ইফতারে দুই একটা আইটেম কম হলে রাগারাগি না করে বরং ইফতার বানানোর কাজে উনাদের যতটা সম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করেন। বেশি কিছু না পারলেও অন্তত শরবত বানানোর দায়িত্বটা নিজে নেন। সবাইকে পবিত্র মাহে রমজানের শুভেচ্ছা।

21/03/2024

- মা বললো " তোর স্বামীর জন্য রোজরোজ ভাত রান্না করি নাকি? প্রতিদিন রাতে এসে বসে থাকে, লজ্জা সরম কিছু নাই নাকি?

- সে কি ভাত চাইছে মা?

- না চাইলে ও তো আমরা বুঝি, তাছাড়া ড্রইং রুমে বসে থাকলে ডাইনিং রুমে বসে কীভাবে খাবো আমরা?

- আমার সঙ্গে যেভাবে কড়া কথা বলো সেভাবে ওর সঙ্গে বলতে পারো না মা? আমি তো পছন্দ করে বিয়ে করিনি, তোমাদের পছন্দের ছেলে।

- আমার হয়েছে যত জ্বালা, তোর বাবা নিজের রুমে বসে বকবক করে। সে নিজেও কিছু বলতে পারে, কিন্তু তা না করে সবকিছু আমার উপর।

- সত্যি করে বলো তো মা, তুমি আর বাবা আমাকে কি আর ওর সঙ্গে সংসার করতে দেবে না?

- পাগল নাকি তুই? তোর বাবা ডিভোর্সের সকল ব্যবস্থা করতে বলেছে উকিলকে।

- তাহলে কি আমি ওর সামনে গিয়ে আজকে সরাসরি বলে দেবো যে আর কোনদিন আমাদের বাড়ি যেন না আসে। তার ডিভোর্স পেপার সে বাসায় পেয়ে যাবে, বলবো মা?

- পারবি শাকিলা? সেটাই বলে দে, প্রতিদিন আর সহ্য করতে পারি না।

- ঠিক আছে যাচ্ছি আমি।

ড্রইং রুমে বসে বসে সকাল বেলার পুরনো পত্রিকা খুলে পড়ছে সাজ্জাদ, আমার স্বামী। আমি তার সামনে যেতেই সে দাঁড়িয়ে গেল, বাসা থেকে চলে আসার পড় এটাই আমাদের প্রথম দেখা। সে ঠিক প্রতিদিন আসে কিন্তু আমি কোনদিনই সামনে আসি না।

সেই চেহারা নেই, চোখ গুলো কেমন কোটরে ঢুকে গেছে, সম্পুর্ণ পোশাক যেন অন্যরকম। এভাবে এর আগে কখনো দেখিনি ওকে,

- আমি বসতে বসতে বললাম, কেমন আছো?

- ভালো।

- চা-নাস্তা করা হয়েছে?

- শুধু চা দিয়েছিল।

- তো বাসায় যাবে কখন? প্রতিদিন এতো রাত করে বসে থাকো, বিরক্ত লাগে না?

- না, আর তোমার জন্য তো অপেক্ষা করি। তুমি সামনে এলে তো বসে থাকতে হতো না, আমার সঙ্গে তুমি কথা বলো না কেন?

- কথা বলতে ইচ্ছে করে না তাই বলি না।

- তোমার নাম্বার বন্ধ করে রাখছো।

- হ্যাঁ, তাহলে বুঝতেই পারছ তোমার সঙ্গে কথা বলার কোন ইচ্ছে নেই বলে তো বন্ধ।

- আমার ভুল হয়ে গেছে।

- কিসের ভুল সাজ্জাদ? আজব।

- তাহলে আমাকে রেখে কেন এখানে আছো, তুমি কি আমার সঙ্গে থাকবে না শাকিলা?

- না সাজ্জাদ, তুমি তো জানো সরাসরি কথা বলা আমার বেশ পছন্দের। আজও তোমার সামনে আসার কোন ইচ্ছে ছিল না, কিন্তু তুমি প্রতিদিন রাতে এসে বসে থাকো, বিশ্রী লাগে।

- আমার কি করা উচিৎ?

- তুমি কি জানো হয়তো মা-বাবা সবাই তোমার প্রতি খুব বিরক্ত?

- হ্যাঁ জানি, কিন্তু তুমি তো আমাকে পছন্দ করো ভালোবাসো, তাই আসি।

- যদি বলি আমিও তোমার প্রতি খুব বিরক্ত তবে কি আর আসবে না?

- মনে হয় আসবো না, কিন্তু আমি জানি তোমার কোনদিনই বিরক্ত আসবে না।

- তোমার জানায় ভুল আছে, আমি তোমাকে এখন খুবই বিরক্ত মনে করি। নাহলে অনেক আগেই তোমার সঙ্গে চলে যেতাম, নাহলে একা একা বাসায় যেতাম।

- চুপচাপ।

- একটা কথা বলবো?

- হুম বলো।

- তুমি আর এসো না, বাবার এক বন্ধুর সঙ্গে বাবা আমাদের বিষয় কথা বলেছেন। তিনি মনে হয় শীঘ্রই ডিভোর্সের সকল কাগজপত্র নিয়ে আসবে।

- ওহ্, তোমার ইচ্ছেতে?

- হ্যাঁ।

- আমি কি আমার অপরাধ জানতে পারি?

- তোমার কোন অপরাধ নেই, তুমি অতিরিক্ত ভালো মানুষ। আর সেটাই তোমার সমস্যা, তবে বাবার সমস্যা হচ্ছে তোমার কারণে নাকি বাবার অফিসে একটা সমস্যা হয়েছে।

- হ্যাঁ কিছুটা, আমাদের একটা কাজ তোমার বাবার অফিসের করার কথা ছিল। তাদের কাজের মান ভালো না তাই আমি কাজটা অন্য কোম্পানি কে দিতে বলেছি আমাদের স্যার কে।

- তোমার কি উচিৎ ছিল না বাবার কথা শোনা?

- কাজের সময় কাজ, বাসায় এলে শশুর জামাই সম্পর্ক, তাই আগে কাজ।

- এটাই সমস্যা, যাইহোক আমি তোমার কাজের প্রতি শ্রদ্ধা করি।

- তাহলে আমার সঙ্গে চলো।

- সেটা সম্ভব না, আগেই বলছি। বাবার যেমন সমস্যা তার অফিসে, আমারও তেমন কিছু সমস্যা আছে বাসাতে। তবে বলতে চাই না।

- আচ্ছা ঠিক আছে।

- তুমি এখন চলে যাও, আর কোনদিন আসার দরকার নেই।

- ভাত খেয়ে যাই?

- না, বাসায় গিয়ে খেও, তোমার জন্য এখানে অতিরিক্ত রান্না করা হয় না।

- তোমার জন্য তো হয়? সেখান থেকে নাহয় একটু খেতে দিলে।

- সাজ্জাদ...? অদ্ভুত কথাবার্তা সব।

- আচ্ছা সরি, এমনিতেই ফাজলামো করেছি। তো ভালো থেকো সবসময়।

সাজ্জাদ উঠে দাঁড়িয়ে গেল, দরজা খুলে একাই বের হয়ে গেল। আমি দরজা বন্ধ করার জন্য এগিয়ে গেলাম, পিছন থেকে ডাক দিয়ে বললাম,

- বাসায় রান্না করো নাকি হোটেলে খাও?

- সাজ্জাদ ঘুরে তাকাল, বলল, কোনটাই না। হোটেলের খাবার সহ্য হয় না, আর বাসাতে কেন যেন রান্না করতে ইচ্ছে করে না। সারাদিন শুকনো খাবার খেয়ে চলে যায়, আর রাতে তো তোমাদের বাসায় খেতাম। আজ থেকে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে।

সাজ্জাদ সিঁড়ি বেয়ে নিচে চলে গেল, আমি দরজা বন্ধ করে নিজের রুমে চলে গেলাম। ঘন্টা খানিক পড়ে বাবার চিৎকারে রুম থেকে বের হলাম, বাবা বলল,

- ইচ্ছে করেই চাবি ফেলে গেছে, চাবি নেবার বাহানা ধরে আবার আসবে।

- বললাম, কি হয়েছে বাবা?

- সাজ্জাদ বাসার চাবি ফেলে গেছে মনে হয়।

- তাহলে চিৎকার করো কেন? এলে আবার দিয়ে দেবে তাতেই তো হয়ে যায়।

- কোন দরকার নেই, চাবি নিচে গিয়ে দারোয়ান এর কাছে রেখে আসবো। সে এলে দারোয়ান তাকে চাবি দিয়ে দেবে।

আমি চুপচাপ রুমে চলে গেলাম, বাবা চাবি নিয়ে চলে গেছে নিচে। অন্ধকার রুমের বেলকনিতে দাঁড়িয়ে জীবনের হিসাব মেলাতে লাগলাম।

রাত দুইটা।
দরজা খুলে নিচে গেলাম, দারোয়ান কাকা বসে বসে ঝিমাচ্ছে। আমি তাকে ডাক দিতেই তিনি ধড়ফড়িয়ে উঠলেন।

- কে কে কে?

- কাকা আমি শাকিলা।

- ওহ্ তুমি?

- কাকা আমার হাসবেন্ড এসেছিল?

- না আসেনি এখনো।

- যদি আসে তাহলে তাকে চাবি দেবার সময় বলবেন আগামীকাল সকালে আমি বাসায় যাবো। সে যেন সকাল বেলা আমাকে নিতে আসে, বাসায় যেতে হবে না, রাস্তায় দাঁড়ালে হবে।

- আচ্ছা।

|
|

সকাল বেলা মায়ের ডাকে ঘুম থেকে উঠে শুনি বাড়ির দারোয়ান কাকা আমাকে ডাকছে। আমি মনে মনে ভাবলাম যে সাজ্জাদ হয়তো চলে এসেছে আমাকে নিতে। নিশ্চয়ই সে নিচে দাঁড়িয়ে আছে আমার জন্য, কাপড়চোপড় টুকটাক রাতেই গুছিয়ে রেখেছি। কোনরকমে হাতমুখ ধুয়ে ব্যাগ নিয়ে বের হলাম, মা অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

পিছন থেকে বারবার ডাকছে আমি শুধু বললাম, নিজের সিদ্ধান্তটা নিজে একটু নেবো।

নিচে এসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে, সাজ্জাদ আসেনি। ভোরবেলা এসে একটা চিঠি রেখে গেছে, দারোয়ান কাকা সেটাই দেবার জন্য আমার খোঁজ করছেন।

তেমন কিছু লেখা নেই, শুধু লেখা আছেঃ-

" অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল ব্যস্ত শহর ছেড়ে কোন এক নদীর চরে কিংবা জঙ্গলে ঘুরে বেড়াবো। আজ সেই ইচ্ছে পুরণ করার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম, বাসার সবকিছু তোমার নিজের হাতে গড়া। সেগুলো তুমি গ্রহণ করে নিও, একটাই আফসোস ' তুমি কেন আমার সঙ্গে এমনটা করলে সেই উত্তরটা জানতে পারি নাই। "

তোমার রব যদি তোমার এই নিশ্বাসটুকু ছিনিয়ে নেয়, ২৪ ঘন্টার ভিতরে তোমার শরীরটা ঘৃণিত হয়ে যাবে। কেউ সোজা মুখে তাকাবেনা।  সবাই...
13/02/2024

তোমার রব যদি তোমার এই নিশ্বাসটুকু ছিনিয়ে নেয়, ২৪ ঘন্টার ভিতরে তোমার শরীরটা ঘৃণিত হয়ে যাবে। কেউ সোজা মুখে তাকাবেনা। সবাই তোমার দিকে নাকে কাপড় দিয়ে তাকাবে।

31/01/2024

বাসে মেয়েটা আমার গা ঘেঁষে বসলো।চমকে উঠলাম।নারীর প্রথম স্প"র্শে শরীরে শিহরণ বয়ে গেলো।

মেয়েটা গা ঘেঁষে বসেছে কারণ বাসের সিটের সাইজ যথেষ্ট ছোট।এক হাতের মতো যায়গায় দুজনকে বসতে হয়।মেয়েটা ভিষণ ইতস্তত করতে লাগলো।আমি যতটা সম্ভব জানালার সাথে চেপে বসার চেষ্টা করলাম।লাভ হলো না।

মেয়েটার অস্বস্তি টের পেয়ে আর বসে থাকতে পারলাম না।বললাম " একটু উঠবেন? আমি সামনে দাঁড়াবো "

মেয়েটা উঠলো।আমি সিট ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম।মেয়েটা সন্দেহ নিয়ে বারবার তাকাচ্ছে।এক পর্যায়ে বললো

" আপনি দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন কেন? "

ইতস্তত করে বললাম " সমস্যা নাই,আপনি আরাম করে বসুন "

" সে কি কথা!আমার জন্য আপনি সিট ছেড়ে দিবেন কেন? "

কথা বলার সময় মেয়েটার চোখে হালকা কাঁপুনির মতো সৃষ্টি হয়।তখন দুনিয়ার সব কাজ ফেলে তার চোখের দিকে তাকিয়েই থাকতে ইচ্ছে করবে।বললাম

" আমার অভ্যাস আছে "

" আমারও অভ্যাস আছে।রোজ লোকাল বাসে যাতায়াত করি।আজ প্রথম না।আপনি বসুন "

মেয়েটার কথা আর ফেলতে পারলাম না।হয়তো আমার মন ও চাচ্ছিলো তার পাশে বসতে।ক্ষনিকের দেখাতেই মেয়েটার উপর মায়া অনুভব করলাম।মেয়েটার কোঁকড়া চুল বাতাসের ঝাপটায় আমার মুখের উপর এসে পড়তে লাগলো।চুলের মাতাল ঘ্রাণে তখন আমার মাথা খারাপ অবস্থা!

মেয়েটি একটা উপন্যাসের বই পড়ছে।আমি জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখার অযুহাতে মেয়েটির চোখের দিকে তাকাতে লাগলাম।মেয়েটা হঠাৎ বললো

" আপনি নামবেন কোথায়? "

" জাহাজ কোম্পানিতে "

" ওহ আচ্ছা।আপনি কি ওখানেই থাকেন? "

" হ্যা।ওখানেই আমার কলেজ এবং মেস দুটোই "

তার কিছুক্ষণ পর মেয়েটা ভ্রু কুঁচকে তাকালো আমার দিকে।তার দৃষ্টিটা ছিলো অন্যরকম।সে দৃষ্টির কিছুই বুঝে উঠলে পারলাম না।

পরের স্টপেজে বাস থামলো মেয়েটা নামলো।সাথে সাথে আমিও নামলাম।মেয়েটা শান্ত স্বরে বললো

" আপনার না জাহাজ কোম্পানি নামার কথা? এখানে নামলেন যে? "

মিথ্যা অভিনয় করে বললাম " তাই তো! কি মুশকিলে পড়লাম বলুন তো, আমার স্টপেজ তো ভুলে ছেড়ে এসছি।এখন আবার ফেরত যেতে হবে "

মেয়েটা ঠোঁ"টের কোণে মুচকি হেসে বললো " আমি কচি খুকি না।বুঝতে পারি "

বড্ড লজ্জায় পড়ে গেলাম।দীর্ঘক্ষন মেয়েটির দিকে তাকানোর সাহস পেলাম না।এক পর্যায়ে মাটির দিকে মুখ করে বললাম

" চা খাবেন? "

মেয়েটা এবারেও মিষ্টি হাসলো।বু"কে তীব্র চিনচিন ব্যথা শুরু হলো।তাকালাম মেয়েটির দিকে।প্রেমে পড়ে গেলাম।এইটুকু সময়ে আর কতবার প্রেমে পড়বো?

Address

Agargaon
Dhaka
1207

Telephone

+8801301257745

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Arif's World posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Arif's World:

Share

Category